

সল্ট মোটামুটি সবাই দেখছেন তাই না? এখন একটু চিন্তা করুন, আসলেই কী এটা দেখার মত কোন মুভি ছিল? বাংলাদেশের জসিম আর বৈদেশের জোলির কোন পার্থক্য আমি পাইনি। সবাই মুভিটা দেখেছে জোলির জন্য।
এনিমেশন কিন্তু কেউ স্টার দেখার জন্য দেখে না। দেখে অসাধারণ কাহিনীর নিশ্চয়তা পেলেই। আমিও আপনাকে সেই নিশ্চয়তা দিলাম Perfect Blue তে।
এই একটা মুভি যেটা আপনার কাছে থ্রিলার মুভির সংগাই বদলে দেবে। এর ডিরেক্টর হচ্ছেন সাতোশি কন। উনি প্রচণ্ড রকম বিখ্যাত হেলুসিনেশন আর ইল্যুশনের মাধ্যমে সাসপেন্স তৈরিতে।
এনিমেশন মুভিতে আমরা বলতে পারি না যে অভিনয় ভাল হয়েছে। কিন্তু সত্যি কথা, মুভিটা দেখার সময় একটু পর পর আপনার এই লাইনটাই বলতে ইচ্ছা করবে। চরিত্রগুলোর এক্সপ্রেশন দেখে আপনি বুঝবেন একটা ডিরেক্টরের ক্ষমতা কতটুকু।
সেশন ২ Perfect Blue
লোকাল পপ সিঙ্গার মিমাকে তার মিডিয়া ফার্ম পুরো জাতির ফ্রন্টে আনতে চায়। তাকে পপ সিঙ্গার থেকে মুভির নায়িকায় পরিণত করতে তারা বদ্ধ পরিকর। প্রথমেই ইমেজ তৈরির জন্য তাকে গান বাদ দিতে হয়। কিন্তু যতটা আশা করে অভিনয়ের জগতে সে আসে, অতটা পাত্তা এখানে পায় না। আর তার ব্যন্ড ওদিকে তরতর করে এগুচ্ছে।
অভিনেত্রী হিসেবে ইমেজ তৈরি করার জন্য সাধারণ একটা মেয়ে হয়ে তাকে এডাল্ট পোজ দিতে হয়। ঠিক তার আগে দিয়ে তার মনে কী খেলা চলছিল ? তার ফ্যামিলিই বা তাকে কী বলেছে? (আমরা জানি জাপানে শালীনতার সংগা আমাদের থেকে আলাদা। বড় কিছু হবার জন্য ছোট!! কিছু বিসর্জন দেয়াটা স্বাভাবিক। সেই কেসে পরিবারের মেয়েটাকে ইন্সপায়ার করাটাই আধুনিক দেশগুলায় হয়ত রীতি। তাও কারও কারও কাছে তার প্রিয় ব্যক্তিটার জামা খুলা ভাল লাগবে না!) তবু ব্যাপারটা যে অশ্লীল সেটা সবাই বোঝে। আর সেখানে ইচ্ছা করে ঢোকার আগে সাধারণ পরিবারের এই মেয়েটা কী ভাবছিল ?
এমনকি মেয়েটাকে একটা রেইপ সিনেও অভিনয় করতে হয়। তার মিডিয়া ফার্মের গার্জেন খুবই আপত্তি জানায়। মেয়েটা তার আশেপাশের সবার তাকে নিয়ে বিপুল আশায় ভরকে যায়। কনফিউশনে ভুগতে থাকে।
ঐ সিনটায় মেয়েটার উপর যারা হামলা করে, ওদের আচরণ আসলেই দেখার মত। সত্যিকারের প্রফেশনাল শুটিং। মাত্র যাকে ভিলেই মনে হচ্ছিল, ডিরেক্টর কাট বলার পর চেহারা দেখে মনে হবে নিপাট ভোলা ভদ্রলোক। চেহারার ভঙ্গিটাই পালটে গেল।
আরে দাঁড়ান, ভাবছেন এত কিছু বলছি কেন? আসলে কিছুই বলিনি। এরই মাঝে হতে থাকে খুন ! একজনের পর আরেকজন ঐ শুটিং এর জড়িত লোকেরা খুন হতে থাকে।
মাঝে মাঝে বুঝাই যায় মেয়েটা খুনী। আপনি শিওর হবার আগেই বুঝবেন মেয়েটা না, তার এক ভক্ত খুনী। আপনি শিওর? আরে নাহ, দেখবেন মনে হচ্ছে আরেকজন খুনী। শেষমেষ পুরা কনফিউজড অবস্থায় বার বার আগেই শেষটা দেখে নিতে চাবেন। (কোন দরকার নাই। টানা না দেখলে শেষে বুঝবেন না।)
এরই মাঝে মেয়েটার কাহিনী চলতে থাকে। তার অভিনয়, তার চিন্তা ভাবনা, মানুষের প্রত্যাশা। সব মিলিয়ে অসাধারণ কাহিনী।
[ মেয়েটা যেই মুভিতে অভিনয় করে সেটাও একটা পিস। মানে, ঐ মুভির কাহিনী। একটা মেয়ে বারে ড্যান্স করে। যেন তেন না, স্ট্রিপ ড্যান্স। ওই যে জামা খুলতে খুলতে ড্যান্স। একবার কিছু ভক্ত মাতাল হয়ে তাকে রেইপ করে। তারপর মেয়েটা মনে খুবই আঘাত পায় !! ওরে সেও এক কাহিনী। এরপর সে প্রতিশোধ নেয় !! আমি জানি বাংলাদেশি সিনেমার কাহিনী দেখে দেশের বাস্তব বুঝা যায়না, এও জানি বাকি দেশ গুলা আমাদের মত আজগুবি মুভি বানায় না। মাঝে মাঝে অনেক সিরিয়াল দেখে মনে হয়, ওরা একটা হেলুসিনেশনে থাকে। স্ট্রিপ ড্যান্সারকে রেইপ? বলা যায়, সিডিউল ছাড়া তার থেকে সার্ভিস নেয়া হয়েছে, টাকা দেয়া হয় নি। তাহলেই কথাটা উপযুক্ত হত ! ]
সব মিলিয়ে পুরা মুভিটা আপনাকে থ্রিলে রাখার জন্য যথেষ্ট !!
আমার সাইটটা দেখুন। এখানে এই মুভির সব দিক থেকে রেটিং দেয়া। আর ডাউনলোড লিংকও দেয়া। সাবটাইটেল সহ, যতদূর মনে পড়ে ডাবিং করা ভার্সনটাই দিয়েছি। ভাল লাগলে কমেন্ট দিয়েন প্লিজ। ওখানে আরও একটু গুছিয়ে আরও সুন্দর করে রিভিউ দেয়া।
Click This Link
বাংলা ব্লগে প্রথম রিভিউ এর লিংক
Click This Link
সর্বশেষ এডিট : ০১ লা জুন, ২০১১ রাত ৯:৫৯

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



