somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

করোনা রোগির ঘরে চিকিৎসার ক্ষেত্রে যা জানা দরকার

১১ ই জুন, ২০২০ বিকাল ৩:১১
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :



বিসমিল্লাহির রহমানির রহিম। আসসালামু আলাইকুম।

কোভিড-১৯ মহামারী বাংলাদেশেও তার ভয়াল রূপ দেখিয়ে চলেছে।বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্য অনুযায়ী আক্রান্ত রোগিদের ৮১% এর উপসর্গ মৃদু এবং তারা ঘরে বসেই চিকিৎসা নিতে পারবেন।বাকি ১৯% রোগির শ্বাসকষ্ট হয় বিধায় তাদের হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে হয়।এদের মধ্যে ১৫% রোগিকে অক্সিজেন দিলেই ভালো থাকে।আর বাকি ৪% রোগির অবস্থা বেশ জটিল হওয়ায় আইসিইউ এর সাপোর্ট প্রয়োজন হয়।যেহেতু এটি একটি নতুন ভাইরাস তাই এর বিরুদ্ধে শরীরে অ্যান্টিবডি না থাকায় যে কেউ এ রোগে আক্রান্ত হতে পারেন।যেহেতু ভাইরাসটি মানুষ থেকে মানুষে খুব সহজেই এবং দ্রুত গতিতে ছড়িয়ে পড়ছে তাই অল্প সময়ে অনেক বেশি রোগি স্বাস্থ্য ব্যবস্থার উপর চাপ সৃষ্টি করছে।চট্রগ্রামের রোগি আইসিইউ না পেয়ে ঢাকা চলে আসছেন।আবার ঢাকায় আইসিইউ বেড খালি না থাকায় রোগি এক হাসপাতাল থেকে আরেক হাসপাতালে ছুটোছুটি করছেন এবং কিছু ক্ষেত্রে রোগি উপযুক্ত চিকিৎসা সময়মত না পেয়ে মারাও যাচ্ছেন বলে পত্র পত্রিকায় খবর প্রকাশিত হচ্ছে।আবার ঘরে বসে কীভাবে এ রোগের চিকিৎসা করবেন তা নিয়েও রয়েছে নানা বিভ্রান্তিকর তথ্য।এছাড়া শ্বাসকষ্টের রোগি যতক্ষণ অক্সিজেন না পাচ্ছেন ততক্ষণ কীভাবে শ্বাসকষ্টের তীব্রতা কমাবেন সে বিষয়ে প্রয়োজনীয় তথ্যের প্রচারের ঘাটতি দেখা যাচ্ছে।আমরা বর্তমানে করোনা মহামারীর ক্রান্তিকাল অতিক্রম করছি।এসময় কীভাবে ঘরে বসে করোনা চিকিৎসা করবেন সে বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য জানানোর অভিপ্রায়ে আজকের এই পোস্টের অবতারনা।চলুন আলোচনা শুরু করা যাক-



ব্যাপক প্রচারের কারণে অনেকেই আমরা করোনার উপসর্গের সাথে পরিচিত।অধিকাংশ ক্ষেত্রে করোনার উপসর্গের সাথে সাধারণ ফ্লু এর উপসর্গের তেমন কোন পার্থক্য নাই।জ্বর, গলাব্যাথা, শুকনো কাশি, দূর্বলতা এবং শ্বাসকষ্ট এগুলোই হলো করোনা রোগের প্রধান উপসর্গ।তবে সর্দি-কফও থাকতে পারে।চোখ লাল হতে পারে।বুকে চাপ অনুভূত হতে পারে।

নাকে ঘ্রাণ না পাওয়া ও মুখে খাবারের স্বাদ না পাওয়াও করোনার উপসর্গ হতে পারে।এমন কিছু করোনা রোগি পাওয়া গেছে যাদের এ দুটো উপসর্গ ভিন্ন অন্য কোন উপসর্গ ছিলোনা।

যেহেতু করোনা ভাইরাস মুখ দিয়ে অন্ত্রে প্রবেশ করতে পারে তাই স্টোমাক ফ্লুও হতে পারে।স্টোমাক ফ্লু এর ক্ষেত্রে ডায়রিয়া, বমি, জ্বর, পেটব্যাথা হতে পারে।

করোনা রোগের পরিণতিতে স্ট্রোক হতে পারে।আমাদের দেশেও স্ট্রোকে আক্রান্ত কিছু রোগির করোনা টেস্ট পজিটিভ পাওয়া গেছে।

করোনা রোগিদের রক্তনালীতে প্রদাহ হতে পারে।এক্ষেত্রে জ্বরের সাথে চোখ লাল হয়ে যাওয়া, হাত-পা লাল হয়ে ফুলে উঠা ও চামড়ায় র‌্যাশ (Rash) দেখা দিতে পারে।ছোট্ট বাচ্চাদের ক্ষেত্রে এসব উপসর্গের তীব্র উপস্থিতি ‘কাউয়াসাকি ডিজিজ’ নামে পরিচিত।এক সময় মনে করা হত করোনা বাচ্চাদের তেমন কোন ক্ষতি করে না।কিন্তু ইংল্যান্ডসহ বিশ্বের কিছু দেশে ‘কাউয়াসাকি ডিজিজ’ নিয়ে চিকিৎসা নিতে আসা বাচ্চাদের করোনা পজিটিভ হওয়ার পর এ ধারণা পাল্টে গেছে।এর কারণে বেশ কিছু বাচ্চা মারাও গেছে।

হৃদপিন্ডের কারণে বুকে ব্যাথা (Angina), হার্ট অ্যাটাক ও হার্ট ফেলিওরের উপসর্গ দেখা দিতে পারে করোনা আক্রান্ত রোগিদের ক্ষেত্রে।কোন রোগির এসব উপসর্গ দেখা দিলে করোনার বিষয়টিও মাথায় রাখা দরকার।

করোনা সংক্রমনে দেহের গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ যেমন লিভার, কিডনি, ফুসফুস বিকল ( Organ faillure) হতে পারে।এসব ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট অঙ্গের বিকলতার উপসর্গ দেখা দিতে পারে।

এছাড়া একটা বিরাট সংখ্যক করোনা আক্রান্ত ব্যক্তি উপসর্গবিহীন থাকতে পারে যাদেরকে Asymptomatic Cases বলে।সুতরাং কেউ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থ্যা ছাড়া করোনা আক্রান্ত রোগির সংস্পর্শে গেলে কিংবা করোনা সংক্রমণ এলাকায় গেলে এবং গণজমায়েত ও গণপরিবহণে নিরাপদ দূরত্ব বজায় না রেখে অবস্থান করলে কোন উপসর্গ না দেখা দিলেও সম্ভাব্য উপসর্গবিহীন রোগি হওয়ার সম্ভাবনার কথাটা মাথায় রাখা দরকার।




করোনার উপসর্গ দেখা দিয়েছে কিংবা করোনার উপসর্গবিহীন রোগি হওয়ার সম্ভাবনা থাকলে প্রথমেই যে কাজটি করা উচিৎ তা হলো পরীক্ষায় নিশ্চিত না হওয়া পর‌্যন্ত অন্যদের থেকে আলাদা থাকা ও সতর্কতা অবলম্বন করা যাতে রোগটি যদি হয়ে থাকে তা যেন অন্যদের মাঝে ছড়িয়ে পড়তে না পারে।আবার যাদের পরীক্ষায় করোনা পজিটিভ আসবে তারাও করোনার উপসর্গ চলে যাওয়া পর‌্যন্ত এবং তারপর আরও ১৪দিন নিজেকে অন্যদের থেকে আলাদা করে রাখবেন।এরূপ সেলফ আইসোলেসন এর জন্য যা করা উচিৎ-



১)সম্ভব হলে অ্যটাচড বাথরুম ওয়ালা একটা রুমে নিজেকে আবদ্ধ রাখুন।

২)নিজের ব্যবহৃত সকল জিনিস যেমন প্লেট, গ্লাস, চামচ, গামছা-তোয়ালে, টুথপেস্ট, সাবান, স্যানিটাইজার, মোবাইল ইত্যাদি অন্য কারো সাথে শেয়ার করবেন না।যদি কোন প্রতিবন্ধকতা না থাকে তাহলে নিজের ব্যবহৃত সকল জিনিস সাবান বা সোপ-ওয়াটার বা স্যানিটাইজারের সাহায্যে পরিষ্কার রাখবেন।

৩)ঘরের জানালাসমূহ খুলে রাখুন যেন ঘরে আলো-বাতাসের প্রবাহ থাকে।তবে জানালা দিয়ে কফ-থুতু বা ব্যবহৃত টিস্যু বা আপনার সংস্পর্শের অন্য কোন জিনিস বাইরে ফেলবেন না।

৪)হাঁচি-কাশি বা কথা বলার সময় অবশ্যই মাস্ক ব্যবহার করবেন।হাতের কাছে মাস্ক না থাকলে টিস্যু পেপার বা খবরের কাগজের টুকরো দিয়ে মুখ ঢেকে নিন।আর কোন কিছুই না থাকলে হাতের কনুই ভাঁজ করে তা দিয়ে নাক-মুখ ঢেকে রাখুন।ব্যবহৃত মাস্ক বা টিস্যু একটা ছোট বালতিতে গুলানো ডিটারজেন্ট পানিতে ভিজিয়ে রাখুন।দিন শেষে ডিটারজেন্ট-পানি থেকে মাস্ক ও টিস্যু তুলে তা একটি পলিব্যাগে করে ময়লার ঝুড়িতে ফেলুন এবং বালতির পানি প্যান বা কমোডে ফেলে ফ্লাস করে দিন।

৫)ঘরে কাউকে প্রবেশ করতে দিবেন না।নিজ ঘর পরিষ্কার রাখার দায়িত্ব আপনি নিজেই নিন।ঘরের মেঝে , বিছানার চাদর, বালিশের কভার, দরজার নব বা হ্যান্ডেল, ট্যাপের মাথা, সুইচ ইত্যাদি করোনা ভাইরাসের উপস্থিতির ক্ষেত্র।যদি আক্রান্ত ব্যক্তি নিজে ঘরের কাজ করতে অপারগ হন সেক্ষেত্রে পরিবারের নিরোগ তুলনামূলক অল্প বয়সী সদস্য প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা নিয়ে সে ঘরে প্রবেশ করবেন এবং কাজ শেষ করে বের হওয়ার সাথে সাথেই বাথরুমে ঢুকে সকল কাপড়-চোপড় ডিটারজেন্টে ভিজিয়ে দিবেন এবং শরীরে সাবান মেখে কয়েক মিনিট পর গোসল করে ফেলবেন।

৬)খাবার, ঔষধ বা অন্য কোন কিছুর প্রয়োজন হলে সেটা ঘরের দরজার বাইরে রেখে যেতে বলবেন।এবং সেবাকারী চলে যাওয়ার পর দরজা খুলে সেটা গ্রহণ করবেন।

৭)করোনা আক্রান্ত অনেক রোগিরই হাঁচি-কাশি থাকে না।কিন্তু প্রায় সবার লালায় করোনা ভাইরাস থাকে এবং কথা বলার সময় তা চারপাশে ছড়িয়ে পড়ে। পভিডন-আয়োডিন কিন্তু ২মিনিটে করোনা ভাইরাসকে মেরে ফেলেতে পারে।সুতরাং আপনি যদি প্রতি ২-৩ ঘণ্টা অন্তর পভিডন-আয়োডিন মাউথ ওয়াশ (ভায়োডিন মাউথ ওয়াশ নামে ঔষধের দোকানে পাবেন) দিয়ে ২মি. এর জন্য কুলকুচি ও গড়গড়া করেন তাহলে আপনার থেকে অন্যদের করোনা সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ার সম্ভাবনা কমে আসবে আশা করি।

৮)নিকটজনদের কাছ থেকে কার‌্যত দূরে থেকে নিজেকে অন্তরীন রেখে একটা দীর্ঘ সময় পার করা পীড়াদায়ক।মোবাইলে প্রিয়জনদের সাথে আড্ডা দিন, বই পড়ুন, ডকুমেন্টরি দেখুন, পড়াশোনা চালিয়ে যান বা সৃষ্টিশীল কোন কাজে নিজেকে জড়িয়ে রাখুন।আপনি ফেসবুকে বা ব্লগে প্রতিদিনের ডায়েরি লিখতে পারেন।আপনার অভিজ্ঞতা অন্য আরেকজনের জন্য সহায়ক হতে পারে;আর আপনিও পেতে পারেন মানসিক সাপোর্ট।অন্তরীন একজন করোনা আক্রান্ত ব্যক্তি একইসাথে একজন রোগি, একজন চিকিৎসক, একজন নার্স, একজন শিক্ষক এবং একজন যোদ্ধা।

৯)সৃষ্টিকর্তাকে স্মরণ করুন।মন প্রফুল্ল রাখুন।বিজয়ী হউন।




করোনা আক্রান্ত হয়ে থাকতে পারেন এরূপ অবস্থায় টেস্ট করে নিশ্চিত হওয়া অত্যন্ত জরুরি।শুধু রোগ নির্ণয়ই নয় বরং রোগ ভালো না খারাপের দিকে যাচ্ছে সে বিষয়টিও জানা জরুরি।এ বিষয়ে কিছু তথ্য উপস্থাপন করা হলো-

RT-PCR TEST: বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার গাইডলাইন মোতাবেক বাংলাদেশেও এ পদ্ধতিতে করোনা রোগ নির্ণয় করা হচ্ছে।সরকারিভাবে বিনা পয়সায় যে কেউ এ টেস্ট করতে পারবেন।বেসরকারি কিছু প্রতিষ্ঠানও এ টেস্টটি করছে।তবে সেক্ষেত্রে টেস্ট ফি ৩,৫০০টাকা দিতে হবে এবং বাসা থেকে নমুনা সংগ্রহের জন্য কল দিলে আরও অতিরিক্ত ১,০০০টাকা প্রদান করতে হবে।

কোথায় এই টেস্টটি করাবেন তা সরকারি ওয়েসাইট করোনা ইনফো থেকে জেনে নিতে পারবেন।তাছাড়া সকল সরকারি-বেসরকারি যেসব প্রতিষ্ঠানে আরটি-পিসিআর টেস্ট করা হচ্ছে এবং ব্র্যাক, জেকেজি হেলথকেয়ার ও ঢাকা সিটি কর্পোরেশনের নমুনা সংগ্রহের বুথের ঠিকানা জানতে এখানে ক্লিক করুন।ব্র্যাকের কালেকশন বুথে নমুনা দিতে অনলাইনে আবেদন করতে হয়।আপনি এখানে ক্লিক করে অনলাইনে সিরিয়াল দিতে পারেন।

RT-PCR TEST নেগেটিভ হলেই নিশ্চিত হওয়া যাবে না: পিসিআর টেস্ট নেগেটিভ হলেই নিশ্চিত করে বলা যাবে না যে একজন করোনায় আক্রান্ত নয়।কারণ পিসিআর টেস্টে একটা বিরাট অংশের রোগির করোনা থাকার পরও টেস্ট নেগেটিভ হতে পারে। ‘রেডিওলজি’ জার্নালে প্রকাশিত এক গবেষণা পত্র থেকে জানা যায় চীনে ১০১৪জন রোগির মধ্যে মাত্র ৫৯% ক্ষেত্রে আরটি-পিসিআর পজিটিভ রেজাল্ট শো করেছে।অর্থাৎ ৪১% ক্ষেত্রে রোগ থাকার পরও আরটি-পিসিআর টেস্টে ধরা পড়েনি। এর কারণ হিসাবে কয়েকটি বিষয় বিবেচনা করা যায়-

১)কোন স্থান থেকে নমুনা সংগ্রহ করা হচ্ছে?-আমেরিকান মেডিক্যাল অ্যাসোসিয়েসনের জার্নালে JAMA প্রকাশিত এক স্টাডি রিপোর্টে দেখা যায় নাক থেকে নেয়া নমুনায় ৬৩% ক্ষেত্রে সঠিকভাবে করোনা ডায়াগনোসিস করা সম্ভব হয়েছে আরটি-পিসিআর পদ্ধতিতে।অার ফুসফুসের ভিতর থেকে নেওয়া ব্রঙ্কোঅ্যালভিওলার ল্যাভেজ তরল নমুনায় ৯৩% ক্ষেত্রে সঠিকভাবে করোনা রোগ নির্ণয় করা সম্ভব হয়েছে।আর কফের ক্ষেত্রে সেটা ৭২%।আর গলার ভিতর থেকে নেওয়া গলবিল নমুনায় (pharyngeal swab) মাত্র ৩২% ক্ষেত্রে টেস্ট পজিটিভ শো করেছে।এ কারণে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার গাইডলাইন হলো করোনা উপসর্গ রয়েছে এমন রোগির নাক বা মুখের ভিতর থেকে নেওয়া নমুনায় আরটি-পিসিআর টেস্ট নেগেটিভ আসলে সেক্ষেত্রে ফুসফুসের ভিতর থেকে ব্রঙ্কোঅ্যালভিওলার ল্যাভেজ টেস্ট করতে হবে যা আমাদের দেশে সাধারণত করা হয় না;কারণ এটি একটি ইনভেসিভ তথা জটিল প্রক্রিয়া।

২)শরীরে ভাইরাস ঢোকার কতদিন পর টেস্ট করা হচ্ছে-সাধারণত শরীরে করোনা ভাইরাস ঢোকার পর প্রথম উপসর্গ প্রকাশ পেতে গড়ে ৫দিন সময় লাগে।গত মাসের ১৮ তারিখে অ্যামেরিকান কলেজ অব কার্ডিওলজির জার্নালে প্রকাশিত তথ্য থেকে জানা যায় শরীরে ভাইরাস ঢোকার প্রথম ৪দিনে পিসিআর টেস্ট করালে ৬৭% এরও বেশি ক্ষেত্রে টেস্ট রেজাল্ট নেগেটিভ আসতে পারে।৫ম দিন অর্থাৎ উপসর্গ প্রকাশের প্রথম দিনেও ১৮%-৬৫% ক্ষেত্রে টেস্ট নেগেটিভ আসতে পারে।এমনকি ৮ম বা ৯ম দিনেও ১২%-৩১% ক্ষেত্রে টেস্ট ফলস নেগেটিভ আসতে পারে।আতঙ্কের বিষয় ২১তম দিনে ৫৪%-৭৭% ক্ষেত্রে দেহে ভাইরাস থাকার পরও টেস্ট ফলস নেগেটিভ আসতে পারে।এ কারণে করোনা রোগি সুস্থ হওয়ার পরও অতিরিক্ত ১৪দিন আইসোলেসনে থাকা দরকার।

৩)নমুনা সংগ্রহে ত্রুটি- অনেকসময় নমুনা সংগ্রহকারীর অনভিজ্ঞতা কিংবা ত্রুটি এবং ল্যাব টেস্টের ত্রুটির কারণেও টেস্ট নেগেটিভ হতে পারে।

উপরোক্ত বিষয়াদি বিবেচনায় কারো করোনার উপসর্গ থাকার পরও আরটি-পিসিআর টেস্ট নেগেটিভ আসলেই ‘আমি করোনা মুক্ত’ এরকম আত্মবিশ্বাসে না ভূগে বুকের সিটি স্ক্যানর‌্যাপিড অ্যান্টিজেন-অ্যান্টিবডি টেস্ট করে দেখা উচিৎ।আর অন্তত ২১দিন পালস অক্সিমিটার এর সাহায্যে প্রতিদিন রক্তে অক্সিজেনের মাত্রা মাপা উচিৎ।

আশা করি পাঠকরা বুঝতে পারবেন কেন হাসপাতালের করোনা ইউনিটে একদিনে ২৯জন রোগি মারা গেলেও ৫জনের টেস্ট পজিটিভ আসে!

র‌্যাপিড অ্যান্টিজেন-অ্যান্টিবডি টেস্ট: –বাংলাদেশ সরকার এ ধরনের কিট ব্যবহারের অনুমোদন এখনও দেয়নি।গণস্বাস্থ্যের কিটটি এ ধরনের কিট।আরটি-পিসিআর এর সাথে এই ধরনের র‌্যাপিড টেস্ট কিট ব্যবহার করলে আরো অনেক বেশি সংখ্যক রোগির টেস্ট পজিটিভ আসবে আশা করা যায়।সেক্ষেত্রে ফলস নেগেটিভ কেসের সংখ্যাও কমে যাবে ইং শায়া আল্লাহ।

বুকের CT-SCAN বা বুকের এক্সরে(CXR): ‘রেডিওলজি’ জার্নালে প্রকাশিত এক স্টাডি রিপোর্ট থেকে জানা যায় চীনে ১০১৪জন রোগির মধ্যে মাত্র ৫৯% ক্ষেত্রে আরটি-পিসিআর পজিটিভ রেজাল্ট শো করেছে।অথচ বুকের সিটি-স্ক্যান পজিটিভ ছিলো ৮৮% ক্ষেত্রে।তাছাড়া আরটি-পিসিআর নেগেটিভ রোগিদের ৭৫% জনের ক্ষেত্রে সিটি স্ক্যান পজিটিভ পাওয়া গেছে।।এছাড়াও আরটি-পিসিআর পরীক্ষা পজিটিভ হওয়ার পূর্বেই ৪২% রোগির বুকের সিটি স্ক্যান পজিটিভ পাওয়া গেছে।এসব দিক বিবেচনায় বুকের সিটি স্ক্যান হতে পারে প্রাথমিক পর‌্যায়ে করোনা নির্ণয়ে গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা ।হয়ত এ কারণেই বাংলাদেশের স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের সাথে চীনা বিশেষজ্ঞদের টেলিকনফারেন্সের সময় চীনা বিশেষজ্ঞরা জানতে চেয়েছিলো বাংলাদেশের সিটি স্ক্যান করার সক্ষমতা কেমন?সুতরাং উপসর্গ থাকার পরও আরটি-পিসিআর নেগেটিভ আসলে সামর্থ্য থাকলে বুকের সিটি স্ক্যান করা জরুরি।



যদি আর্থিক কারণে কিংবা সহজলভ্য না হওয়ায় সিটি স্ক্যান করা সম্ভব না হয় সে ক্ষেত্রে মন্দের ভালো হিসাবে বুকের এক্সরে করা যেতে পারে।নিচের চিত্রে একটা নরমাল বুকের এক্সরে এবং একজন করোনা রোগির বুকের এক্সরের তুলনামূলক চিত্র উপস্থাপন করা হলো-



করোনা রোগির এক্সরে ফিল্মে দেখুন ঘষা কাঁচের মত সাদা ভাব বেশি দেখা যাচ্ছে যেটাকে Ground Glass Opacity (GGO) বলে।

PULSE OXIMETER এর গুরুত্ব: একটি গভীর উদ্বেগের বিষয় হলো করোনা আক্রান্ত রোগিদের বেশ কিছু ক্ষেত্রে রক্তে অক্সিজেনের মাত্রা মারাত্মক ক্ষতিকর পর‌্যায়ে নেমে গেলেও শ্বাসকষ্ট হয় না।অথচ ক্ষতিকর পর‌্যায়ে অক্সিজেন নেমে যাওয়ার কারণে দেহের নানা গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ যেমন কিডনি, হার্ট, ফুসফুস, ব্রেনের ক্ষতি হতে থাকে।এ ধরণের রোগিদের যখন উপসর্গ দেখা দেয় তখন তাদেরকে বাঁচানোর মত যথেষ্ঠ সময় অনেক সময় পাওয়া যায় না কিংবা চিকিৎসায় উন্নতি হয় না এবং অল্প সময়ের মধ্যেই মারা যেতে পারে।পত্র পত্রিকায় ইদানিং এ ধরনের খবর প্রায় দেখা যায় যে রোগি শ্বাসকষ্ট শুরু হওয়ার কিছুক্ষণের মধ্যেই মারা গেছে।এমনকি হাসপাতালে নেওয়ার পথেও মারা যায়।রক্তে অক্সিজেন কমে যাওয়াকে হাইপোক্সিয়া (Hypoxia) বলে।হাইপোক্সিয়া হলে শ্বাসকষ্ট শুরু হয়।কিন্তু এসব ক্ষেত্রে মারাত্মক হাইপোক্সিয়া হলেও শ্বাসকষ্ট হয় না বিধায় এ অবস্থাকে SILENT HYPOXIA বলে।



উপরের এই ছোট্ট যন্ত্রটির ভিতরে আঙ্গুল ঢুকিয়েই আপনি জানতে পারবেন আপনার রক্তে অক্সিজেনের মাত্রা। SPO2 এর মাত্রা ৯৪% এর উপর থাকলে সেটাকে স্বাভাবিক হিসাবে বিবেচনা করা হয়।বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার গাইডলাইন অনুযায়ী করোনা অাক্রান্ত শ্বাসকষ্টের রোগিদের রক্তে অক্সিজেনের মাত্রা SPO2 ৯৩% বা তার চেয়ে বেশি রাখতে হবে।

আপনি নিজে এটা কিনে নিতে পারেন বা যাদের কাছে আছে তাদেরটা স্বাস্থ্যবিধি মেনে ব্যবহার করতে পারেন।করোনা রোগি কিংবা করোনা সন্দেহের প্রত্যেক ব্যাক্তিরই দিনে কয়েকবার রক্তে পালস অক্সিমিটারের সাহায্যে রক্তে অক্সিজেনের মাত্রা মাপা দরকার।শুধুমাত্র এই ডিভাইসটির সঠিক ব্যবহারে অনেক করোনা রোগির জীবন বাঁচানো যেতে পারে।

যেসব টেস্টে রোগের পরিণতির ধারনা পাওয়া যায়:এমন কিছু ল্যাব টেস্ট আছে যেগুলো রোগের পরিণতি কোন দিকে যাচ্ছে তা ধারনা করা যায়।একজন সচেতন রোগি হিসাবে এগুলো আপনারও জানা দরকার-

BLOOD LYMPHOCYTE COUNT: অ্যান্টিবডি তৈরি ও ভাইরাস মারার জন্য শ্বেত রক্ত কণিকার (White Blood Cell) যে কোষগুলো প্রধান ভূমিকা পালন করে তা হলো লিম্ফোসাইট।রোগের শুরুতেই লিম্ফোসাইট কমে যাওয়া এবং রোগে ভোগাকালীন ক্রমাগত লিম্ফোসাইট কমে যাওয়া রোগের খারাপ পরিণতির ইঙ্গিত বহন করে। বিশেষত নিউট্রোফিল ও লিম্ফোসাইটের অনুপাত ৩.৫ এর উপর হলে সেটা সাধারনত খারাপ পরিণতি নির্দেশ করে।

SERUM FERRITIN: রক্তে ফেরিটিন বেড়ে যাওয়া করোনা রোগের জটিল অবস্থা নির্দেশ করতে পারে।

SPO2: রক্তে অক্সিজেনের মাত্রা ক্রমাগত কমে যাওয়া রোগের ক্রমাবনতি নির্দেশ করে।

D-dimer: জটিল অবস্থায় করোনা রোগির রক্ত জমাট বেঁধে যেতে পারে।জমাট বাঁধা রক্তের কারণে স্ট্রোক, হার্ট অ্যাটাক, কিডনি নষ্ট হওয়াসহ এমন সব জটিল অবস্থা সৃষ্টি হয় যার কারণে রোগি মারা যেতে পারে।রক্তের D-dimer টেস্ট করলে রক্ত জমাট বাঁধার বিষয়ে ধারনা পাওয়া যায়।

ARTERIAL BLOOD GAS (ABG) ANALYSIS: রক্তের এই পরীক্ষায় যদি দেখা যায় রক্তে কার্বন-ডাই-অক্সাইডের মাত্রা ক্রমাগত বাড়ছে এবং রক্তের পিএউচ কমে যাচ্ছে সেটা রোগের খারাপ পরিণতির দিকে চলে যাওয়া নির্দেশ করে।

পিসিআর নেগেটিভ রোগির ক্ষেত্রে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের গাইডলাইন- করোনার উপসর্গযুক্ত কোন রোগির যদি আরটি-পিসিআর টেস্ট নেগেটিভ আসে কিন্তু রক্ত পরীক্ষায় যদি দেখা যায় শ্বেত কণিকার (White Blood Cell) সংখ্যা নরমাল বা কমে গেছে , লিম্ফোসাইটের সংখ্যা কমে গেছে (Lymphopenia), C-Reactive Protein (CRP) মাত্রা বেড়ে গেছে, রক্তে প্রোল্যাকটিনের মাত্রা কমে গেছে এবং বুকের এক্সরে বা সিটি স্ক্যানে যদি নিউমোনিয়ার মত পরিবর্তন দেখা যায় সেক্ষেত্রে বর্তমান পরিস্থিতি সাপেক্ষে তাকে করোনা রোগি হিসাবে বিবেচনা করতে হবে।



রোগ নির্ণয়ের পর আপনার খুব গুরুত্বপূর্ণ একটি দায়িত্ব হলো চিকিৎসকের সাথে পরামর্শ করা।আপনি ঘরে বসে চিকিৎসা নিলেও একজন রেজিস্টার্ড চিকিৎসকের পরামর্শ নিবেন।এতে আপনি একদিকে যেমন মানসিক সাপোর্ট পাবেন আবার রোগ জটিল পর‌্যায়ে যাচ্ছে কিনা তা আগাম জানতে পারবেন এবং সে অনুযায়ী ব্যবস্থা নিতে পারবেন।বাংলাদেশ সরকার সকল করোনা বিষয়ক চিকিৎসা পরামর্শ বিনামূল্যে প্রদান করে থাকে।তাছাড়া অনেক বেসরকারি প্রতিষ্ঠান ও চিকিৎসক ভলান্টিয়ার হিসাবে বিনামূল্যে এবং কিছু ক্ষেত্রে নামমাত্র মূল্যে চিকিৎসা পরামর্শ দিয়ে থাকেন অনলাইনে।স্বাস্থ্য অধিদদপ্তরের ওয়েবসাইট থেকে এরকম কিছু সার্ভিসের লিংক নিচে দেওয়া হলো-

টেলিমেডিসিন সার্ভিস(সরকারি)

টেলিমেডিসিন সার্ভিস(বেসরকারি)

আপনার নিকটস্থ হাসপাতালের তথ্য পেতে এই লিংকে ক্লিক করুন

কখন হাসপাতালে ভর্তি হতে হবে?-যেহেতু প্রায় ৮১% রোগির উপসর্গ মৃদু থাকে সুতরাং তারা ঘরে বসেই চিকিৎসা নিবেন।কিন্তু বাকি ১৯% রোগির শ্বাসকষ্ট হতে পারে যেক্ষেত্রে হাসপাতালে যেতে হতে পারে।আর কিছু রোগির অবস্থা এতই খারাপ হয়ে যায় যে তাকে হাসপাতালে তাৎক্ষণিকভাবে না নিলে জীবন বিপন্ন হতে পারে।রোগের কোন অবস্থায় রোগিকে হাসপাতালে নিতে হবে সে বিষয়ে ব্রিটিশ থোরাসিক সোসাইটির গাইডলাইন ফলো করে আমাদের স্বাস্থ্য অধিদপ্তরও একটি গাইডলাইন প্রদান করেছে যা পাঠকদের জ্ঞাতার্থে তা তথ্যচিত্রে তুলে ধরা হলো-



সাধারণভাবে নিম্নোক্ত ক্ষেত্রে রোগিকে হাসপাতালে ভর্তি হতে হবে-

১)মানসিক অবস্থার বড় পরিবর্তন হলে অর্থাৎ ঘোরের মধ্যে থাকা, স্খান-কাল-পাত্র হঠাৎ হঠাৎ চিনতে না পারা, মনোযোগের ঘাটতি ইত্যাদি দেখা দিলে।

২)শ্বাসকষ্ট ও শ্বাস প্রশ্বাসের হার মিনিটে ৩০ বার বা তার বেশি হলে।

৩)শরীর খুব দূর্বল লাগলে বা নড়াচড়ার ক্ষমতা কমে গেলে।

৪)জ্বর ও কাশির তীব্রতা ক্রমাগত বাড়তে থাকলে।

৫)শ্বাসকষ্টের সাথে বুকে ব্যাথা শুরু হলে।

৬)পালস অক্সিমিটারে রক্তে অক্সিজেনের মাত্রা ক্রমাগত কমতে থাকলে।

৭)বয়স ৬৫ এর বেশি হলে বিশেষত উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস, শ্বাসতন্ত্রের দীর্ঘমেয়াদি অসুখ (যেমন হাঁপানি, ক্রনিক ব্রংকাইটিস), হৃদপিন্ডের জটিলতা থাকলে।

৮)করোনা রোগির রক্তচাপ ৯০/৬০ এর নিচে নেমে গেলে।

৯)যেসব রোগি নিজে থেকে সব কাজ করতে পারেন না এবং তাদের যত্ন নেওয়ার মত কেউ না থাকলে।


বৃদ্ধ ব্যক্তিদের ব্যাপারে বেশি সতর্ক হওয়া কেন জরুরি? আমরা অনেকেই ইমিউনোসেনেসেনস(Immunosenescence) শব্দটির সাথে পরিচিত নই।বৃদ্ধ বয়সের এটি একটি রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থা দূর্বল হয়ে পড়াজনিত সমস্যা।যাদের বয়স ৬৫ বা তারচেয়ে বেশি তাদের শরীরে গুরুত্বপূর্ণ রোগ প্রতিরোধী কোষ টি-লিম্ফোসাইটের সংখ্যা ও কার‌্যকারিতা কমে যায়।বি-লিম্ফোসাইটের অ্যান্টিবডি তৈরি করার সক্ষমতা হ্রাস পায়।রক্তে প্রদাহ উদ্দীপক রাসায়নিক উপাদান তথা প্রো আনফ্ল্যামেটরি সাইটোকাইনের মাত্রা ২-৪গুণ বৃদ্ধি পায়।এ বয়সে প্রাকৃতিক পরিণতি ইমিউনোসেনেসেনস এর কারণে যা ঘটে-

১)টি-সেলের কার‌্যকারিতা কমে যাওয়ায় খুব সহজেই ভাইরাস সংক্রমিত হয়।

২)শরীরে প্রদাহ তীব্রতর হয় যা ক্ষতিকর এমনকি জীবনবিনাশী হতে পারে।

৩)অ্যান্টিবডি তৈরির সক্ষমতা হ্রাস পায় বিধায় ভাইরাস সংক্রমণের উপস্থিতি দীর্ঘ হয় যা অনেক সময় প্রাণনাশের কারণ হয়ে দাঁড়ায়।

৪)ভ্যাকসিন ঠিকমত কাজ নাও করতে পারে বা প্রতিরক্ষা নাও দিতে পারে।

৫)ইমিউন সিস্টেমের বেশ খানিকটা অনিয়ন্ত্রিত হয়ে যাওয়ায় (Dysregulation) নিজ দেহের বিরুদ্ধেই নানা অ্যান্টিবডি তৈরি হতে পারে (Autoimmunity)।

এছাড়াও এ বয়স্ক মানুষের দেহে রোগ প্রতিরোধী ব্যবস্থার জন্য অতীব জরুরি জিংক, ভিটামিন-ডি, ম্যাগনেসিয়াম ও ভিটামিন-সি এর ঘাটতি প্রায়শই দেখা যায়।

এছাড়াও এ বয়সে নানা ধরনের অসুখ-বিসুখ, ঔষধের ব্যবহারজনিত কারণে এবং বয়সজনিত অস্থিরতা ও বিষণ্নতা এবং নানা কারণে তৈরি মানসিক চাপ দেহের রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থাকে অনেকটাই দূর্বল করে ফেলে।

সুতরাং ৬৫ বা এর চেয়ে বেশি বয়সের ব্যক্তিরা করোনায় আক্রান্ত হলে তাদেরকে হাসপাতালে ভর্তি করে দেওয়াটাই সবচেয়ে ভালো যদি সুযোগ থাকে।




নাক দিয়ে শ্বাস নিন-নাক শ্বাস নেওয়ার জন্য আর মুখ হলো খাবার খাওয়ার জন্য যদিও উভয় পথ ভিতরে গিয়ে গলবিল (Pharynx) এ মিলিত হয়েছে।আমরা যেমন নাক দিয়ে খাই না; ঠিক তেমনি স্বাভাবিক অবস্থায় মুখ দিয়ে শ্বাস নেওয়া অত্যন্ত ক্ষতিকর।আমরা নাক বলতে বাইরে যে অংশটুকু দেখি তা পুরো নাকের মাত্র ১৫%-২০%; আর বাকি ৮০%-৮৫% থাকে ভিতরে যেখানে বাতাস কন্ডিশনিং হওয়ার পর তা ফুসফুসে প্রবেশ করে। নাক দিয়ে শ্বাস নেওয়ার সুবিধাসমূহ -





১)নাকের লোম ও এর গায়ে লেগে থাকা মিউকাস বাতাসের অনেক ধূলিকণা আটকিয়ে দেয়।এসব কণা ফুসফুসে পৌঁছালে কাশি, সংক্রমণ, প্রদাহের মত অবস্থা সৃষ্টি হতে পারে।

২)নাকের ভিতরের কংকা বা টার্বিনেটে বাতাস পৌঁছামাত্র সেখান থেকে ব্রেনে সিগন্যাল যায়।ব্রেন বাতাসের শুষ্কতা, তাপমাত্রা এবং ক্ষতিকর উপাদানের উপস্থিতি নির্ণয় করে তাকে কন্ডিশনিং করতে একটি বিশেষ চক্র পরিচালনা করে যাকে নাসিকা চক্র বা Nasal Cycle বলে।এভাবে কন্ডিশনিং হওয়ার পর বাতাস ফুসফুসে প্রবেশের উপযোগি হয়।অপর দিকে মুথ দিয়ে বাতাস নিলে সে বাতাস কাশিসহ শ্বাসতন্ত্রকে অসুস্থ করে ফেলতে পারে।শ্বাসতন্ত্রের অ্যালার্জিজনিত অবস্থার একটি গুরুত্বপূর্ণ কারণ মুখ দিয়ে শ্বাস নেওয়া।

৩)নাক দিয়ে শ্বাস-প্রশ্বাস নিলে তা ধীরে ধীরে প্রবেশ করে বিধায় ফুসফুস তা থেকে বেশি অক্সিজেন নিতে পারে এবং বেশি পরিমাণে কার্বন-ডাই-অক্সাইড ত্যাগ করতে পারে যা অত্যন্ত উপকারি।নাক দিয়ে শ্বাস নিলে দেহ মুখ দিয়ে শ্বাস নেওয়ার তুলনায় প্রায় ১৫% বেশি অক্সিজেন পেতে পারে।

সুতরাং স্বাভাবিক অবস্থায় আপনি সচেতনভাবেই নাক দিয়ে শ্বাস নেওয়ার চেষ্টা করবেন।যদি নাক বন্ধ থাকে তাহলে কিংবা হাঁচি-সর্দি থাকে তাহলে-

*Tab.Loratadine(10mg) প্রতিদিন ১টা করে খেতে পারেন।[আমাদের স্বাস্থ্য অধিদপ্তর করোনা চিকিৎসা গাইডলাইনে সর্দি কাশিতে Fexofenadine এর নাম উল্লেখ করেছেন অথচ এর পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ায় শ্বাসতন্ত্রে সংক্রমণ হতে পারে।যেহেতু এ ঔষধের নিরাপদ বিকল্প রয়েছে সুতরাং এটি ব্যবহার না করাই হবে যুক্তিযুক্ত]।

*মেনথল ক্রিস্ট্যাল দিয়ে গরম পানির ভাপ নাক দিয়ে নিবেন দিতে ৩-৪বার; বিশেষত রাতে ঘুমাবার আগে এবং সকালে ঘুম থেকে উঠে।

*তারপরও নাক বন্ধ থাকলে Decongestant হিসাবে Xylometazoline(Antazol) nasal drop ব্যবহার করতে পারেন।তবে এটি বেশি ব্যবহার করলে উপকারের চেয়ে অপকার বেশি।আর একটা কথা কখনই নাক চেপে ঝাড়বেন না।

কাশি ও গলা ব্যাথা কমাতে যা করবেন- করোনার কাশি অধিকাংশ ক্ষেত্রেই শুকনো কাশি।আবার শ্বাসতন্ত্রের গবলেট কোষ উত্তেজিত হলে মিউকাস নিঃসরণ করে যা কফ আকারে দেখে থাকি।আবার ফুসফুসে তরল জমার জন্যও কাশি হতে পারে।কাশি কমাতে যা করতে পারেন-

*গরম পানি হলো সবচেয়ে ভালো কফ সিরাপ।তাপে গবলেট সেলের মিউকাস নিঃসরণ কমে যায় (ঠান্ডায় বাড়ে) বিধায় গরম পানি পান করলে এবং গরম পানির ভাপ নিলে বেশ উপকার পাওয়া যায়।কিছুক্ষণ পর পর চুমুক দিয়ে গরম পানি, গরম চা, গরম স্যুপ থেতে পারেন।

*আদা ও লবঙ্গে প্রদাহনাশক ও ব্যাথানাশক উপাদান রয়েছে।সুতরাং চায়ে আদা-লবঙ্গ দিয়ে পান করলে উপকার পাবেন।

*গরম পানির ভাপ নেওয়ার সময় এর মধ্যে মেনথল ক্রিস্ট্যাল দিয়ে ভাপ নিলে বেশ উপকৃত হবেন। মেনথল ক্রিস্ট্যাল একটি প্রদাহনাশক উপাদান।মেনথল হাতের কাছে না থাকলে কয়েক টুকরা লবঙ্গ বা আদা থেতলিয়ে পানিতে দিতে পারেন।

*গলায় খুসখুসে কাশির প্রধান কারণ গলবিলের প্রদাহ (Pharyngitis)।প্রদাহযুক্ত জায়গায় যে কোন ধরনের কণা (ধুলি কণা কিংবা খাদ্য কণা এমনকি শুকনো বাতাস) স্পর্শ করলে কাশি বেড়ে যায়।যদি এর উপর একটা প্রলেপ দিতে পারি তাহলে বেশ উপকার পাওয়া যেতে পারে।মধূ, লজেন্স, চিনির সিরা ইত্যাদি এই কাজই করে থাকে।এজন্য এগুলোকে ডিমালসেন্ট (Demulcent) বলে।আবার প্রদাহযুক্ত জায়গা গরম করতে পারলে সেখানে রক্ত সঞ্চালন বাড়বে যা প্রদাহের তীব্রতা কমাতে সাহায্য করবে।আপনি নিজেই বেস্ট কফ সিরাপ তৈরি করতে পারেন।শুধু খেয়াল রাখবেন কফ সিরাপে যেন ১)ডিমালসেন্ট ২)প্রদাহনাশক ৩)ব্যাখানাশক ৪)জীবাণুনাশক ও ৫)তাপ এই ৫টি উপাদান থাকে। যেহেতু মিউসিলেজ একই সাথে ডিমালসেন্ট এবং প্রদাহ নাশক সুতরাং কফ সিরাপ তৈরিতে ইসবগুলের ভূসি বা অ্যালোভেরার রস ব্যবহার করতে পারেন।কারণে এগুলোতে প্রচুর মিউসিলেজ থাকে।আর ব্যাথানাশক ও জীবাণুনাশক হিসাবে আদা বা লবঙ্গ ব্যবহার করতে পারেন।এ ধরনের সিরাপ গলাব্যাথ্যা কমাতেও দারুন সাহায্য করতে পারে।

২৫০মিলি পানিতে ১ চা চামচ ইসবগুলের ভূসি ভালভাবে ভিজিয়ে ছাকনি দিয়ে ছেঁকে নিন (অদ্রবণীয় অংশ কোন অবস্থাকেই মেশাবেন না)।তরলটি একটি গ্লাসে নিয়ে এর সাথে কিছুটা আদার রস এবং বা লবঙ্গের আরক মিশিয়ে দিন।এ অবস্থাতেও খেতে পারেন একটু একটু করে।আবার সিরাপটি গরম পানির মাঝে বসিয়ে খানিকটা গরম করে নিতে পারেন।

অ্যালোভেরা বা ঘৃতকুমারির সিরাপ একটু গরম করে খেতে পারে।এটি একই সাথে ডিমালসেন্ট, প্রদাহনাশক, জীবাণুনাশক।

কুসুম গরম পানিতে একটু লবণ ও লেবুর রস দিয়ে গড়গড়া করতে পারেন।লেবুর রসে মিউসিলেজ থাকে যা একইসাথে সাথে প্রদাহনাশক ও ডিমালসেন্ট।

কাঁচা ঢেড়শ টুকরা করে পানিতে ভিজিয়ে রাখলেও মিউসিলেজ সিরাপ পেয়ে যাবেন।

অ্যারাবিক গাম পানিতে গুলে কফ সিরাপ হিসাবে খেতে পারেন।এটি যেমন ডিমালসেন্ট হিসাবে কাজ করে আবার এতে থাকা বিউটাইরেট প্রদাহনাশক হিসাবে কাজ করে।

তাছাড়া নিচে ‘বিশেষ প্রদাহ নাশক খাবার’ হিসাবে কিছু উপাদানের নাম পাবেন যাদের কয়েকটিতে মিউসিলেজ আছে।সেখান থেকেও বেছে নিয়ে নিজের কফ সিরাপ নিজেই বানিয়ে নিতে পারেন।

বি.দ্র:চিনি নিজেই প্রদাহ তৈরি করার জন্য দায়ী সুতরাং চিনিযুক্ত সিরাপ যথাসম্ভব এড়িয়ে চলুন।

জ্বর কমাতে যা করবেন-করোনা রোগির সবচেয়ে সাধারণ উপসর্গ জ্বর।আর জ্বর হলে কী করতে হবে তা আমরা সবাই জানি।তারপরও স্মরণ করিয়ে দিতে কিছু কথা বলা দরকার।জ্বরের সময় দেহের তাপপাত্রা এক ডিগ্রি সেন্টিগ্রেড বাড়াতে দেহের বিপাক ক্রিয়া (বিএমআর) বাড়ে ১৫%-২০% এবং দেহ অতিরিক্ত প্রায় ১৫% অক্সিজেন ব্যবহার করে।আর এই বাড়তি তাপ দেহ থেকে বের হওয়ার সময় বেশ খানিকটা পানিও নিয়ে যায়।এজন্য জ্বরের সময় যে বিষয়গুলো খেয়াল রাখতে হবে-

F-FLUID: জ্বরের সময় দেহ থেকে বেশ তরল বের হয়ে যায় সুতরাং তরল জাতীয় খাবার যেমন পানি, স্যুপ, ডাল, ডাবের পানি ইত্যাদি যথেষ্ট পরিমাণে খেতে হবে।দেহে পানিশূণ্যতা তৈরি হলে তা করোনা রোগির জন্য জীবনবিনাশী বিপদ ডেকে আনতে পারে।পানিশূণ্যতায় রক্ত গাঢ় হয়ে রক্ত জমাট বাঁধার ঝুকি বাড়িয়ে দেয়।প্রস্রাবে সংক্রমণের ঝুঁকি বাড়িয়ে দেয়।তবে পানিশূণ্যতা পূরণে শরবত (চিনির জন্য) ও ফলের জুস(ফ্রুক্টোজের জন্য) এড়িয়ে চলুন কারণ এগুলো প্রদাহ উদ্দীপক।জ্বরের সময় চা ও কফি খাবেন না কারণ এগুলো মূত্রবর্ধক (Diuretic) হিসাবে কাজ করে যা পানিশূণ্যতা তৈরিতে সাহায্য করতে পারে।

E-ENERGY:আপনার দেহের খাদ্য খরচ করেই দেহে তাপ উৎপন্ন হয়।আবার জ্বরের সময় খেতে রুচি হয় না।এসময় দেহের পুষ্টি নিশ্চিত করা খুবই জরুরি।সঠিক পরিমাণে প্রোটিন,ফ্যাট ও শর্করা খাবার খেতে হবে।শক্ত খাবার খেতে ইচ্ছে না হলে তরল বা সেমি সলিড জাতীয় খাবার খান।যদি সহজলভ্য হয় তাহলে এসময় চিয়া সিড পানিতে ভিজিয়ে সম্পূর্ণ ফুলে উঠার পর খেতে পারেন।এটি খুবই পুষ্টিকর ও প্রদাহনাশক খাবার।

V-VITAMIN: ভিটামিন-বি কমপ্লেক্স এবং ভিটামিন সি পানিতে দ্রবণীয় ভিটামিন।এগুলো শরীরে জমা থাকে না তাই প্রতিদিনই খেতে হয়।জ্বরের সময় বিপাক ক্রিয়া বৃদ্ধি পায়;ফলে ভিটামিন বি ও সি এরও ব্যবহার বাড়ে।এসময় এদুটো ভিটামিন খাওয়ার ব্যাপারে সচেতন থাকা জরুরি।

E-ELECTROLYTE: জ্বরের সময় ঘামের মাধ্যমে কিংবা বমি বা ডায়রিয়ায় শরীর থেকে লবণ (Electrolytes) বের হয়ে যেতে পারে এবং রক্তে লবনের বিভিন্ন উপাদানের ভারসাম্য (Electrolyte imbalance) নষ্ট হতে পারে।এসময় খাবারে প্রয়োজনীয় ইলেকট্রোলাইটের সরবরাহ নিশ্চিত করতে হবে।প্রয়োজনে চিকিৎসকের সাথে পরামর্শ করে ওরস্যালাইন খাওয়া যেতে পারে।

R-REST & RESPIRATION: আপনি যত নড়াচড়া করবেন দেহে ততই তাপ তৈরি হবে।সুতরাং জ্বর না কমা পর‌্যন্ত পূর্ণ বিশ্রামে থাকুন।অনেকেই ইমিউনিটি বাড়ানোর জন্য ব্যায়ামকে এতটা গুরুত্ব দিচ্ছেন যে জ্বরের রোগিও ব্যায়াম করাকে উপকারি বিবেচনা করছেন যা ভুল এবং স্বাস্থ্য ঝুঁকি বাড়াবে।

জ্বরের সময় দেহে অক্সিজেনের চাহিদা বাড়ে।যদি নাকে কোন সমস্যা না থাকে তাহলে নাক দিয়েই শ্বাস নিবেন।নাক দিয়ে শ্বাস নিলে দেহ মুখ দিয়ে শ্বাস নেওয়ায় তুলনায় প্রায় ১৫% বেশি অক্সিজেন পায়।




করোনা আক্রান্ত প্রায় ১৯% রোগির অক্সিজেন থেরাপি লাগতে পারে।করোনা আক্রান্ত রোগির যদি শ্বাসকষ্ট শুরু হয় তাহলে তাকে তাৎক্ষণিকভাবে হাসপাতালে নিতে হবে।কিন্তু দূর্ভাগ্যজনকভাবে হলেও সত্যি যে বর্তমান প্রেক্ষাপটে বেশ কিছু রোগি সঠিক সময়ে হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার সুযোগ না পেয়ে জটিল অবস্থার মুখোমুখি হচ্ছেন এবং কিছু ক্ষেত্রে মারাও যাচ্ছেন।শ্বাসকষ্ট শুরু হলে যেমন অস্থিরতা ও আতঙ্ক তৈরি হয়;ঠিক তেমনি হাসপাতাল থেকে হাসপাতালে ছুটোছুটি করতে গিয়ে রোগি শারীরিক ও মানসিকভাবে ভেঙ্গে পড়েন।উভয় কারণে রোগির শ্বাসকষ্ট আরও বৃদ্ধি পেতে পারে এবং রোগকে জটিল পর‌্যায়ে নিয়ে যেতে পারে। এ অবস্থা লাঘবে অর্থাৎ যতটুকু সময় পর‌্যন্ত রোগিকে হাসপাতালে ভর্তি করার সুযোগ না পাচ্ছেন ততক্ষণ নিম্নোক্ত পদ্ধতিগুলো শ্বাসকষ্ট লাঘবে সাহায্য করতে পারে।



শ্বাসকষ্টে আরামদায়ক পজিসন:শ্বাসকষ্টের প্রধান কারণ নিউমোনিয়া কিংবা অ্যাকিউট রেসপিরেটরি ডিসট্রেস সিনড্রোম (ARDS) জনিত ফুসফুসে তরল জমা হওয়া।উপরের ছবিতে দেখুন ফুসফুসের সবচেয়ে চওড়া অংশ ফুসফুসের নিচের দিক ও পিছনের দিক।এ অংশেই সবচেয়ে বেশি অক্সিজেন ও কার্বন-ডাই-অক্সাইডের আদান-প্রদান সম্ভব।রোগি চিৎ হয়ে শুয়ে থাকলে কিংবা বসে বা দাঁড়িয়ে থাকলে এই গুরুত্বপূর্ণ অংশেই তরল বেশি জমা হয়।অথচ আমরা যদি এ অংশের জমে থাকা তরল কিছুটা সরিয়ে (Redistribution) শ্বাস-প্রশ্বাসের ব্যবস্থা করতে পারি তাহলে দেহে অক্সিজেনে যোগান বাড়ানো সম্ভব।আর এটা করা যায় সামনের দিকে ঝুঁকে, একপাশে কাত হয়ে শুয়ে এবং উপুড় হয়ে শুয়ে।নিচের ছবিতে ও ভিডিওতে দেখুন কোন পজিসনে বসলে, দাঁড়ালে বা শুয়ে থাকলে শ্বাসকষ্টের রোগি আরাম পান-




ACTIVE CYCLE OF BREATHING TECHNIQUE (ACBT): এর ৩টি পর‌্যায়ক্রমিক ধাপ রয়েছে- ১)শ্বাস নিয়ন্ত্রণ ব্যায়াম(Breathing control exercise)-এক্ষেত্রে নাক দিয়ে স্বাভাবিকভাবে এবং ধীরে ধীরে শ্বাস নিন এবং ঠোঁটদুটো গোল করে ধীরে ধীরে মুখ দিয়ে শ্বাস ত্যাগ করুন।খেয়াল রাখবেন শ্বাসটা পেট ফুলিয়ে নিতে হবে এবং পেট ভিতরের দিকে দাবিয়ে শ্বাস ত্যাগ করতে হবে।এভাবে ৫বার করবেন ২)বুক সম্প্রসারণ ব্যায়াম (Thoracic expansion exercise)-হাতদুটোকে বক্ষ পিঞ্জরের দু’পাশে রেখে নাক দিয়ে ধীরে ধীরে যথাসম্ভব লম্বা শ্বাস নিন যেন বুকের দু’পাশ প্রসারিত হয়।এবার ঠোঁটদুটো গোল করে ধীরে ধীরে মুখ দিয়ে যথাসম্ভব লম্বা শ্বাস ত্যাগ করুন।এটা ৫বার করুন। ৩)মুখ দিয়ে জোরে শ্বাস ত্যাগ (Forced expiratory technic)- নাক দিয়ে ধীরে ধীরে বুক ফুলিয়ে শ্বাস নিন।এরপর মুখ দিয়ে জোরে এবং সংক্ষিপ্ত শ্বাস ত্যাগ করুন।এটা ১-৩বার করতে পারেন।এসময় কাশি হতে পারে এবং কফ বের হতে পারে।পুরো প্রক্রিয়াটি নিজের ভিডিওতে দেখুন-



VOLUNTARY ABDOMINAL BREATHING (VAB): এটাকে Pursed Lip Breathing (PLB) বা Belly breathing ও বলা হয়।হুইসেল বাজানোর মত মুখের ছিদ্র ছোট করে সে পথে বুকের ভিতর থেকে যতটা সম্ভব বাতাস বের করে দিয়ে ধীরে ধীরে বুক ভরে শ্বাস নিতে হবে নাক দিয়ে এবং পেট ফুলিয়ে।তারপর একটু দমটা ধরে রেখে খুব ধীরে ধীরে (শ্বাস গ্রহণের চেয়েও অর্ধেক ধীরগতিতে) মুখ দিয়ে বাতাস ছাড়তে হবে।অর্থাৎ নাক দিয়ে পেট ফুলিয়ে বাতাস নিয়ে কিছুক্ষণ দম আটকে রেখে মুখ দিয়ে শিস বাজানোর মত মুখের ছিদ্র ছোট করে বাতাস ছাড়তে হবে এবং পুরো প্রক্রিয়াটি হবে ধীর গতির।বোঝার সুবিধার্তে আপনি ৫-৩-১০ ফর্মূলা ব্যবহার করতে পারেন।বুক থেকে যথাসম্ভব বাতাস বের করে দেওয়ার পর পাঁচ গণনা করা পর্যন্ত ধীরে ধীরে নাক দিয়ে পেট ফুলিয়ে শ্বাস নিন;তিন গণনা করা পর্যন্ত দম আটকে রাখুন;তারপর দশ গণনা করা পর্যন্ত খুব ধীরে ধীরে মুখের সংকুচিত ছিদ্রপথে তা ত্যাগ করুন।





PRONE POSITION VENTILATION (PPV)- করোনায় আক্রান্ত প্রায় ৩-৫% রোগির শ্বাসকষ্ট এত তীব্র হয় যে জীবন বাঁচাতে ভেন্টিলেটরের সাহায্য নিতে হয়।কিন্তু ভেন্টিলেটরের স্বল্পতা হেতু অনেকসময় রোগিকে বাঁচানো যায় না।অথচ তীব্র শ্বাস কষ্টের (Acute Respiratory Distress) শুরুতে রোগিকে উপুড় করে শুইয়ে দিলে রোগির রক্তে অক্সিজেনের মাত্রা বাড়ে এবং শ্বাসকষ্ট কমে যায়। এটাকে Prone Position Ventilation (PPV) বলে।এ পদ্ধতিতে অনেকসময় ভেন্টিলেটরে দেওয়ার উপযুক্ত রোগিকেও ভেন্টিলেটরের সাহায্য ছাড়া বাঁচানো যেতে পারে।আমাদের মত দেশে যেখানে আইসিইউ ও ভেন্টিলেটরের সংখ্যা অনেক কম সেখানে করোনা আক্রান্ত রোগির চিকিৎসায় এ পদ্ধতির প্রয়োগ বড় ভূমিকা রাখতে পারে। পিপিভি কীভাবে কাজ করে তা জানতে নিচের ভিডিওটি দেখতে পারেন-





অক্সিজেন থেরাপিঃ উপরের টেকনিকগুলো যদি আপনার শ্বাসকষ্ট স্বাভাবিক করতে না পারে সেক্ষেত্রে অক্সিজেন নেওয়া জরুরি হয়ে পড়ে।পালস অক্সিমিটারে যদি আপনার অক্সিজেনের মাত্রা ৯০% এর নিচে নেমে যায় তাহলে সেটা আপনার আপনার জন্য ক্ষতিকর হতে পারে এবং এর জন্য আপনার দেহের গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গসমূহ (যেমন কিডনি, হার্ট, ব্রেন) মারাত্মক ক্ষতিগ্রস্থ হতে পারে।করোনা রোগিদের বাসায় অক্সিজেন নেওয়া অনুচিত এবং ক্ষেত্রবিশেষে ক্ষতিকর হতে পারে।তাই এ ধরনের ক্ষেত্রে অবশ্যই হাসপাতালে ভর্তি হতে হবে।কিন্তু হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার সুযোগ না পেলে মন্দের ভালো হিসাবে যতক্ষণ পর‌্যন্ত হাসপাতাল বা ক্লিনিকে ভর্তির সুযোগ পাচ্ছেন না সে সময়টা পোর্টেবল অক্সিজেন সিলিন্ডার থেকে অক্সিজেন নিতে পারবেন (সিলিন্ডার কিনতেও পারেন;আবার ভাড়াও নিতে পারেন)।এক্ষেত্রে অবশ্যই একজন ডাক্তারের পরামর্শ মেনে চলবেন (অনলাইনে সরকারি ও বেসরকারি পর‌্যায়ে অনেক ডাক্তার সার্ভিস দিচ্ছেন যা আগেই উল্লেখ করেছি)।প্রথমে প্রতি মিনিটে ২লি হারে অক্সিজেন দেওয়া শুরু করুন এবং পালস অক্সিমিটারের রিডিং দেখে এবং চিকিৎসকের সাথে পরামর্শ করে প্রদত্ত নির্দেশনা অনুযায়ী মাত্রা বাড়াবেন।এ সংক্রান্ত একটি ভিডিও নিচে উপস্থাপন করা হলো-



বিশেষ সতর্কতাঃ ১)অক্সিজেন সিলিন্ডার অসাবধানতায় বিস্ফোরিত হতে পারে ২)অক্সিজেন কোন নিরীহ জিনিস নয়।অতিরিক্ত অক্সিজেনের বিষক্রিয়ায় ফুসফুসের স্থায়ী ক্ষতি হতে পারে। রেটিনা নষ্ট হয়ে অন্ধত্বের দিকে এগিয়ে যেতে পারেন।রিপারফিউশন ইনজুরির কারণে হার্ট ও ব্রেন ক্ষতিগ্রস্থ হতে পারে।



এখন পর‌্যন্ত করোনা ভাইরাসের বিরুদ্ধে নিশ্চিতভাবে কার‌্যকরী কোন অ্যান্টিভাইরাল ঔষধ নেই।নেই কোন কার‌্যকরী ভ্যাকসিন।এমতবস্থায় করোনা ভাইরাসের সাথে যুদ্ধ করেই আমাদের বাঁচতে হবে।আর এই যুদ্ধের কাজটিই করে থাকে আমাদের দেহের রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থা তথা ইমিউন সিসটেম।তাই করোনার সাথে যুদ্ধে আমাদের ইমিউন সিসটেমকে শক্তিশালী ও সহায়তা করা জরুরি।এর জন্য যা করা উচিৎ-

প্রয়োজনীয় পরিমাণ প্রোটিন খাবেন-দেহের প্রতিটি কোষ, এনজাইম, হরমোন, অ্যান্টিবডি ও অন্যন্য অনেক জৈব রসায়নের প্রধান গাঠনিক উপাদান হলো প্রোটিন।আর প্রোটিনের প্রধান উৎস্য হলো মাছ-মাংস, দুধ, ডিম, ডাল ইত্যাদি।সুতরাং আমাদের প্রতিদিনের খাবারে প্রয়োজনীয় পরিমাণ প্রোটিন গ্রহণ করা অত্যাবশ্যক।প্রোটিন হিসাবে সাদা মাংস বা হোয়াইট মিট যেমন মাছ ও মুরগির মাংস (রান ছাড়া) সবচেয়ে উপযোগি কারণ প্রাণিজ প্রোটিনে দেহের জন্য অতি প্রয়োজনীয় সকল অ্যামাইনো এসিড (Essential amino acids) থাকে।আর এজন্যই প্রাণিজ প্রোটিনকে প্রথম শ্রেণির প্রোটিন বলা হয়।আর উদ্ভিজ্য প্রোটিনের গুরুত্বপূর্ণ উৎস্য হলো ডাল ও বীচি।কিন্তু এক রকমের ডালে সবগুলো অতি প্রয়োজনীয় অ্যামাইনো এসিড পাওয়া যায় না বিধায় কয়েকরকম ডাল একসাথে মিশিয়ে রান্না করতে হবে।



ভিটামিন-এ (VIT-A)- ভিটামিন-এ কে বলা হয় সংক্রমণ প্রতিরোধী ভিটামিন (Anti infective vitamin) । ভিটামিন-এ ইমিউনো বুস্টার হিসাবে কাজ করে।অ্যান্টিবডি তৈরিকারী এবং ভাইরাস কিলার লিম্ফোসাইট এর সংখ্যা বৃদ্ধিতে ভিটামিন-এ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।তাছাড়া আবরণী কলার গঠন কার‌্যকর রেখে সংক্রামকের প্রবেশ ঠেকাতে চেষ্টা করে।তবে একটা কথা মনে রাখা দরকার প্রয়োজনের অতিরিক্ত ভিটামিন-এ রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থাকে দূর্বল করে দেয় এবং সংক্রমণের ঝুঁকি বাড়িয়ে দেয়।এ সমস্যা সমাধানে উদ্ভিজ্য উৎস্য থেকে ভিটামিন-এ গ্রহণ করা যেতে পারে।উদ্ভিদে ভিটামিন-এ বিটা-ক্যারোটিন আকারে থাকে।দেহে প্রবেশের পর চাহিদা মোতাবেক বিটা ক্যারোটিন থেকে ভিটামিন-এ তৈরি হয়।বাড়তি বিটা ক্যারোটিন অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট হিসাবে কাজ করে।যেসব উদ্ভিজ্য উৎস্যে বিটা ক্যারোটিন আছে (মূলত গাঢ় সবুজ শাক এবং রঙ্গিন সবজি) তার একটা তথ্য চিত্র নিচে উপস্থাপন করা হলো-



VIT-D- ভিটামিন-ডি এর অভাবেও জীবাণুর শরীরে প্রবেশ সহজ হয়; অ্যান্টিবায়োটিক আবিষ্কারের পূর্বে ভিটামিন-ডি ই ছিলো যক্ষারোগের প্রধান হাতিয়ার।তাছাড়া ভিটামিন-ডি সাইটোকাইন মডিউলেটর- এটি প্রদাহকারী সাইটোকাইন তৈরিতে বাঁধা দেয় এবং প্রদাহবিরোধী সাইটোকাইন তৈরিতে সহায়তা করে।‘প্রদাহকারী সাইটোকাইন ঝড়’ এর কারণেই করোনা রোগিরা মূলত তীব্র শ্বাসকষ্টে (acute respiratory distress syndrome) ভূগে থাকেন; এমনকি ভেন্টিলেটরে দেওয়ার পরও ৭০%-৮০% রোগিকে বাঁচানো যায় না।ভিটামিন-ডি ৯০% তৈরি হয় সূর্যের আলোতে চামড়ার নিচে।এখন দীর্ঘদিন লকডাউনে থাকলে শরীরে ভিটামিন-ডি তৈরি বাঁধাগ্রস্থ হবে।তাছাড়া প্রাকৃতিক উৎস্যের ভিটামিন-ডি অপ্রতুল ও দামি।সেক্ষেত্রে চিকিৎসকের পরামর্শে ভিটামিন-ডি ক্যাপসুল খাওয়া যেতে পারে।

ভিটামিন-সি:রোগ প্রতিরোধ ও ক্ষয় সারাতে তথা হিলিং এর ক্ষেত্রে ভিটামিন-সি এর গুরুত্ব অনস্বীকার‌্য।ভিটামিন-সি এর অভাবে রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থা দূর্বল হয়ে পড়ে এবং সংক্রমণের ঝুঁকি বাড়ে।ভিটামিন-সি শরীরে জমা থাকে না বিধায় প্রতিদিনই ভিটামিন-সি খাওয়া লাগে।আমলকি, পেয়ারা, কাঁচা মরিচ, লেবু, কমলালেবু ইত্যাদিতে ভিটামিন-সি আছে।তবে বর্তমান বাস্তবতায় ভিটামিন-সি ট্যাবলেট আকারে খাওয়াটা অধিকতর গ্রহণযোগ্য হতে পারে।

ZINC-বাংলাদেশের প্রায় অর্ধেক মানুষ জিংকের অভাবে ভূগছে।জিংক সংক্রমণ প্রতিরোধে, অ্যান্টিবডি তৈরিতে এবং ‘সাইটোকাইন ঝড়’ প্রতিহত করতে সহায়তা করে।বর্তমান পরিস্থিতি বিবেচনায় জিংক ট্যাবলেট গ্রহণ অধিক যুক্তিযুক্ত।এ বিষয়ে আপনি আপনার চিকিৎসকের দৃষ্টি আকর্ষণ করুন।

GUT FLORA:সবচেয়ে অবহেলিত কিন্তু খুবই গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো আমাদের নাড়িভূড়ি তথা অন্ত্রের (Intestine) ভিতরে বাস করা উপকারি জীবাণুগুলো যাদেরকে আন্ত্রিক জীবাণু গুচ্ছ বা GUT FLORA বলে।এখন কোন কোন বিশেষজ্ঞ বলে থাকেন যে আমাদের ইউমিউন সিস্টেম দুটো- একটি দেহের অভ্যন্তরে আর অপরটি অন্ত্রে থাকা গাট ফ্লোরা ।গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো এরা একে অপরের সাথে যোগাযোগ রেখে চলে এবং একজনের ক্ষতি দ্বারা আরেকজন ক্ষতিগ্রস্থ হয়।অনেক পাঠক হয়ত শুনলে অবাক হবেন যে গাট ফ্লোরার কোন কোন জীবাণু সারাজীবন অ্যান্টিবডি তৈরিতে ব্যস্ত থাকে।গাট ফ্লোরার তৈরি অ্যান্টিবডি ও অন্যন্য জৈব উপাদান দেহের অভ্যন্তরে এমনকি ব্রেনে ঢুকে পড়া ক্ষতিকর ভাইরাসকে মেরে ফেলতে পারে।সুতরাং আমাদের দেহের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা শক্তিশালী রাখতে গাট ফ্লোরার যত্ন নেওয়া দরকার।এর জন্য যা করা উচিৎ-

১)ইচ্ছামত ও অপ্রয়োজনীয় অ্যান্টিবায়োটিকের ব্যবহার বন্ধ করতে হবে।অ্যান্টিবায়োটিক খারাপ ব্যাকটেরিয়ার সাথে সাথে গাট ফ্লোরার ভালো ব্যাকটেরিয়াকেও মেরে ফেলে।

২)উদ্ভিজ্য উৎসের খাবার বেশি খেলে গাট ফ্লোরারা ভালো থাকে।সেলুলোজ কেবলমাত্র উদ্ভিদ কোষেই পাওয়া যায়।মানুষ এটি হজম করতে না পারলেও এটিই গাট ফ্লোরার গুরুত্বপূর্ণ খাবার।

৩)রিফাইন্ড খাদ্য যেমন ময়দা,চিনি ইত্যাদির নানা উপাদান অন্ত্রে খারাপ ব্যাকটেরিয়ার সংখ্যাবৃদ্ধি কিংবা ভালো ব্যাকটেরিয়ার সংখা হ্রাস করে।

৪)খাবারের খাদ্য তন্তু (Food fibre) গাট ফ্লোরাদের ভালো রাখে।সুতরাং যেসব খাবারে খাদ্য তন্তু বেশি আছে যেমন ইসবগুলের ভূসি, তিসি, গাঢ় সবুজ শাক নিয়মিত খাওয়া উচিৎ।

৫)নিয়মিত টক দই খাওয়া একটি ভালো অভ্যাস।দইয়ের ল্যাকটোব্যাসিলাস ব্যাকটেরিয়া এবং এর তৈরি
এক্সোপলিস্যাকারাইড গাট ফ্লোরাদের শক্তিশালী করে।

মানসিক চাপ: বিভিন্ন গবেষণায় দেখা গেছে অশান্তি, দুঃশ্চিন্তা, বিষণ্নতা কিংবা জীবনে ঘটে যাওয়া কোন অনাকাঙ্খিত ঘটনায় সৃষ্ট অতিরিক্ত মানসিক চাপ আমাদের রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থাকে দূর্বল করে দেয়।এর ফলে যা ঘটে-

১)দেহে সংক্রামকের প্রবেশ ও বিস্তারে সহজ হয়।

২)অ্যান্টিবডি তৈরি বাঁধাগ্রস্থ হয়।

৩)ভ্যাকসিন কার‌্যকর হতে অতিরিক্ত সময় নেয়।

৪)দেহের সুপ্ত সংক্রামন (Latent infection) মাথা চাড়া দিয়ে উঠে।

৫)রোগমুক্তি (Healing process) ধীরগতির হয়।

সুতরাং করোনা প্রতিরোধে, করোনা রোগ থেকে দ্রুত মুক্তি পেতে এবং করোনা জটিলতা সীমিত করতে মানসিক চাপ কমান।মন প্রফুল্ল রাখুন।যদি নিজ থেকে মানসিক চাপ কমাতে না পারেন তাহলে একজন ক্লিনিক্যাল সাইকোলজিস্টের সাহায্য নিন।সরকারি ওয়েবসাইট করোনা ডট ইনফোতে অনেক সরকারি-বেসরকারি অনলাইন সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানের যোগাযোগ নম্বর দেওয়া আছে,আপনি তাদের হেল্প নিতে পারেন।তবে একটা অনুরোধ, ঘুম না হওয়ার জন্য কিংবা মানসিক চাপ কমাতে ঘুমের ঔষধ কিংবা অ্যান্টি অ্যাংজাইটি ঔষধ বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া খাবেন না।কারণ এ ধরনের ঔষধ শ্বাস-প্রশ্বাসের স্বাভাবিক কাজকে চেপে দিতে পারে যা ক্ষতিকর হতে পারে।

The Impact of Everyday Stressors on the Immune System and Health




দেহে সর্বদা চলমান বিপাক ক্রিয়ায় (Metabolism) জারন (Oxidation) এবং বিজারন (Reduction) চলতে থাকে।জারন প্রক্রিয়ায় অক্সিজেনের সাথে বিক্রিয়ায় দেহে নানা ধরনের ফ্রি রেডিক্যাল তৈরি হয় যা আমাদের দেহের কোষের জন্য ক্ষতিকর।সুস্থবস্থায় দেহে তৈরি হওয়া এসব ফ্রি রেডিক্যালকে নিষ্ক্রিয় করতে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট হিসাবে দেহের অভ্যন্তরের নানা উপাদান কাজ করে।তাছাড়াও আমরা দৈনন্দিন যেসব খাবার খাই তাতেও নানা ধরনের অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট থাকে।এজন্য স্বাভাবিক অবস্থায় বাইরে থেকে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ঔষধ হিসাবে খাওয়ার গুরুত্ব শক্তভাবে প্রমাণিত হয়।কিন্তু করোনা ভাইরাসের মত সংক্রমণে যেখানে দেহে জারন বিক্রিয়ার চাপ (Oxidative stress) বৃদ্ধি পায় সেক্ষেত্রে তৈরি হওয়া অতিরিক্ত ফ্রি রেডিক্যালের ক্ষতি থেকে দেহকে রক্ষা করতে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট সমৃদ্ধ খাবার খাওয়ার ব্যাপারে স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা পরামর্শ দিয়ে থাকেন।বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার করোনা রোগির খাবারের গাইডলাইনেও অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট খাবার খাওয়ার ব্যাপারে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।নিচে কিছু উচ্চমাত্রার অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট সমৃদ্ধ খাবারের একটি চিত্র উপস্থাপন করা হলো-






আমরা নিত্যদিন যেসব খাবার খাই তাদের অনেকগুলোই দেহে প্রদাহকে উদ্দীপ্ত করে।আবার কিছু খাবার প্রদাহ নাশকতায় সাহায্য করে।করোনা ভাইরাস আমাদের দেহে প্রদাহ (Inflammation) তৈরি করে।পরিমিত মাত্রার প্রদাহ আমাদের দেহের জন্য মঙ্গলজনক।কিন্তু প্রদাহ যখন মাত্রাতিরিক্ত হয় তখন তা দেহের ক্ষতি করে;এমনকি মানুষকে মেরে ফেলতে পারে।করোনা রোগে ঠিক এটাই ঘটছে।মাত্রাতিরিক্ত প্রদাহে মানুষ মারা যাচ্ছে।সাধারণ বিচারে শুধু করোনা আক্রান্তের সময়ই নয় বরং সুস্থ থাকার জন্য সবসময়ই আমাদের প্রদাহ উদ্দীপক খাবার যথাসম্ভব কম খাওয়া উচিৎ ।কারণ প্রদাহ উদ্দীপক খাবার ইনসুলিন রেজিট্যান্স, মুটিয়ে যাওয়া, ডায়াবেটিস, হৃদপিন্ডের জটিলতা, ক্যান্সারসহ সকল প্রদাহজনিত রোগের তীব্রতা বাড়িয়ে দিতে পারে।



পাঠকদের কিছু প্রদাহউদ্দীপক ও প্রদাহনাশক খাবারের সাথে পরিচয় করিয়ে দিচ্ছি-

প্রদাহউদ্দীপক খাবার(Proinflammatory foods): চিনি ও চিনির তৈরি খাবার, ময়দা ও ময়দার তৈরি সকল খাবার, সকল বেকারি আইটেম, আতপ চাল, দুধ ও দুধের তৈরি সকল খাবার (টক দই ছাড়া), সকল ভোজ্য তেল (তিসির তেল, ঘি ও ক্যানোলা ওয়েল ছাড়া), তেলে ভাজা খাবার, সকল ট্র্যান্স ফ্যাট (বনস্পতি ঘি, ডালডা, বাটার ওয়েল, ভাজায় পুন পুন ব্যবহৃত তেল), রেড মিট (গরু-খাসির মাংস মাংস, মুরগির রান, কলিজা, হৃদপিন্ড, প্লীহা ইত্যাদি), শালগম ছাড়া মাটির নিচে জন্মানো সকল সবজি, সকল ফাস্ট ফুড ও হাই ফ্রুক্টোজ কর্ন সিরাপ যা সসে ব্যবহৃত হয়, সকল কাবাব ও প্রসেসড মিট, সোডা ওয়াটার ইত্যাদি।

প্রদাহনাশক খাবার (Antiinflammatory foods):সকল সামুদ্রিক মাছ, চার্ড ভিন্ন সকল সবুজ শাক, ঢেড়শ, টমেটো, বেরিজাতীয় ফল (স্ট্রবেরি, ব্লু বেরি), কমলা, চেরি, সকল বাদাম (কাঠবাদাম, কাজুবাদাম, চীনাবাদাম), টক দই, তিসির তেল।

বিশেষ প্রদাহ নাশক খাবার:-isaphgula (মূল প্রদাহনাশক উপাদান mucilage) হলুদ (মূল প্রদাহনাশক উপাদান Circumin), লবঙ্গ (মূল প্রদাহনাশক উপাদান Eugenol), আদা (মূল প্রদাহনাশক উপাদান Gingerol, shogaol), রসুন (মূল প্রদাহনাশক উপাদান organosulfides), অ্যালোভেরা/ঘৃতকুমারি (মূল প্রদাহনাশক উপাদান Mucilage), যষ্টিমধূ (মূল প্রদাহনাশক উপাদান Glycyrrhizin), তিসি (মূল প্রদাহনাশক উপাদান Omega-3 fatty acid, Mucilage), চিয়া সিড (মূল প্রদাহনাশক উপাদান Omega-3 fatty acid, quercetin & mucilage), কালোজিরা (মূল প্রদাহনাশক উপাদান thymoquinone), অ্যারাবিক গাম (মূল প্রদাহনাশক উপাদান butyrate), কড লিভার ওয়েল (মূল প্রদাহনাশক উপাদান Omega-3 fatty acid), lemon juice (মূল প্রদাহনাশক উপাদান Mucilage), তুলসি পাতা (মূল প্রদাহনাশক উপাদান methyl eugenol and estragole), মেনথল (পিপারমিন্টের মূল উপাদান), নিয়াসিনামাইড(Vitamin-B3)।

সুতরাং স্বাস্থ্যকর বিবেচনায় যথাসম্ভব প্রদাহনাশক খাবারগুলো খেতে চেষ্টা করুন।প্রদাহ উদ্দীপক খাবারগুলো সথাসম্ভব কম খাবেন।বিকল্প না পেলে অপেক্ষাকৃত কম প্রদাহ উদ্দীপক খাবার খান।বিষয়টিকে সহজ করতে কিছু টিপস-

১)ময়দা বা প্যাকেটজাত আটা এবং এদের তৈরি সকল খাবার এর পরিবর্তে পুরো গম পিষে তৈরি আটা (Whole wheat flour) খান।

২)আতপ চাল (পোলাওয়ের চাল, বাসমতি, চালের গুড়ি) এর পরিবর্তে দোভাপা সিদ্ধ চাল (মিনিকেট, বিআর-২৮, পাইজাম...) খান।

৩)রেড মিট না খেয়ে প্রোটিনের উৎস্য হিসাবে মাছ ও মুরগি(রান ছাড়া) খান।

৪)স্বাস্থ্যকর তেল হিসাবে ক্যানোলা ওয়েল ও অলিভ ওয়েল ব্যবহার করুন।

৫)সকল ধরনের ভাজা ও পোড়া খাবার এড়িয়ে চলুন।

৬)যথাসম্ভব সিদ্ধ খাবার খান।

৭)টকদই ও সালাদ নিয়মিত খেতে চেষ্টা করুন।

৮)লবঙ্গ,আদা,কালোজিরা ও লেবু দিয়ে চা বা আরক (Decoction) পান করুন।

৯)বিশেষ প্রদাহনাশক খাবারগুলোর মধ্যে প্রতিদিনই কিছু খাবার খেতে চেষ্টা করুন।




সুস্বাস্থ্যের জন্য রাতের বেলা পর‌্যাপ্ত পরিমাণ ঘুমানো সবসময়ই অত্যাবশ্যকীয়।আর করোনা রোগের ক্ষেত্রে সেটি আরও বেশি গুরুত্বপূর্ণ।দীর্ঘদিন ধরে রাত জাগার কারণে দেহের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা হ্রাস পায়।বিশেষতঃ ভাইরাসজনিত রোগবালাইয়ে ভোগার সম্ভবনা বেশ বেড়ে যায়।করোনা আক্রান্ত রোগিদের জানা উচিৎ সঠিক সময়ে সঠিক পরিমাণ ঘুম কীভাবে তাদের রোগমুক্তিতে সহায়তা করতে পারে-

প্রদাহ বৃদ্ধিঃযারা রাত জাগেন তাদের রক্তে প্রদাহ নির্দেশক (inflammatory makers) যেমন interleukin 6 (IL-6), Tumor Necrosis Factor-alpha (TNF-α) এবং C-reactive protein (CRP) বেশী থাকে।কোন কোন গবেষক রাতজাগাকে Low-grade chronic inflammation এর সাথে তুলনা করেছেন।অনেক বিশেষজ্ঞই মনে করেন রাত জাগাজনিত যত সমস্যা হয় তার বেশীরভাগ সমস্যার পিছনে রয়েছে এই মৃদু মাত্রায় দীর্ঘমেয়াদী প্রদাহ।হয়ত এ কারণেই রাতজাগাদের শরীরে জ্বর জ্বর ভাব,শরীর ব্যাথা/ম্যাজম্যাজ করা বা মাথাব্যাথা করার মত উপসর্গ প্রায়ই দেখা দেয়।করোনা রোগির দেহে এমনিতেই ব্যাপক প্রদাহ চলতে থাকে।এ অবস্থায় রাত জাগলে সেটা আরও খারাপের দিকে যেতে পারে।

দেহের বিপাক ক্রিয়া সবচেয়ে কম থাকে ঘুমের মধ্যেঃঘুমের মধ্যে আমাদের দেহ বিশ্রামে থাকে এবং অতীব গুরুত্বপূর্ণ কাজও (Vital functions) সর্বনিম্ন পর‌্যায়ে থাকে।এসময় দেহের বিপাক ক্রিয়ার হার সর্বনিম্ন থাকে যাকে Basal Metabolic Rate বলে।বিএমআর কম থাকায় শরীরে তাপ উৎপাদন কম হয় যা তাপমাত্রা কমাতে সাহায্য করে এবং এসময় দেহে অক্সিজেনও কম লাগে।

রোগ প্রতিরোধে ঘুমের প্রভাব: ঘুমের একটা বিশেষ পর‌্যায় যা স্লো ওয়েভ স্লিপ (Slow Wave Sleep) নামে পরিচিত সেসময় আমাদের দেহের ইমিউন সিস্টেম ভাইরাল অ্যান্টিজেনকে সনাক্ত ও প্রসেস করে এর বিরুদ্ধে অ্যান্টিবডি তৈরিতে বি-লিম্ফোসাইটকে এবং সরাসরি ভাইরাস মারার জন্য টি-লিম্ফোসাইটকে উদ্দীপ্ত করার গুরুত্বপূর্ণ ধাপ সম্পন্ন করে।সুতরাং করোনার করোনার বিরুদ্ধে যুদ্ধে আমাদের ইমিউন সিস্টেমকে সাহায্য করতে পরিমিত পরিমাণ ঘুমানো জরুরি।



দেহের ক্ষতি পুষিয়ে নেওয়াঃপ্রতিনিয়তই আমাদের শরীরে ভাঙ্গা গড়া (wear & tear) চলতে থাকে।ক্ষতিগ্রস্থ দেহের কোষ মেরামত করে (Healing) পুনরায় সজীব করতে ঘুমের রয়েছে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা।দেখা গেছে যারা রাতে স্বাভাবিকভাবে ঘুমায় তাদের শরীরের হিলিং প্রসেস যারা রাত জাগে তাদের তুলনায় দ্রুততর হয়।করোনা আক্রান্ত দেহে কোষের যে ক্ষতি হয় তা তার হিলিং এ সহায়তার জন্য পর‌্যাপ্ত পরিমান ঘুমানো জরুরি।



এ আর্টিকেল লেখা পর‌্যন্ত কোভিড-১৯ করোনা ভাইরাসবিরোধি সুনির্দিষ্ট কোন অ্যান্টিভাইরাল আবিষ্কার হয়নি এবং বাজারে এখন পর‌্যন্ত কোন কার‌্যকরী ভ্যাকসিনও নেই।যেহেতু এই রোগটি সারা বিশ্বেই জীবননাশী সংক্রমণ হিসাবে ছড়িয়ে পড়েছে সুতরাং সবাই চেষ্টা করছেন পূর্বের কোন ঔষধ কিংবা অন্য কোন উপাদান এ রোগে কাজ করে কিনা খুঁজে পেতে।এরই ধারাবাহিকতায় বিশ্বের নানা দেশে নানা ঔষধ নিয়ে ট্রায়াল চালাচ্ছে এবং প্রায়শই হতাশ হচ্ছে।ঔষধের অফ লেভেল ব্যবহার হিসাবে ইতোমধ্যে ম্যালেরিয়ার ঔষধ ক্লোরোকুইন ও হাইড্রোক্লোরোকুইন, পরজীবী নাশক ইভারমেকটিন, অ্যান্টিবায়োটিক অ্যাজিথ্রোমাইসিন ও ডক্সিসাইক্লিন এবং গ্যাস্ট্রিকের ঔষধ খ্যাত ফ্যামোটিডিন নিয়ে বেশ হইচই হয়েছে।এগুলোর কোনটিই এখন পর‌্যন্ত করোনা বিরোধী কার‌্যকরী ঔষধ হিসাবে প্রতিষ্ঠিত হয়নি।তবে এ ঔষধগুলোর একটা কমন বৈশিষ্ট্য হলো এরা সবাই ‘প্রদাহনাশক’ (Anti inflammatory) হিসাবে কাজ করে।আর যে অ্যান্টিভাইরাল ড্রাগ নিয়ে খুব হইচই হচ্ছে (এমনকি নাইজেরিয়া জরুরি ভিত্তিতে বিমান পাঠিয়ে বাংলাদেশ থেকে সে ঔষধ নিয়ে গেছে) সেই ‘রেমডিসিভির’ এর উদ্ভাবক মার্কিন ঔষধ কোম্পানি ‘গিলিয়াড ফার্মা’ ১লা জানুয়ারি তাদের ওয়েবসাইটে ফেজ-৩ ট্রায়ালের ফলাফল উপস্থাপন করতে গিয়ে যা বলেছে-

১)“Remdesivir is an investigational drug that has not been approved by the FDA for any use.It is not yet known if remdesivir is safe and effective for the treatment of COVID-19.” – রেমডিসিভির একটি পরীক্ষাধীন ঔষধ যা কোন অসুখের জন্যই এফডিএ ব্যবহারের অনুমতি দেয়নি।এটা এখন পর‌্যন্ত জানা যায়নি যে এটি কোভিড-১৯ রোগের ক্ষেত্রে কার‌্যকারী এবং নিরাপদ কিনা।

২)“ In this study, hospitalized patients with confirmed COVID-19 infection and evidence of pneumonia without reduced oxygen levels were randomized”- এই ট্রায়ালটি এমন করোনা রোগিদের উপর চালানো হয়েছিলো যাদের নিউমোনিয়ার উপস্থিতি ছিলো কিন্তু অক্সিজেন লেভেল কমেনি।(উল্লেখ্য বিশ্ব সংস্থার তথ্য অনুযায়ী করোনা আক্রান্ত ৮১% রোগির অক্সিজেন লাগে না এবং ঘরে রেখে সাধারণ চিকিৎসায় ভালো হয়ে যায়।আর বাকি ১৯% এর ক্ষেত্রে অক্সিজেন লাগে)।

৩) “The study demonstrated that patients in the 5-day remdesivir treatment group were 65 percent more likely to have clinical improvement at Day 11 compared with those in the standard of care group. In addition, non-statistically significant increases in clinical worsening or death were observed in the standard of care only group compared with the remdesivir groups.”-রোগের ১১তম দিনে যারা সাধারণ চিকিৎসা নিচ্ছিলেন তাদের তুলনায় ৬৫% উপসর্গভিত্তিক উন্নতি দেখা গেছে যারা ৫দিন রেমডিসিভির সেবন করেছেন তাদের ক্ষেত্রে।এছাড়া রোগের খারাপ পরিণতির দিকে এগিয়ে যাওয়া বা মৃত্যুর ক্ষেত্রে উভয় গ্রুপে পরিসংখ্যানগত দিক দিয়ে গুরুত্বপূর্ণ কোন পার্থক্য পাওয়া যায়নি;অবশ্য তুলনামূলকভাবে কিছুটা বাড়তি খারাপ পরিণতি দেখা গেছে নন-রেমডিসিভির গ্রুপে।

অর্থাৎ পূর্ব ব্যবহৃত ঔষধের চিকিৎসায় যে করোনা রোগি ১৫দিনে ভালো হতেন সে রোগি রেমডিসিভির ব্যবহারে ১১দিনের মাথায় উন্নতি লাভ করতে পারেন।কিন্তু এ রোগ জটিল পরিণতির দিকে যাওয়া ও মৃত্যু ঠেকানোর ক্ষেত্রে রেমডিসিভির এর বড় কোন ভূমিকা নেই।মোদ্দা কথা প্রায় ৩০,০০০ টাকা খরচ করে বড়জোড় ৪দিন আগে সুস্থ হতে পারেন।প্রসঙ্গটি তুলে ধরলাম এ কারণ যে কারো যেন বদ্ধমূল ধারণা না হয় যে রেমডিসিভির কিনে খেতে পারলেই বেঁচে যেতাম।

প্রাকৃতিক অ্যান্টিভাইরালঃ প্রকৃতিতে এমন কিছু উপাদান রয়েছে যেগুলো করোনা ভাইরাসের ক্ষেত্রে কিংবা বিস্তৃত বর্ণালীর
অ্যান্টিভাইরাল হিসাবে কাজ করে বলে গবেষণায় দেখা গেছে।যেহেতু এগুলোর বেশকিছু আমরা এমনিতেই খাদ্য হিসাবে খেয়ে থাকি সুতরাং করোনা আক্রান্ত রোগিরা যদি বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে এগুলো সেবন করেন (মাত্রাতিরিক্ত নয়) আশা করি সেটা অযৌক্তিক হবে না।এরকম কিছু উপাদানের সাথে আপনাদের পরিচয় করিয়ে দিচ্ছি-

TANNIC ACID- ট্যানিক এসিড পাওয়া যাবে কলা, আঙ্গুর, কিসমিস, রেড ওয়াইন, ব্ল্যাক-টি, চকোলেট ইত্যাদিতে।

QUERCETIN- কোয়েরসেটিনকে বলা হয় প্রাকৃতিক স্টেরয়েড যা লাল পেঁয়াজ, ক্র্যানবেরি, ব্রক্কলি, গ্রিন টি ইত্যাদিতে আছে।

MYRICETIN-ক্যারব, ফেনেল পাতা, ক্র্যানবেরি, জাম, মিষ্টি আলুর পাতা, রসুন, টমেটো, কমলা, রেড ওয়াইন ইত্যাদিতে কম-বেশি মাইরিসেটিন থাকে।মাইরিসেটিন ভাইরাসের বিরুদ্ধে কাজ করে, রক্ত জমাট বাঁধতে বাঁধা দেয়, অ্যান্টি অক্সিডেন্ট হিসাবে কাজ করে।

PSORALIDIN: বাংলাদেশে ‘কুষ্ঠনাশিনী’ ও ভারতে ‘বাবচি’ (Psoralea corylifolia) নামে পরিচিত ঔষধি গাছে খুবই শক্তিশালী ‘protease inhibitor’ সোরালিডিন আছে যা SARS‐CoV ভাইরাসকে প্রতিহত করে।এটি অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ও প্রদাহনাশক হিসাবেও কাজ করে।

CINNAMON CORTEX- আমাদের দেশে যে দারুচিনি পাওয়া যায় (এগুলো মূলত ক্যাসিয়া) তাতে থাকা procyanidin A2, procyanidin B1, and cinnamtannin B1 SARS‐CoV ভাইরাসের বিরুদ্ধে কাজ করতে পারে।ক্যাসিয়াতে কুমারিনের (কুমারিন রক্ত জমাট বাঁধতে বাঁধা দেয়) মাত্রা বেশি হওয়ায় অতিরিক্ত সেবনে আঘাতপ্রাপ্তস্থানে রক্ত জমাট বাঁধা বাঁধাগ্রস্থ হয়।তাছাড়া যাদের রক্তক্ষরণজনিত সমস্যা আছে তাদের রক্তক্ষরণ বেড়ে যেতে পারে।কাজেই এসব বিষয়ে বাড়তি সতর্কতা ও চিকিৎসকের পরামর্শ মেনে চলতে হবে।

মাল্টি অরগান ফেলিউর ঠেকাতে- করোনা রোগের ক্রিটিক্যাল পর‌্যায়ে রক্তে মারাত্মক সংক্রমণ পরিণতি ‘সেপসিস’ এবং এর ফলশ্রুতিতে দেহের গুরুত্ব অঙ্গসমূহ বিকল হয়ে যায় (Multi organ failure)।এর ফলে অনেক রোগি মারা যায়।আর এই সেপসিস তৈরিতে দেহের অভ্যন্তরে নিংসৃত হিসটামিন অগ্রণী ভূমিকা পালন করে।এই হিসটামিন H1 ও H2 উভয় রিসেপ্টরের উপর কাজ করে এ ঘটনা ঘটায়।এ দুটো রিসেপ্টরকে ব্লক করলে এ পরিস্থিতি তৈরি হওয়ার সম্ভাবনা কমানো যেতে পারে।আর এদের ব্লকার ঔষধ আমাদের খুবই পরিচিত এবং মুড়ি-মুড়কির মত খাই এবং এর জন্য প্রেসক্রিপসনও লাগে না (OTC drugs)। H1 ব্লকার হলো ঠান্ডা-সর্দির ট্যাবলেট হিসটাসিন, লোরাটাডিন (অ্যালাট্রল), ডেসলোরাটাডিন (ডেসলর); এদের মধ্যে ডেসলোরাটাডিন অধিক শক্তিশালী। H2 ব্লকার হলো গ্যাস্টিকের ঔষধ নিওট্যাক, ফ্যামোট্যাক ইত্যাদি (এই ফ্যামোট্যাকই করোনার মিরাকল ঔষধ হিসাবে পরিচিতি পেয়েছে)।সুতরাং করোনা অাক্রান্ত রোগিরা প্রতিদিন ডেসলোরাটাডিন ও ফ্যামোট্যাক খাওয়ার বিষয়ে আপনার চিকিৎসকের সাথে পরামর্শ করতে পারেন।

উপরোক্ত আলোচনায় একজন করোনা রোগি ঘরে চিকিৎসা চলাকালীন কী কী বিষয়ের প্রতি খেয়াল রাখবেন তার প্রয়োজনীয় ব্যাখ্যা দেওয়ার চেষ্টা করেছি।আমাদের সীমিত স্বাস্থ্য ব্যবস্থায় করোনা মহামারীর কারণে ক্রমবর্ধমান রোগির চাপ সামলানো সম্ভব হবে না হয়ত।হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার উপযোগি অনেক রোগিকেই বাসায় চিকিৎসা নিতে হবে অনির্দিষ্ট সময়ের জন্য।এ সময়টুকুতে যেন রোগি দিশেহারা হয়ে না যান এবং নিজের ভালো থাকার জন্য করণীয় সম্পর্কে একটা সম্যক ধারণা পেতে পারেন সে চেষ্টা করা হলো।

ধন্যবাদ যারা আগ্রহ নিয়ে এ পর‌্যন্ত পাঠ করলেন।

ডিসক্লেইমারঃ এই আর্টিকেলটি কেবলই তথ্যমূলক।এটি চিকিৎসকের বিকল্প নয়।সর্বক্ষেত্রে রেজিস্টার্ড চিকিৎসকের পরামর্শ মেনে চলতে হবে।

ছবি-সকল ছবি ইন্টারনেট থেকে নেওয়া হয়েছে।এ আর্টিকেলটি কেবলই তথ্যমূলক;এর কোন বাণিজ্যিক উদ্দেশ্য নেই।তারপরেও কপিরাইট ভায়োলেশনের কারণে কারো আপত্তি থাকলে তা জানা মাত্র সে ছবি বা ছবিসমূহ এই আর্টিকেল থেকে অপসারণ করা হবে।(All the images in this article are collected from different web sites & have been used for non-commercial purposes.If anyone has any objection of using these images,I’m assuring their removal upon getting valid complaint)।




সর্বশেষ এডিট : ১২ ই জুন, ২০২০ রাত ১:৪০
১৯টি মন্তব্য ১৭টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

নায়লা নাইমের বিড়ালগুলো

লিখেছেন শাহ আজিজ, ২১ শে অক্টোবর, ২০২০ রাত ৮:৫৯



একজন মডেল নায়লা নাইম সাড়ে তিনশ’ বিড়াল পালেন একটি স্বতন্ত্র ফ্লাটে ঢাকার আফতাবনগরে । পাশেই তার আবাসিক ফ্লাট । গেল চার বছরে অসংখ্য বার দর কষাকষি করেও... ...বাকিটুকু পড়ুন

গল্পঃ তালব্য শ এ এশা

লিখেছেন অপু তানভীর, ২১ শে অক্টোবর, ২০২০ রাত ১০:০৬

মাঝে মাঝে নিজের নির্বুদ্ধিতার নিজেকে একটা কষে চড় মারতে ইচ্ছে হয় । নিজের চড়ে খুব একটা ব্যাথা অবশ্য লাগে না । আর চাইলেও খুব জোরে নিজেকে চড় মারা যায়ও না... ...বাকিটুকু পড়ুন

একটা বৃহৎ জীবনের নেশা

লিখেছেন সোনাবীজ; অথবা ধুলোবালিছাই, ২১ শে অক্টোবর, ২০২০ রাত ১১:০৪

এমন সময়ে তুমি আসবে, যখন বিভোর বসন্ত
অঘোরে লাল-নীল-হলুদ ছড়াবে; তখন নবীন কিশলয়ের
মতো গজিয়ে উঠবে প্রেম। পৃথিবীর চোখ
তৃষ্ণায় ছানাবড়া হবে, মানুষে মানুষে অদ্ভুত সম্মিলন।

কখনো কখনো এত বেশি ভালো লাগে,... ...বাকিটুকু পড়ুন

মানুষ কেন গালি দেয়?

লিখেছেন রাজীব নুর, ২২ শে অক্টোবর, ২০২০ রাত ২:৩৫



'হারামজাদী ছিনাল
বজ্জাত মাগী
খানকী বেইশ্যা

মিয়া বাড়ির কাচারির সুমুখে লম্বালম্বি মাঠ। মাঠের পর মসজিদ। সে মসজিদের সুমুখে বসেছে বাদ-জুমা মজলিস। খানিক দূরে দাঁড়ান ঘোমটা ছাড়া একটি মেয়ে। গালি গুলো ওরই... ...বাকিটুকু পড়ুন

গল্পঃ কাঁচের মেয়ে

লিখেছেন সামিয়া, ২২ শে অক্টোবর, ২০২০ বিকাল ৪:৩০




আমার বিয়ে হয়েছিলো মাঘ মাসের উনিশ তারিখে আমি প্রতিদিনের মতনই স্কুলে গিয়েছিলাম ক্লাস নিতে। পড়াশোনা ইন্টারের পর আর হয়নি অভাব অনটনে আর বখাটেদের উৎপাতে সেটা ছেড়ে দিয়েছিলাম... ...বাকিটুকু পড়ুন

×