somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

অবসরে শিখতে পারেন কুরআনিক আরবি (রামাদান স্পেসাল পোস্ট)-১ম পর্ব

১৩ ই মে, ২০২০ সকাল ১০:৩২
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :



বিসমিল্লাহির রহমানির রহিম।আসসালামু আলাইকুম।

কুরআন পাঠ এবং সে অনুযায়ী কর্ম করা প্রত্যেক মুসলমানের জন্য অবশ্য কর্তব্য।যেহেতু রামাদান মাসে কুরআন নাযিল হয়েছে সুতরাং রাদামান মাসে কুরআন তিলাউয়াতের গুরুত্ব বাড়ে এবং অনেকেই সহি শুদ্ধভাবে কুরআন পাঠ করার জন্য সচেষ্ট থাকেন।রামাদানে মাসজিদগুলোতেও কুরআন শিক্ষার বিশেষ আয়োজন করা হয়। নানা কারণে অনেকের পক্ষে মাসজিদে গিয়ে শেখা সম্ভব হয় না।আর এ বছর তো করোনার কারণে মাসজিদগুলোতেও কুরআন শিক্ষার আসর পরিচালনা করা সম্ভব হচ্ছে না; সামাজিক দূরত্ব নিশ্চিতকরণে ঘরে ওস্তাদের কাছ থেকেও শেখা সম্ভব হচ্ছে না।তাদের জন্য বিকল্প হিসাবে আজকের পোস্টটির অবতারণা।



যে কোন ভাষা শেখার প্রারম্ভিক কাজটি হলো সে ভাষার বর্ণমালার সাথে পরিচিত হওয়া।বাংলাভাষার মত আরবি ভাষাতেও স্বরবর্ণ ও ব্যঞ্জণবর্ণ রয়েছে।এক নজরে সেগুলো দেখে নিই-



আরবি স্বরবর্ণ :স্বরবর্ণ মানে যেসব বর্ণ উচ্চারণে ভোকাল কর্ডের মধ্য দিয়ে ফুসফুসের বাতাসকে প্রবাহিত করে এবং জিহ্বা বা ঠোঁট যথাসম্ভব না নড়িয়ে উচ্চারণ করা যায় অর্থাৎ শুধুমাত্র স্বরকে ব্যবহার করে যেসব বর্ণ উচ্চারণ করা যায় তাই স্বর বর্ণ।আরবিতে মাত্র ৩টি স্বরবর্ণ – আলিফ (আ) , ইয়া (ই) এবং উয়াউ (উ)।মনে রাখবেন আরবিতে এ,ঐ,ও এবং ঔ নেই।

আরবি ব্যজ্ঞন বর্ণ: যেসব বর্ণের উচ্চারণে ফুসফুস তাড়িত বাতাসকে ভোকাল কর্ড দ্বারা নিয়ন্ত্রণ করে এবং জিহ্বা ও ঠোঁট দ্বারা বাঁধা প্রদান করে উচ্চারণ করা হয় তাই ব্যঞ্জণ বর্ণ।অর্থাৎ ব্যঞ্জণ বর্ণ উচ্চারণে ভোকাল কর্ড, জিহবা ও ঠোঁটের কারুকাজ রয়েছে।আরবিতে ২৬টি ব্যঞ্জণ বর্ণ রয়েছে।এর মধ্যে রয়েছে ৪টি ‘স’ (শা,সিন,সীন,সেয়াদ), ৪টি ‘জ’ (জিম,যাল,জাই,জ্ব), ২টি ‘ত’ (তা,ত্ব), ২টি ‘হ’ (হা,হা), ২টি ‘দ’ (দাল, দ্ব), ২টি ‘আ’ (আইন, হামজা), ২টি ‘ক’ (কাফ, ক্বফ) এবং ৮টি স্বতন্ত্র বর্ণ (বা, খা, র, গইন,ফা, লাম, মিম, নুন)।

গুরুত্বপূর্ণঃ আরবি বর্ণমালায় আলিফ ও হামজা এই দুই বর্ণই ‘আ’ যদিও উচ্চারণে ভিন্নতা রয়েছে।আলিফের উপর যদি যের,যবর বা পেশ থাকে অর্থাৎ আ-কার,ই-কার বা উ-কার যুক্ত হয় তাহলে সেটি হামজা হিসাবে বিবেচিত হয়।স্বতন্ত্র আলিফ বর্ণ নয় বরং ‘আ-কার’ হিসাবে কাজ করে।এজন্য অনেকেই আরবি ভাষায় বর্ণমালা ২৮টি ধরেন এবং আলিফকে ‘আ-কার’ হিসাবে বিবেচনা করেন।


যেহেতু স্বরবর্ণের আকার থাকে আরবিতেও ৩টি আকার যবর(আ-কার), যের (ই-কার) এবং পেশ (উ-কার)আবার বাংলায় যেমন ২টি স্বরবর্ণের হ্রস(short) এবং দীর্ঘ(long) রূপ রয়েছে।-১)হ্রস-স্বরবর্ণ (যেমন হ্রস-ই,হ্রস-উ) এবং দীর্ঘ-স্বরবর্ণ (যেমন দীর্ঘ-ই=ঈ এবং দীর্ঘ-উ=ঊ)।দীর্ঘতা বলতে একটু টেনে পড়া।হ্রস-ই উচ্চারণ করতে যতটুকু সময় লাগবে তারচেয়ে একটু বেশি সময় ধরে টেনে ‘ই’ উচ্চারণ করলে সেটি হয়ে যাবে দীর্ঘ-ই(ই+ই= ঈ)। অন্যন্য স্বরবর্ণের মত এদেরও আকার রয়েছে- ি এবং ী, ‍ু এবং ‍ূ ।অনুরূপভাবে আরবিতে তিনটি স্বরবর্ণেরই হ্রস ও দীর্ঘ উচ্চারণ রয়েছে যা নিচে বর্ণিত হলো-



আরবি হ্রস-কারঃ আরবিতে ‘হ্রস-আ’ এর জন্য যবর, ‘হ্রস-ই’ এর জন্য যের এবং ‘হ্রস-উ’ এর জন্য পেশ চিহ্ন হিসাবে ব্যবহৃত হয়।যেমন بَ =বা যবর বা, بِ =বা যের বি, بُ =বা পেশ বু ।

আরবি দীর্ঘ-কারঃ স্বরবর্ণ একটু টেনে পড়াকেই দীর্ঘস্বর বলে।আরবি পরিভাষায় এটিই হলো ‘মাদ’ ।বাংলায় কেবলমাত্র ই এবং উ এর দীর্ঘ স্বর রয়েছে যথাক্রমে দীর্ঘ-ঈ এবং দীর্ঘ-ঊ।কিন্তু আরবিতে ‘আ’ ‘ই’ ‘উ’ তিনটিরই দীর্ঘস্বর রয়েছে।শুধু তাই নয় এই দীর্ঘ স্বর উচ্চারণের ৩টি মাত্রা রয়েছে- দীর্ঘ (১মাদ), দীর্ঘতর (৩মাদ) এবং দীর্ঘতম (৪মাদ)।আর এই মাত্রাগুলো কুরআন পাঠের সময় উচ্চারণে মাধূয্য তৈরি করে।দীর্ঘ স্বরের মাত্রাগুলো জেনে নিই-

১)সাধারণ দীর্ঘস্বর বা ১মাদঃ আ’ ‘ই’ ‘উ’ কে এক আলিফ বা প্রায় ১সেকেন্ড টেনে পড়াকেই সাধারণ দীর্ঘস্বর বা ১মাদ বলে।আরবিতে সাধারণ ১মাদ দীর্ঘস্বরকে দু’ভাবে লেখা হয়-

ক) খাড়া যবর, খাড়া-যের এবং উল্টা-পেশ দিয়ে।কোন বর্ণের উপর খাড়া যবর, খাড়া যের বা উল্টা পেশ থাকলেই সেটিকে দীর্ঘস্বরে পড়তে হবে অর্থাৎ ১মাদ টেনে পড়তে হবে।

খ)আলিফযুক্ত বর্ণের উপর যবর থাকলে, ইয়াযুক্ত বর্ণের নিচে যের থাকলে এবং উয়াওযুক্ত বর্ণের উপর পেশ থাকলে সেক্ষেত্রে ১ মাদ টেনে পড়তে হবে।এরূপ অবস্থায় আলিফ বা ইয়া বা উয়াউ এর উপর কোন হরকত তথা যের যবর পেশ থাকে না,কেবলমাত্র ব্যঞ্জণ বর্ণটির উপরই হরকত থাকে।যেমন لاَ লাম আলিফ যবর লা-;এক্ষেত্রে ‘লা-’ কে ১মাদ টেনে পড়তে হবে।যেসব কুরআন শরীফে আরবির বাংলা উচ্চারণ দেওয়া থাকে সেখানে অক্ষরের পাশে হাইফেন ‘-’ দিয়ে মাদ নির্দেশ করা থাকে।

২)দীর্ঘতর স্বর বা ৩মাদঃ কোন বর্ণের উপর ~ এরকম প্যাঁচানো চিহ্ন থাকলে তাকে ৩ আলিফ বা ৩ সেকেন্ড টেনে পড়তে হয়।নিচে কিছু উদাহরণ দেওয়া হলো-



৩)দীর্ঘতম স্বর বা ৪মাদঃ কোন বর্ণের উপর পোস্টের কভার ফটোতে প্রদর্শিত চিহ্নের ন্যায় রেখা থাকলে সে বর্ণটিকে ৪ আলিফ বা ৪সেকেন্ড টেনে পড়তে হয়।



আরবি স্বরবর্ণের দীর্ঘস্বর তথা মাদ নিয়ে একটা প্রাথমিক ধারণা দেওয়া হলো এ পোস্টে।মাদ নিয়ে পরবর্তীতে আরও বিস্তারিত আলোচনা হবে ইং শায়া আল্লাহ।

বিশেষ নোটঃ আরবিতে মাত্র ৩টি স্বরাকার রয়েছে যথাক্রমে আ-কার (া), ই-কার( ি) এবং উ-কার (ু)।বাংলার মত আরবিতে এ-কার,ঐ-কার, ও-কার এবং ঔ-কার নেই।উচ্চারণের সময় বিষয়টা খেয়াল রাখা জরুরি।কারণ আরবি শব্দ উচ্চারণে হরহামেশাই আমরা এ ধরনের ভুল করে থাকি। যেমন ‘ওয়ালাইকুম’ বলে থাকি;অথচ সঠিক উচ্চারণ হবে ‘উয়ালাইকুম’।নিচে এরকম কিছু সাধারণ ভুল উচ্চারণের সঠিক রূপটি দেখানো হলো-






সূর্য বর্ণ ও চন্দ্র বর্ণঃ আরবি বর্ণমালার ২৮টি বর্ণের (আলিফ ও হামজাকে একটি বর্ণ বিবেচনায়) ১৪টি বর্ণ সূর্য বর্ণ এবং ১৪টি বর্ণ চন্দ্র বর্ণ।নিচে ছবিতে দেখুন-



আরবি বর্ণমালাকে এ দু’ভাগে ভাগ করার অন্য একটি গুরুত্ব আছে।ইংরেজিতে আর্টিকেল ৩টি A, An & The এবং বাংলায় রয়েছে টি, টা, খানা, খানি ইত্যাদি।কিন্তু আরবিতে একটি মাত্র আর্টিকেল ব্যবহার করা হয় আর তা হলো ‘আল’ (আলিফ লাম) যার সমাথক শব্দ বাংলায় ‘টি’ আর ইংরেজিতে ‘The’।চন্দ্র বর্ণের আগে ‘আল’ বসলে 'আল' শব্দটি সম্পূর্ণরূপে উচ্চারণ হয়।যেমন- আল কমার (চাঁদটি)।এখানে চন্দ্র বর্ণ ‘ক্বাফ’ এর পূর্বে 'আল' বসেছে তাই 'আল' সম্পূর্ণভাবেই উচ্চারিত হচ্ছে।কিন্তু সূয বর্ণের পূর্বে ‘আল’ বসলে 'আল'-এর ‘ল’ উচ্চারিত হয় না বরং সূর্য বর্ণটির দ্বিত (ডাবল) উচ্চারণ হয়।যেমন আল শামস (সূর্যটি); এখানে সূর্য বর্ণ ‘সিন’ এর পূর্বে 'আল' বসায় উচ্চারণ হবে আ-শামস।অনুরূপভাবে ‘আল-সালাম’ হবে ‘আস-সালাম’, ‘আল-নূর’ হবে ‘আন-নূর’, `আল সালাত’ হবে ‘আস-সলাত’।

ভারী বর্ণ ও হালকা বর্ণঃ আরবি বর্ণমালার নিম্নোক্ত ৭টি বর্ণকে ভারী বর্ণ বলে কারণ এগুলো উচ্চারণের সময় স্বর খুব গাঢ় করে উচ্চারণ করতে হয়-



এদের কতগুলো সাধারণ বৈশিষ্ট্য আছে-

১)এদের উচ্চারণের সময় স্বর গাঢ় করতে হয়।

২)বাংলায় ‘ভ’ উচ্চারণের সময় যেমন পুরো মুখগহবর থেকে এটি উচ্চারিত হয় ঠিক তেমনি এই ৭টি বর্ণ উচ্চারণের সময়ও পুরো মুখগহবর থেকে উচ্চারিত হয় বিধায় এগুলোকে ‘Full mouth letters’ বলে।

৩)এদের উপর যবর (আ-কার) থাকলেও ‘আ’ উচ্চারিত হয় না।যেমন ‘ক্বফ’ যবর ‘ক্বা’ হওয়ার থাকলেও বর্ণটি ভারি হওয়ার কারণে শুধু ‘ক্ব’ উচ্চারিত হবে।অনুরূপভাবে ‘স্বদ’ যাবর ‘স্বা’ হওয়ার কথা।কিন্তু এটি ভারী বর্ণ হওয়ায় ‘স্বা’ এর পরিবর্তে ‘স্ব’ উচ্চারিত হবে।

এ ৭টি বর্ণ ছাড়া বাকি বর্ণগুলো হলো হালকা বর্ণ কারণ এগুলো উচ্চারণের সময় স্বর পাতলা বা হালকা করে উচ্চারণ করা হয়।তবে এর মাঝে ৩টি ব্যতিক্রম আছে-‘আলিফ’, ‘লাম’ ও ‘র’ এর ক্ষেত্রে।এ ৩টি বর্ণ ক্ষেত্রবিশেষে গাঢ়ভাবে উচ্চারিত হয় আবার ক্ষেত্রবিশেষে হালকা স্বরে উচ্চারিত হয় যা পরবর্তীতে আলোচিত হবে ইং শায়া আল্লাহ।

৮টি বর্ণের উপর যবর (আ-কার) উচ্চারিত হয় না- উপরে উল্লেখিত ৭টি ভারী বর্ণ এরং ‘র’ এই ৮টি বর্ণের উপর যবর (আ-কার) খাকলেও ‘আ’ উচ্চারিত না হয়ে কেবল বর্ণটিই উচ্চারিত হয়।নিচে উদাহরণ দেখুন-



অনুরূপভাবে সলাত(নামাজ) ও সউম(রোযা) এদুটো শব্দে ‘স্বদ’ এর উপর যবর আছে কিন্তু নিয়মানুসারে ‘আ’ উচ্চারিত হবে না।অথচ আমরা বলে থাকি সালাত ও সাওম যা উচ্চারণের দিক দিয়ে ভুল।

এছাড়া বাকি সব বর্ণের উপর যবর (আ-কার) থাকলে অবশ্যই ‘আ’ উচ্চারিত হবে।কিন্তু আমরা হরহামেশাই এরকম ক্ষেত্রে `আ’ উচ্চারণ করিনা।যেমন ‘মিম’ এর উপর যবর (আ-কার) থাকলে অবশ্যই ‘মা’ হবে অথচ আমরা মসজিদ, মক্কা, মদিনা উচ্চারণ করি যা হওয়া উচিৎ যথাক্রমে মাসজিদ, মাক্কা, মাদিনা।আবার ‘নুন’ এর উপর যবর থাকলে ‘না’ উচ্চারিত হবে অথচ আমরা ‘নাবী’ না বলে ‘নবী’ বলি।




কুরআন তিলাউয়াতের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশ হলো এর প্রতিটি বর্ণের সঠিক উচ্চারণ।আরবিতে এটিকে ‘মাখরজ’ বলে( খরজা শব্দের অর্থ বের হওয়া; মাখরজ মানে হলো যে স্থান থেকে বর্ণ উচ্চারিত হয়ে বের হয়ে আসে)।বাংলা বেশকিছু বর্ণের উচ্চারণের সাথে আরবি বর্ণের উচ্চারণের মিল অাছে বিধায় বাংলাভাষীদের জন্য আরবি বর্ণের উচ্চারণ শেখা অনেকটাই সহজ।আরবি বর্ণ উচ্চারণের সময় কয়েকটা বিষয় খেয়াল রাখুন-

১)শিক্ষক আপনাকে উচ্চারণ যেভাবে শিখিয়ে দিচ্ছে সেটা ভালোভাবে বুঝার পর তা প্র্যাকটিস করুন।শুধু শিক্ষকের সাথে গলা মিলিয়ে উচ্চারণ করলে সেটা রপ্ত করতে পারেন কিন্তু শিখতে পারবেন না।

২)আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে বর্ণ উচ্চারণ প্র্যাকটিস করুন যাতে বর্ণের উচ্চারণে আপনার মুখ কীভাবে নড়ছে তা অবলোকন করতে পারেন।

৩)নিজের উচ্চারণ রেকর্ড করুন এবং তা বাজিয়ে শুনুন।

৫)সবচেয়ে সহজ উচ্চারণগুলো আগে শিখুন।

৬)প্রায় একই রকম উচ্চারণের বর্ণগুলোর ক্ষেত্রে উচ্চারণের পার্থক্য নিরূপন করুন এবং বার বার প্র্যাকটিসের মাধ্যমে তাদের স্বতন্ত্রতা অভ্যাসে পরিণত করুন।

৭)শিক্ষা ও জ্ঞান অর্জন একটি ধীর প্রক্রিয়া।অহেতুক তাড়াহুড়ো করবেন না।





আলিফের উচ্চারণ বাংলা ‘আ’ এর মত। ইয়া এর উচ্চারণ বাংলা ‘ই’ এর উচ্চারণের মত।আর ‘উয়াউ’ এর উচ্চারণ বাংলা ‘উ’ এর মত ( ও এর মত নয়)।আল্লাহর নামে শুরু করি-

আলিফের উচ্চারণঃ এটি উচ্চারণ করা সবচেয়ে সহজ।মুখ হা করে জিহ্বা না নড়িয়ে সহজভাবে ‘আ’ উচ্চারণ করুন।এ বর্ণটি একজন বোবাও উচ্চারণ করতে পারে।আলিফের ক্ষেত্রে ২টি কথা খুব গুরুত্বপূর্ণ-

১)আলিফ কোন স্বতন্ত্র বর্ণ নয় বরং এটি দীর্ঘ স্বর (আরবিতে যাকে মাদ বলে) অর্থাৎ দীর্ঘ-আ হিসাবে ব্যবহৃত হয়।আলিফের উপর যবর, যের, পেশ (অর্থাৎ আ-কার, উ-কার বা উ-কার) থাকলে তা হামজা হিসাবে উচ্চারিত হয়।

২)আলিফ ও হামজা দুটোই ‘আ’ যদিও এদের দুটোর উচ্চারণে পার্থক্য রয়েছে।

৩)আলিফ উচ্চারণের স্বর ভারী বা হালকা হতে পারে।এটা নির্ভর করবে আলিফের পূর্বের বর্ণ ভারী বা হালকা তার উপর।আলিফের আগের বর্ণ যদি ভারী হয় তাহলে তাহলে আলিফও ভারী স্বরে উচ্চারিত হবে।আবার আলিফের পূর্বের বর্ণ যদি হালকা হয় তাহলে আলিফ হালকা স্বরে উচ্চারিত হবে।ভিডিওটি খেয়াল করুন-



ইয়া এর উচ্চারণঃ বাংলা ‘ই’ এর মত।জিহবার মাঝখান উপরের তালুর সাথে লাগিয়ে উচ্চারণ করতে হয়।তবে ‘ই’ যখন বর্ণ হিসাবে উচ্চারিত না হয়ে দীর্ঘ-ই-কার (ী) হিসাবে ব্যবহৃত হয় তখন সেটি মুখের মাঝখান থেকে উচ্চারিত হয়।যেমন ‘বাইত (বা-ইয়া-তা)’ শব্দে ‘ইয়া’ উচ্চারণ হবে জিহবার মাঝখান উপরের তালুর সাথে লাগিয়ে কিন্তু ‘বানী ইসরাইল’ উচ্চারণে দীর্ঘ-ই উচ্চারণ হবে মুখের মাঝের ফাঁকা যায়গা থেকে।নিচের ভিডিওতে খেয়াল করুন-



উয়াউ এর উচ্চারণঃ উয়াউ এর উচ্চারণ বাংলা ‘উ’ এর মত।কোন ভাবেই ‘ও’ এর মত নয়।উয়াউ উচ্চারণ করতে ঠোঁটের দুই পাশ সংকুচিত করতে হয়।কিন্তু ‘ও’ উচ্চারণ করতে দুই ঠোঁটের মাঝখান গোল করতে হয় অনেকটা ফুঁ দেওয়ার মত। আরবিতে ‘ও’ না থাকলেও দূর্ভাগ্যজনকভাবে আমরা অনেক ক্ষেত্রেই ‘উ’ কে ‘ও’ এর মত উচ্চারণ করি যেমন ওয়ালাইকুম (হবে উয়ালাইকুম), ওয়ালি(হবে উয়ালি), ওমর(হবে উমর), ওসমান(হবে উসমান), ওয়া(হবে উয়া) ইত্যাদি। নিচের ভিডিওটি দেখুন-



প্রসঙ্গত আরেকটি বিষয় উল্লেখ করছি। ‘উয়া’ এর উপর যবর (আ-কার), যের(ই-কার) এবং পেশ(উ-কার) থাকলে উচ্চারণ যথাক্রমে ‘উয়া’, ‘উই’ এবং ‘উ’ হবে।কিন্তু আমাদের দেশে ‘উয়া’ যের কে ‘উই’ উচ্চারণ না করে ‘বি’ উচ্চারণ করা হয় যা একটি ভুল।কারণ ‘উয়া’ এর উচ্চারণ স্থান ও ‘বা’ এর উচ্চারণ স্থান এক নয়।কিন্তু প্রতিটি বর্ণের মাখরজ অনুযায়ী উচ্চারণ করা জরুরি।নিচের শব্দগুলোর উচ্চারণ খেয়াল করুন-



এ পর্বে আপাতত এটুকুই থাকুক।ইং শায়া আল্লাহ আগামি পর্বে আরবি ব্যঞ্জণবর্ণের উচ্চারণ নিয়ে আলোচনা করা হবে।

আল্লাহ সবাইকে সহি শুদ্ধভাবে কুরআন পাঠের তৌফিক দান করুন।

বি.দ্র:
১)যদি কোন কারণে আমার পক্ষে আর বাকি পর্বগুলো লেখা সম্ভব না হয় সেক্ষেত্রে আপনারা এই বইটির সাহায্য নিতে পারেন নূরানী পদ্ধতিতে ২৭ ঘন্টায় কুরআন শিক্ষা-প্রকৌশলী মইনুল হোসেন

২)পোস্টে ব্যবহৃত সকল ছবি নেট থেকে নেওয়া।যদি কারো অধিকার ক্ষুণ্ন হয়ে থাকে তার জন্য ক্ষমাপ্রার্থী।

৩)উচ্চারণ শেখাচ্ছেন Shaykh Ismail Al-Qadi ।

৪)অসাবধানতাবশত কিংবা অজ্ঞতাবশত ভুল থাকা অস্বাভাবিক নয়।পাঠকদের প্রতি অনুরোধ রইলো কোন ভুল পরিলক্ষিত হলে তা মন্তব্যের ঘরে জানানোর জন্য।


উৎসর্গঃ ব্লগার নূর মোহাম্মদ নূরু এবং ব্লগার নতুন নকিবকে যাঁরা ব্লগে আল্লাহর বাণী প্রচারে নিরলসভাবে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।আল্লাহ আপনাদের উত্তম প্রতিদান দিন।
সর্বশেষ এডিট : ১৩ ই মে, ২০২০ সকাল ১১:৪২
২২টি মন্তব্য ২২টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

নায়লা নাইমের বিড়ালগুলো

লিখেছেন শাহ আজিজ, ২১ শে অক্টোবর, ২০২০ রাত ৮:৫৯



একজন মডেল নায়লা নাইম সাড়ে তিনশ’ বিড়াল পালেন একটি স্বতন্ত্র ফ্লাটে ঢাকার আফতাবনগরে । পাশেই তার আবাসিক ফ্লাট । গেল চার বছরে অসংখ্য বার দর কষাকষি করেও... ...বাকিটুকু পড়ুন

গল্পঃ তালব্য শ এ এশা

লিখেছেন অপু তানভীর, ২১ শে অক্টোবর, ২০২০ রাত ১০:০৬

মাঝে মাঝে নিজের নির্বুদ্ধিতার নিজেকে একটা কষে চড় মারতে ইচ্ছে হয় । নিজের চড়ে খুব একটা ব্যাথা অবশ্য লাগে না । আর চাইলেও খুব জোরে নিজেকে চড় মারা যায়ও না... ...বাকিটুকু পড়ুন

একটা বৃহৎ জীবনের নেশা

লিখেছেন সোনাবীজ; অথবা ধুলোবালিছাই, ২১ শে অক্টোবর, ২০২০ রাত ১১:০৪

এমন সময়ে তুমি আসবে, যখন বিভোর বসন্ত
অঘোরে লাল-নীল-হলুদ ছড়াবে; তখন নবীন কিশলয়ের
মতো গজিয়ে উঠবে প্রেম। পৃথিবীর চোখ
তৃষ্ণায় ছানাবড়া হবে, মানুষে মানুষে অদ্ভুত সম্মিলন।

কখনো কখনো এত বেশি ভালো লাগে,... ...বাকিটুকু পড়ুন

মানুষ কেন গালি দেয়?

লিখেছেন রাজীব নুর, ২২ শে অক্টোবর, ২০২০ রাত ২:৩৫



'হারামজাদী ছিনাল
বজ্জাত মাগী
খানকী বেইশ্যা

মিয়া বাড়ির কাচারির সুমুখে লম্বালম্বি মাঠ। মাঠের পর মসজিদ। সে মসজিদের সুমুখে বসেছে বাদ-জুমা মজলিস। খানিক দূরে দাঁড়ান ঘোমটা ছাড়া একটি মেয়ে। গালি গুলো ওরই... ...বাকিটুকু পড়ুন

গল্পঃ কাঁচের মেয়ে

লিখেছেন সামিয়া, ২২ শে অক্টোবর, ২০২০ বিকাল ৪:৩০




আমার বিয়ে হয়েছিলো মাঘ মাসের উনিশ তারিখে আমি প্রতিদিনের মতনই স্কুলে গিয়েছিলাম ক্লাস নিতে। পড়াশোনা ইন্টারের পর আর হয়নি অভাব অনটনে আর বখাটেদের উৎপাতে সেটা ছেড়ে দিয়েছিলাম... ...বাকিটুকু পড়ুন

×