somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

‘করোনা মহামারী’র পাশাপাশি চলছে ‘মানসিক রোগ মহামারী’-আমরা কতটুকু সচেতন?

০৫ ই মে, ২০২০ রাত ৯:১০
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :


এখন বিশ্বব্যাপী করোনা মহামারী চলছে।আর এ মহামারী ঠেকাতে মানুষজনকে গৃহবন্দি হয়ে থাকতে হচ্ছে।আবার ঘর থেকে বের হতে না পারার কারণে আয়-রোজগার করাও সম্ভব হচ্ছে না।করোনা পরবর্তী অবশ্যম্ভাবী অর্থনৈতিক মন্দা নিয়ে রয়েছে এক বিরাট আতঙ্ক।সর্বোপরি এ মহামারীর হাত থেকে কবে মুক্তি মিলবে এবং মানুষ তার স্বাভাবিক জীবনে ফিরে যেতে পারবে তা নিয়ে রয়েছে ঘোর অনিশ্চয়তা।এসব বিষয় প্রত্যেকের উপর মানসিক চাপ বা (Mental stress) তৈরি করছে ।আর মানসিক চাপ হলো সকল মানসিক রোগের বা মানসিক সমস্যার ‘মা’।তাছাড়া সারা বিশ্বেই বিপুল সংখ্যক মানুষ নানা মানসিক রোগে ভূগে থাকেন,তারাও এসময় ঠিকমত চিকিৎসা সেবা পাচ্ছেন না।অবাক লাগলেও সত্যি যে করোনার প্রধান উপসর্গসমূহের মধ্যে মানসিক রোগের উপসর্গও রয়েছে যদিও অনেকেই এ বিষয়ে সচেতন নন।এমনকি আপাত উপসর্গবিহীন করোনা রোগিও নানা মানসিক সমস্যায় ভূগতে পারেন এবং রোগি সুস্থ হওয়ার পরও অনেক রোগি অনির্দিষ্টকালের জন্য মানসিক নানা উপসর্গে ভূগতে পারেন।সুতরাং ‘করোনা মহামারী’র পাশাপাশি ‘মানসিক রোগ মহামারী’ এখন এক কঠিন বাস্তবতা।করোনার মত বিশ্বের প্রায় সব দেশেই এই ‘মানসিক রোগ মহামারী’ শুরু হয়ে গেছে। কিছু কিছু খবর মিডিয়াতে আসতেও শুরু করেছে যেমন-

যুক্তরাষ্টে মানসিক স্বাস্থ্য হটলাইনে কল বেড়েছে ৮৯১%- সিএনএন

করোনা আতঙ্কের জের-এক ধাক্কায় ২০% বেড়েছে মানসিক রোগ-সংবাদ প্রতিদিন,ভারত

ইটালিতে করোনায় নতুন বিপদ-বেড়েছে মানসিক রোগ-সময় সংবাদ

Coronavirus Pandemic Takes Toll on Mental Health –Wall Street Journal

Coronavirus- Profound & mental health impact prompts calls for urgent research- BBC

এর মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্ববহ শিরোনামটি করেছে ‘এবিসি নিউজ’।দেখুন তাদের হেডলাইন
Mental health toll of coronavirus to create ‘second wave’ of pandemic, experts warn-ABC News

অর্থাৎ বিশ্বব্যাপি ‘মানসিক রোগ মহামারী’ শুরু হয়ে গেলেও আমাদের দেশে এখনও এ বিষয়ে তেমন আলোচনা বা তোড়জোড় দেখছি না।আমার মনে হয় এ বিষয়ে আমাদের আলোচনা করা এবং সচেতন হওয়া জরুরি।সেই সাথে রাষ্ট্রেরও ঘুম ভাঙ্গানো দরকার।মানসিক রোগের ব্যাপ্তি অনেক বড় বিধায় পোস্টের দৈর্ঘ্য পাঠকদের ধৈয্যসীমার মধ্যে রাখতে প্রধান প্রধান মানসিক রোগ বা সমস্যাগুলো নিয়ে আলোচনা করা হবে।চলুন আলোচনা শুরু করা যাক-


খাপ খাওয়ানো জনিত অস্থিরতা বা Adjustment Disorder : পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে খাপ খাইয়ে নিতে না পারাজনিত যে অস্থিরতা তৈরি হয় তাই সাদামাটাভাবে অ্যাডজাস্টমেন্ট ডিসঅর্ডার।লকডাউনের অভিজ্ঞতা আমাদের ছিলো না।হঠাৎ করে দীর্ঘ ও অনিশ্চিত মেয়াদের লকডাউনের সাথে খাপ খাইয়ে নিতে আমাদের প্রত্যেকেরই নানাবিধ মানসিক সমস্যা হচ্ছে।যাদের সমস্যটা প্রকট অর্থাৎ যারা এর কারণে ব্যক্তিগতভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছেন বা তাদের কারণে তাদের পরিবার বা সমাজ ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে তাদেরটাকেই অ্যাডজাস্টমেন্ট ডিসঅর্ডার হিসাবে বিবেচনা করা হয়।অস্থিরতা লাগা, মন খারাপ থাকা, মেজাজ চড়ে যাওয়া, বিষণ্নতা অনুভব করা, কান্নাকাটি করা বা কান্না ঠেলে আসছে এমন লাগা, ঠিকমত ঘুম না হওয়া বা অতিরিক্ত ঘুমানো, খাওয়ায় অরুচি বা অতিরিক্ত খাওয়া, খাওয়ায় ঠিকমত স্বাদ না পাওয়া, মরে যেতে ইচ্ছে করা, ভবিষ্যৎ অন্ধকার দেখা (পেসিমিজম) ইত্যাদি উপসর্গগুলো অ্যাডজাস্টমেন্ট ডিসঅর্ডারের। বর্তমানে বিশ্বব্যাপি পারিবারিক সহিংসতা বৃদ্ধি পাওয়ার গুরুত্বপূর্ণ কারণ এই অ্যাডজাস্টমেন্ট ডিসঅর্ডার। লকডাউন ভেঙ্গে অকারণে বাইরে বের হওয়ার বা ‘ঘরে থাকতে ভাল লাগেনা’ টাইপের অনুভূতির গুরুত্বপূর্ণ কারণ এটি।

প্রিয়জন থেকে দূরে থাকাজনিত অস্থিরতা বা Separation anxiety disorder : প্রিয়জনের কাছ থেকে দূরে থাকাজনিত যে অস্থিরতা ও বিষণ্নতা এবং ভীতি তৈরি হয় তাই হলো সেপারেসন অ্যাংজাইটি ডিসঅর্ডার। স্কুল ছুটিতে দেশের বাড়িতে ফ্যামিলির চলে যাওয়া আবার লকডাউনে গণপরিবহন বন্ধ থাকায় অনেকেই অনেকের প্রিয়জনের সান্নিধ্য লাভ করতে পারছেন না।আবার অনেকেই তার প্রিয়জনের ব্যাপারে উদ্বিগ্ন। তাই অনেকেরই ভিতরে দেখা দিতে পারে সেপারেসন অ্যাংজাইটি ডিসঅর্ডার।এ সমস্যাটি শিশু ‍ও অল্পবয়সীদের মধ্যে বেশি দেখা যায়।এর কারণে আত্মহত্যা করাও বিচিত্র নয়।ভারতের উত্তর প্রদেশের এক ব্যক্তি লকডাউনে পিত্রালয়ে আটকে পড়া স্ত্রীকে কাছে না পেয়ে আত্মহত্যা করেছেন ।এটা বাড়াবাড়ি নয় বরং বাস্তবতা।

নোসোফোবিয়া(NOSOPHOBIA)- শরীরে কোন উপসর্গ নাই তারপরেও সুনির্দিষ্ট রোগ শরীরে আছে এই ভাবনায় অস্থিরতায় ভোগার নাম নোসোফোবিয়া।অস্থিরতা এমন পযায়ে পৌঁছে যেতে পারে যে রোগি হতাশাগ্রস্থ হয়ে আত্মহত্যাও করতে পারে।গতকাল সকাল ৮টার দিকে খিলগাঁওয়ে এসবি’র এক কনস্টেবল করোনা নিয়ে এতটাই ভয়ে ছিলেন যে টেস্ট নেগেটিভ আসার পরও টেস্ট রিপোর্ট ভুল আসছে এ ধারনায় চরম অস্থিরতা ও হতাশায় ভূগে ৫তলার ছাদ থেকে লাফ দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন।করোনা মহামারী অাতংকে কারো কারো মাঝে নোসোফোবিয়া দেখা দেওয়া অসম্ভব নয়।

ওসিডি(OCD):একই কাজ বা চিন্তা বার বার করা এমনকি বিষয়টা বাড়াবাড়ি হয়ে যাচ্ছে অনুধাবন করার পরও এবং সেই কাজ বা চিন্তা বাঁধাগ্রস্থ হলে চরম অস্থিরতা অনুভব করার অসুখকেই Obsessive Compulsive Disorder বলে।অনেক ধরনের ওসিডি আছে,তবে সবচেয়ে কমন ওসিডি হলো শুঁচিবাই বা বার বার ধোয়া-মোছার ওসিডি।যেহেতু করোনা সংক্রমণ ঠেকাতে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা অপরিহায সেহেতু এ সময় শুঁচিবাই এর রোগিদের রোগ মাথা চাড়া দিয়ে উঠতে পারে।

প্যানিক ডিসঅর্ডারঃ হঠাৎ করেই বুক ধড়ফড় করা,দ্রুত শ্বাস নেওয়া,শ্বাসকষ্ট হওয়া, বুকে ব্যাথা, ঘামানো, মাথা ঘুরানো, হাত-পা ঝিনঝিন করা, আসন্ন মৃত্যু ভয়ে কান্নকাটি করা ও প্রলাপ বকা এবং অজ্ঞান হয়ে যাওয়া এ রোগের লক্ষণ।সাধারণত প্যানিক অ্যাটাক ১মি.-৫মি. স্থায়ী হয়।যেহেতু এ রোগটির সাথে হার্ট অ্যাটাক ও করোনার উপসর্গের কিছু মিল আছে কাজেই এ রোগটি সম্পর্কে ধারনা থাকা জরুরি।বর্ধিত মানসিক চাপে যারা এ সমস্যায় ভূগছেন তাদের অ্যাটাক বেড়ে যেতে পারে এবং যারা ঝুঁকিপূর্ণ তাদের অ্যাটাক শুরু হতে পারে।

বীভৎস্য অভিজ্ঞতা পরবর্তী মানসিক রোগ (PTSD)- ভয়ংকর কোন ঘটনা দেখার পর কেউ কেউ এ সমস্যায় ভূগে থাকেন।অতিরিক্ত অস্থিরতা ,আতংক, ভয়ে চমকে চমকে উঠা এবং বীভৎস্য ঘটনাটি বার বার চোখের সামনে ভাসতে থাকা বা বার বার সেটা স্বপ্নে দেখা এ সমস্যার প্রধান উপসর্গ।POST TRAUMATIC STRESS DISORDER (PTSD) বা বীভৎস্য অভিজ্ঞতা পরবর্তী মানসিক চাপে মানুষ এতটাই অস্থিরতায় ভূগতে পারে যে সে আত্মহত্যাও করে ফেলতে পারে।করোনা রোগির শ্বাসকষ্ট যখন বেশি হয় তখন তার কষ্ট চোখের সামনে দেখা একটা ভয়ংকর অভিজ্ঞতা।একের পর এক মৃত্যু দেখাও একটা ভয়ংকর অভিজ্ঞতা।এ কারণে যারা করোনা রোগির চিকিৎসা দিচ্ছেন তারা এ সমস্যায় জড়িয়ে যেতে পারেন।গত সপ্তাহে যুক্তরাস্ট্রে লরনা ব্রিন(৪৯) নামক জরুরি বিভাগে কর্মরত একজন সাহসী লড়াকু ডাক্তার যিনি নিজেও করোনা আক্রান্ত হয়েছিলেন তিনি সুস্থতা লাভের পর আত্মহত্যা করেছেন।

হাইপোকন্ড্রিয়াক্যাল নিউরোসিস: HYPOCHODRIACAL NEUROSIS কিছু কিছু মানুষ আছে যারা কোন ভয়ংকর রোগের উপসর্গ শোনা মাত্রই সেটা তার শরীরে আছে মনে করে মারাত্মক অস্থিরতায় ভোগেন।একটু কাশি হলো ব্যস করোনা ভীতি শুরু হয়ে গেল।বার বার ডাক্তারের কাছে দৌড়ানো, বার বার টেস্ট করা, টেস্ট রিপোর্ট নরমাল আসলে সেটা নিয়ে সন্দেহ করা এরোগের লক্ষণ।

সোমাটাইজেসন-এটাও একটা অস্থিরতাজনিত রোগ যেখানে মানসিক কারণে শরীরে নানা রোগের উপসর্গ দেখা দেয় যা পরীক্ষা নিরীক্ষায় ধরা পড়ে না।বর্তমানের উদ্বেগজনক পরিস্থিতিতে এ রোগে যারা ভূগছেন তাদের উপসর্গ বেড়ে যেতে পারে।সোমাটাইজেসন সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে এখানে ক্লিক করুন।



করোনা মহামারী ঠেকাতে গিয়ে মানুষ অর্থনৈতিক মন্দাকে ডেকে নিয়ে আসছে।আর অর্থনৈতিক মন্দা হলো বিষণ্নতা তৈরির উর্বর ক্ষেত্র। বিষণ্নতা এমন এক নীরব ঘাতক যা একজন মানুষের জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রকে গ্রাস করতে থাকে আর তাকে এনে দেয় একাকীত্ব।আর এই একাকীত্ব তার এই অসুখকে বহুগুণে বাড়িয়ে দেয়।সে ঢুকে পড়ে বিষন্নতা-কষ্ট-একাকীত্বের এক দুষ্টু চক্রে। স্বপ্নহীন, আনন্দহীন এক দূর্বিসহ জীবন নিয়ে এগিয়ে চলে অনিশ্চিত ভবিষ্যতে।অনেকক্ষেত্রে আত্মহননে দিয়ে শেষ হয় এর যাত্রা।তাই বিষণ্নতার উপসর্গগুলো সবার জানা প্রয়োজন।১ নং বা ২ নং উপসর্গসহ নিম্নোক্ত যে কোন ৫ টি উপসর্গ যদি ১৫ দিনের বেশী কারো মধ্যে থাকে (যে কোন কারণেই হোক না কেন) তাহলে সে নিশ্চিতভাবে মারাত্মক মাত্রায় বিষণ্নতায় ভুগছেন যা চিকিৎসা না করালে তার সুন্দর জীবন ধ্বংসের মুখোমুখি চলে যেতে পারে।উপসর্গগুলো হলোঃ

১) প্রায়ই মন খারাপ থাকা বা একাকী মনের কষ্টে কান্নাকাটি করা বা ভিতর থেকে কান্না ঠেলে আসছে এমন লাগা।

২) অধিকাংশ কাজে আনন্দ না পাওয়া এমনকি যেসব কাজে মানুষ যথেষ্ঠ আনন্দ পায় যেমন ঈদ, বিয়ে, জন্মদিন ও অন্যান্য পারিবারিক/সামাজিক অনুষ্ঠান বা শপিং-এ অনীহা তৈরি হওয়া বা অংশগ্রহন করে আনন্দ না পাওয়া কিংবা এ ধরনের অনুষ্ঠানে না যাওয়ার জন্য অজুহাত তৈরি করা। মানুষের সাথে মেলামেশা করতে ভাল না লাগায় দিন দিন একা হয়ে যাওয়া।

৩) খাওয়ার ব্যাপারে অরুচি/অনীহা; এমনকি ক্ষুধা না লাগলেও খেতে ইচ্ছে না করা(এরা সাধারণতঃ সকালের নাস্তা দেরি করে করে)। দিন দিন শরীর শুকিয়ে যাওয়া।অবশ্য কিছু কিছু ক্ষেত্রে রোগি অতিরিক্ত খাওয়া-দাওয়া করে এবং মোটা হতে পারে।

৪) শরীর খুব দুর্বল বা ক্লান্ত লাগা। বিশেষত: কোন কাজ আরম্ভ করার আগেই মনে হওয়া যে দূর্বলতার জন্য কাজটা করতে পারব না।

৫) ঘুম না হওয়া বা ঘুম খুব পাতলা হওয়া বা বিছানে শোয়ার পরও সহজে ঘুম না আসা বা বার বার ঘুম ভেঙ্গে যাওয়া।বিশেষতঃ শেষ রাতে ঘুমটা আসে ফলে রোগি সকালে ঘুম থেকে দেরি করে উঠে।কিছু ব্যতিক্রম ক্ষেত্রে অবশ্য কারো কারো ঘুম বেড়ে যায়।

৬) দিন দিন মেজাজ চড়ে যাওয়া বা অল্পতেই বেশি বিরক্ত বা উত্তেজিত হওয়া। এমনকি রোগিরা অন্যের দেয়া ভাল উপদেশও সহ্য করতে পারে না।

৭) নিজেকে খুব অসহায় লাগা বা সকলের জন্য নিজেকে একটা বোঝা মনে করা অথবা সকল কষ্টের জন্য নিজেকে বা ভাগ্যকে বার বার দায়ি করা। আত্মবিশ্বাস কমে যাওয়া।ভবিষ্যত অন্ধকার দেখা।

৮) কাজে-কর্মে মন না বসা বা কথা মনে রাখতে না পারা অর্থাৎ অমনোযোগী হওয়া।

৯) বেঁচে থাকার আগ্রহ কমে যাওয়া। রোগি অনেক সময় বলে থাকে “অনেক কষ্ট নিয়ে বেঁচে আছি; তার চেয়ে মরে যাওয়া ভালো।” ক্ষেত্র বিশেষে রোগি আত্মহত্যার চিন্তা বা চেষ্টা করে থাকে।বিশ্বে যত আত্মহত্যার ঘটনা ঘটে তার সিংহভাগেরই কারণ বিষণ্নতা।


(Ref.:Riview of General Psychiatry,4th edt,DSM-IV)


আনুষঙ্গিক লক্ষণ:-এগুলো বিষণ্নতার প্রত্যক্ষ উপসর্গ না হলেও বিষণ্ন রোগিদের মাঝে প্রায়ই দেখা যায়-

১)খুব অস্থির লাগা, বুক ধড়ফড় করা।

২)ঘাড় বা মাথার পিছনে ব্যথা হওয়া (Tension headache),মাথার মধ্যে ভোঁতা যন্ত্রণা হওয়া।

৩)জ্বর জ্বর লাগা অথচ মাপলে থার্মোমিটারে জ্বর উঠে না।

৪)শরীরের বিভিন্ন জায়গায় ব্যথা হওয়া ও শরীর ম্যাজম্যাজ করা।

৫)গ্যাস্ট্রিকের সমস্যা, হজমের অসুবিধা বা পায়খানা কষে যাওয়া।

৬)যৌন ইচ্ছা বা ক্ষমতা কমে যাওয়া;এ কারণে বিষণ্ন রোগিদের দাম্পত্য জীবন দূর্বিষহ হয়ে উঠে।

৭)ভয়/আতঙ্ক অনুভব করা,হঠাৎ চমকে উঠা।

৮)নেতিবাচক চিন্তাভাবনা বা ভবিষ্যৎ অন্ধকার দেখা (Pessimism)।

৯)চারপাশের মানুষকে শত্রু ভাবাপন্ন/ক্ষতিকর মনে করা বিশেষত কাছের মানুষদেরকে।ফলে পরিবারের সদস্য,বন্ধু-বান্ধব ও নিকটজনদের সাথে সম্পর্কের অবনতি হয়।কেউ কেউ নানা অজুহাতে বাড়ি থেকে দূরে চলে যায় বা চেষ্টা বা চিন্তা করে।এ বিষয়টি রোগিকে আরও একাকীত্বের মধ্যে ঠেলে দেয় যা তার রোগকে বহুগুণে বাড়িয়ে দেয়।

১০)নিজের মতামতকে বেশি গুরুত্ব দেওয়া এবং অন্যের মতামতকে গুরুত্ব না দেওয়া। …..ইত্যাদি।


এমনিতেই বাংলাদেশ, ভারত ও পাকিস্থানে বিষণ্নতার রোগি বেশি (বিষণ্ণতার বিশ্ব র্যাকিং এ প্রথম ১০টি দেশের মধ্যে রয়েছে এই ৩টি দেশ) তারপর এই করোনা উদ্ভূত মহামন্দায় সেটা যে বহুগুণে বৃদ্ধি পাবে তা বলাই বাহুল্য।বিষণ্নতা বিয়য়ে আরও বিস্তারিত জানতে এখানে ক্লিক করুন।




সারাবিশ্বে প্রতি ২সেকেন্ডে একজন মানুষ আত্মহত্যার চেষ্টা করছেন এবং প্রতি ৪০সেকেন্ডে একজন সফলভাবে আত্মহত্যা করছেন।বাংলাদেশেও গড়ে প্রতি ৫০মিনিটে একজন আত্মহত্যা করছেন।বিশ্বব্যাপী মানসিক রোগ আত্মহত্যার সবচেয়ে বড় কারণ হলেও আমাদের দেশে মানসিক রোগের পাশাপাশি তাৎক্ষণিক তীব্র তাড়না (Impulsivity) বা হঠকারিতা খুব গুরুত্বপূর্ণ কারণ হিসাবে প্রতিভাত হয়েছে যা আমাদের মানসিক চাপ সহ্য করার বা তা ম্যানেজ করার অক্ষমতাকে নির্দেশ করে।আত্মহত্যার সাথে অর্থনৈতিক দূর্বলতা সিংহভাগ ক্ষেত্রে সরাসরি সম্পর্কযুক্ত।বিশ্বব্যাপী আত্মহত্যার ৭৫%ই ঘটে নিম্ন ও মধ্যম আয়ের দেশগুলোতে।আমাদের দেশেও অভাব-অনটন তথা আর্থিক দৈন্যতা মানসিক চাপ ও মানসিক রোগ তৈরিতে এবং আত্মহত্যার অন্যতম নিয়ামক হিসাবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।এখন করোনা উদ্ভূত অর্থনৈতিক মন্দায় যে আত্মহত্যার সংখ্যা বাড়বে তা এখন স্পষ্ট হতে শুরু করেছে।গতকাল ভারতীয় এক পত্রিকায় প্রকাশিত রিপোর্টে দেখা যায় সেখানে লকডাউনজনিত কারণে ৩০০জনেরও অধিক মানুষ আত্মহত্যা করেছেন।
আত্মহত্যা করেছেন জার্মান অর্থমন্ত্রী হেসে ভবিষ্যত অর্থনৈতিক দূরবস্থার কথা ভেবে।পোলান্ডের এক শহরের প্রথম করোনা রোগি হওয়ায় মানুষের মুখের কথা সহ্য করতে না পেরে আত্মহত্যা করেছেন গাইনি বিশেষজ্ঞ Dr.Wojciech Rokita।

উপসর্গ ছাড়া যেমন রোগ হয় না,ঠিক তেমনি সিগনাল ছাড়া বেশীরভাগ ক্ষেত্রে আত্মহত্যার ঘটনা ঘটে না। আত্মহত্যার সংঘটনের পূর্বে অধিকাংশ ক্ষেত্রেই আত্মহননে ইচ্ছুক ব্যক্তি এমন কিছু আচরণ করেন বা কথাবার্তা বলেন যা থেকে ধারণা করা যায় উক্ত ব্যক্তি আত্মহত্যা করতে যাচ্ছেন।এগুলোকে বলা হয় আত্মহত্যার ওয়ানিং সাইন।আত্মহত্যা প্রতিরোধে এ সাইনগুলো আমাদের সবার জানা উচিৎ। সাইনগুলো হলো-

১)জীবনকে অপ্রয়োজনীয় মনে করা-“বেঁচে থাকা অর্থহীন”,“বেঁচে থেকে কী লাভ”,“বেঁচে থাকার কারণ নেই”,“ইশ্ যদি আমার জন্ম না হতো”,“এ জীবন নিয়ে বেঁচে থেকে কী লাভ?”, “তোমাকে ছাড়া আমার জীবন অর্থহীন”... এ জাতীয় কথা বলা।অনেক সময় এধরনের কথা হাসির ছলে বললেও সেটাকে গুরুত্ব দিতে হবে।

২)নিজেকে অন্যের জন্য বোঝা মনে করা-“আমি পরিবারের জন্য বোঝা হয়ে গেছি”,“অন্ন ধ্বংস করছি”,“আমি মরে গেলে সবাই মুক্তি পাবে”,“বেকার হয়ে থাকার চেয়ে মরে যাওয়া ভাল”, “চিন্তা করো না আর ক’দিন পরই তোমাকে চিরমুক্তি দিয়ে দিব” ... এ ধরনের কথা আত্মহত্যার পূর্বাভাস হিসাবে প্রতিপাদ্য হতে পারে।

৩)সীমাহীন কষ্টের কথা প্রকাশ করা-“আর কষ্ট বা অবহেলা বা মানসিক নির্যাতন সহ্য করতে পারছি না”,“এত কষ্ট নিয়ে বেঁচে থাকার চেয়ে মরে যাওয়া অনেক ভাল”,“তোমায় ভালোবেসে কী পেলাম?”,“তোমার কারণে আমার জীবন তছনছ হয়ে গেছে”,“আমাকে সবাই এত কষ্ট দেয় কেন?” এ ধরনের স্বগোক্তি আত্মহত্যার পূর্বলক্ষণ হতে পারে।

৪)পরিচিতজনদের নিকট থেকে বিদায় নেওয়া-“ভাল থাকিস,আর হয়ত কোনদিন দেখা হবে না”,“হয়ত এটাই তোমার সাথে আমার শেষ দেখা”,“চলে যাচ্ছি অনেক দূর”,“চিরবিদায়...”, “হয়ত বেশিদিন বাঁচব না,ভুল হয়ে থাকলে মাফ করে দিও”, “এত দূরে চলে যাচ্ছি,তোমরা খুঁজেও পাবে না”…. এ জাতীয় কথা বলা।

৫)হঠাৎ করেই নিজের সব জিনিস অন্যদেরকে দিয়ে দেওয়া।

৬)মৃত্যু বিষয়ে নানা চিন্তা ভাবনার কথা প্রকাশ করা।কেউ কেউ সৃষ্টিকর্তাকে বেশি বেশি করে স্মরণ করতে শুরু করে।এমনকি মারা গেলে কিভাবে ও কোথায় দাফন করতে হবে,পরকালে কী হবে সে বিষয়ে কথা বলা; এমনকি হাসির ছলে হলেও সেটাকে গুরুত্ব দিতে হবে।

৭)“আমি যদি বেঁচে না থাকি”,“আমার যদি হঠাৎ করে কিছু হয়ে যায়”...এধরনের কথা বলে অন্যদের উপদেশ ও দায়িত্ব বন্টন করে দেওয়া।

৮)আত্মহত্যা সংক্রান্ত বিভিন্ন তথ্য সংগ্রহ করা ইন্টারনেটের বদৌলতে যা আজ অনেক সহজ হয়ে গেছে।

৯)আত্মহত্যায় ব্যবহৃত হতে পারে এমন জিনিস যোগাড় করা।যেমন-কীটনাশক, ঘুমের ঔষধ, আগ্নেয়াস্ত্র ,দড়ি ইত্যাদি।

১০) যেসব জিনিসের খুব যত্ন নিত তা হঠাৎ করে ত্যাগ করা।যেমন-পোষা প্রাণী বা অ্যাকুরিয়ামের মাছ বা খাঁচার পাখির ছেড়ে দেওয়া বা অন্যকে দিয়ে দেওয়া বা তাদের যত্ন না নেওয়া কিংবা প্রিয় বাগানের পরিচর্যা বন্ধ করে দেওয়া।

১১)মনের বিক্ষিপ্ততা দৃশ্যমান হওয়া।যেমন-একটুতেই উত্তেজিত হওয়া, প্রতিশোধ নেওয়ার কথা বলা, অকারণে কেঁদে ফেলা, নিজেকে গুটিয়ে রাখা, অস্বাভাবিক শান্ত হয়ে যাওয়া ইত্যাদি।

১২)খাওয়া-দাওয়া ও ঘুমের প্যাটার্নে দৃশ্যমান অস্বাভাবিক পরিবর্তন।

১৩)নিজ জীবনের কষ্টের কাহিনী লেখা।এটা ডায়েরি আকারে হতে পারে কিংবা চিঠি লেখার মাধ্যমেও হতে পারে।বর্তমান যুগে ফেসবুক বা টুইটারে এ ধরনের কথা ব্যক্ত করার বেশ প্রবণতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে।

১৪)অতিরিক্ত ঘুমের ঔষধ সেবন করা।মাদকাসক্তরা মাদক সেবনের পরিমাণ বাড়িয়ে দিতে পারে।

১৫)আত্মহত্যার স্থান নিশ্চিত করা।ঘরে আত্মহত্যার প্ল্যান থাকলে ঘরের দরজা বন্ধ করে রাখার নতুন প্রবণতা তৈরি হওয়া।ট্রেনের নিচে বা নদীতে ঝাঁপ দেওয়ার প্ল্যান থাকলে সে স্থান বার বার ভিজিটে যাওয়া।ট্রেনের সিডিউল জানার চেষ্টা করা কিংবা হঠাৎ ট্রেন ভ্রমণের প্রতি আগ্রহ বেড়ে যাওয়া।


বাংলাদেশের বর্তমান ও অদূর ভবিষ্যতের আর্থ-সামাজিক অবস্থা বিবেচনায় এদেশে আত্মহত্যার প্রবণতা বেড়ে যাওয়ার এক কঠিন বাস্তবতার মুখোমুখি আমরা।অাশা করি আপনারা সবাই নিজ নিজ অবস্থান থেকে এ বিষয়ে সতর্ক থাকবেন।যারা আত্মহত্যা বিষয়ে বিষদ জানতে চান তারা এখানে ক্লিক করুন।




করোনা রোগিদের মধ্যে উত্তেজিত হওয়া, অস্থির হওয়া, দ্বিধান্বিত হওয়া (Confusional state), স্থান-কাল-পাত্র বুঝতে সমস্যা হওয়া (Disorientation), অতিরিক্ত কথা বলার মত সমস্যা দেখা যাচ্ছে।তারচেয়েও বড় কথা রোগমুক্তির পরও নানারূপ মানসিক সমস্যা যেমন ঘুম না হওয়া বা অতিরিক্ত ঘুমানো, বিষণ্নতা, আত্মহত্যার প্রবণতা, মুড পরিবর্তন ইত্যাদি সমস্যায় দীর্ঘদিন ভূগতে হতে পারে।যাদের উপসর্গবিহীন করোনা ছিলো (Asymptomatic cases) তারাও এ ধরনের সমস্যায় ভূগতে পারেন।সুতরাং করোনা রোগ নির্ণয়ে এবং রোগ পরবর্তী সময়েও স্নায়বিক উপসর্গগুলোর ব্যাপারে গুরুত্ব দেওয়া অত্যাবশ্যকীয়।



যারা বয়োবৃদ্ধ মানুষ তাদের ব্রেনের ক্ষয়জনিত রোগ (Degeneration) এবং মানসিক চাপ সহ্য করার সক্ষমতা হ্রাস পাওয়ার কারণে অস্থিরতা ও উত্তেজনা (Senile Agitation), বিষণ্নতা (Senile Depression) , ভুলে যাওয়া (Senile Dementia) এবং স্থান-কাল-পাত্র চিনতে অসুবিধা হওয়া (Disorientation) এবং অতিরিক্ত কথা বলার (Senile Logorrhoea) মত সমস্যা খুব সাধারণ।যেহেতু এ বয়সের রোগিদের করোনায় মৃত্যুহার খুব বেশি কাজেই তাদের বাড়তি চাপ অনুভব করাটা স্বাভাবিক।আর এই বাড়তি চাপ তাদের উপসর্গের মাত্রা বাড়িয়ে দিতে পারে।এ অবস্থায় অজ্ঞতাজনিত, অবহেলাজনিত কিংবা আত্মনিয়ন্ত্রণে সক্ষমতার অভাবে পরিবারের অন্যন্য সদস্যরা যদি তাদের সাথে বিরূপ আচরণ করে তাহলে তাদের মানসিক অবস্থার দ্রুত অবনতি ঘটতে পারে।




করোনার খবর দেখা বা শোনা বন্ধ করুন- করোনা ভাইরাস যেমন কোভিড-১৯ রোগের জন্য দায়ী ঠিক তেমনি করোনা আক্রান্ত ও বিভীষিকাময় মৃত্যুর খবর মানসিক রোগ মহামারীর জন্য অনেকাংশে দায়ী।প্রতিদিন কতজন রোগাক্রান্ত হলো,কতজন মারা গেলো,মৃত্যু কতটা বীভৎস্য ছিলো, রাস্তায় পড়ে অাছে লাশ, ডাক্তার-নার্স কান্নাকাটি করছে, করোনার ভয়ে ছাদ থেকে বা জানালা দিয়ে লাফিয়ে পড়েছে, ঘরের মানুষও করোনা রোগিকে ফেলে দিচ্ছে, পরিবারের লোকজন মরার সময় মুখে পানি দিতে পারছে না, দাফন-কাফন করতে পারছে না এসব খবর আপনার জেনে কী লাভ?এগুলো যারা মানসিকভাবে দূর্বল তাদের ভিতর প্যানিক তৈরি করে আর মানসিক অসুস্থতা তৈরি করে।আপনি স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলুন এবং সতর্কতা অবলম্বন করুন।করোনা যোদ্ধা ও জয়ীদের গল্প জানুন এবং জানান।সাহসী হোন এবং অন্যকে সাহস যোগান।এ বিষয়ে যারা অ্যাকাডেমিক তথ্য জানতে চান তারা নিচের রেফারেন্সটি দেখতে পারেন-
Pfefferbaum, B., Newman, E., Nelson, S. D., Nitiéma, P., Pfefferbaum, R. L., & Rahman, A. (2014). Disaster media coverage and psychological outcomes: descriptive findings in the extant research. Current psychiatry reports, 16(9), 464.

সমস্যা আপনার একার নয়,অন্যরাও আপনার মত সমস্যায় ভূগছে- করোনা মহামারী কিংবা করোনা পরবর্তী অর্থনৈতিক মন্দা শুধু আপনাকে না, বিশ্বের সবাইকে সমস্যায় ফেলেছে।আর ফেলেছে বলেই বিশ্বের সবদেশের সরকার নানাবিধ পদক্ষেপ নিচ্ছে।কেউ যেন জোর করে আপনার কাছ থেকে পাওনা আদায় করতে না পারে সেজন্য নানা পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে এবং হচ্ছে।ফোন করলে খাওয়া ঘরে পৌছে দেওয়া হচ্ছে।শুধু সরকার নয়, স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ও ব্যক্তি উদ্যোগেও নানা তৎপরতা চলছে।অর্থনীতি পূণর্গঠনের সময় অনেক কাজের সুযোগ সৃষ্টি হবে।সে সময় অবধি ধৈয্য ধরুন।তিন বেলা পেটপুরে না খেতে পেলেও অন্তত না খেয়ে মরবেন না ইং শায়া আল্লাহ।মহাবিপদ মোকাবেলায় সাধারণ মানুষের সক্ষমতা বিশেষত বাংলাদেশের মানুষের সক্ষমতা বহু পরীক্ষিত।নিজের সেই সক্ষমতাকে আরেকবারের জন্য কাজ করার সুযোগ দিন।মহামারী শুধু সমস্যা নিয়ে আসে না,সম্ভাবনা নিয়েও আসে।

মানসিক রোগের রোগিরা ঔষধ ঠিকমত খাবেন- করোনা মহামারী ও অর্থনৈতিক মন্দায় মানসিক চাপ তৈরি হওয়া স্বাভাবিক।কিন্তু যারা ইতিমধ্যে মানসিক সমস্যায় ভূগছেন তাদের জন্য এই স্বাভাবিকতাটুকুই মরার উডর খাঁড়ার ঘা।সুতরাং যারা মানসিক রোগে ভূগছেন তারা যেন ঠিকমত চিকিৎসা চালিয়ে যেতে পারে সেটা নিশ্চিত করুন।আপনি আপনার চিকিৎসকের সাথে ফোনে পরামর্শ করুন।বেশকিছু টেলিমেডিসিন সার্ভিস প্রোভাইডার সরকারের পাশাপাশি এ ব্যাপারে সাহায্য করছে।আপনি সরকারি ওয়েবসাইট করোনা ইনফো তে এরকম বেশকিছু প্রতিষ্ঠানের যোগাযোগ নম্বর পেয়ে যাবেন।এরকমই একটি প্রতিষ্ঠান ‘মনের বন্ধু’ যারা মানসিক রোগ ও সমস্যার জন্য সব ধরনের সার্ভিস সম্পূর্ণ বিনামূল্যে এবং ২৪ ঘণ্টাব্যাপি প্রদান করছে-



এছাড়াও অন্য কোন প্রতিষ্ঠান বা ক্লিনিক্যাল সাইকোলজিস্ট বা সাইকিয়াট্রিস্ট যদি এ ধরনের সার্ভিস প্রদান করতে চান বা করে থাকেন তাদের তথ্য মন্তব্যের ঘরে দিন।আমি পোস্টে সেটা যুক্ত করে দেব ইং শায়া আল্লাহ।

ঘরকে আনন্দময় করে তুলুন- একটানা অনির্দিষ্ট দিন ঘরে আবদ্ধ থাকাটা বেশ বিরক্তিকর।একসময় কাজের জন্য চাইলেও পরিবারের সদস্যদের যথেষ্ট সময় দিতে পারেননি এবং তারাও আপনাকে অনেকখানি মিস করেছে।লকডাউনের এ সুযোগে সারাবছরের সেই ঘাটতি কিংবা সারাজীবনের সেই ঘাটতি পূরণে নানা পরিকল্পনা করুন।ঘর সাজানো, রান্না করা, খেলাধুলা, টিফিতে নাটক সিনেমা না দেখে নিজেরাই নিজেদের দক্ষতামত গান-নাটক, কবিতা আবৃত্তি বা গল্প শোনা ও গল্প বলা এ জাতীয় নানা প্রোগ্রামে পরিবারের সবাইকে সক্রিয় রাখুন।

সৃষ্টিকর্তাকে বেশি বেশি স্মরণ করুন-বিপদ থেকে রক্ষা পাওয়ার সব চেষ্টা যখন ব্যর্থ হয় তখন মানুষ কোন শক্তিশালী স্বত্বার কাছ থেকে সাহায্য পাওয়ায় আশায় নির্ভরশীলতার প্রশান্তি নিয়ে প্রতীক্ষায় থাকে।এটুকুও মানুষের মানসিক চাপ লাঘবে প্রভূত সাহায্য করে থাকে।

কথা বলুন-সমস্যা মনের মধ্যে চেপে না রেখে কথা বলুন।পরিবারের সদস্য, বন্ধু কিংবা পেশাজীবীর সাথে কথা বলুন।আজকাল অনলাইনে বেশকিছু প্রতিষ্ঠান আপনার মনের কথা প্রকাশের সুযোগ অবারিত করে দিয়েছে।এরকম একটি প্রতিষ্ঠান ‘মনের বন্ধু’র ঠিকানা পোস্টে দেওয়া হয়েছে।কথা বন্ধ করে রাখলে বা সমস্যা চেপে রাখলে তা মানসিক চাপ ও রোগ দুটোই বাড়িয়ে দিতে পারে।একবছর তো বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার আত্মহত্যা প্রতিরোধের স্লোগানই ছিলো ‘Let’s talk’ ‘চলুন কথা বলি’....

সৃষ্টিশীল কাজে নিজেকে জড়িয়ে রাখুন-সৃষ্টিশীল কাজে নিজেকে জড়িয়ে রাখা মানসিক প্রশান্তি লাভের একটি গুরুত্বপূর্ণ উপায়।গান শোনা সৃষ্টিশীল কাজ নয়,গান পাওয়া সৃষ্টিশীল কাজ।সুতরাং নতুন নতুন আইডিয়া নিয়ে নানা সৃষ্টিশীল কাজে নিজেকে জড়িয়ে রাখুন।নতুন ডিজাইনের মাস্ক বানান, ঘরের উপাদান দিয়ে স্যানিটাইজার বানান, সমস্যাগ্রস্থ মানুষকে সাহায্য করার নানা উপায় ও উপকরণ তৈরিতে বুদ্ধি খাটান।

জ্ঞান অর্জনে পর‌্যাপ্ত সময় দিন- যারা শিক্ষার্থী তারা তাদের অ্যাকাডেমিক পড়াশোনা চালিয়ে যাবেন যথারীতি।লকডাউনের সময়কে এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ হিসাবে কাজে লাগাতে দৃঢ় প্রত্যয়ী হউন।যারা শিক্ষাজীবন শেষ করেছেন তারাও পছন্দমত একটা কোর্স করে ফেলুন।বিশ্বের অনেক নামকরা বিশ্ববিদ্যালয়ের ওপেন অনলাইন কোর্স আছে যার বেশিরভাগই ফ্রি।এ ব্যাপারে তথ্য পেতে এখানে ক্লিক করুন।আপনি করোনার উপরও ফ্রি কোর্স করতে পারেন এবং সার্টিফিকেট পেতে পারেন একদম ফ্রিতে। আপনি মুক্তপাঠে এরকম কোর্স পেয়ে যাবেন।আবুধাবির মোহাম্মদ বিন রশীদ ইউনিভার্সিটি অব মেডিসিন এন্ড হেলথ সায়েন্স থেকে এরকম একটা কোর্স করতে পারেন ফ্রিতে এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতের সরকারী লোগো সম্বলিত একটা সার্টিফিকেটও পেয়ে যাবেন অনাসায়ে।এখানে করোনা বিষয়ক চমৎকার কিছু তথ্য অাছে।কোর্সটি করতে এখানে ক্লিক করুন।

রামাদান মাস মুসলমানদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ।আর এ মাসে কুরআন তিলাওয়াত ও শিক্ষার বিশেষ গুরুত্ব বহন করে।এ অবসর সময়ে সহি শুদ্ধভাবে কুরআন পাঠ শেখার চেষ্টা করতে পারেন।আমি এ বিষয়ে সহসাই একটা পোস্ট দিতে পারি।

পারিবারিক বন্ধন সুদৃঢ় করেন- যারা কাছে আছে কিংবা দূরে আছে তাদের নিয়মিত খোঁজ খবর নিন।করোনা মোকাবেলায় স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতে বলুন।সাহস যোগান।আশারবাণী হতাশাকে দূর করতে সাহায্য করে।বিশেষত বাড়ির বয়স্ক সদস্যদের ব্যাপারে বাড়তি যত্ন নিন।তাদেরকে সময় দিন।তাদের মন থেকে শংকা দূর করতে সচেষ্ট হউন।

নিজের মত জোর করে অন্যের উপর না চাপিয়ে অন্যের মতামতকে গুরুত্বসহকারে শুনুন।

সহমর্মী হউন- অন্যকে সাহায্য করার জন্য হ্রদয়কে প্রসারিত করুন

বড় বড় মণীষীদের জীবন কাহিনী নিত্যদিনের পাঠ্য করুন পরিবারের সদস্যদের জন্য।

প্রত্যেকেই নিজ নিজ কাজ রুটিন করে করতে থাকুন।

ব্যায়াম করুন নিয়মিত- ঘরের মধ্যেই অনেক ধরনের ফ্রি হ্যান্ড এক্সারসাইজ করা যায়।ব্যায়াম করার সময় আমাদের দেহে এন্ডরফিন (Endorphins) নিউরোহরমোন নিঃসৃত হয়। এন্ডরফিনের কাজ অনেকটা মরফিনের মতই।দেহের ব্যাথা ও মনের ব্যাথা দুইই কমায়।তাছাড়া ব্যায়ামরত মাংসপেশি ইনসুলিনের সাহায্য ছাড়াই সরাসরি রক্ত থেকে গ্লুকোজ গ্রহণ করতে পারে।ব্যায়াম=ইনসুলিন।সুতরাং আপনার ঘরের ডায়াবেটিক রোগিরাও সুফল পাবেন ইং শায়া আল্লাহ।তাছাড়া ব্যায়ামের দেহের রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থার উপর ধণাত্বক প্রভাব রয়েছে।

হাসিখুশি থাকুন-হাসি যে একটা শক্তিশালী ঔষধ তা হয়ত অনেকেই বিশ্বাস করবেন না। হাসি-ঠাট্টা ও জোকসের সময় ব্রেনে প্রচুর পরিমাণে এন্ডরফিন নিঃসৃত হয়।এটি মন প্রফুল্ল রাখতে এবং ব্যাথা কমাতে সাহায্য করে।দুনিয়ার বিভিন্ন দেশে লাফটার ক্লাব আছে।প্রচলিত চিকিৎসায় ব্যাথা কমেনি এমন রোগিরাও এসব ক্লাবে গিয়ে উপকৃত হয়েছেন।মানসিক রোগিরা হাসতে পারেন না বেশিরভাগ ক্ষেত্রে।এসবক্ষেত্রে ‘হাসি থেরাপি’ সহায়ক ভূমিকা পালন করতে পারে।করোনা চিকিৎসারত ডাক্তার নার্সদের কর্তব্যরত অবস্থায় নাচ-গানের যেসব ভিডিও ভাইরাল হয় তার মূলত্বত্ত্ব এখানেই।

শিথিলায়ন ব্যায়াম-হুইসেল বাজানোর মত মুখের ছিদ্র ছোট করে সে পথে বুকের ভিতর থেকে যতটা সম্ভব বাতাস বের করে দিয়ে ধীরে ধীরে বুক ভরে শ্বাস নিতে হবে নাক দিয়ে এবং পেট ফুলিয়ে।তারপর একটু দমটা ধরে রেখে খুব ধীরে ধীরে (শ্বাস গ্রহণের চেয়েও অর্ধেক ধীরগতিতে) মুখ দিয়ে বাতাস ছাড়তে হবে।অর্থাৎ নাক দিয়ে পেট ফুলিয়ে বাতাস নিয়ে কিছুক্ষণ দম আটকে রেখে মুখ দিয়ে শিস বাজানোর মত মুখের ছিদ্র ছোট করে বাতাস ছাড়তে হবে এবং পুরো প্রক্রিয়াটি হবে ধীর গতির।বোঝার সুবিধার্তে আপনি ৫-৩-৯ ফর্মূলা ব্যবহার করতে পারেন।বুক থেকে যথাসম্ভব বাতাস বের করে দেওয়ার পর পাঁচ গণনা করা পর্যন্ত ধীরে ধীরে নাক দিয়ে পেট ফুলিয়ে শ্বাস নিন;তিন গণনা করা পর্যন্ত দম আটকে রাখুন;তারপর নয় গণনা করা পর্যন্ত খুব ধীরে ধীরে মুখের সংকুচিত ছিদ্রপথে তা ত্যাগ করুন।এটাকে Slow Breathing Exercise বা Voluntary Abdominal Breathing (VAB) বলে।Neuroscience Research (Volume 50, Issue 3, November 2004, Pages 307–317) থেকে জানা যায় এ ধরণের নিয়ন্ত্রিত শ্বাস-প্রশ্বাসের কারণে ব্রেনে অতি দ্রুত অালফা ওয়েভ তৈরী হতে শুরু করে।আর ব্রেনে আলফা ওয়েভ তখনই তৈরি হয় যখন ব্রেন প্রশান্তিতে থাকে।



আলফা মিউজিক শুনুন- কিছু কিছু সুর আছে যেগুলো ব্রেনে আলফা ওয়েভ তৈরিতে সাহায্য করে বলে দাবি করা হয়।শুনে দেখতে পারেন সেগুলো আপনাকে প্রশান্তি দিচ্ছে কি না।নিচে এরকম কয়েকটি মিউজিক লিংক সংযুক্ত করলাম-







ক্ষমাশীল হউন এবং ক্ষমা প্রার্থনা করুন- রাগ ও প্রতিশোধ স্পৃহা রক্তে উত্তেজক হরমোন ও নিউরোহরমোন রিলিজ করে।ক্ষমা করে দেওয়া এবং ক্ষমা প্রার্থনা ঠিক তার উল্টো।সুতরাং মানসিকভাবে সুস্থ থাকতে ক্ষমাশীল হউন ও ক্ষমা প্রার্থনা করুন।

নেশাগ্রস্থদের ব্যাপারে বিশেষ যত্ন নিন-যারা নেশাগ্রস্থ তারা এক ধরনের অসহায় মানুষ।তারা চাইলেও নেশা তাদেরকে ছাড়ে না।এই লকডাউনের সময় নেশাদ্রব্য না পাওয়া কিংবা সেটা কিনতে প্রয়োজনীয় অর্থ যোগাড় করতে না পারার কারণে নেশা বিরতি উপসর্গ (withdrawal symptoms) হওয়াটা একটা বাস্তবতা।তাছাড়া নেশার টাকা যোগাড়ের জন্য ঘরের ভিতর অশান্তি ও সমাজে অপরাধমূলক কাজ করতে পারে।এ বিষয়ে বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ নিন।যারা মাদকাসক্তি নিয়াময় নিয়ে কাজ করেন তারা এসময় অনলাইন সার্ভিস দিয়ে করোনা যোদ্ধার ভূমিকা পালন করতে পারেন।সরকার চাইলে ‘Supervised controlled drug offer & treatment’ প্রোগ্রাম নিতে পারে।হাসপাতাল বা কমিউনিটি বেজড সেন্টারে মাদকাসক্তদের রেজিস্ট্রেসন, প্রয়োজনীয় সর্বনিম্ন মাত্রায় সবচেয়ে কম ক্ষতিকারক এবং ওইথড্রয়াল সিমটোম প্রতিহত করতে পারে এরকম ঔষধ বিতরণ এবং তাদেরকে নেশা ত্যাগে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা প্রদান করতে পারে।লকডাউনের এসময় যারা অনলাইনে সেবা নিতে চান তারা এখানে ক্লিক করতে পারেন।এখানে ২৪ ঘণ্টা মাদকসেবীদের বিনামূল্যে সার্ভিস দেওয়া হয়।

করোনা যোদ্ধাদের মনোবল অটুট রাখতে নিয়মিত কাউন্সেলিংয়ের ব্যবস্থা করতে হবে-ডাক্তার, নার্স, অন্যন্য স্বাস্থ্যকর্মী, আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য সবারই অনন্য মানুষের মত মানসিক অবসন্নতার সমস্যার সম্মুখীন হতে হয়।রোগির কষ্ট বা মৃত্যু দেখতে দেখতে কেউ কেউ মানসিক ভারসাম্য হারিয়ে ফেলেন।এসব ক্ষেত্রে নিয়মিত প্রফেসনাল কাউন্সেলিং অত্যন্ত জরুরি।এমনকি ডিউটি শেষ হওয়ার পরও কারো পোস্ট ট্রমাটিক স্ট্রেস হচ্ছে কিনা তা তদারকি করা জরুরি।


করোনা মহামারীর পিছনে যে অর্থনৈতিক মন্দা এসে হাজির হয়েছে সে বিষয়ে এখন সবাই ওয়াকিবহাল। কিন্তু সংগোপনে যে আরেকটি মহামারী আমাদের মাঝে বিস্তার লাভ করেছে সে বিষয়ে প্রায় সবাই উদাসীন।অথচ বিশ্বব্যাপি পারিবারিক সহিংসতা, আত্মহত্যা, বিষণ্নতা, অস্থিরতা ও সামাজিক অপরাধ বাড়তে শুরু করেছে যা এই লুক্কায়িত মহামারীর ফসল।এই মহামারী রুখতে ব্যক্তি সচেতনতা ও সামাজিক উদ্যোগের পাশাপাশি রাষ্ট্রীয় নিয়ন্ত্রণ জরুরি।নতুবা মানসিক বিপযয় আমাদের সংকট উত্তরণের সকল প্রচেষ্টাকে পিছন থেকে টানবে।

ধন্যবাদ যারা কষ্ট করে পোস্টটি পাঠ করলেন।

বি.দ্র: এটি একটি সচেতনতামূলক তথ্য পোস্ট;কোন বিশেষজ্ঞ মতামত নয়।

উৎসর্গঃ করোনা যুদ্ধেরত অকুতোভয় ডাক্তার, নার্স, স্বাস্থ্য কর্মী, আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য, ত্রাণ কর্মী, অ্যাম্বুলেন্সের ড্রাইভার-হেলপার, লাশ সৎকারে দায়িত্বে নিয়োজিত বীর এবং মাঠে কর্মরত প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে এ পোস্টটি তাঁদের জন্য উৎসর্গ করা হলো।

সর্বশেষ এডিট : ০৫ ই মে, ২০২০ রাত ৯:২৬
৩৪টি মন্তব্য ৩৩টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

নায়লা নাইমের বিড়ালগুলো

লিখেছেন শাহ আজিজ, ২১ শে অক্টোবর, ২০২০ রাত ৮:৫৯



একজন মডেল নায়লা নাইম সাড়ে তিনশ’ বিড়াল পালেন একটি স্বতন্ত্র ফ্লাটে ঢাকার আফতাবনগরে । পাশেই তার আবাসিক ফ্লাট । গেল চার বছরে অসংখ্য বার দর কষাকষি করেও... ...বাকিটুকু পড়ুন

গল্পঃ তালব্য শ এ এশা

লিখেছেন অপু তানভীর, ২১ শে অক্টোবর, ২০২০ রাত ১০:০৬

মাঝে মাঝে নিজের নির্বুদ্ধিতার নিজেকে একটা কষে চড় মারতে ইচ্ছে হয় । নিজের চড়ে খুব একটা ব্যাথা অবশ্য লাগে না । আর চাইলেও খুব জোরে নিজেকে চড় মারা যায়ও না... ...বাকিটুকু পড়ুন

একটা বৃহৎ জীবনের নেশা

লিখেছেন সোনাবীজ; অথবা ধুলোবালিছাই, ২১ শে অক্টোবর, ২০২০ রাত ১১:০৪

এমন সময়ে তুমি আসবে, যখন বিভোর বসন্ত
অঘোরে লাল-নীল-হলুদ ছড়াবে; তখন নবীন কিশলয়ের
মতো গজিয়ে উঠবে প্রেম। পৃথিবীর চোখ
তৃষ্ণায় ছানাবড়া হবে, মানুষে মানুষে অদ্ভুত সম্মিলন।

কখনো কখনো এত বেশি ভালো লাগে,... ...বাকিটুকু পড়ুন

মানুষ কেন গালি দেয়?

লিখেছেন রাজীব নুর, ২২ শে অক্টোবর, ২০২০ রাত ২:৩৫



'হারামজাদী ছিনাল
বজ্জাত মাগী
খানকী বেইশ্যা

মিয়া বাড়ির কাচারির সুমুখে লম্বালম্বি মাঠ। মাঠের পর মসজিদ। সে মসজিদের সুমুখে বসেছে বাদ-জুমা মজলিস। খানিক দূরে দাঁড়ান ঘোমটা ছাড়া একটি মেয়ে। গালি গুলো ওরই... ...বাকিটুকু পড়ুন

গল্পঃ কাঁচের মেয়ে

লিখেছেন সামিয়া, ২২ শে অক্টোবর, ২০২০ বিকাল ৪:৩০




আমার বিয়ে হয়েছিলো মাঘ মাসের উনিশ তারিখে আমি প্রতিদিনের মতনই স্কুলে গিয়েছিলাম ক্লাস নিতে। পড়াশোনা ইন্টারের পর আর হয়নি অভাব অনটনে আর বখাটেদের উৎপাতে সেটা ছেড়ে দিয়েছিলাম... ...বাকিটুকু পড়ুন

×