somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

করোনা টেস্ট ও ফলাফল নিয়ে বিভ্রান্তির কারণ ও করণীয়

৩০ শে এপ্রিল, ২০২০ রাত ১২:০৩
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :


বিসমিল্লাহির রহমানির রহিম।আসসালামু আলাইকুম।

সম্প্রতি ঢাকার এক ব্যাংক কর্মকর্তার করোনার উপসর্গ থাকার পরও দু’ দু’বার করোনার নির্ভরযোগ্য পরীক্ষা আরটি-পিসিআর (RT-PCR) টেস্ট নেগেটিভ আসা এবং পরবর্তীতে গুরুতর অসুস্থবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি ও মারা যাওয়ার পর টেস্ট পজিটিভ হওয়ার ঘটনায় বেশ তোলপাড় চলছে।আবার গণস্বাস্থ্য এর প্রতিষ্ঠাতা ডাঃ জাফরুল্লাহ সাহেবের অংশীদারি প্রতিষ্ঠান গণস্বাস্থ্য-আরএনএ বায়োটেক (GR-Biotech) এর প্রস্তুতকৃত ‘করোনা র্যাপিড টেস্ট কিট’ এর ব্যাপারে সংশ্লিষ্ট সরকারি প্রতিষ্ঠানসমূহের সাথে দ্বন্ধ জনমনে বিরূপ প্রভাব ফেলেছে এবং চরম ভুল বোঝাবুঝি হচ্ছে।আমার মনে হয় এ বিষয়ে বৈজ্ঞানিক গবেষণালব্ধ তথ্য কী বলে সেটা জানলে যেমন একদিকে বিভ্রান্তির অবসান হবে অন্যদিকে যারা টেস্ট করছেন বা কিট উৎপাদন করছেন তারাও তাদের সীমাবদ্ধতা বুঝতে পারবেন।

একজন ব্যক্তির শরীরে করোনা ভাইরাস প্রবেশ করেছে কিনা তা জানার দুটো উপায় আছে-

প্রত্যক্ষ পদ্ধতি-এ পরীক্ষা পদ্ধতিতে কোন ব্যক্তি সুনির্দিষ্ট কোন ভাইরাস দ্বারা আক্রান্ত হয়েছে তা বলা যায়।ভাইরাস নির্ণয়ে এটিই সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য পরীক্ষা।ভাইরাস যেহেতু একটি অ্যান্টিজেন এবং এ পদ্ধতিতে ভাইরাসকে ডিটেক্ট করা হয় তাই এধরনের পরীক্ষাকে ‘অ্যান্টিজেন টেস্ট’ও বলে।এটা দু’ভাবে করা যেতে পারে ১)আরটি-পিসিআর (RT-PCR)- যেটা আমাদের দেশে করা হচ্ছে এবং বেশ ব্যয়বহুল এবং ২)ডট-ব্লট (Dot-Blot method) পদ্ধতি-এ পদ্ধতিতে ভাইরাসটি সনাক্ত করতে ভাইরাস-সুনির্দিষ্ট অ্যান্টবডি লাগে। রোগির নমুনার (রক্ত, লালা বা অন্যকোন সংক্রমিত সোয়াব) ১ ফোঁটা একটা বিশেষায়িত ব্লটিং পেপার (মূলত নাইট্রোসেলুলোজ মেমব্রেন) এর উপর ফেলা হয়।তারপর এর উপর অ্যান্টিবডি প্রয়োগ করা হয়।অ্যান্টিজেন-অ্যান্টিবডি বিক্রিয়া ঘটলে টেস্ট পজিটিভ (সেক্ষেত্রে ব্লটিং পেপারে রঙ্গীন বিন্দু বা ডট দেখা যায়) আর বিক্রিয়া না ঘটলে টেস্ট নেগেটিভ।অনেকটা ব্লাড গ্রুপ নির্ণয়ের মত।পাঠকগণ এ কথাটি ভালভাবে মনে রাখুন কারণ গণস্বাস্থ্যের কিট নিয়ে আলোচনায় এ তথ্যটি খুব কাজে লাগবে।উল্লেখ্য গণস্বাস্থ্যের কিট ডট-ব্লট পদ্ধতির।

পরোক্ষ পদ্ধতি-ভাইরাস শরীরে ঢুকলে এর বিরুদ্ধে দেহ অ্যান্টিবডি তৈরি করে।আর এই অ্যান্টিবডির উপস্থিতি নির্ণয় করে এ পদ্ধতিতে রোগ নির্ণয় করা হয়।এজন্য এটিকে ‘অ্যান্টিবডি টেস্ট’ও বলে।এটি সহজ, দ্রুত এবং সাশ্রয়ী।যদিও বিশ্বের কোন স্বীকৃত স্বাস্থ্য সংস্থা এ পদ্ধতিতে করোনা রোগ নির্ণয়ে নির্দশনা দেয়নি যৌক্তিক কারণে।এ বিষয়ে বিশদ ব্যাখ্যা নিচে দেওয়া হবে।

এবার মূল আলোচনায় অাসা যাক।এই উভয় পদ্ধতিরই বেশকিছু সীমাবদ্ধতা রয়েছে।এসব সীমাবদ্ধতা বিবেচনায় না নিলে সবক্ষেত্রে সঠিকভাবে করোনা রোগ নির্ণয় সম্ভব নয়।রোগ নির্ণয়ে এধরনের পদ্ধতির কোনটি সবচেয়ে ভালো ফলাফল দিতে পারে তা নির্ভর করে টেস্টের কতগুলো বৈশিষ্ট্য বা প্যারামিটারের উপর।আলোচনার শুরুতে এ সংশ্লিষ্ট কিছু শাস্ত্রীয় শব্দের সাথে আপনাদের পরিচয় করিয়ে দিই-

১)সংবেদনশীলতা বা SENSITIVITY OF TEST- নিশ্চিত রোগ আছে এমন রোগিদের ক্ষেত্রে একটা টেস্ট কতজনের ক্ষেত্রে সেটা সঠিকভাবে নির্ণয় করতে পারছে সেটাই হলো ওই টেস্টের সেনসিটিভিটি।যেমন ধরুন ১০০জন ডায়াবেটিক রোগির যাদের সুগার লেভেল নিশ্চিতভাবে হাই তাদের রক্ত পরীক্ষা করলাম জেড-স্ট্রিপ দিয়ে।টেস্টে দেখা গেল ৯০ জনের সুগার লেভেল হাই শো করেছে অথচ ১০জনের ব্লাড সুগার নরমাল শো করেছে।এক্ষেত্রে জেড-স্ট্রিপের সেনসিটিভিটি হবে ৯০%।এই যে ১০ জনের ডায়াবেটিস থাকার পরও ব্লাড সুগার নরমাল শো করল এগুলোকেই বলে ‘ফলস নেগেটিভ’ কেস অর্থাৎ রোগ আছে কিন্তু টেস্টে ধরা পড়েনি।

২)সুনির্দিষ্টতা বা SPECIFICITY OF TEST- রোগ নাই এমন রোগিদের ক্ষেত্রে একটা টেস্ট কতটা সঠিকভাবে তা নির্ণয় করতে পারছে সেটাই হলো ওই টেস্টের স্পেসিফিসিটি।যেমন ধরুন ১০০জন ডায়াবেটিস নাই এরকম রোগির রক্ত পরীক্ষা করলাম জেড-স্ট্রিপ দিয়ে।দেখা গেল ৯০ জনের সুগার লেভেল নরমালই শো করেছে অথচ ১০জনের ব্লাড সুগার হাই শো করেছে।এক্ষেত্রে জেড-স্ট্রিপের স্পেসিফিসিটি হবে ৯০%।এই যে ১০ জনের ব্লাড সুগার হাই শো করল অথচ তাদের সুগার লেভেল নরমাল এগুলোকেই বলে ‘ফলস পজিটিভ’ কেস অর্থাৎ রোগ নাই তাও টেস্ট পজিটিভ।

৩)অ্যান্টিজেন (Antigen)-যে উপাদান রক্তে প্রবেশ করলে দেহের রোগ প্রতিরোধী ব্যবস্থা উদ্দীপ্ত হয়ে তার বিরুদ্ধে অ্যান্টিবডি তৈরি করে তাকে অ্যান্টিজেন বলে যেমন ভাইরাস বা ব্যাকটেরিয়া।

৪)অ্যান্টিবডি (Antibody)-দেহে অ্যান্টিজেন প্রবেশ করলে তার বিরুদ্ধে দেহের রোগ প্রতিরোধী ব্যবস্থা তথা ইমিউন সিস্টেম যে জৈব রসায়ন উৎপাদন করে তাই অ্যান্টিবডি।

একটি টেস্ট পদ্ধতি যত বেশি স্পেসিফিক ও সেনসিটিভ হবে সেটা তত নিখুঁতভাবে রোগ নির্ণয় করতে পারবে।সাধারণভাবে কোন পদ্ধতির স্পেসিফিসিটি ও সেনসিটিভিটি ৯০% বা তার বেশি হলে সেটাকে খুব ভালো পদ্ধতি বলা হয়।


করোনা সনাক্তে প্রথমে নমুনা (নাকের সোয়াব, কফ, রক্ত লালা ইত্যাদি) থেকে ভাইরাসের আরএনএ (RNA) কে আলাদা করা হয়।এর উপর ট্রান্সক্রিপটেজ (Transcriptase) এনজাইম প্রয়োগ করে মার্কার-যুক্ত ডিএনএ (DNA) তৈরি করা হয়।এই প্রক্রিয়াটিকে ‘রিভার্স ট্রান্সক্রিপসন’ (RT= Reverse Transcription) বলে এবং মার্কার যুক্ত করা হয় সৃষ্ট ডিএনএটাকে সনাক্ত করার জন্য।অল্প ডিএনএ সনাক্ত করা যায় না বিধায় এর সংখ্যাবৃদ্ধির জন্য ‘পলিমারেজ’ (Polymerase) এনজাইম প্রয়োগ করা হয়। বিক্রিয়াটি ঘটানো হয় প্রথমে গরম তারপর ঠান্ডা করে (Hot & Cold method)। এভাবে অনেকগুলো চক্র চলতে থাকে যতক্ষণ না পর‌্যন্ত কয়েক বিলিয়ন ডিএনএ তৈরি না হয়।চক্রাকারে ক্রমাগত চলা এই বিক্রিয়াকে Chain Reaction (CR) বলে।এরপর এই ডিএনএ সনাক্ত করে টেস্টটি সম্পন্ন হয়।আরটি-পিসিআর টেস্টে ফলাফল পেতে অনেক সময় লাগার কারণ এই চেইন রিঅ্যাকসন।

কোন নমুনায় (অর্থাৎ রক্ত, লালা বা নাক থেকে নেওয়া সোয়াব) ভাইরাস থাকলে এ পদ্ধতিতে সেটা প্রায় ১০০% ক্ষেত্রে চিহ্নিত ও নির্ণয় করা সম্ভব।সমস্যা হলো আপনি যে জায়গা খেকে নমুনা সংগ্রহ করছেন তাতে যদি ভাইরাসটি না থাকে তাহলে রোগ থাকার পরও টেস্ট নেগেটিভ আসবে।এজন্য করোনা ভাইরাস নির্ণয়ে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার সুস্পষ্ট গাইডলাইন হলো প্রথমে নাকের সোয়াব (nasopharyngeal and oropharyngeal swab) থেকে আরটি-পিসিআর পরীক্ষা করতে হবে কারণ এখান থেকে নমুনা সংগ্রহ সবচেয়ে সহজ।যদি টেস্ট নেগেটিভ আসে অথচ রোগির শরীরে করোনার উপসর্গ থাকে সেক্ষেত্রে কফ বা শ্বাসতন্ত্রের ভিতরের অংশের তরল বা Bronchoalveolar lavage সংগ্রহ করে পরীক্ষা করতে হবে।

আমেরিকান মেডিক্যাল অ্যাসোসিয়েসনের জার্নালে (JAMA) প্রকাশিত এক স্টাডি রিপোর্টে দেখা যায় নাক থেকে নেয়া নমুনায় ৬৩% ক্ষেত্রে সঠিকভাবে করোনা ডায়াগনোসিস করা সম্ভব হয়েছে আরটি-পিসিআর পদ্ধতিতে।অার ফুসফুসের ভিতর থেকে নেওয়া ব্রঙ্কোঅ্যালভিওলার ল্যাভেজ তরল নমুনায় ৯৩% ক্ষেত্রে সঠিকভাবে করোনা রোগ নির্ণয় করা সম্ভব হয়েছে।আর কফের ক্ষেত্রে সেটা ৭২%। অর্থাৎ আরটি-পিসিআর পদ্ধতিতে রোগ থাকার পরও সব রোগির টেস্ট পজিটিভ আসে না।আরটি-পিসিআর টেস্টের সেনসিটিভিটি কম।সুতরাং নাক থেকে নমুনা নিয়ে টেস্ট করার পর নেগেটিভ আসলেই নিশ্চিত হওয়া যাবে না যে তার করোনা নেই।অতএব যারা আরটি-পিসিআরকে সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য পরীক্ষা বলছেন তাদের এই সীমাবদ্ধতার কথাটি বিশেষভাবে স্মরণ রাখা উচিৎ।

আমাদের আরেকটি বড় ভুল হলো আমরা ধরেই নিয়েছি করোনা নাক দিয়ে ঢুকে শ্বাসতন্ত্রকেই কেবল আক্রমণ করে।কিন্তু এটি শ্বাসতন্ত্রকে বাইপাস করে ব্রেনে চলে যেতে পারে এবং সেখানে নানা উপসর্গ তৈরি করতে পারে এবং করছে।করোনা আক্রান্ত অনেক রোগিরই জ্বর-সর্দি-কাশি বা শ্বাসকষ্ট নাই কিন্তু নাকে গন্ধ পাচ্ছেন না (Anosmia) বা শুধুমাত্র স্ট্রোকের উপসর্গ নিয়ে আসছেন।এমতবস্থায় ব্রেনের চারপাশে থাকা তরল সিএসএফ (CSF-Cerebro Spinal Fluid) নমুনা হিসাবে সংগ্রহ ও পরীক্ষা করতে হবে।তা না হলে করোনা থাকার পরও নাক থেকে নেওয়া নমুনায় ফলাফল নেগেটিভ আসবে।একই কথা প্রযোজ্য অন্ত্র বা পেটের নাড়িভূড়ির ক্ষেত্রে। করোনা রোগি শুধুমাত্র অন্ত্রের প্রদাহজনিত উপসর্গ যেমন ডায়রিয়া, বমি, পেট ব্যাথা ও জ্বর নিয়েও আসতে পারে যে সমস্যাটা এখন যুক্তরাজ্যের ডাক্তাররা মুখোমুখি হয়েছেন সে দেশের শিশুদের ক্ষেত্রে

সুতরাং রোগির উপসর্গ বিবেচনায় সঠিক স্থান থেকে নমুনা সংগ্রহ না করলে সেক্ষেত্রে রোগ নির্ণয়ে ভুল হতে পারে।আর উপসর্গযুক্ত রোগির ক্ষেত্রে আরটি-পিসিআর টেস্ট নেগেটিভ আসলে অন্যন্য সহায়ক পরীক্ষা করে নিশ্চিত হওয়া দরকার।আশা করি আপনারা এখন অনুধাবন করতে পারবেন সেই হতভাগ্য ব্যাংক কর্মকর্তার করোনা উপস্থিত থাকার পরও প্রথম দু দফায় কেন টেস্ট নেগেটিভ এসেছিলো।আবার করোনা উপসর্গ নিয়ে মারা যাওয়া রোগিদের বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই টেস্ট নেগেটিভ আসায় এসবক্ষেত্রে টেস্টের ফলাফল ‘ফলস নেগেটিভ’ হয়েছে কি না তা নিয়ে ভাববার অবকাশ আছে।

তাছাড়া এ পদ্ধতির কিটের দাম বেশি, পিসিআর মেশিনের দামও অনেক বেশি এবং এই মেশিন চালাতে দক্ষ জনবল প্রয়োজন এবং এ পদ্ধতিতে ফলাফল পেতে কয়েক ঘণ্টা সময় লাগে।আরেকটি বিষয় হলো বায়োসেফটি নিশ্চিত না করা গেলে টেস্টিং রুম থেকে ভয়াবহ ভাইরাসের বিস্তার ঘটতে পারে।এসব বিবেচনায় পিসিআর ল্যাব স্থাপন করা অতি সহজ নয়।অবশ্য বিশ্বের নানা কোম্পানি মিনি টাইপের পিসিআর মেসিন তৈরি ও বাজারজাত করেছেন।এরকমই একটি মেসিন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের অ্যাবট ফার্মা বানিয়েছে যা সে দেশের ঔষধ ও খাদ্য নিয়ন্ত্রণ সংস্থা এফডিএ জরুরি অবস্থায় ব্যবহারের জন্য সাময়িক অনুমতি দিয়েছে।মেসিনটির নাম ID NOW for COVID-19।এটার ওজন মাত্র ৬.৬ পাউন্ড এবং যে কোন জায়গায় খুব সহজে বহন করে নিয়ে যাওয়া যায়।এটির পরিচালনাও খুব সহজ।এটি ৫মিনিটে পজিটিভ রেজাল্ট দিতে পারে এবং ১৩মিনিটে নেগেটিভ রেজাল্ট দিতে পারে।প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পও এই মেসিনটির প্রসংশা করেছেন।আমাদের দেশে পিসিআর মেসিনের সীমাবদ্ধতার কথা বিবেচনায় এটি ব্যবহার করা যায় কিনা তা ভাবার অবকাশ আছে।




এ পদ্ধতির টেস্টের বেশ কিছু সুবিধা আছে যেগুলো আলোচনার শুরুতে বলে নেওয়া ভালো-

১)যেহেতু এটা রক্তে করোনার অ্যান্টিবডির উপস্থিতি নির্ণয় করে এবং ভাইরাস শরীরের যেখান দিয়ে ঢুকে যেখানেই সংক্রমণ করুক না কেন রক্তে অ্যান্টিবডি পাওয়া যায় তাই এ পদ্ধতিতে রোগ নির্ণয় সহজ।আরটি-পিসিআর পদ্ধতির মত সংক্রমণের সুনির্দিষ্ট স্থান থেকে নমুনা না সংগ্রহ করলে যে নেগেটিভ ফল আসে তা এক্ষেত্রে হবে না।

২)এটা মাত্র ১৫মিনিটের ফলাফল দিতে পারে।আর তার জন্য নমুনা হিসাবে ১ফোঁটা রক্তই যথেষ্ট।

৩)এটা খুবই সস্তা।মাত্র ২৫০-৩০০টাকায় একজনের টেস্ট করা যায়।

৪)টেস্ট ডিভাইসটির ব্যবহার করা খুব সহজ এবং খুব সহজেই একজনকে এ বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেওয়া সম্ভব।

৫)অল্প সময়ে লক্ষ লক্ষ কিট উৎপাদন সম্ভব এবং তার দ্বারা ব্যাপকহারে টেস্ট করা সম্ভব।

র্যাপিড টেস্টের উপরোক্ত বৈশিষ্ট্যগুলো বিবেচনা করলে চোখ বন্ধ করে বলে দেওয়া যায় করোনা নির্ণয়ে এর চেয়ে ভাল পদ্ধতি আর কিছুই হতে পারে না।হ্যাঁ চীন একথা বলেই র্যাপিড টেস্টের কিটের ব্যবসা করেছে এবং গোটা দুনিয়াকে ধরা খাইয়েছে।কিন্তু এখানে রয়েছে শুভংঙ্কের বিরাট ফাঁকি।আসুন ফাঁকগুলো বোঝার চেষ্টা করি-

১)করোনা ভাইরাস শরীরে ঢোকার সাথে সাথেই দেহে অ্যান্টিবডি তৈরি হয় না (তৈরি হলে তো আর রোগই হতো না)।সাধারণভাবে অ্যান্টিবডি তৈরি হতে ৩-৫দিন সময় লাগতে পারে।কিন্তু করোনা রোগিরা এমনকি মৃদু উপসর্গের কিংবা উপসর্গবিহীন রোগিরাও করোনা নেগেটিভ হতে বেশ সময় নিচ্ছে।এর অর্থ পরিমাণমত অ্যান্টিবডি তৈরি হতে বেশ সময় লাগছে।এমতবস্থায় করোনা ভাইরাস শরীরে ঢোকার পর অ্যান্টিবডি তৈরি না হওয়া পর‌্যন্ত যে সময়টা লাগে (সেটা ৩দিন/৫দিন/৭দিন কিংবা তারচেয়েও বেশি যাই হোক না কেন) সেসময় এ পদ্ধতিতে পরীক্ষা করলে টেস্ট নেগেটিভ আসবে।অথচ আরটি-পিসিআর মেশিনে ভাইরাস শরীরে ঢোকার সাথে সাথেই তা নির্ণয় করা সম্ভব হতে পারে।

২)রোগ মুক্তির পর অনেকের শরীরেই অনির্দিষ্টকালের জন্য করোনার অ্যান্টিবডি থাকে।এরকম একটা রোগি যদি সাধারণ সর্দি-কাশি নিয়ে টেস্ট করতে আসে তাহলে এ পদ্ধতির কারণে তার শরীরে করোনা ভাইরাস না থাকার পরও টেস্ট পজিটিভ হবে এবং তিনি করোনা রোগি হিসাবে বিবেচিত হবেন।আর জানেনতো করোনা পজিটিভ মানেই ১৪দিন আইসোলেসন,পুরা ফ্যামিলি কোয়ারেন্টাইনে, বাড়ির সামনে লাল পতাকা আর আশেপাশের ঘড়বাড়ি-এলাকা লকডাউন।অাক্রান্ত ব্যক্তিসহ পুরো পরিবার সামাজিক শত্রু।একটা ভুলের জন্য এত কিছু! আরটি-পিসিআর পদ্ধতিতে সে ভুলের সুযোগ নেই যদি সঠিকভাবে নমুনা সংগ্রহ করে।

৩)জন্ম থেকে মৃত্যু পর‌্যন্ত জীবনচক্রের নানা ধাপে শরীরে অ্যান্টিবডি তৈরির ক্ষমতা একেক রকম হয়।যেমন নবজাতক ও ছোট্ট শিশুদের এবং অতি বৃদ্ধদের ক্ষেত্রে অ্যান্টিবডি কম থাকে এমনকি খুবই কম থাকে।এ দুই বয়সের সীমায় সংক্রমণজনিত মৃত্যুহারও বেশি।জন্মের পর থেকে কিছুদিন পর‌্যন্ত নবজাতক তার মায়ের দেহ থেকে প্রাপ্ত অ্যান্টিবডি এবং শাল দুধ থেকে পাওয়া অ্যান্টিবডি দিয়ে চলে।এ সময় শিশুটি করোনা আক্রান্ত হলে এ পদ্ধতিতে টেস্ট নেগেটিভ আসতে পারে।


৪)যেসব রোগির রোগের কারনে ইমিউনিটির ঘাটতি রয়েছে (যেমন এইডসের রোগি) এবং যাদেরকে চিকিৎসার অংশ হিসাবে ইমিউনিটিকে চেপে রাখার ঔষধ খেতে হয় ( যেমন কিডনি ট্র্যান্সপ্ল্যান্ট করা রোগিদের) তাদের শরীরে করোনা ভাইরাস থাকলেও এ পদ্ধতিতে টেস্ট হালকা পজিটিভ কিংবা নেগেটিভ আসতে পারে।

৫)করোনা ভাইরাসরা ৭ ভাই।এদের মধ্যে ৪জন নিরীহ ঠান্ডালাগার উপসর্গ তৈরি করে সারা বছর।বাকি ৩জন সার্স ও মার্স এবং আলোচিত কোভিড-১৯ করোনা ভাইরাস জীবনবিনাশী।কেউ যদি নিরীহ করোনা ভাইরাস দ্বারা আক্রান্ত হয়ে থাকেন তাহলে তার রক্তের র‌্যাপিড টেস্ট করলে ক্রস অ্যান্টিবডি ফেনোমেনার জন্য কোভিড-১৯ টেস্ট পজিটিভ হওয়ার সমূহ সম্ভবনা আছে।কিছুদিন আগে আমাদের পাট মন্ত্রী গোলাম দস্তগীর গাজী করোনা আক্রান্ত হয়েছেন বলে মিডিয়ায় প্রচার পায় এবং তিনিই বাংলাদেশের প্রথম সনাক্তকৃত করোনা রোগি হিসাবে রেকর্ডভূক্ত হতে যাচ্ছিলেন।এমতবস্থায় আইইডিসিআর নিশ্চিত করেন এটি করোনা ভাইরাস তবে সেটি নিরীহ 229-E করোনা ভাইরাস।

উপরোক্ত বাস্তবতায় বিভিন্ন দেশে র‌্যাপিড টেস্টের মাধ্যমে করোনা সনাক্তকরণে মারাত্মক সমস্যা দেখা দিয়েছে।যার জন্য কেউ কেউ চীনকে এ কিট ফেরতও দিয়েছে।পাশের দেশ ভারতও প্রায় ৫০ লক্ষ Rapid Test কিটের অর্ডার বাতিল করেছে।বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থাও তাদের গাইডলাইনে এ কিট ব্যবহারের কথা বলেনি। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থাসহ বিশ্বের কোন স্বীকৃত রোগ নিয়ন্ত্রণ সংস্থা এ ধরনের কিট দ্বারা করোনা রোগ নির্ণয়ের কোন নির্দেশনাও দেয়নি যৌক্তিক কারণে।আর তাই বাংলাদেশ সরকারও গতকাল বাংলাদেশে এ ধরনের কিটের ব্যবহার নিষিদ্ধ করেছে বিশ্বব্যাপি এই কিটের অগ্রণযোগ্যতা দেখে।

এ ধরনের র‌্যাপিড টেস্ট করোনা রোগ নির্ণয়ে কতটা স্পেসিফিক, কতটা সেনসিটিভ কিংবা কি পরিমাণ ফলস পজিটিভ বা নেগেটিভ রেজাল্ট দিচ্ছে, যাদের ইমিউনিটি কম বা নেই বললেই চলে তাদের ক্ষেত্রে এর রোগ নির্ণয় সক্ষমতা এবং ক্রস অ্যান্টিবডি রিঅ্যাকশন দেখাচ্ছে কি না তা পরীক্ষা করা জরুরি।আর তা করার জন্য অনেকসময় লাগবে।বিশ্ববাসীর হাতে এত সময় নেই সম্ভবত।

তবে যেসব ক্ষেত্রে এ ধরনের কিট ব্যবহারের সুযোগ রয়েছে তা হলো-

১)আরটি-পিসিআর পদ্ধতিতে টেস্ট করার পাশাপাশি র‌্যাপিড টেস্ট পদ্ধতিতেও টেস্ট করা যেতে পারে। এক্ষেত্রে নমুনা সংগ্রহজনিত ত্রুটি হয়ে থাকলে অ্যান্টিবডি টেস্ট পজিটিভ পাওয়া যেতে পারে।এর দ্বারা রোগ নির্ণয়ের সম্ভাবনা বৃদ্ধি করা যেতে পারে।

২)এপিডেমিওলজিক্যাল সার্ভে- করোনা রোগে একটা জনগোষ্ঠির কতজন আক্রান্ত হয়েছে এবং এর দ্বারা রোগের গতিপ্রকৃতি বোঝার জন্য রোগতত্ত্ববিদ্যার ডাটাবেস তৈরিতে এ পদ্ধতি ব্যবহার করা যেতে পারে।

৩)‘কনভ্যালিসেন্ট প্লাজমা থেরাপি’ অর্থাৎ সদ্য রোগমুক্ত রোগির প্লাজমা দিয়ে অসুস্থ রোগির চিকিৎসা করার ক্ষেত্রে রক্তে আদৌ অ্যান্টিবডি আছে কিনা তার কোয়ালিটেটিভ পরীক্ষা এই কিটের মাধ্যমে করা যেতে পারে।

৪)যদি রোগির সংখ্যা মাত্রাতিরিক্ত বেশি হয়ে যায় এবং আরটি-পিসিআর পদ্ধতিতে রোগ নির্ণয়ে লম্বা জট লেগে যায় বা সবার টেস্ট সময়মত করা সম্ভব না হয় সেক্ষেত্রে মন্দের ভালো হিসাবে এ পদ্ধতিতে টেস্ট করা যেতে পারে।

৫)যাদের অ্যান্টিবডি টেস্ট পজিটিভ কিন্তু শরীরে উপসর্গ নাই তারা অতীতে করোনা ভাইরাস দ্বার আক্রান্ত হয়েছেন বলে বিবেচিত।এরূপ লোকদের কর্মস্থলে যোগদানে উৎসাহিত করতে র‌্যাপিড টেস্ট কিট ব্যবহার করা যেতে পারে।



গণস্বাস্থ্য-আরএনএ বায়োটেক এর উদ্ভাবিত কিটের ব্যাপারে বিভ্রান্তির প্রধান কারণ তারা নিজেরাই।এটা একটা নতুন ধরনের টেস্টিং কিট যা পৃথিবীতে উদ্ভাবক ডাঃবিজন কুমার শীল ছাড়া অন্য কারো কাছে নেই।অথচ এর কার‌্যপদ্ধতি সম্পর্কে বিশদ ব্যাখ্যাসহ ভিডিও প্রেজেন্টেসন নাই।আবার উদ্ভাবকের পরিবর্তে ডাঃজাফরুল্লাহ এ কিট নিয়ে একেক সময় একেক রকম তথ্য দিয়েছেন ফলে এটি কোন ধরনের টেস্ট কিট তা নিয়ে তৈরি হয়েছে বিভ্রান্তি।তাই যে যার মত করে বুঝে নিয়ে তর্কযুদ্ধে জড়িয়ে পড়েছেন।তাই এ বিষয়ে আলোচনা শুরুর আগে গণস্বাস্থ্যের কিট কীভাবে কাজ করে সেটা জানা দরকার।এ আর্টিকেলের শুরুতেই আপনাদের ডট-ব্লট পদ্ধতির ব্যাপারে ধারনা দিয়েছি। নিচে লক্ষ্য করুন গণস্বাস্থ্যের কিটটি-


উপরে ছয় কোনা যে ডিভাইসটি দেখছেন তার মাঝে দেখুন দাগ কাটা টেস্ট বেড রয়েছে।এর এক ঘরে আছে কোভিড-১৯ ভাইরাসের নিউক্লিওক্যাপসিড।ও আচ্ছা টার্মটা কঠিন হয়ে গেল!বোঝার জন্য বলছি করোনা ভাইরাসকে একটা লিচুর সাথে তুলনা করুন।লিচুর বিচিটা হলো করোনার আরএনএ, শাঁসটা হলো প্রোটিনে তৈরি ক্যাপসিড আর খোসাটা হলো এনভেলপ।খোসায় থাকা ডটগুলো স্পাইক।তো টেস্ট বেডের এক ঘরে আছে করোনার নিউক্লিওক্যাপসিড (গোলাপি রং) এবং অন্য তিন ঘরে আছে ৩ ভিন্ন রকমের অ্যান্টিবডি (সবুজ রং) যা করোনা বিভিন্ন অংশের বিরুদ্ধে কাজ করে।এই টেস্ট কিটে আরও রয়েছে দুই শিশি কেমিক্যাল।একটা হলো বাফার সলিউসন যা অ্যান্টিজেন-অ্যান্টিবডি অর্থাৎ ভাইরাসের সাথে অ্যান্টিবডির বিক্রিয়ার পরিবেশ তৈরি করে।আর ২য় শিশিতে রয়েছে গোল্ড সলিউসন যা অ্যান্টিজেন-অ্যান্টিবডির বিক্রিয়ায় সৃষ্ট ডট বা বিন্দুটিকে দৃশ্যমান করে।এ হলো কিটের নানা উপাদান।


এখন রোগির এক ফোঁটা রক্তরস বা প্লাজমা এই টেস্ট বেডে দিতে হবে।রক্তে করোনা ভাইরাস (গোলাপি ডট) এবং এর বিরুদ্ধে তৈরি হওয়া অ্যান্টিবডি (সবুজ ডট) দুটোর একটা বা উভয়ই থাকতে পারে।যদি রক্তে ভাইরাস থাকে তাহলে তা টেস্ট বেডে থাকা অ্যান্টিবডির সাথে বিক্রিয়া করে পজিটিভ রেজাল্ট দিবে।আর যদি রক্তে অ্যান্টিবডি থাকে তাহলে সেটা টেস্ট বেডে থাকা করোনা নিউক্লিওক্যাপসিডের সাথে বিক্রিয়া করে পজিটিভ রেজাল্ট দিবে।অর্থাৎ রোগির রক্তে ভাইরাস কিংবা অ্যান্টিবডি যেটাই থাকুক তা পজিটিভ রেজাল্ট দিবে।এ কারণেই এ কিটটি অনন্য।

অন্যন্য টেস্টের সাথে এটার পার্থক্য কী?-হ্যাঁ করোনার অন্য দুই প্রধান টেস্টের সাথে এর বড় পার্থক্য রয়েছে-

১)আরটি-পিসিআর কেবলমাত্র ভাইরাস চিহ্নিত করতে পারে।এটি অ্যান্টিবডি চেক করতে পারে না।আর গণস্বাস্থ্যের কিট উভয়টিকেই সনাক্ত করতে পারে।

২)র‌্যাপিড টেস্ট কিট কেবলমাত্র রক্তে থাকা করোনার অ্যান্টিবডিকে ডিটেক্ট করতে পারে কিন্তু ভাইরাসটিকে চিহ্নিত করতে পারে না।গণস্বাস্থ্যের কিট উভয়টিকেই ডিটেক্ট করতে পারে।

৩)এই কিট ৫-১৫ মিনিটের মধ্যেই রেজাল্ট দিতে পারে।অথচ আরটি-পিসিআর এর ক্ষেত্রে কয়েকঘন্টা থেকে শুরু করে কয়েকদিন লেগে যেতে পারে।

৪)শরীরের যেখান দিয়েই ভাইরাস প্রবেশ করুক একসময় রক্তে অ্যান্টিবডি পাওয়া যাবে।গণস্বাস্থ্যের কিট অ্যান্টিবডি ডিটেক্ট করতে পারে বিধায় রোগ নির্ণয় করা যাবে।কিন্তু পিসিআর এ কেবলমাত্র আক্রান্ত স্থানের নমুনায় যদি ভাইরাস থাকে কেবল তখনই সেটা নির্ণয় করতে পারে।যেমন ধরুন পিসিআর পরীক্ষায় পাইকারিহারে নাক থেকে নমুনা নেওয়া হচ্ছে।এখন কোন রোগির যদি শুধু ব্রেনে কিংবা পেটে করোনা সংক্রমণ হয় সেক্ষেত্রে নাক থেকে নেওয়া নমুনা পরীক্ষা নেগেটিভ আসবে শরীরে রোগ থাকার পরও।কিন্তু গণস্বাস্থ্যের কিট অ্যান্টিবডি ডিটেকসনের মাধ্যমে জানাতে পারবে রোগের উপস্থিতি।

গণস্বাস্থ্যের কিটের সীমাবদ্ধতা- ১)রক্তে যদি ভাইরাস না থাকে কিংবা খুব অল্প থাকে কিংবা অ্যান্টিবডি না থাকে যেমনটি রোগের একেবারে প্রাথমিক পর‌্যায়ে হতে পারে সেক্ষেত্রে রোগ থাকার পরও টেস্ট নেগেটিভ হতে পারে। ২)গণস্বাস্থ্যের কিট রক্ত ছাড়া অন্য কোন নমুনা যেমন কফ বা লালা পরীক্ষা করতে পারে না। ৩)করোনা ভাইরাসরা ৭ভাই।ক্রস রিঅ্যাকশনে অন্য করোনা ভাইরাসের জন্যও টেস্ট পজিটিভ হলে হতেও পারে।অবশ্য গণস্বাস্থ্যের কিটে ৩টি টার্গেট অ্যান্টিবডি ব্যবহার করা হয়েছে যাতে আশা করা যায় এ সমস্যা কম বা নাও হতে পারে।

স্ট্যান্ডার্ড নিয়ম মেনে গণস্বাস্থ্য অনুমতির আবেদন করেনি- এটা বিতর্কের আরেকটি এবং সবচেয়ে ভয়াবহ উপাদান।বিশ্বের প্রতিটি দেশেই এধরনের উদ্ভাবনের ব্যবহার ও বাণিজ্যিকীকরণের অনুমতি পেতে বেশকিছু আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করতে হয় এবং সেগুলো সময় সাপেক্ষ।কিন্তু কথায় বলে "Necessity knows no law"। এফডিএ হলো বিশ্বের সবচেয়ে বড় মান নিয়ন্ত্রণ সংস্থা যার বিশ্বব্যাপি গ্রহণযোগ্যতা রয়েছে।অথচ জরুরি অবস্থা বিবেচনায় পোস্টে উল্লেখিত অ্যাবট ফার্মার মিনি পিসিআর মেসিনের সাময়িক অনুমোদন দিয়েছে এফডিএ ব্যাপক পরীক্ষণ ছাড়াই যেটাকে আইনি ভাষায় বলা হয় "ইমার্জেন্সি ইউজ অথারাইজেসন"।শুধু এটিই নয় আরও বেশকিছু কিটের অনুমোদন দিয়েছে এফডিএ প্রথাগত প্রক্রিয়া অনুসরণ না করেই যার মধ্যে র্যাপিড টেস্ট কিট বা অ্যান্টিবডি কিটও রয়েছে।অবশ্য এক্ষেত্রে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের চাপ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।আর গণস্বাস্থ্যের কিটের সক্ষমতা দেখার জন্য ৭২ ঘণ্টাই যথেষ্ট।বিএসএমএমইউ (পিজি হাসপাতাল) এর যেখানে করোনার পিসিআর টেস্ট হচ্ছে সেখানে আগতদের নাকের নমুনা নেওয়ার পাশাপাশি এক ফোঁটা রক্ত নিয়ে গণস্বাস্থ্যের কিট টেস্ট করা যেতে পারে।অবশ্য এক্ষেত্রে ট্রাম্পের মত আমাদের মাননীয় প্রধানমন্ত্রীকেও সক্রিয় ভূমিকা নিতে হবে।আর আমাদের প্রধানমন্ত্রী সবচেয়ে ক্ষমতাধর বিচক্ষণ প্রধানমন্ত্রী।অবশ্য এক্ষেত্রে ডাঃজাফরুল্লাহ চৌধুরির উচিৎ হবে নিজেকে এতটা প্রকটভাবে সামনে না এনে বরং উদ্ভাবক ডাঃবিজন কুমার শীলকে মুখ্য ভূমিকা পালন করতে দেওয়া।কারণ ডাঃ জাফরুল্লাহ সঠিকভাবে কিটটির বৈশিষ্ট্য উপস্থাপন করতে পারেননি এবং আবেগতাড়িত নানা কথা বলে জটিলতা তৈরি করেছেন।

যেহেতু এ ধরনের হাইব্রিড কিট বিশ্ব বাজারে নাই এবং এর সক্ষমতা ভাল হওয়ার সমূহ সম্ভাবনা আছে সেক্ষেত্রে এ কিটটিকে প্রাথমিক সক্ষমতা যাচাই করে দ্রুত অনুমোদন দিলে নিজ দেশের চাহিদা পূরণের পাশাপাশি বিশ্ববাজারে রপ্তানি করে প্রচুর বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করা সম্ভব।আর সেই সাথে বাড়বে দেশের সম্মান।আশা করি মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বিষয়টি ভেবে দেখবেন।

আর যারা এটা পাঠ করছেন তারাও এ বিষয়ে নিজ নিজ ফোরামে লিখে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করতে পারেন।সেক্ষেত্রে রেফারেন্স হিসাবে পোস্টটি সংযুক্ত করতে পারেন।


‘রেডিওলজি’জার্নালে প্রকাশিত এক গবেষণা পত্র থেকে জানা যায় চীনে ১০১৪জন রোগির মধ্যে মাত্র ৫৯% ক্ষেত্রে আরটি-পিসিআর পজিটিভ রেজাল্ট শো করেছে কিন্তু ৮৮% ক্ষেত্রে তাদের বুকের সিটি স্ক্যান পজিটিভ ছিলো।আবার আরটি-পিসিআর নেগেটিভ রোগিদের ৭৫% জনের ক্ষেত্রে সিটি স্ক্যান পজিটিভ ছিলো।এছাড়াও আরটি-পিসিআর পরীক্ষা পজিটিভ হওয়ার পূর্বেই ৪২% রোগির বুকের সিটি স্ক্যান পজিটিভ পাওয়া গেছে। এসব দিক বিবেচনায় বুকের সিটি স্ক্যান হতে পারে প্রাথমিক পর‌্যায়ে করোনা নির্ণয়ে গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা ।হয়ত এ কারণেই বাংলাদেশের স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের সাথে চীনা বিশেষজ্ঞদের টেলিকনফারেন্সের সময় চীনা বিশেষজ্ঞরা জানতে চেয়েছিলো বাংলাদেশের সিটি স্ক্যান করার সক্ষমতা কেমন?

আশা করি সম্মানিত পাঠকগণ উপরোক্ত আলোচনান্তে করোনা টেস্ট কিট বা পদ্ধতি ও ফলাফল বিভ্রান্তির কারণ এবং রোগ নিরূপন আরও সঠিক করতে কি করা যেতে পারে তার একটা সম্যক ধারনা পেয়ে থাকবেন।

ধন্যবাদ আর্টিকেলটি পাঠ করার জন্য।সবাই স্বাস্থ্যবিধি মেনে করোনা প্রতিরোধে সহায়তা করুন প্লিজ।অনেক অনেক শুভকামনা রইলো আপনাদের জন্য।

বি.দ্র: এটি একটি তাত্ত্বিক আলোচনা কোন বিশেষজ্ঞ মতামত নয়।এতে ব্যবহৃত ছবিসমূহ ইন্টারনেট থেকে নেওয়া এবং বাণিজ্যিক উদ্দেশ্যে ব্যবহার করা হয়নি।তারপরও কোন ক্ষেত্রে কপিরাইট ভায়োলেসন হয়ে থাকলে জানানো মাত্র তা অপসারণ করা হবে।

উৎসর্গঃ আমার বাবাকে যিনি ২৮শে এপ্রিল (২০১৬) আল্লাহর নিকট প্রত্যাবর্তন করেছেন।ছোটকাল থেকে আমার লেখাপড়ার সময় পাশে বসে চা খেতেন এমনকি গভীর রাত হলেও।বড় হয়েও কোন অ্যাকাডেমিক বিষয়ে কিছু লিখলে উনাকে ব্রিফ করতাম।বড় আগ্রহ নিয়ে শুনতেন এবং উৎসাহ দিতেন।গতকাল ২৮শে এপ্রিল এ আর্টিকেলটি রাত জেগে লিখছিলাম।অনেক মিস করছিলাম বাবাকে।










সর্বশেষ এডিট : ৩০ শে এপ্রিল, ২০২০ রাত ৮:০১
২৮টি মন্তব্য ২৮টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

নায়লা নাইমের বিড়ালগুলো

লিখেছেন শাহ আজিজ, ২১ শে অক্টোবর, ২০২০ রাত ৮:৫৯



একজন মডেল নায়লা নাইম সাড়ে তিনশ’ বিড়াল পালেন একটি স্বতন্ত্র ফ্লাটে ঢাকার আফতাবনগরে । পাশেই তার আবাসিক ফ্লাট । গেল চার বছরে অসংখ্য বার দর কষাকষি করেও... ...বাকিটুকু পড়ুন

গল্পঃ তালব্য শ এ এশা

লিখেছেন অপু তানভীর, ২১ শে অক্টোবর, ২০২০ রাত ১০:০৬

মাঝে মাঝে নিজের নির্বুদ্ধিতার নিজেকে একটা কষে চড় মারতে ইচ্ছে হয় । নিজের চড়ে খুব একটা ব্যাথা অবশ্য লাগে না । আর চাইলেও খুব জোরে নিজেকে চড় মারা যায়ও না... ...বাকিটুকু পড়ুন

একটা বৃহৎ জীবনের নেশা

লিখেছেন সোনাবীজ; অথবা ধুলোবালিছাই, ২১ শে অক্টোবর, ২০২০ রাত ১১:০৪

এমন সময়ে তুমি আসবে, যখন বিভোর বসন্ত
অঘোরে লাল-নীল-হলুদ ছড়াবে; তখন নবীন কিশলয়ের
মতো গজিয়ে উঠবে প্রেম। পৃথিবীর চোখ
তৃষ্ণায় ছানাবড়া হবে, মানুষে মানুষে অদ্ভুত সম্মিলন।

কখনো কখনো এত বেশি ভালো লাগে,... ...বাকিটুকু পড়ুন

মানুষ কেন গালি দেয়?

লিখেছেন রাজীব নুর, ২২ শে অক্টোবর, ২০২০ রাত ২:৩৫



'হারামজাদী ছিনাল
বজ্জাত মাগী
খানকী বেইশ্যা

মিয়া বাড়ির কাচারির সুমুখে লম্বালম্বি মাঠ। মাঠের পর মসজিদ। সে মসজিদের সুমুখে বসেছে বাদ-জুমা মজলিস। খানিক দূরে দাঁড়ান ঘোমটা ছাড়া একটি মেয়ে। গালি গুলো ওরই... ...বাকিটুকু পড়ুন

গল্পঃ কাঁচের মেয়ে

লিখেছেন সামিয়া, ২২ শে অক্টোবর, ২০২০ বিকাল ৪:৩০




আমার বিয়ে হয়েছিলো মাঘ মাসের উনিশ তারিখে আমি প্রতিদিনের মতনই স্কুলে গিয়েছিলাম ক্লাস নিতে। পড়াশোনা ইন্টারের পর আর হয়নি অভাব অনটনে আর বখাটেদের উৎপাতে সেটা ছেড়ে দিয়েছিলাম... ...বাকিটুকু পড়ুন

×