somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

আত্মহত্যার কারণ ও প্রতিরোধে করণীয় কী?

১৬ ই জুন, ২০২০ রাত ৮:১৫
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :



বিসমিল্লাহির রহমানির রহিম।আসসালামু আলাইকুম।

গত ১৪ই জুন মাত্র ৩৪ বছর বয়সে আত্মহত্যা করেছেন ভারতের জনপ্রিয় টিভি ও চলচিত্র অভিনেতা, মডেল, ড্যান্সার সুশান্ত সিং রাজপুত।যখনই কোন জনপ্রিয় ব্যক্তি আত্মহত্যা করেন তখনই ‘আত্মহত্যা’র বিষয়টি নিয়ে যোগাযোগ মাধ্যমগুলোতে স্বল্পকালীন আলোচনার ঝড় উঠে, সম্ভাব্য কারণ নিয়ে পোস্টমর্টেম শুরু হয়।সুশান্ত সিং রাজপুত এর ক্ষেত্রেও একই ঘটনার পুনরাবৃত্তি হচ্ছে।সামুতেও এ বিষয়ে বেশকিছু লেখা এসেছে এবং আলোচনাও চলছে।আত্মহত্যা যে নিন্দনীয় কাজ এবং সমস্যার সমাধান করতে পারে না এ রকম একটি সার্বজনীন বিষয় বার বার উচ্চারিত হতে থাকে।আত্মহত্যায় প্ররোচনাদানকারীদের কঠোর শাস্তি দাবীতে সোচ্চার হয় সংবেদনশীল মানুষ।তারপর আলোচনা স্তিমিত হয়ে পড়ে আরেকটি ব্রেকিং আত্মহত্যার ঘটনা না ঘটা পর‌্যন্ত।।‘আত্মহত্যা মহাপাপ’ বা ‘আত্মহত্যা কোন সমস্যার সমাধান করতে পারে না’ এসব জানার পরও আত্মহত্যজনিত মৃত্যুর মিছিলে প্রতিনিয়ত যোগ হচ্ছে নতুন নতুন নাম।সারাবিশ্বে প্রতি ২সেকেন্ডে একজন মানুষ আত্মহত্যার চেষ্টা করছেন এবং প্রতি ৪০সেকেন্ডে একজন সফলভাবে আত্মহত্যা করছেন। আর তাই আত্মহত্যার প্রকৃত কারণ ও তা প্রতিরোধে করণীয় বিষয়ে আমাদের জানা দরকার।আর সে উদ্দেশ্যেই আজকের পোস্টের অবতারনা।

বিশ্বব্যাপী আত্মহত্যার পরিস্থিতি দিনকে দিন আরও ভয়ংকর রূপ ধারণ করছে।আমাদের দেশের চিত্রও খুবই উদ্বেগজনক।বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার রিপোর্টে বাংলাদেশের আত্মহত্যার পরিস্থিতির এক ভয়াবহ চিত্র ফুটে উঠেছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ও বাংলাদেশের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের জরিপে পাওয়া এদেশের অাত্মহত্যা সংক্রান্ত তথ্যের কিছু চুম্বক অংশ তুলে ধরা হলোঃ

*২০১২ সালে বাংলাদেশে মোট ১০১৬৭ আত্মহত্যা করেছেন অর্থাৎ বাংলাদেশে প্রতি ৫০মিনিটে একজন আত্মহত্যা করছেন।

*বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মতে আত্মহত্যাকারী সংখ্যার প্রায় ২০গুণ মানুষ আত্মহত্যার চেষ্টা করে থাকেন।সে হিসাবে বাংলাদেশে প্রতি ২.৫ মিনিটে একজন আত্মহত্যার চেষ্টা করে থাকেন।

*২০১০ সালের শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিক্যাল কলেজ কর্তৃক প্রকাশিত এবং প্রফেসর এএমএম ফিরোজ ও প্রফেসর এসএম নুরুল ইসলামের নেতৃত্বে ৬ সদস্যের বিশেষজ্ঞ প্যানেল পরিচালিত এক জরিপে দেখা যায় বাংলাদেশের প্রায় ৬৫লক্ষ মানুষ আত্মহত্যাপ্রবণ।

*১৫-২৯ বছর বয়সীদের মৃত্যুর ২য় প্রধান কারণ আত্মহত্যা।

*বিশ্বের প্রায় সব দেশে নারীর তুলনায় ৩-৪গুণ বেশী আত্মহত্যা পুরুষরা করলেও বাংলাদেশের ক্ষেত্রে তা উল্টো।বাংলাদেশে পুরুষের তুলনায় নারীরা বেশী আত্মহত্যা করেন।২০১২ সালে আত্মহত্যাকারী ১০১৬৭ জনের মধ্যে নারী ছিলেন ৫৭৭৩জন ও পুরুষ ৪৩৯৪জন।

*পৃথিবীর উন্নত বিশ্বে আগ্নেয়াস্ত্রের সাহায্যে আত্মহত্যা করা প্রধান পদ্ধতি হলেও আমাদের দেশে বিষপানে আত্মহত্যার সংখ্যা বেশী।২০০২-২০০৯ সালের মধ্যে আত্মহত্যাকারীদের মধ্যে ৪১৫৩২ জন বিষপানে এবং ৩১৮৫৭ জন গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেন।

*বিশ্বব্যাপী মানসিক রোগ আত্মহত্যার সবচেয়ে বড় কারণ হলেও আমাদের দেশে মানসিক রোগের পাশাপাশি তাৎক্ষণিক তীব্র তাড়না (Impulsivity) বা হঠকারিতা খুব গুরুত্বপূর্ণ কারণ হিসাবে প্রতিভাত হয়েছে যা আমাদের মানসিক চাপ সহ্য করার বা তা ম্যানেজ করার অক্ষমতাকে নির্দেশ করে।

*যৌথ পরিবারের সদস্যদের তুলনায় সিঙ্গেল ফ্যামিলির সদস্যদের মধ্যে আত্মহত্যার ঘটনা বেশী ঘটে।

*আত্মহত্যার সাথে অর্থনৈতিক দূর্বলতা সিংহভাগ ক্ষেত্রে সরাসরি সম্পর্কযুক্ত।বিশ্বব্যাপী আত্মহত্যার ৭৫%ই ঘটে নিম্ন ও মধ্যম আয়ের দেশগুলোতে।আমাদের দেশেও অভাব-অনটন তথা আর্থিক দৈন্যতা মানসিক চাপ ও মানসিক রোগ তৈরীতে এবং আত্মহত্যার অন্যতম নিয়ামক হিসাবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।

*অবিবাহিতদের তুলনায় বিবাহিতরা বেশী আত্মহত্যা করে থাকে।

*বাংলাদেশে শহরের তুলনায় গ্রামে আত্মহত্যার ঘটনা প্রায় ১৭গুণ বেশী।






Photo courtesy of SlideShare

সহজে বোধগম্য হওয়ার জন্য আমি আত্মহত্যার সুনির্দিষ্ট কারণ(causative factor),তাত্বিক কারণ(aetiological factor), বিপদজনক উপাদানগুলোকে(risk factor) একসাথে আলোচনা করলাম-

জেনেটিকঃ আত্মহত্যা প্রবণতার জন্য ৩৮%-৫০% ক্ষেত্রে জিন দায়ী।একারণেই যে পরিবারে আত্মহত্যার ইতিহাস থাকে সে পরিবারে অনেক সময় আরও আত্মহত্যার কেস পাওয়া যায়।

হঠকারিতা বা ইমপালসিভিটিঃ বাংলাদেশের আত্মহত্যা প্যাটার্নে এটা বেশ গুরুত্ব বহন করে।পূর্বে কোন মানসিক রোগ না থাকলেও ঘটনার আকস্মিকতায় অনেকে আত্মহত্যা করে বসে।ধর্ষিত হওয়ার পর পরই আত্মহত্যা, দাম্পত্য কহলে আত্মহত্যা, পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশের সাথে সাথে আত্মহত্যা, প্রেমে প্রত্যাখ্যাত হওয়ার সাথে সাথে আত্মহত্যা, প্রিয়জনের মৃত্যু সংবাদে আত্মহত্যা, শেয়ার বাজারে সূচক পতনের দিন আত্মহত্যার অনেক ঘটনাই কেবলমাত্র ইমপালসিভিটির জন্য হয়ে থাকে।এধরনের আত্মহত্যা ঠেকানো খুব সহজ নয় তবে এসব ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে উপরোক্ত পরিস্থিতিতে কঠোর নজরদারিতে রাখা ও আত্মহত্যা করার উপকরণ যাতে ঘরের মধ্যে সহজলভ্য না হয় সে বিষয়ে সাধারণভাবেই সচেতন থাকা জরুরি।

মানসিক রোগঃ আত্মহত্যার জন্য ২৭%-৯০% ক্ষেত্রে দায়ী কতকগুলো মানসিক রোগ।প্রণিধানযোগ্য রোগগুলো হলো বিষন্নতা, বাইপোলার ডিসঅর্ডার (ম্যানিক-ডিপ্রেসিভ), সিজোফ্রেনিয়া, পার্সোনালিটি ডিসঅর্ডার (বর্ডারলাইন, এন্টি সোশ্যাল ও হিসট্রিওনিক পার্সোনালিটি ডিসঅর্ডার), লাভ অবসেশন।

মানসিক চাপ ম্যানেজমেন্টের অদক্ষতা বা অক্ষমতাঃ দরদী সমাজ ব্যবস্থার পরিবর্তে আমরা দ্রুত ব্যক্তি স্বার্থ কেন্দ্রিক পুঁজিবাদী সমাজ ব্যবস্থায় ধাবিত হওয়ায় তীব্র প্রতিযোগিতামূলক পরিবেশে অর্থ উপার্জন ও জীবনের ব্যায় নির্বাহ এবং ভোগের সাথে সংলিষ্ট সকল বিষয়ই আমাদের উপর মানসিক চাপ তৈরির ক্ষেত্রে পরিণত হয়েছে।এরূপ অবস্থায় মানসিক চাপ তৈরির ক্ষেত্র ও পরিমাণ বাড়লেও তা মানিয়ে নেওয়া ও সহ্য করার মত মানসিক দৃঢ়তা অনেক ক্ষেত্রেই অনুপস্থিত থাকায় মানসিক রোগ তৈরি ও আত্মহত্যার প্রবণতা বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।

ব্যর্থতা মেনে নেওয়ার মানসিক সীমাবদ্ধতাঃ “Failure is the pillar of success”-এ কথাটার বাস্তব উপলদ্ধি ও জীবনে তার পজিটিভ প্রভাব এখন আর খুব বেশী দেখা যায় না।বর্তমানের তরুণ সমাজ সবকিছুতেই দ্রুত সফলতা কামনা করে এমনকি অনৈতিকতার মাধ্যমে অর্জিত হলেও।তারা সফলতা অর্জনের জন্য তাদের সমস্ত মেধা ও শ্রম ঢেলে দিলেও মুদ্রার অপর পিঠে থাকা ব্যর্থতা মেনে নেওয়ার মত মানসিক জোর ও প্রস্তুতি অনেক সময়ই তাদের মধ্যে দেখা যায় না।ফলে পরীক্ষা, প্রেম কিংবা চাকুরী না পাওয়ার ব্যর্থতায় অনেকেই আত্মহননের পথ বেছে নেন; তাদের জন্য সত্য হয়ে উঠে-“Failure is the killer of life”

প্রত্যাশার মানসিক চাপঃ সবার মেধা সমান নয়,সবাই ক্লাশে ফার্স্ট হবে না, সবাই ভাল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে চান্স পাবে না, সবাই ডাক্তার-প্রকৌশলী হবে না, পাশ করেও সবাই ভাল চাকুরী পাবে না, সবাই জীবনে সবকিছু অর্জন করতে পারবে না....এগুলো কঠিন বাস্তবতা।কিন্তু আমাদের অনেক অভিভাবকই সন্তানদের উপর প্রত্যাশার চাপ বাড়িয়ে দেন অযাচিতভাবে।সামান্য ব্যর্থতাতেও তাদের উপর নেমে আসে মানসিক নির্যাতনের খড়গ।অনেকেই এই চাপ সহ্য করতে না পেরে আত্মহননের পথ বেছে নেয়।এটা যে শুধু অভিভাবকদের দিক থেকেই আসে তা নয়, অনেক সময় আমরা নিজেরাই নিজেদের উপর প্রত্যাশার চাপ বাড়িয়ে দিই।একটি ঘটনার উদাহরণ দিচ্ছি- শাওন ফেনী সেন্ট্রাল হাইস্কুল থেকে এসএসসি পরীক্ষা দিয়েছিল ২০১৫ সালে।প্রকাশিত ফলাফলে সে জিপিএ ৪.৮৩ পায়।কিন্তু তার পিছনে প্রচুর টাকা খরচ করার পরও কেন জিপিএ ৫ বা এ প্লাস পেল না এনিয়ে বাবা-মায়ের মানসিক নির্যাতন সহ্য করতে না পেরে সে আত্মহত্যা করে বসে।

অভিভাবকদের উদাসীনতাঃ ‘জেনারেশন গ্যাপ’ বলে একটা কথা আজকাল বেশ শোনা যায়।আসল কথা অগ্রজদের সাথে অনুজদের মানসিক দূরত্ব বাড়ছে।অনেক পিতামাতাই তার সন্তান কী করে বেড়াচ্ছে তা ভালভাবে জানেন না; অনেক সন্তানও পিতামাতাকে তার সমস্যা বা আকাঙ্খার কথা খুলে বলতে পারছেন না কিংবা বললেও অনেক অভিভাবকই যৌক্তিক বিশ্লেষণ পূর্বক সেটা সমাধানে উদাসীনতা দেখান।অনেক সন্তান পিতামাতার স্নেহ-ভালবাসা থেকে নিজেকে বঞ্চিত মনে করেন।অনেক তরুণ-তরুণীই সুইসাইড নোটে পিতামাতার প্রতি আক্ষেপ জানিয়ে আত্মহত্যা করেন।

পারিবারিক কলহঃ দাম্পত্য কলহের কারণে অনেক সময় স্বামী বা স্ত্রী আত্মহত্যা করে বসেন।অনেক সময় সন্তানরা বাবা-মায়ের নিত্য কলহের যন্ত্রণা সহ্য করতে না পেরে আত্মহত্যা করে ফেলে।আমাদের দেশে এ ধরনের ঘটনাগুলো বেশ দেখা যায়।

সামাজিক বৈষম্যঃ সমাজে নারী-পুরুষের বৈষম্য নারীদের আত্মহত্যাপ্রবণ করে তুলছে। বিবিসি’র এক রিপোর্টে গবেষণা প্রকাশনা “The Lancet” এর বরাত দিয়ে বলা হয়েছে বাংলাদেশের নারীদেরকে বৈষম্যমূলকভাবে নিম্ন সামাজিক মর্যাদা দেওয়া হয় যা তাদের উপর প্রচন্ড মানসিক চাপ তৈরি করে।আমি সেই রিপোর্টের খানিকটা আপনাদের জ্ঞাতার্থে তুলে ধরছি-“The study found that Bangladeshi women who are married are far more likely to commit suicide than single women.The suicide rate was highest among married women in their 20s. The report suggests that this is because recently married women faced demands from husbands, including the payment of dowry, strained relations with their husbands' families and economic hardship while raising children.”

দারিদ্রতাঃ নিঃসন্দেহে দারিদ্রতা আত্মহননের পথে অনেককেই ঠেলে দিচ্ছে।বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার “World Suicide Report-2014” এ দেখা যাচ্ছে আত্মহত্যাকারীদের প্রায় ৭৫% নিম্ন ও মধ্য আয়ের দেশগুলোতে বসবাসকারী।এ বাস্তবতা আমাদের মত নিম্ন আয়ের দেশের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য।অর্থাভাবে কিংবা দারিদ্রতা বিমোচনে ঋণ নিয়ে তা শোধ করতে না পেরে আত্মহত্যা করার ঘটনা নেহায়েত কম নয়। ভারতে ১৯৯৭ সাল পরবর্তী সময়ে ২ লাখেরও বেশী কৃষক আত্মহত্যা করেছেন ‍ঋণ শোধ না করতে পেরে।


Photo courtesy of WHO

অপরিকল্পিত নারীর ক্ষমতায়নঃ নারীর ক্ষমতায়নে সরকার এবং বেসরকারি এনজিও ও উদ্যোক্তাদের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় নারীরা আজ ঘরের বাইরে নানা ক্ষেত্রে সরব উপস্থিত।শিল্প কলকারখানা থেকে শুরু করে শিক্ষা-দীক্ষা এমনকি সামরিক বাহিনীতেও নারীদের জয় জয়কার।কিন্তু নারী ক্ষমতায়নের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অংশ ঘরের বাইরে নারীর নিরাপত্তার বিষয়টি যথেষ্ট গুরুত্ব দেওয়া হয়নি।ফলে কর্মক্ষেত্রে যাওয়ার পথে ইভটিজিং বা শ্লীলতাহানির বা যৌন নির্যাতনের শিকার হয়ে অনেককেই আত্মাহুতি দিতে হচ্ছে আজ।

উৎপীড়ন(Bullying): Bullying বলতে ভয় প্রদর্শন, হুমকি দেওয়া, বলপ্রয়োগ করা, বিব্রত করা, খারাপ উদ্দ্যেশে প্রভাব বিস্তার করা, খারাপ আচরণ করা, কারো আবেগ-অনুভূতিকে আহত করা যাতে আক্রান্ত ব্যক্তি মানসিকভাবে ভেঙ্গে পড়ে।শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের র‌্যাগিং থেকে শুরু করে ইন্টারনেটে কারো ব্যক্তিগত বিষয় ফাঁস করে দেওয়া সবই Bullying এর অধীনে পড়ে।বিভিন্ন গবেষণা ও স্টাডিতে দেখা গেছে Bullying এর সাথে আত্মহত্যার সম্পর্ক রয়েছে। আর এর শিকার হয় মূলতঃ শিশু ও টিনএজার মেয়েরা যাদের সামাজিক আক্রমণ প্রতিরোধের দক্ষতা কম বা থাকে না।খোদ যুক্তরাজ্যে প্রতিবছর ১৫-২৫ জন শিশু আত্মহত্যা করে Bullying এর কারণে।



রাত জাগার বদ অভ্যাসঃ যে সকল মানসিক রোগে মানুষ আত্মহত্যা করে থাকে তাদের বেশীর ভাগেরই অন্যতম উপসর্গ রাতে ঠিকমত ঘুম না হওয়া।গবেষকরা প্রমাণ পেয়েছেন যেসব কিশোর কিশোরীরা রাতে ৫ ঘন্টার কম ঘুমায় তাদের বিষন্নতায় আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা ৭১% বেশী এবং আত্মহত্যার চিন্তা ৪৮% বেশী এমন কিশোর কিশোরীদের তুলনায় যারা রাতে ৮ ঘন্টা ঘুমায়।রাত ১০টার পরে ঘুমালে আত্মহত্যার সম্ভাবনা প্রায় ২০% বেড়ে যায় এমনকি ৮ ঘন্টা ঘুমালেও।

মাদকাসক্তিঃমদ্যপায়ীদের মধ্যে আত্মহত্যার হার বেশী।হিরোইন সেবীদের আত্মহত্যার হার সাধারণ মানুষের তুলনায় প্রায় ১৪ গুণ বেশী।ইয়াবা সেবনেও আত্মহত্যার ঝুঁকি বাড়ে।

জুয়া খেলাঃ জুয়াড়ীদের ১২%-২৪% আত্মহত্যা করে থাকে।এখানেই শেষ নয়,এদের ঘরের বউদের আত্মহত্যার হার সাধারণ মানুষের তুলনায় প্রায় ৩ গুণ বেশী।

শৈশবকালীন যৌন নিপীড়নঃ শৈশবকালীন যৌন নিপীড়নের শিকার তরুণ তরুণীদের মধ্যে আত্মহত্যার হার সাধারণ আত্মহত্যার হারের তুলনায় ১১-১৩ গুণ বেশী।শৈশবকালীন যৌন নিপীড়নের শিকার শিশুরা তারুণ্যে পৌঁছার পর তাদের ৩২% আত্মহত্যার চেষ্টা করে থাকে।

দীর্ঘমেয়াদী পীড়াদায়ক রোগঃ দীর্ঘমেয়াদী ব্যাথা,ক্যান্সার,কিডনী নষ্ট হওয়া, অনিদ্রা(ইনসোমনিয়া), হাঁপানি ইত্যাদি দীর্ঘমেয়াদী, কষ্টদায়ক ও ব্যয়বহুল রোগের রোগীদের মধ্যে আত্মহত্যার প্রবণতা বেশ দেখা যায়।কোন ব্যক্তির ক্যান্সার ডায়াগনোসিস হলে তার আত্মহত্যার সম্ভবনা প্রায় ২ গুণ বেড়ে যায়।এইডস রোগীদের আত্মহত্যার হার সাধারণ মানুষের তুলনায় ৩০গুণ বেশী।

ঔষধ যখন আত্মহত্যার কারণঃ

১)বিষন্নতাবিরোধী ঔষধঃ বিষয়টা অবাক করার মত হলেও এটা এখন বাস্তব যে বিষন্নতার চিকিৎসায় ব্যবহৃত ঔষধ ২৪বছর নীচের বয়সী বিষন্নদের আত্মহত্যার দিকে ঠেলে দিতে পারে।মার্কিন ঔষধ ও খাদ্য নিয়ন্ত্রণ সংস্থা (FDA) এ ব্যাপারে সংশ্লিষ্ট সবাইকে চিকিৎসা চলাকালীন প্রথম কয়েক মাস রোগীর আচরণ নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণের পরামর্শ দিয়েছেন।আমি আপনাদের বিবেচনার জন্য FDA-এর বিবৃতির কিছু অংশ নীচে উদ্বৃত করলাম-

“Pooled analyses of short-term placebo-controlled trials of antidepressant drugs (SSRIs and others) showed that these drugs increase the risk of suicidal thinking and behavior (suicidality) in children,adolescents, and young adults (ages 18-24) with major depressive disorder (MDD) and other psychiatric disorders.”

“All patients being treated with antidepressants for any indication should be monitored appropriately and observed closely for clinical worsening, suicidality, and unusual changes in behavior, especially during the initial few months of a course of drug therapy, or at times of dose changes, either increases or decreases.”

“Families and caregivers of patients being treated with antidepressants for major depressive disorder or other indications,both psychiatric and nonpsychiatric, should be alerted about the need to monitor patients for the emergence of agitation, irritability, unusual changes in behavior, and the other symptoms described above, as well as the emergence of suicidality, and to report such symptoms immediately to health care providers.Such monitoring should include daily observation by families and caregivers .”

২)মৃগীরোগের ঔষধঃ এখানেই শেষ নয়,FDA ১৯৯টি স্টাডি রিভিও করে সিদ্ধান্তে পৌঁছে যে ১১টি মৃগীরোগের ঔষধ সেবনে আত্মহত্যাজনিত কর্মকান্ড ২গুণ বৃদ্ধি পায়।এবিষয়ে FDA-এর মুখপাত্র Sandy Walsh বলেছেন "We have just come to the conclusion that it's time to alert health-care providers."যে ১১টি মৃগীরোগের ঔষধের ব্যাপারে বলা হয়েছে সেগুলোর অনেকগুলোই আমাদের দেশেও বহুল ব্যবহৃত হচ্ছে।ঔষধগুলোর নামঃ Carbamazepine (Tegretol), Felbamate, Gabapentin (Gabapen), Lamotrigine (Lamictal), Levetiracetam, Oxcarbazepine (Trileptal), Pregabalin (Neurolin), Tiagabine, Topiramate (Topamax), Valproate (Valex) and Zonisamide.

৩)কোলেস্টেরল কমানোর ঔষধঃরক্তে কোলেস্টেরলের নিম্ন মাত্রার সাথে বিষন্নতা ও আত্মহত্যার প্রবণতার যোগসূত্র পাওয়া গেছে।সুতরাং যারা কোলেস্টেরল কমানোর ঔষধ খাচ্ছেন তারা যদি বিষন্নতা ও আত্মহত্যার ইচ্ছার উপসর্গ অনুভব করেন তাহলে সেটা কালবিলম্ব না করে চিকিৎসককে জানান।

আত্মহত্যার উপকরণের সহজলভ্যতাঃ বাংলাদেশে আত্মহত্যাকারীদের ৬০% এরও বেশী আত্মহত্যা করেন কীটনাশক বা বিষ পানে,ঘুমের ঔষধ খেয়ে এবং মাদক সেবন করে।আইনানুসারে এগুলো সহজলভ্য হওয়ার কথা ছিল না।কিন্তু আইনের যথাযথ প্রয়োগ না থাকায় এবং আমাদের দায়িত্বহীনতা ও অসচেতনতার অভাবে এগুলোর সহজলভ্যতা আত্মহত্যার ঘটনা বৃদ্ধি করছে।বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বিশ্বের সকল দেশের সরকারকে এসব জিনিসের সহজলভ্যতা কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণের পরামর্শ দিয়েছেন।

সংবাদ মাধ্যমের দায়িত্বহীনতাঃ বাংলাদেশে সংবাদ মাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমের ব্যাপক প্রসার হলেও দায়িত্বশীল সাংবাদিকতা ও পেশাদারীত্বের অভাবে আত্মহত্যার ঘটনাগুলোকে এমনভাবে উপস্থাপন করা হয় যে আত্মহত্যার ঝুঁকিতে থাকা মানুষগুলো আত্মহননে উদ্বুদ্ধ হতে পারে।এ বিষযে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা তার “World Suicide Report-2014”এ বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছে।আমি রিপোর্টটির সেই অংশটুকু আপনাদের জ্ঞাতার্থে এখানে উদ্ধৃত করলাম-

“Inappropriate media reporting practices can sensationalize and glamourize suicide and increase the risk of “copycat” suicides (imitation of suicides) among vulnerable people.Media practices are inappropriate when they gratuitously cover celebrity suicides, report unusual methods of suicide or suicide clusters, show pictures or information about the method used, or normalize suicide as an acceptable response to crisis or adversity.Exposure to models of suicide has been shown to increase the risk of suicidal behaviour in vulnerable individuals.There are increasing concerns about the supplementary role that the Internet and social media are playing in suicide communications. The Internet is now a leading source of information about suicide and contains readily accessible sites that can be inappropriate in their portrayal of suicide. Internet sites and social media have been implicated in both inciting and facilitating suicidal behaviour. Private individuals can also readily broadcast uncensored suicidal acts and information which can be easily accessed through both media.”

আত্মহত্যা প্রবণতার বিষয়ে নেতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গিঃবাংলাদেশে আত্মহত্যার প্রচেষ্টাকে সামাজিক, ধর্মীয় ও আইনের দৃষ্টিতে অপরাধ ও হীন কর্ম হিসাবে বিবেচনা করা হয়।অথচ আত্মহত্যাপ্রবণ ও আত্মহত্যা চেষ্টাকারীরা সবচেয়ে অসহায় মানুষ।নেতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গিজনিত কারণে এদের অনেকেই প্রয়োজনীয় পরামর্শ, চিকিৎসা ও সাপোর্টের অভাবে পরবর্তীতে সফল আত্মহত্যায় মারা যায়।




বিষন্নতাঃ আত্মহত্যার খুবই গুরুত্বপূর্ণ কারণ বিষণ্নতা।বিষণ্নতা এমন একটি ভয়াবহ মানসিক রোগ যে বেঁচে থাকার সকল আগ্রহকে ম্লান করে দেয়।এ রোগে বিপুল সংখ্যক মানুষ ভূগলেও সচেতনতার অভাবে তা নির্ণিত হচ্ছে না এবং প্রয়োজনীয় চিকিৎসাও পাচ্ছে না।অনেকে মনে করেন মন খারাপ থাকলেই বুঝি বিষণ্নতা বোঝা যায়।কিন্তু সর্বক্ষেত্রে এ কথাটি প্রযোজ্য নয়।অনেক বিষণ্নতায় ভোগা রোগীই হাসিমুখে অামাদের মাঝে বাস করে যাকে ‘স্মাইলিং ডিপ্রেশন’ বলে।তাছাড়া ছোট বাচ্চারাও বিষণ্নতায় ভূগতে পারেন।এ রোগ সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে এখানে ক্লিক করুন

অনিন্দ্য সুন্দরী ও আবেদনময়ী বিখ্যাত হলিউড অভিনেত্রী মেরিলিন মনরো মাত্র ৩৬ বছর বয়সে বিষণ্নতার চিকিৎসা চলাকালীন অবস্থায় ঘুমের ঔষধ খেয়ে আত্মহত্যা করেন।সুশান্ত সিং রাজপুতও বিষণ্নতার চিকিৎসা চলাকালীন আত্মহত্যা করেছেন।

সিজোফ্রেনিয়াঃ প্রধান উসর্গসমূহ-অলীক কথা শোনা বা দেখা, ভ্রান্ত দৃঢ় বিশ্বাস, অসংলগ্ন কথাবার্তা, চিন্তার জগতে বিশৃঙ্খলা, ঘুম না হওয়া, কম কথা বলা, সন্দেহ করা, নিজের যত্ন নেওয়ায় উদাসীনতা, মন খারাপ থাকা ইত্যাদি। সিজোফ্রেনিয়ার কোন কোন রোগী আত্মহত্যায় প্ররোচণাকারী কথাবার্তা শুনে থাকে (অডিটরি কমান্ড হ্যালুসিনেশন) এবং সে মোতাবেক আত্মহত্যার প্ল্যান করতে থাকে।এরা এত নিখুঁত প্ল্যান করতে পারে এবং তা এত চমৎকারভাবে গোপন রাখে যে তারা বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই আত্মহত্যায় সফল হয়।

লাভ অবসেশনঃ কোন কোন প্রেম ‘লাভ অবসেশন’ নামক জীবননাশী মানসিক রোগে পরিণত হয়।এ রোগে আক্রান্ত ব্যক্তি ভালোবাসার মানুষের সামান্যতম অবহেলাও সহ্য করতে পারে না এবং এত বেশি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা ও সন্দেহ করে যে প্রায়শই এ ধরনের সম্পর্ক একসময় ভেঙ্গে যায়।কিন্তু সে মানসিক রোগাক্রান্ত হয়ে যাওয়ায় ভালোবাসার মানুষটিকে ফিরে পেতে কিংবা তার বিরহে বিধ্বংসী কাজকর্ম শুরু করে যার একটি হলো আত্মহত্যা।এ রোগটি সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে এখানে ক্লিক করুন

বর্ডারলাইন পার্সোনালিটিঃ প্রধান উপসর্গসমূহ-ঝোঁকের মাথায় বা হঠকারিতায় কাজ করা,নিজেকে অপাংক্তেও মনে করে পাগলামি করা,কারো সাথে তীব্রভাবে সম্পর্কে জড়িয়ে যাওয়া এবং তাকেই আবার নিগৃহ করা,নিজের ব্যক্তিত্ব ধরে রাখতে অসমর্থ হওয়া,মন মেজাজ চড়ে থাকা,অস্থিরতায় ভোগা,বুকের ভিতরটা শুন্য মনে হওয়া, সন্দেহবাতিকতা,নিজের শরীরে আঘাত করা,অবিবেচকের মত ও ঝোঁকের মাথায় অর্থ বিনিয়োগ সংক্রান্ত জটিলতায় জড়িয়ে যাওয়া,নারী-মদ-নেশায় জড়িয়ে যাওয়া,নিজেকে নিয়ন্ত্রণ করতে ব্যর্থ হওয়া এবং সর্বোপরি আত্মহত্যার চিন্তা বা চেষ্টা করা।

হিসট্রিওনিক পার্সোনালিটিঃ এ ধরনের অসুস্থ ব্যক্তিত্বের মানুষগুলো প্রেম, যৌনতা ও বিয়ে সংক্রান্ত জটিলতায় প্রায়ই ভূগে থাকে।অপরিপক্কতা, আবেগের চরম বহিঃপ্রকাশ, আত্মনিয়ন্ত্রণের অক্ষমতা, ইমপালসিভিটি বা হঠকারিতা ইত্যাদি কারণে এরা অনেক সময় আত্মহত্যার চেষ্টা করে থাকে এবং কেউ কেউ সফলভাবে আত্মহত্যা করেও ফেলে। এ রোগটি সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে এখানে ক্লিক করুন

এন্টিসোশ্যাল পার্সোনালিটিঃ মূলত এরা অপরাধপ্রবণ ব্যক্তি।এরা জীবনের মূল্য বুঝতে প্রায়শই অক্ষমতার পরিচয় দেয়।এরা যেমন অন্যের জীবনের জন্য হুমকি ঠিক তেমনি নিজ জীবনকেও এরা তুচ্ছজ্ঞান করে।ফলে এ ধরনের ব্যক্তিত্বের ব্যক্তিরা আত্মহত্যার মত ঘটনা ঘটিয়ে ফেলতে দ্বিধা করে না।এ রোগটি সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে এখানে ক্লিক করুন

বীভৎস্য অভিজ্ঞতা পরবর্তী মানসিক রোগ (PTSD)- ভয়ংকর কোন ঘটনা দেখার পর কেউ কেউ এ সমস্যায় ভূগে থাকেন।অতিরিক্ত অস্থিরতা ,আতংক, ভয়ে চমকে চমকে উঠা এবং বীভৎস্য ঘটনাটি বার বার চোখের সামনে ভাসতে থাকা বা বার বার সেটা স্বপ্নে দেখা এ সমস্যার প্রধান উপসর্গ।POST TRAUMATIC STRESS DISORDER (PTSD) বা বীভৎস্য অভিজ্ঞতা পরবর্তী মানসিক চাপে মানুষ এতটাই অস্থিরতায় ভূগতে পারে যে সে আত্মহত্যাও করে ফেলতে পারে।করোনা রোগির শ্বাসকষ্ট যখন বেশি হয় তখন তার কষ্ট চোখের সামনে দেখা একটা ভয়ংকর অভিজ্ঞতা।একের পর এক মৃত্যু দেখাও একটা ভয়ংকর অভিজ্ঞতা।এ কারণে যারা করোনা রোগির চিকিৎসা দিচ্ছেন তারা এ সমস্যায় জড়িয়ে যেতে পারেন।গত সপ্তাহে যুক্তরাস্ট্রে লরনা ব্রিন(৪৯) নামক জরুরি বিভাগে কর্মরত একজন সাহসী লড়াকু ডাক্তার যিনি নিজেও করোনা আক্রান্ত হয়েছিলেন তিনি সুস্থতা লাভের পর আত্মহত্যা করেছেন।




উপসর্গ ছাড়া যেমন রোগ হয় না,ঠিক তেমনি সিগনাল ছাড়া বেশীরভাগ ক্ষেত্রে আত্মহত্যার ঘটনা ঘটে না। আত্মহত্যার সংঘটনের পূর্বে অধিকাংশ ক্ষেত্রেই আত্মহননে ইচ্ছুক ব্যক্তি এমন কিছু আচরণ করেন বা কথাবার্তা বলেন যা থেকে ধারণা করা যায় উক্ত ব্যক্তি আত্মহত্যা করতে যাচ্ছেন।যেমন-

১)জীবনকে অপ্রয়োজনীয় মনে করা-“বেঁচে থাকা অর্থহীন”,“বেঁচে থেকে কী লাভ”,“বেঁচে থাকার কারণ নেই”,“ইশ্ যদি আমার জন্ম না হতো”,“এ জীবন নিয়ে বেঁচে থেকে কী লাভ?”, “তোমাকে ছাড়া আমার জীবন অর্থহীন”... এ জাতীয় কথা বলা।অনেক সময় এধরনের কথা হাসির ছলে বললেও সেটাকে গুরুত্ব দিতে হবে।

২)নিজেকে অন্যের জন্য বোঝা মনে করা-“আমি পরিবারের জন্য বোঝা হয়ে গেছি”,“অন্ন ধ্বংস করছি”,“আমি মরে গেলে সবাই মুক্তি পাবে”,“বেকার হয়ে থাকার চেয়ে মরে যাওয়া ভাল”, “চিন্তা করো না আর ক’দিন পরই তোমাকে চিরমুক্তি দিয়ে দিব” ... এ ধরনের কথা আত্মহত্যার পূর্বাভাস হিসাবে প্রতিপাদ্য হতে পারে।

৩)সীমাহীন কষ্টের কথা প্রকাশ করা-“আর কষ্ট বা অবহেলা বা মানসিক নির্যাতন সহ্য করতে পারছি না”,“এত কষ্ট নিয়ে বেঁচে থাকার চেয়ে মরে যাওয়া অনেক ভাল”,“তোমায় ভালোবেসে কী পেলাম?”,“তোমার কারণে আমার জীবন তছনছ হয়ে গেছে”,“আমাকে সবাই এত কষ্ট দেয় কেন?”....

৪)পরিচিতজনদের নিকট থেকে বিদায় নেওয়া-“ভাল থাকিস,আর হয়ত কোনদিন দেখা হবে না”,“হয়ত এটাই তোমার সাথে আমার শেষ দেখা”,“চলে যাচ্ছি অনেক দূর”,“চিরবিদায়...”, “হয়ত বেশিদিন বাঁচব না,ভুল হয়ে থাকলে মাফ করে দিও”, “এত দূরে চলে যাচ্ছি,তোমরা খুঁজেও পাবে না”…. এ জাতীয় কথা বলা।

৫)হঠাৎ করেই নিজের সব জিনিস অন্যদেরকে দিয়ে দেওয়া।

৬)মৃত্যু বিষয়ে নানা চিন্তা ভাবনার কথা প্রকাশ করা।কেউ কেউ সৃষ্টিকর্তাকে বেশী বেশী করে স্মরণ করতে শুরু করে।এমনকি মারা গেলে কিভাবে ও কোথায় দাফন করতে হবে,পরকালে কী হবে সে বিষয়ে কথা বলা; এমনকি হাসির ছলে হলেও সেটাকে গুরুত্ব দিতে হবে।

৭)“আমি যদি বেঁচে না থাকি”,“আমার যদি হঠাৎ করে কিছু হয়ে যায়”...এধরনের কথা বলে অন্যদের উপদেশ ও দায়িত্ব বন্টন করে দেওয়া।

৮)আত্মহত্যা সংক্রান্ত বিভিন্ন তথ্য সংগ্রহ করা ইন্টারনেটের বদৌলতে যা আজ অনেক সহজ হয়ে গেছে।

৯)আত্মহত্যায় ব্যবহৃত হতে পারে এমন জিনিস যোগাড় করা।যেমন-কীটনাশক, ঘুমের ঔষধ, আগ্নেয়াস্ত্র ,দড়ি ইত্যাদি।ঈদের দিন রাতে আত্মহত্যাকারী গিটারিস্ট ও ভোকালিস্ট পিয়াস রেজা সম্পর্ক ভেঙ্গে যাওয়া প্রেমিকার ওড়না সংগ্রহে রেখেছিলো যা তিনি গলায় ফাঁস দেওয়ার ক্ষেত্রে ব্যবহার করেন।

১০) যেসব জিনিসের খুব যত্ন নিত তা হঠাৎ করে ত্যাগ করা।যেমন-পোষা প্রাণী বা অ্যাকুরিয়ামের মাছ বা খাঁচার পাখির ছেড়ে দেওয়া বা অন্যকে দিয়ে দেওয়া বা তাদের যত্ন না নেওয়া কিংবা প্রিয় বাগানের পরিচর্যা বন্ধ করে দেওয়া।

১১)মনের বিক্ষিপ্ততা দৃশ্যমান হওয়া।যেমন-একটুতেই উত্তেজিত হওয়া, প্রতিশোধ নেওয়ার কথা বলা, অকারণে কেঁদে ফেলা, নিজেকে গুটিয়ে রাখা, অস্বাভাবিক শান্ত হয়ে যাওয়া ইত্যাদি।

১২)খাওয়া-দাওয়া ও ঘুমের প্যাটার্নে দৃশ্যমান অস্বাভাবিক পরিবর্তন।

১৩)নিজ জীবনের কষ্টের কাহিনী লেখা।এটা ডায়েরি আকারে হতে পারে কিংবা চিঠি লেখার মাধ্যমেও হতে পারে।বর্তমান যুগে ফেসবুক বা টুইটারে এ ধরনের কথা ব্যক্ত করার বেশ প্রবণতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে।

১৪)অতিরিক্ত ঘুমের ঔষধ সেবন করা।মাদকাসক্তরা মাদক সেবনের পরিমাণ বাড়িয়ে দিতে পারে।

১৫)আত্মহত্যার স্থান নিশ্চিত করা।ঘরে আত্মহত্যার প্ল্যান থাকলে ঘরের দরজা বন্ধ করে রাখার নতুন প্রবণতা তৈরি হওয়া।ট্রেনের নিচে বা নদীতে ঝাঁপ দেওয়ার প্ল্যান থাকলে সে স্থান বার বার ভিজিটে যাওয়া।ট্রেনের সিডিউল জানার চেষ্টা করা কিংবা হঠাৎ ট্রেন ভ্রমণের প্রতি আগ্রহ বেড়ে যাওয়া।


এবার আপনাদের আত্মহত্যার ওয়ার্নিং সাইনের দুটি বাস্তব উদাহরণ দিই-

মাহবুব শাহীনের আত্মহত্যার ওয়ার্নিং সাইন: ২০১৪ সালের ২রা জুন
মাহবুব শাহীন নামের জনৈক তরুণ রেললাইনে মাথা রাখা অবস্থায় ফেসবুকে শেষ স্ট্যাটাস দিয়ে আত্মহত্যা করে সারাদেশে হৈ চৈ ফেলে দেয়।একটু খেয়াল করলে দেখবেন ছেলেটি কিন্তু ৩ মাস যাবত ওয়ার্নিং সিগনাল দিচ্ছিল ফেসবুকে একের পর এক স্ট্যাটাস দিয়ে।অথচ বিষয়টা কেউ অনুধাবনই করতে পারেনি।আপনাদের জ্ঞাতার্থে মাহবুব শাহীনের ফেসবুকের স্ট্যাটাসগুলো ধারাবাহিকভাবে তুলে দিলাম-



FEB-28: “At last I realise that I am USELESS”

MARCH-17: “I should leave...”

APRIL-05: “I have to leave...”

MAY-04: “Neither a leader nor a labourer but a clerk type man I am who is a problem setter, fastidious, peevish & lunatic and very much coward. Illness accompanying through life, always back warded and finally defeated.”

MAY-10: “Every single person on the planet has a story. Don't judge people before you truly know him. When you look at a person, any person, remember that he has gone through something that has changed him. At one point of time everyone is a hero, a lover, a fool, a villain... Everybody has his own story.”

JUNE-1:
“You must have some quality to live, unless you have to leave.”

“To lead a life on this globe you should be a complete pious or you should be a complete hypocrite. You have to surrender (yourself) to the Almighty Allah or you make others to surrender to you.”

“Alas, I don't have these quality.”

JUNE-2: তার দেওয়া সর্বশেষ ফেসবুক স্ট্যাটাস-
“Friends, I am going to commit a crime on my family, against law & order. And against religious value too.”

“I am lying on Rail Line. The Train is coming. And I am going to kick out bloody myself, the useless eater.”

“Once I've posted a comment " I should leave" then after I posted " I have to leave". Some of you asked me- "From where & where will you go?"

“I don't know where I am going. But I am leaving. Leaving useless myself forever”.

“Good bye, good bye forever.”

“Almighty Allah bless you all.”

দূর্ভাগ্য তার পরিবারের,দূর্ভাগ্য তার আপনজন ও বন্ধুদের যে এত দীর্ঘসময় ধরে আত্মহত্যার পরিষ্কার ওয়ার্নিং সাইন দেওয়ার পরও সচেতনতার অভাবে এই তরুণটির প্রাণ বাঁচানো যায়নি।সে যে দীর্ঘসময় ধরে আত্মহত্যার প্ল্যান করছিলো এবং তার ওয়ার্নিং দিচ্ছিল সেটা সে তার শেষ মুহূর্তের স্ট্যাটাসে স্মরণ করিয়ে দিয়েছে সবাইকে- Once I've posted a comment " I should leave" then after I posted " I have to leave".....

সুশান্ত রাজপুতের আত্মহত্যার ওয়ার্নিং সাইন: মাত্র ১৬বছর বয়সে হারানো প্রিয় মা’কে উদ্দেশ্য করে সুশান্তের ইনস্টাগ্রামে দেওয়া জীবনের শেষ স্ট্যাটাসটি ছিলো নিম্নরূপ-

Blurred past evaporating from teardrops

Unending dreams carving an arc of smile

And a fleeting life,negotiating between the two...



তার ইনস্টাগ্রাম অ্যালবামে এটিই ছিলো একমাত্র সাদাকালো ছবি।

মাহবুব শাহীন বা সুশান্ত রাজপুতের মত যারা আত্মাহুতি দেওয়ার প্ল্যানে ওয়ার্নিং সাইন দিয়ে যাচ্ছেন অন্ততঃ তাদের অকাল মৃত্যু ঠেকাতে আত্মহত্যার পূর্বভাসের লক্ষণ বা ওয়ার্নিং সাইনগুলো সম্পর্কে আমাদের সচেতন হওয়া খুব জরুরি।



ভারতীয় নায়িকা জিয়া খানের সুইসাইড নোটঃ ‘নিঃশব্দ’ ছবিতে অমিতাভ বচ্চনের সাথে অভিনয় করে হৈ চৈ ফেলে দেওয়া প্রতিভাবান বলিউড নায়িকা জিয়া খান মাত্র ২৫ বছর বয়সে আত্মহত্যা করে সবাইকে অবাক করে দেন।তার সুইসাইড নোটটি থেকে অনেক কিছু শেখার আছে-



“হয়তো তুমি কখনো জানবে না,তুমি আমার এমন গভীরে স্পর্শ করেছো যার জন্য আমি তোমার প্রেমে হারিয়ে গেছি।যদিও তুমি প্রতিদিন আমার ওপরে নির্যাতন চালাতে,তবুও।আজকাল আমি কোন আলো দেখি না।ঘুম ভাঙ্গলেও আমি চাই না ঘুম ভাঙ্গুক।একটা সময় ছিল যখন আমি তোমার সঙ্গে জীবনযাপনের কথা ভাবতাম, ভবিষ্যতের কথা ভাবতাম।”

“আমি খেতে,ঘুমাতে,ভাবতে বা কোন অনুষ্ঠানে যেতে পারি না।সবকিছু থেকে পালিয়ে বেড়াচ্ছি।ক্যারিয়ারের কোন আশাও আর নেই।”
“আমি জানি না কেন বিধাতা আমাদের সাক্ষাত্ করালেন।যে যন্ত্রণা,ধর্ষণ,দুর্ব্যবহার ও নির্যাতনের শিকার আমি হয়েছি,তার তো কথা ছিল না।কোন ভালোবাসা বা অঙ্গীকার তোমার মধ্যে দেখিনি।দিন দিন কেবল ভয় পেয়েছি, এই তুমি পেটাবে বা বকাবকি করবে।নারী আর পার্টি নিয়ে তোমার জীবন।আমার জীবনে ছিলে শুধু তুমি আর আমার কাজ।বেঁচে থাকলে তোমাকে আমি ব্যাকুলভাবে চাইতাম। তাই নিজের ১০ বছরের পেশা ও স্বপ্নকে চিরবিদায় জানালাম।তোমাকে বলিনি, কিন্তু তোমার একটি বিষয় আমার কানে এসেছিল। তুমি আমার সাথে প্রতারণা করেছ।”

“আমি কেউ নই।আগে আমার সব ছিল।এখন তোমার সঙ্গে থাকলেও আমার একা লাগে।তুমি আমাকে নিঃস্ব ও অরক্ষিত করে দিয়েছ।অথচ আমি এর চেয়েও বেশি কিছু।”
(সূত্রঃপ্রথম আলো,অনলাইন ডেস্ক | আপডেট: ০০:১০, জুন ১১, ২০১৩ )

বিশ্লেষণঃ লাভ অবশেসন ও মারাত্মক বিষন্নতা(Major Depressive Disorder) এর প্রধান প্রধান উপসর্গগুলো সুইসাইড নোটে বিদ্যমান।আর এ দুটো মানসিক রোগই একজনকে আত্মহত্যার দিকে ঠেলে দেওয়ার জন্য যথেষ্ঠ। অথচ এ দুটো ছিলো নিরাময়যোগ্য রোগ।

ভার্জিনিয়া ওলফ এর সুইসাইড নোটঃ বিখ্যাত নারীবাদী, ঔপন্যাসিক, কবি, প্রকাশক ও সমালোচক ভার্জিনিয়া ওলফ এর আত্মহত্যা করার অব্যবহিত পূর্বে স্বামীর উদ্দ্যেশে লেখা সুইসাইড নোটঃ


Photo courtesy of open culture

“Dearest, I feel certain that I am going mad again. I feel we can’t go through another of those terrible times. And I can’t recover this time. I begin to hear voices, and I can’t concentrate. So I am doing what seems the best thing to do. You have given me the greatest possible happiness. You have been in every way all that anyone could be. I don’t think two people could have been happier ’til this terrible disease came. I can’t fight any longer. I know that I am spoiling your life, that without me you could work. And you will I know. You see I can’t even write this properly. I can’t read. What I want to say is I owe all the happiness of my life to you. You have been entirely patient with me and incredibly good. I want to say that—everybody knows it. If anybody could have saved me it would have been you. Everything has gone from me but the certainty of your goodness. I can’t go on spoiling your life any longer. I don’t think two people could have been happier than we have been.”

বিশ্লেষণঃতিনি বলেছেন “আমি নিশ্চিত আমি আবার পাগল হয়ে যাচ্ছি।এভাবে আমরা একসাথে ভয়ংকর সময় কাটাতে পারব না।আমার মনে হচ্ছে এবার আমি ভালও হবো না।আমি কথা শুনতে শুরু করেছি (অডিটরি হ্যালুসিনেশনকে ইংগিত করেছেন) এবং আমি মনোযোগ দিতে পারছি না...”। সিজোফ্রেনিয়ার একজন রোগী কীভাবে আত্মহননের পথ বেছে নেয় তা এখানে ফুটে উঠেছে।


লি ইউন জু’র সুইসাইড নোটঃ দক্ষিণ কোরীয় এই অভিনেত্রী মাত্র ২৪ বছর বয়সে আত্মহত্যা করেন।টাকার জন্য 'The Scarlet Letter' ছবিতে আপত্তিকর দৃশ্যে অভিনয় করেন।পরবর্তীতে নিজের ভুল বুঝতে পেরে বিষন্নতায় চলে যান এবং একসময় আত্মহত্যা করেন,আর লিখে যান কিছু গভীর উপলব্ধির কথা-



"I wanted to do too much. Even though I live, I'm not really alive. I don't want anyone to be disappointed. It's nice having money... I wanted to make money."

বিশ্লেষণঃ‘ভাবিয়া করিও কাজ,করিয়া ভাবিওনা’ এবং ‘লোভে পাপ,পাপে মৃত্যু’ এ দুটো কথা সত্যি হয়ে দেখা দিয়েছিল লি ইউন জু’র জীবনে।লি এর মত আমাদের দেশেও অনেক মেয়ে মিডিয়া জগতের গ্ল্যামার ও অর্থের জন্য নিজেকে নানা অনৈতিকতায় জড়াচ্ছে।পরিণতিতে কেউ কেউ আত্মহননের চেষ্টা করেছেন বা নিহত হয়েছেন।যেসব মেয়েরা অর্থ,গ্ল্যামার ও সেক্সের জোয়ারে গা ভাসিয়েছেন তারা ও তাদের অভিভাবকদের লি’র সুইসাইড নোটের কথাগুলো গুরুত্ব দিয়ে অনুধাবন করা উচিৎ-“আমি অনেক বেশী কিছু করতে চেয়েছিলাম।যদিও আমি বেঁচে ছিলাম,সেটা সত্যিকারের বেঁচে থাকা না।আমি আর কাউকে নিরাশ করতে চাই না।টাকা থাকা ভাল...আমি অনেক টাকা উপার্জন করতে চেয়েছিলাম।”

ইস্টম্যান কোডাক এর সুইসাইড নোটঃ কোডাক ফিল্ম প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান ইস্টম্যান কোডাক কোম্পানীর এই প্রতিষ্ঠাতা মেরুদন্ডের অসহ্য ব্যথায় ২ বছর ভোগ করার পর আর সইতে না পেরে আত্মহত্যা করেন।



সুইসাইড নোটে ইস্টম্যান কোডাক লিখেছিলেনঃ‘To my friends,My work is done.Why wait?”

বিশ্লেষণঃবিশ্বব্যাপী বৃদ্ধদের আত্মহত্যার উচ্চহারের অন্যতম প্রধান কারণ দীর্ঘমেয়াদী পীড়াদায়ক রোগ এবং তার কারণে সৃষ্ট বিষন্নতা।আমাদের যাদের বৃদ্ধা মা-বাবা রয়েছেন এবং এরকম কোন জটিল অসুখে ভুগছেন তাদের ব্যাপারে সদা সতর্ক থাকা উচিৎ।কোন অবস্থাতেই তাদেরকে কষ্ট দেওয়া যাবে না এবং এমন কোন আচরণ করা যাবে না যাতে তারা নিজেদেরকে অপ্রয়োজনীয় ও সংসারের বোঝা মনে করেন।

রমজান-সুখীর সুইসাইড নোটঃ১৬বছরের নীচের দুই কিশোর-কিশোরী একসাথে আত্মহত্যা করে অভিভাবকদের কাছ থেকে তাদের প্রেমের স্বীকৃতি না মেলায় এবং দু’জন সর্বদা একসাথে থাকার অভিপ্রায়ে-



বিশ্লেষণঃ টিনএজ প্রেম মূলতঃ তীব্র আবেগ থেকে হয়ে থাকে।আবেগ যেখানে তীব্র সেখানে যুক্তি তেমন কাজ করে না।এ ধরনের ভালবাসা কখনও কখনও ‘লাভ অবসেশন’ এ পরিণত হয়।লাভ অবসেশন একটি মানসিক রোগ যার সুনির্দিষ্ট চিকিৎসা আছে।মনোরোগ বিশেষজ্ঞের শরণাপন্ন না হয়ে তাদেরকে গায়ের জোরে বিচ্ছিন্ন করতে গেলে রমজান-সুখীর মত পরিণতি ঘটে যেতে পারে।এরকম অবস্থায় অভিভাবকদের আচরণ ও কর্মে খুবই সতর্ক হওয়া প্রয়োজন।

আরাফাত শাওনের সুইসাইড নোটঃ আরাফাত শাওন ২০১৫ সালে ফেনী সেন্ট্রাল হাইস্কুল থেকে এসএসসি পরীক্ষা দিয়েছিল এবং ৩০ মে,২০১৫ প্রকাশিত ফলাফলে সে জিপিএ ৪.৮৩ পায়।কিন্তু তার পিছনে প্রচুর টাকা খরচ করার পরও কেন জিপিএ ৫ বা এ প্লাস পেল না এনিয়ে বাবা-মায়ের মানসিক নির্যাতন সহ্য করতে না পেরে সে আত্মহত্যা করে বসে।তার সুইসাইড নোটটি রাষ্ট্র, সমাজ ও পরিবারের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ-



‘আমি জানি না আজ আমি ঠিক কী ভুল কাজ করছি।তবে এখন এটা ছাড়া আমার আর কোনো উপায় ছিল না। আসলে ছেলে হয়ে এ পরিবারে জন্মগ্রহণ করাটাই আমার দূরভাগ্য।তা না হলে ছোট থেকে এ পর্যন্ত মেয়ের মতো সব সময় পরিবারের কাজ করতেই হয়েছে।আর কখনো পরিবার থেকে আমাকে খেলাধুলার সময় বা খেলতে দেওয়া হয়নি। আর আমিও মেয়ের মতো সবসময় মায়ের আঁচলের নিচেই ছিলাম।আর আমি আদো জানি না যে আমি কি?এই পরিবারের বা আমার মা-বাবার সন্তান, তা না হলে সব সময় এ রকম শাসন আর কড়া শাসনের উপর আমাকে রাখা হয়েছে।কোন বাবা-মা তার সন্তানকে পড়া লিখার খরচে খোটা দেয় না।কিন্তু আমার মা বাবা সব সময় আমাকে বলে তোর জন্য মাসে মাসে হাজার হাজার টাকা খরচ করছি।এভাবেই প্রতিনিয়ত বকাঝকা করা হয়।সব সময় বাবার থেকে শুধু খারাপ ভাষার গালি আর গালি শুনতে হয়।যা আমার একটু ভালো লাগতো না। কিন্তু আমি এতোদিন সহ্য করেছিলাম।কারণ কোন কিছু করার কথা ভাবলে মনে হতো এ দুনিয়ায় তো বাবা-মায়ের আদর ভালোবাসা পেলাম না।পেলাম না সুখশান্তি।আসলে মানুষ বলে যে ঠিক টাকা পয়সা ও ধন সম্পদ মানুষকে সুখী করতে পারে না।আর যদি আমি নিজের হাতে আত্মহত্যা করি তা হলে মরার পরও শান্তি পাবো না। আর মরার পর আমাকে জাহান্নামের আগুনে জ্বলতে হবে।তাই এখন আমার আর এসব কিছু সহ্য হচ্ছে না। আমাদের ছাত্রদের কি দোষ বলুন আমরা তো আমাদের মতো শ্রেষ্টা (চেষ্টা) করে যাই।তবে আমাদের দেশের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডগুলো কারণে আমাদের দেশের শিক্ষা ব্যবস্থার এমন হাল।এর আগের বছর সরকার তার নিজের স্বার্থের জন্য শিক্ষার হার বাড়িয়ে দিয়েছে।আর এবার হরতাল-অবরোধ দেয়ার ফলে বর্তমান সরকারবিরোধী দলীয় সরকারকে গালি দেয়ার জন্য পাশের হার কমিয়ে দিয়েছে, যাতে দেশে ফেল এর হার বেড়েছে।বলুন আমরা আর কীভাবে ভালো রেজাল্ট করতে পারি!!!???’ আমাদের মা-বাবা চায় আমরা ভালো রেজাল্ট করি।কিন্তু দেশের শিক্ষা ব্যবস্থার দিকে ও তো দেখতে হবে।আমার বাবা ও আমার আত্মীয়-স্বজন আমার এ রেজাল্ট (৪.৮৩) এর উপর খুশি না।সবাই আমাকে বকাবকি করছে। কিন্তু আমার স্কুলের মধ্যে ২য় স্থান পাওয়ার পরও কিন্তু তারা অন্যদের রেজাল্ট এর কথা দেখে না,ভাবে না।তাদের কথা আমাকে এ+ পেতেই হবে।এ+ কী গাছে ধরে যে আমি পেড়ে আনবো।আরো অনেক কথা যা মনের ভিতর জমা করে রেখেছি।কিন্তু বললে শেষ হবে না।থাক।যদিও আমি মারা যাই তা হলে সবাই আমাকে ক্ষমা করে দিবেন।আর যদিও বেঁচে যাই.!!!আমার কিছু ঋণ রয়েছে DJ Flower Tuch=সূর্য ৯০০ আমার বন্ধু শুভ=১০০ (টাকা) ইসমাইল=২০০/পূবালী ইলেকট্রনিক শহীদ মার্কেট।’

বিশ্লেষণঃআমি পূর্বে উল্লেখ করেছিলাম সহ্য সীমার অতিরিক্ত মানসিক চাপ আত্মহত্যার অন্যতম কারণ। আলোচ্য শাওন দীর্ঘদিন পরিবার, সমাজ এবং সব শেষ রাষ্ট্রের কাছ থেকে মানসিক চাপ অনুভব করেছে।যখন এই মাত্রাতিরিক্ত চাপ তার সহ্য সীমা অতিক্রম করেছে তখনই সে আত্মহত্যা করে ফেলেছে।এ থেকে সমাজ, রাষ্ট্র এবং বিশেষত পরিবারের অনেক কিছু শেখার আছে।বর্তমানের প্রতিযোগিতার যুগে বাবা-মা’রা সন্তানদের নিকট থেকে অনেক কিছু প্রত্যাশা করছেন।সন্তানের সেটা অর্জনের সক্ষমতা ও পারিপার্শ্বিক পরিবেশ অাছে কি না তা বিবেচনা করেন না।এতে যে সন্তানদের মানসিক স্বাস্থ্য কতটা ভঙ্গুর হয়ে যায় আরাফাত শাওন যার জলন্ত প্রমাণ।



আত্মহত্যাপ্রবণ ব্যক্তির করণীয়ঃ আপনার যদি বেঁচে থাকতে ইচ্ছে না করে কিংবা আত্মহত্যা করা ছাড়া আপনার আর কোন উপায় নাই এরকম পরিস্থিতি তৈরি হয় কিংবা আত্মহত্যা করলেই কেবল এই যন্ত্রণা কিংবা অপমান থেকে মুক্তি মিলবে এরকম অনুভূতি তৈরি হয় প্লিজ প্লিজ প্লিজ একটি বার একজন মনোবিদ বা মনোরোগবিদের সাথে কথা বলুন।শুধু একটি বার কল করুন।আপনার কথা শোনার জন্য কান পেতে আছে একদল মনের বন্ধু কান পেতে রই নামক পেজে।নিচের তথ্যচিত্রে তাদের যোগাযোগ নাম্বার দেওয়া হলো-



এছাড়াও বাংলাদেশে মানসিক সমস্যা ও মানসিক রোগে সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানসমূহের ফোরাম Bangladesh Mental Health Network এর যে কোন প্রতিষ্ঠানে আপনি সাহায্য পেতে পারেন।নিচের তথ্যচিত্রে তাদের যোগাযোগের ঠিকানা দেওয়া হলো-



‘আমার যে সমস্যা তা কেউ সমাধান করতে পারবে না’ সুতরাং আরেকজনের সাথে কথা বলে কী লাভ?‘আমার বেঁচে থাকতে উচ্ছে করছে না’ সুতরাং কেন আরেকজনের সাথে পরামর্শ করে সে সিদ্ধান্ত নিতে হবে? হ্যাঁ আপনি তারপরও কথা বলবেন।কারণ আপনার মত পরিস্থিতিতে অধিকাংশ মানুষই আত্মহত্যা করে না।কেন করে না তা জেনে নিন।তার মাঝেই লুকিয়ে থাকতে পারে পুনরায় বেঁচে উঠার মন্ত্র।একজন মানুষের শারীরিক মৃত্যু একবারই হয়।কিন্তু জীবনে চলার পথে নানা জটিলতায় একজন মানুষ বার বার মানসিকভাবে মরতে পারে।আর এরকম মৃত্যু থেকে ফিরে আসা মানুষগুলো আরও শক্তিশালী হয়ে উঠে জীবনে সংগ্রাম করে কাঙ্খিত লক্ষ্যে পৌঁছাতে।জীবনের চলার পথের বাঁকে বাঁকে রয়েছে অনাকাঙ্খিত কত ফাঁদ।কিন্তু তারই মাঝে কোথাও লুকিয়ে কষ্ট ম্লান করে দেওয়ার মত কোন আনন্দ ঘটক।সময় ও ধৈররর‌্য্য এদুটোকে টেনে যত লম্বা করবেন জীবন যুদ্ধে জয়ী হওয়ার সম্ভাবনা ততই বাড়বে।

* শিথিলায়ন ব্যায়াম- কোন অনাকাঙ্খিত ঘটনায় যদি আপনি নিজের উপর নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলেন সেক্ষেত্রে তাৎক্ষণিকভাবে শিথিলায়ন ব্যায়াম শুরু করুন।এটা আপনার মনের অস্থিরতা কমাতে প্রভূত সাহায্য করতে পারে।বার বার কষ্টের কথা মনে পড়া বা বার বার আত্মহত্যার কথা মনে হলে এ শিথিলায়ন প্রক্রিয়া শুরু করুন;আশা করা যায় তা আপনাকে স্থিতিশীলতা অর্জনে সাহায্য করবে।এটা আপনি দাঁড়িয়ে, বসে বা শুয়ে করতে পারেন।প্রক্রিয়াটি নিচে বিবৃত হলো-

হুইসেল বাজানোর মত মুখের ছিদ্র ছোট করে সে পথে বুকের ভিতর থেকে যতটা সম্ভব বাতাস বের করে দিয়ে ধীরে ধীরে বুক ভরে শ্বাস নিতে হবে নাক দিয়ে এবং পেট ফুলিয়ে।তারপর একটু দমটা ধরে রেখে খুব ধীরে ধীরে (শ্বাস গ্রহণের চেয়েও অর্ধেক ধীরগতিতে) মুখ দিয়ে বাতাস ছাড়তে হবে।অর্থাৎ নাক দিয়ে পেট ফুলিয়ে বাতাস নিয়ে কিছুক্ষণ দম আটকে রেখে মুখ দিয়ে শিস বাজানোর মত মুখের ছিদ্র ছোট করে বাতাস ছাড়তে হবে এবং পুরো প্রক্রিয়াটি হবে ধীর গতির।বোঝার সুবিধার্তে আপনি ৫-৩-৯ ফর্মূলা ব্যবহার করতে পারেন।বুক থেকে যথাসম্ভব বাতাস বের করে দেওয়ার পর পাঁচ গণনা করা পর্যন্ত ধীরে ধীরে নাক দিয়ে পেট ফুলিয়ে শ্বাস নিন;তিন গণনা করা পর্যন্ত দম আটকে রাখুন;তারপর নয় গণনা করা পর্যন্ত খুব ধীরে ধীরে মুখের সংকুচিত ছিদ্রপথে তা ত্যাগ করুন।এটাকে Slow Breathing Exercise বা Voluntary Abdominal Breathing (VAB) বলে।Neuroscience Research (Volume 50, Issue 3, November 2004, Pages 307–317) থেকে জানা যায় এ ধরণের নিয়ন্ত্রিত শ্বাস-প্রশ্বাসের কারণে ব্রেনে অতি দ্রুত অালফা ওয়েভ তৈরী হতে শুরু করে।আর ব্রেনে আলফা ওয়েভ তখনই তৈরি হয় যখন ব্রেন প্রশান্তিতে থাকে।



* আলফা মিউজিক শুনুন- রাতের বেলা মানুষ চারপাশের মানুষ ঘুমায় এবং পরিবেশও নীরব হয়ে যায়।এ সময় মানুষ নিজের সমস্যার প্রতি তুলনামূলক গভীর মনোনিবেশ করে।আর এসময় আত্মহত্যাপ্রবণ ব্যক্তি আরও বেশি হতাশ হয়ে এবং আত্মহত্যার ব্যাপারে আরও বেশি উদ্বুদ্ধ হয়।স্টাডিতে দেখা যায় দিনের চেয়ে রাতের বেলা আত্মহত্যার প্রিভ্যালেন্স প্রায় ৬গুণ বেশি।এ কারণেই যেসব প্রতিষ্ঠান আত্মহত্যা প্রতিরোধে কাজ করে তারা রাতের বেলাও তাদের অনলাইন সার্ভিস চালু রাখে।যদি আপনার ক্ষেত্রে এমন সমস্যা হয় সেক্ষেত্রে আপনি শিথিলায়ন সূর শুনতে পারেন। এসব সূর ব্রেনে আলফা ওয়েভ তৈরিতে সাহায্য করে বলে দাবি করা হয়।শুনে দেখতে পারেন সেগুলো আপনাকে প্রশান্তি দিচ্ছে কি না।নিচে এরকম কয়েকটি মিউজিক লিংক সংযুক্ত করলাম-








আত্মহত্যা প্রতিরোধে আপনার করণীয়ঃ

১)পরিবারের সদস্যদের সাথে যতটা সম্ভব সময় কাটাতে চেষ্টা করুন এবং তাদেরকে দৃশ্যমান স্নেহ, ভালবাসা ও শ্রদ্ধায় জড়িয়ে রাখতে চেষ্টা করুন।The International Association for Suicide Prevention (IASP) এর মতে মানুষের একাকীত্ব তাকে আত্মহননের পথে ঠেলে দিতে পারে।আবার দৃঢ় পারিবারিক বন্ধন তাকে আত্মহননে নিরুৎসাহিত করে।কৈশোর ও তারুণ্যে আত্মহত্যাকারীরা বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই বাবা-মা’র আচরণ থেকে প্রাপ্ত কষ্টের কথা তাদের আত্মহননের নোটে উল্লেখ করে গেছেন।

২)পরিবারের শিশু-কিশোর ও তরুণ সদস্যরা কোন সমস্যা বা কষ্টে ভুগছে কি না তা বিরক্তি উৎপাদন না করে জানতে চেষ্টা করুন এবং কোন সমস্যা পাওয়া গেলে তা ঠান্ডা মাথায় ও যৌক্তিকতা বিচারে সমাধানের চেষ্টা করুন।কারোর মাঝে উপরোক্ত মানসিক রোগেসমূহের কোন উপসর্গ পাওয়া গেলে বা মাদকাসক্তির সমস্যা দেখা দিলে তা নিরাময়ে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।ভুলেও নিজ থেকে মারধোর,বকাঝকা বা নসিহত করতে যাবেন না।কারণ অনেক ক্ষেত্রেই তাদের বিচারিক ক্ষমতা হ্রাস পায় এবং তখন কারো দেওয়া ভাল উপদেশকেও অসহ্য লাগে।

৩)অপরিণত বয়সে প্রেমের কুফল ও তার সম্ভাব্য ঝুঁকি ও ক্ষতির বিষয়ে এবং ক্ষেত্র বিশেষে সামাজিক অগ্রহণযোগ্যতার বিষয়ে পরিবারের কিশোর-কিশোরী ও তরুণ-তরুণীদের সচেতন করতে বাস্তবসম্মত আলোচনা করুন।

৪)আপনার শিশুটি কোন ধরনের যৌন নির্যাতনের শিকার হচ্ছে কি না সেদিকে বিশেষভাবে নজর দিন।

৫)শিশু-কিশোর ও তরুণ সদস্যদের উপর প্রত্যাশার চাপ বাড়াবেন না-হোক সেটা শিক্ষা বা কর্মক্ষেত্রে।রেজাল্ট খারাপ করলে বা পাশ করার পরও চাকুরি না পেলে তাদেরকে তিরষ্কার না করে ধৈর্য্য ধারণ করার পরামর্শ দিন এবং উৎসাহ প্রদান করুন।

৬)পারিবারিক কলহ যথাসম্ভব এড়িয়ে চলুন।কোন অবস্থাতেই পরিবারের শিশু-কিশোর ও তরুণ সদস্যদের সামনে পারিবারিক কলহে জড়াবেন না।

৭)স্বামী-স্ত্রীরা পরস্পরের প্রতি ভালবাসার বন্ধনে আবদ্ধ থাকুন।কোন অবস্থাতেই একজন আরেকজনের মনোঃকষ্টের কারণ হবেন না।

৮)পরিবারের বৃদ্ধ সদস্যদের প্রতি যথাযথ সম্মান দিন।তাদের কষ্ট লাঘবে সচেষ্ট থাকুন।তাদের কেউ দীর্ঘমেয়াদী ও কষ্টদায়ক কোন অসুখে ভুগলে তাদের কষ্টের সহমর্মী হোন।

৯)ঘরে আত্মহত্যায় ব্যবহৃত উপকরণ যেমন কীটনাশক, আগ্নেয়াস্ত্র, ঘুমের ঔষধ ইত্যাদি খুব নিরাপদ জায়গায় আবদ্ধ রাখুন।

১০)বিশ্ব বরেণ্য ব্যক্তিদের জীবনী নিয়ে পরিবারের সদস্যদের সাথে মাঝে মাঝেই আলোচনা করুন যেন তারা জানতে পারে জীবনে বড় কিছু হতে হলে কত দুঃখ-কষ্ট, অভাব-অনটন, ব্যর্থতা, কঠোর পরিশ্রম, অধ্যাবসায় ও ধৈর্য্যের মাধ্যমে তা অর্জন করতে হয়।


আত্মহত্যা প্রতিরোধে সমাজের ভূমিকাঃ

১)বিভিন্ন সামাজিক ও সাস্কৃতিক সংগঠনগুলোকে আত্মহত্যাবিরোধী এবং মানসিক রোগ ও মাদকাসক্তির ব্যাপারে সচেতনতা তৈরিতে জোরালো ভূমিকা পালন করতে হবে।

২)শিশু-কিশোর ও তরুণদের লেখাধূলা ও সৃজনশীল কাজে বেশী করে সম্পৃক্ত করতে বিভিন্ন সংগঠনগুলোকে সক্রিয় ভূমিকা পালন করতে হবে।

৩)যারা নানা কারণে আত্মহত্যার ঝুঁকিতে রয়েছেন তাদেরকে সাপোর্ট দেওয়ার জন্য বিশেষায়িত সামাজিক সংগঠন প্রতিষ্ঠা এখন সময়ের দাবী।

৪)“আত্মহত্যা মহাপাপ এবং আত্মহত্যাকারী বা আত্মহত্যা প্রচেষ্টাকারী মহাপাপী” সমাজের এই দৃষ্টিভঙ্গি পরিবর্তন করে বরং আত্মহত্যাকে রোগ হিসাবে বিবেচনা করে তা নিরাময়ে সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে।বিশেষত আলেম সমাজের প্রতি দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলছি অাত্মহত্যায় যেন নাউযুবিল্লাহ পাঠ করতে না হয় সেজন্য আত্মহত্যা প্রতিরোধে “যে একজন মানুষের জীবন বাঁচালো সে যেন সমগ্র মানবজাতির জীবন বাঁচালো” এ জ্ঞানে দীক্ষিত হওয়ার অনুরোধ করছি।

৫)“প্রতিটি আত্মহত্যার জন্য সমাজ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে দায়ী”-এ দায়িত্ববোধ থেকে সমাজের প্রতিটি অংশকেই আত্মহত্যা প্রতিরোধে এগিয়ে আসতে হবে।


আত্মহত্যা প্রতিরোধে সংবাদ মাধ্যমের ভূমিকাঃ এ নিয়ে উপরে বেশকিছু আলোচনা করা হয়েছে।বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা তাদের “World Suicide Report-2014”-তে এ বিষয়ে বিশেষ গুরুত্ব দিতে বলেছেন।সংবাদ মাধ্যম সংশ্লিষ্ট সকলের প্রতি অনুরোধ-

১)আত্মহত্যা সংক্রান্ত খবর প্রচারের ক্ষেত্রে কোন অবস্থাতেই কীভাবে আত্মহত্যা করল, কয়টা ঘুমের ঔষধ খেয়েছে, আত্মহত্যার ছবি ইত্যাদি বিষয় অর্থাৎ যে তথ্যগুলো আত্মহত্যার ঝুঁকিতে থাকা আরেকজনকে আত্মহত্যার পথে ঠেলে দিতে পারে তা প্রচার করা থেকে বিরত থাকুন।

২)আত্মহত্যাকারী বা প্রচেষ্টকারীর ব্যক্তি জীবনের গোপনীয়তার প্রতি শ্রদ্ধাশীল হউন।তাদের ব্যক্তি জীবনের নানা গোপনীয় বিষয় প্রকাশ করে বা তাদের সমালোচনা করে বা তাদের প্রতি ঘৃণা উদ্রেককারী মন্তব্য করে তার বা তাদের পরিবারের সদস্যদের হেয় করার মত অমানবিক কাজ থেকে বিরত থাকুন প্লিজ।বরং তাদের প্রতি মানবিক ও সহানুভূতিশীল হয়ে এ পথে আর কেউ যেন পা না বাড়ায় সে বিষয়ে জনমত গড়ে তুলতে বিশেষ ভূমিকা রাখুন।

৩)আত্মহত্যা সংক্রান্ত খবর প্রচারের সময় এটা যে প্রতিরোধযোগ্য ও চিকিৎসাযোগ্য একটি সমস্যা তা খবরের সাথে সংযুক্ত করুন এবং কোথায় গেলে এর চিকিৎসা পাওয়া যাবে সে তথ্যটিও দিন।এত হয়ত আত্মহত্যার ঝুঁকিতে থাকা একজন বেঁচে থাকার অাশার অালো দেখতে পাবেন।


আত্মহত্যা প্রতিরোধে রাষ্ট্রের ভূমিকাঃ বলাই বাহুল্য আত্মহত্যা প্রতিরোধে রাষ্ট্রের ভূমিকা অপরিসীম।বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা আত্মহত্যা প্রতিরোধে প্রতিটি সদস্য রাষ্ট্রকে কর্মপদ্ধতি নির্ধারণের অনুরোধ করলেও মাত্র ২৮টি দেশ এ পর্যন্ত তা বাস্তবায়ন করেছে যা অত্যন্ত হতাশাজনক।বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ২০২০ সালের মধ্যে সদস্য দেশগুলোকে আত্মহত্যার হার ১০% কমিয়ে আনতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে অনুরোধ করেছেন।এ উদ্দেশ্যে প্রতিবছর ১০ই সেপ্টেম্বর পালিত হয় “বিশ্ব আত্মহত্যা প্রতিরোধ দিবস”।আমি বাংলাদেশ সরকারের প্রতি অনুরোধ করছি-

১)অতি দ্রুত আত্মহত্যা প্রতিরোধে স্ট্র্যাটেজিক কর্মপদ্ধতি নির্ধারণ করে তা বাস্তবায়ন করুন।

২)‘আত্মহত্যার প্রচেষ্টাকে অপরাধ বিবেচনা করে শাস্তির বিধান’ সংক্রান্ত অমানবিক আইনটি বাতিল করুন।

৩)সম্প্রচার নীতিমালায় ‘আত্মহত্যা’র বিষয়ে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হোক যাতে কেউ আত্মহত্যা বিষয়ক সংবাদ প্রচারের ক্ষেত্রে যথেষ্ঠ সাবধানতা অবলম্বন করে এবং আত্মহত্যাকারী বা প্রচেষ্টাকারীর ব্যক্তিগত ও গোপনীয় বিষয়ে সংবাদ প্রকাশ থেকে বিরত থাকে।

৪)জীবনের সকল ক্ষেত্রে বিশেষত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে উৎপীড়ন বা Bullying বন্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করুন।

৫)মানসিক রোগ সম্পর্কে ব্যাপক গণসচেতনতা তৈরিতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করুন এবং এ বিষয়টিকে পাঠ্যপুস্তকে অন্তর্ভুক্ত করুন।

৬)সামাজিক বৈষম্য দূরীকরণে, নারী ও শিশু নির্যাতন বন্ধে এবং ডোমেস্টিক ভায়োলেন্স রোধে রাষ্ট্রকে আরও বলিষ্ঠ ভূমিকা পালন করতে হবে।

৭)আত্মহত্যা প্রতিরোধে সমাজ কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের অধীনে “সুইসাইড প্রিভেনশন এন্ড রেসপন্স সেল” গঠনের মাধ্যমে ২৪ ঘন্টা হটলাইন চালু রেখে অসহায় এ মানুষগুলোকে সহায়তা করার প্রস্তাব করছি।এ বিষয়ে স্থানীয় থানা ও বড় বড় এনজিওগুলোর সহায়তা নেওয়া যেতে পারে।


যে কারণেই হোক যারা আত্মহত্যার কথা চিন্তা করছেন বা আপনি যাদের মাঝে আত্মহত্যার ঝুঁকি নির্দেশক উপসর্গ দেখতে পাচ্ছেন বা যারা আত্মহত্যার চেষ্টা করেছেন-আপনাদের করজোড়ে অনুরোধ করছি দয়া করে একবার একজন ক্লিনিক্যাল সাইকোলজিস্টের সাথে কথা বলুন।আত্মহত্যার চিন্তা বা চেষ্টার পিছনের কারণ যাই হোক না কেন ব্রেনের বায়োকেমিক্যাল পরিবর্তনগুলো কিন্তু একই রকম হয়।রোগী আউটডোরেই এ চিকিৎসা নিতে পারবেন।তবে যারা বেশীমাত্রায় ঝুঁকিতে আছেন তাদেরকেই কেবল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

কারা চিকিৎসা দিবেনঃদু’ধরনের পেশাজীবিরা এর চিকিৎসা দিয়ে থাকেন-

১)ক্লিনিক্যাল সাইকোলজিস্টঃ ক্লিনিক্যাল সাইকোলজিস্টরা ডাক্তার নন, উনারা মনোবিজ্ঞান বিশারদ।উনারা ঔষধ প্রেসক্রাইব করেন না।তারা মানসিক রোগ বা সমস্যার চিকিৎসা কাউন্সেলিং বা সাইকোথেরাপির (কথার দ্বারা) সাহায্যে করে থাকেন।শুধু রোগ নয়,যে কোন ব্যক্তিগত সমস্যাতেও তারা চমৎকার সমাধানের পথ দেখাতে পারেন।

২)সাইকিয়াট্রিস্টঃসাইকিয়াট্রিস্টরা ডাক্তার।এমবিবিএস পাশ করার পর পোস্ট গ্র্যাজুয়েশন করেছেন সাইকিয়াট্রি বা মনোরোগের উপর।উনারা মূলতঃ ঔষধ দিয়ে চিকিৎসা করে থাকেন।আমাদের দেশের অনেক সাইকিয়াট্রিস্ট কাউন্সেলিংও করে থাকেন।

কোথায় চিকিৎসা পাবেনঃযেহেতু আত্মহত্যা প্রবণতার মত সমস্যায় ঔষধ ও কাউন্সেলিং দুটোই বেশ জরুরী সেহেতু বিশেষায়িত হাসপাতালে এসব ভুক্তভোগীদের যাওয়া উচিৎ।ঢাকার বিএসএমএমইউ(পিজি হাসপাতাল) এর মানসিক রোগ বিভাগে ও শ্যামলীর জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটউটে উভয় ধরনের চিকিৎসা একসাথেই পাবেন খুবই আন্তরিক পরিবেশে।এমনকি শুধু কাউন্সেলিংও নিতে পারবেন।এছাড়াও অন্যন্য মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে এবং ক্লিনিক্যাল সাইকোলজিস্ট ও সাইকিয়াট্রিস্টদের ব্যক্তিগত চেম্বারেও এর চিকিৎসা পাবেন।

আত্মহত্যার মত একটি অগ্রহণযোগ্য ও প্রতিরোধযোগ্য ঘটনায় কাউকে যেন মৃত্যুবরণ করতে না হয় এবং কোন পরিবারকে যেন এরকম হৃদয় বিদারক ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী হতে না হয় এ বিষয়ে সকলের সচেতনতা ও সক্রিয় অংশগ্রহণ কামনা করছি।

শুরু করেছিলাম সুশান্ত সিং রাজপুত এর কথা দিয়ে তাই শেষে পাঠকদের জন্য সুশান্তের আত্মহত্যার ক্ষেত্রে ভূমিকা রাখতে পারে এমন কিছু উল্লেখ করার প্রয়োজন বোধ করছি-

১)মাত্র ১৬ বছর বয়সে সুশান্ত তার মা’কে হারায়।মায়ের মৃত্যু তার জীবনে গভীর ক্ষত তৈরি করে।জীবনের শেষ স্ট্যাটাসটাও সে তার মা’কে উদ্দেশ্য করেই দিয়েছিলো।

২)ছাত্র জীবনে অত্যন্ত মেধাবী হওয়ায় দিল্লি কলেজ অব ইঞ্জিনিয়ারিং এ মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং পড়ার সুযোগ পায়।কিন্তু ৪বছরের কোর্সের ৩বছর পড়ে তিনি লেখাপড়া ত্যাগ করেন।

৩)‘পবিত্রা রিসতা’ সিরিয়ালে প্রধান ভূমিকায় দারুণ অভিনয়ে ব্যাপক জনপ্রিয়তা পাওয়ারও পরও একসময় সেটা ছেড়ে বিদেশ চলে যান চলচিত্র বিষয়ক কোর্স করতে।

৪)২০১১ থেকে ২০১৬ সাল পর‌্যন্ত টানা ৬বছর অভিনেত্রী অংকিতা লোখান্ডের সাথে চুটিয়ে প্রেম করার পর সে সম্পর্ক ২০১৬ সালে ভেঙ্গে যায় যেটা তাকে প্রচন্ড আহত করে।

৫)মৃত্যুর ৬মাস আগে থেকে বিষণ্নতার জন্য একজন মনোরোগ বিশেষজ্ঞের তত্ত্বাবধানে ‘অ্যান্টি ডিপ্রেস্যান্ট’ ঔষধ সেবন করছিলেন।

৬)লকডাউন চলাকালীন বড় আর্থিক অনটনে পড়েন।

৭)মৃত্যুর ৩দিন আগে থেকে অ্যান্টি ডিপ্রেস্যান্ট ঔষধ খাওয়া বন্ধ করে দেন।


তথ্যসূত্র-১ এবং তথ্যসূত্র-২

যারা বিষণ্নতার জন্য অ্যান্টি ডিপ্রেস্যান্ট ঔসধ সেবন করেন তারা পুরোপুরি ভালো থাকলেও হঠাৎ করে ঔষধ সেবন বন্ধ করলে দ্রুতই বিষণ্নতা ভয়াবহ মাত্রায় ফিরে আসতে পারে।সারাজীবন বুকের মধ্যে কষ্ট নিয়ে চলা একজন মানুষ,যার মধ্যে অস্থিরতাজনিত জীবনের গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহণে অস্বাভাবিকতা দেখা গেছে, ভালবাসার মানুষটিকে হারাতে হয়েছে,তারপর আর্থিক অনটন এবং মিডিয়া জগতের জটিলতাজনিত মানসিক চাপ এবং অবশেষে অ্যান্টি ডিপ্রেস্যান্ট ঔষধ সেবন বন্ধ করা।এসব বিষয়গুলো থেকে একটা তলরেখা অংকন করা খুব একটা অযৌক্তিক হবে না হয়ত।সুশান্তের আত্মহত্যা নিয়ে তদন্ত চলছে।আশা করি একসময় সঠিক কারণ হয়ত বের হয়ে আসবে।

ধন্যবাদ যারা কষ্ট করে এ সুদীর্ঘ আর্টিকেলটি পড়লেন।

ছবিঃসকল ছবি ইন্টারনেট থেকে নেওয়া হয়েছে।এ আর্টিকেলটি কেবলই তথ্যমূলক;এর কোন বাণিজ্যিক উদ্দেশ্য নেই।তারপরেও কপিরাইট ভায়োলেশনের কারণে কারো আপত্তি থাকলে তা জানা মাত্র সে ছবি বা ছবিসমূহ এই আর্টিকেল থেকে অপসারণ করা হবে।(All the images in this article are collected from different web sites & have been used for non-commercial purposes.If anyone has any objection of using these images,I’m assuring their removal upon getting valid complaint)।

সহব্লগার গুলশান কিবরীয়া বিষণ্নতার বিষয়ে চমৎকার একটি পোস্ট লিখেছেন।নিচে তার লিংক যুক্ত করে দিলাম।আশা করি আপনারা চমৎকার এই পোস্টটি পাঠ করবেন- আত্মহত্যা কোন অপরাধ নয়। সামাজিক দৃষ্টিভঙ্গি পরিবর্তন করে হয়তো এই ধূসর দুঃখ জগত থেকে মানুষকে বের করে আনা সম্ভব।



সর্বশেষ এডিট : ১৯ শে জুন, ২০২০ সন্ধ্যা ৭:৪৭
৬০টি মন্তব্য ৫৯টি উত্তর পূর্বের ৫০টি মন্তব্য দেখুন

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

নায়লা নাইমের বিড়ালগুলো

লিখেছেন শাহ আজিজ, ২১ শে অক্টোবর, ২০২০ রাত ৮:৫৯



একজন মডেল নায়লা নাইম সাড়ে তিনশ’ বিড়াল পালেন একটি স্বতন্ত্র ফ্লাটে ঢাকার আফতাবনগরে । পাশেই তার আবাসিক ফ্লাট । গেল চার বছরে অসংখ্য বার দর কষাকষি করেও... ...বাকিটুকু পড়ুন

গল্পঃ তালব্য শ এ এশা

লিখেছেন অপু তানভীর, ২১ শে অক্টোবর, ২০২০ রাত ১০:০৬

মাঝে মাঝে নিজের নির্বুদ্ধিতার নিজেকে একটা কষে চড় মারতে ইচ্ছে হয় । নিজের চড়ে খুব একটা ব্যাথা অবশ্য লাগে না । আর চাইলেও খুব জোরে নিজেকে চড় মারা যায়ও না... ...বাকিটুকু পড়ুন

একটা বৃহৎ জীবনের নেশা

লিখেছেন সোনাবীজ; অথবা ধুলোবালিছাই, ২১ শে অক্টোবর, ২০২০ রাত ১১:০৪

এমন সময়ে তুমি আসবে, যখন বিভোর বসন্ত
অঘোরে লাল-নীল-হলুদ ছড়াবে; তখন নবীন কিশলয়ের
মতো গজিয়ে উঠবে প্রেম। পৃথিবীর চোখ
তৃষ্ণায় ছানাবড়া হবে, মানুষে মানুষে অদ্ভুত সম্মিলন।

কখনো কখনো এত বেশি ভালো লাগে,... ...বাকিটুকু পড়ুন

মানুষ কেন গালি দেয়?

লিখেছেন রাজীব নুর, ২২ শে অক্টোবর, ২০২০ রাত ২:৩৫



'হারামজাদী ছিনাল
বজ্জাত মাগী
খানকী বেইশ্যা

মিয়া বাড়ির কাচারির সুমুখে লম্বালম্বি মাঠ। মাঠের পর মসজিদ। সে মসজিদের সুমুখে বসেছে বাদ-জুমা মজলিস। খানিক দূরে দাঁড়ান ঘোমটা ছাড়া একটি মেয়ে। গালি গুলো ওরই... ...বাকিটুকু পড়ুন

গল্পঃ কাঁচের মেয়ে

লিখেছেন সামিয়া, ২২ শে অক্টোবর, ২০২০ বিকাল ৪:৩০




আমার বিয়ে হয়েছিলো মাঘ মাসের উনিশ তারিখে আমি প্রতিদিনের মতনই স্কুলে গিয়েছিলাম ক্লাস নিতে। পড়াশোনা ইন্টারের পর আর হয়নি অভাব অনটনে আর বখাটেদের উৎপাতে সেটা ছেড়ে দিয়েছিলাম... ...বাকিটুকু পড়ুন

×