১
সকাল ৮ টা ৩০ এর কম-বেশি বাজে ঘড়িতে। কাবুলের আর সবগুলো সকালের মতই আজও এক সকাল উদিত হয়েছে। চারপাশ খা খা করা নির্জনতা। কিছু দোকানপাট খুলতে শুরু করেছে। যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে মানুষের দিন শুরু হয় দেরি করে। আতঙ্কিত জনগণ ঘর হতে বেরোতে চায় না। বরং যত পারা যায় পরিবারসহ বাসায়ই কাঁটায় তাদের সময়।
মুনতাজির আহনাফ ইবনে সিনা রোডের ফুটপাত ধরে হাঁটছে। এই তরুণ আল মারজুক কলেজের রাষ্ট্রবিজ্ঞানের প্রভাষক। ৯ টা ৩০ মিনিটে কলেজে তার ক্লাস। হাতে যথেষ্ট সময় আছে বলে নিশ্চিন্ত মনে হাঁটছে সে। হাঁটার গতি মন্থর নয়। দ্রুতও নয়।
২
আমির আব্দুর রাহমান রোডে জনজীবন শুরু হয়ে গেছে। মানুষজন নিজেদের কাজ-কর্মে ব্যস্ত। একদল মার্কিন সেনাসহ একটি জিপগাড়ি একপাশে থামল। চারপাশে সতর্ক দৃষ্টি তাদের।
মোড় ঘুরিয়ে রাহমান রোডে হাঁটছে আহনাফ। জিপ থেকে একজন তাঁর দিকে হাঁক ছাড়ল, ওহে! সুপ্রভাত।
আহনাফ বুঝে নি তাঁকে উদ্দেশ্য করে এ কথা বলা হয়েছে। চারপাশে তাকিয়ে বুঝল সে-ই একমাত্র শ্রবণকারী। তাই বলল, সুপ্রভাত।
-সুদর্শন তরুণ! তোমার কাছে কি লাইটার হবে?
আহনাফ বলল, দুঃখিত, আমি সিগারেট খাই না।
ভ্রু কুঁচকে মার্কিন সেনা বলল, বিশ্বের সর্বাধিক উঁচু ভবন বিমাল হামলায় দিয়ে উড়িয়ে দাও, আর ধূমপান কর না! তোমরা ভালই সার্কাস জানো।
আহনাফ চুপ করে রইল। এদের সাথে তর্ক করাটা বোকামি। সে বলল, ঠিক আছে, কলেজে আমার ক্লাস আছে একটু পর। আমি যাচ্ছি।
খানিকটা অবাক হয়ে এক সেনা বলল, তুমি এখনও কলেজের ছাত্র!
আহনাফ হেসে বলল, আমি আল মারজুকের রাষ্ট্রবিজ্ঞানের প্রভাষক! জয়েন করেছি প্রায় দু বছর আগে।
হেসে সেই মার্কিন সেনা বলল, গ্রেট! জানো তো, প্রেসিডেন্ট ওবামা আজ অসলোতে ভাষণ দিতে যাচ্ছেন। রাষ্ট্রবিজ্ঞানের একজন ছাত্র ও শিক্ষক হিসেবে তোমার এটি শোনা উচিত। কী বল?
আহনাফ তাঁর পথের দিকে হাঁটা শুরু করে বলল, নিরপেক্ষভাবে বিচার হলে শোনা উচিত ছিল, কিন্তু তা হচ্ছে না। তবুও শুনব।
৩
মুনা আজ খুব খুশি। কারণ আহনাফের সাথে তার বিয়ের ১ বছর পূরণ হয়েছে। অর্থাৎ তাদের আজ ম্যারেইজ ডে। আহনাফ সে কথা ভুলে গেছে। অবশ্য দোষও দেয়া যায় না তাকে। পরশু এক কাজে সে কাবুল থেকে কান্দাহার গিয়েছিল। প্রায় ১ হাজার মাইল পথ ভ্রমণ শেষে গতকাল রাত ৯ টায় বাসায় ফিরে। খেয়ে ঘুমানোর পর আজ সকালে আবার ক্লাস। বেচারা নিরীহ প্রজাতির মানুষ। মুনা কখনও তাকে তাই দোষ দেয় না।
মুনা সিদ্ধান্ত নিয়েছে, আজ বাসায় খুব ভাল ডিনারের আয়োজন করবে। ডিনার হবে ক্যান্ডেল লাইট। খাওয়া শেষে পুরো বাসার বাতি নিভিয়ে দিবে। আজ জ্যোৎস্না, প্রথম ম্যারেইজ ডে সারা রাত কাঁটাবে তারা বারান্দায় জোছনা দেখে দেখে।
ভাবতে কী চমৎকারই না লাগে! মহা উৎসাহে মুনা বাজার ও খাবার-দাবারের আয়োজনে ব্যস্ত হয়ে গেল।
৪
প্রভাষক আহনাফ ক্লাসে ঢুকল কেবল। অনার্স ১ম বর্ষের ক্লাস, বর্ষ প্রায় শেষ হয়ে এসেছে। আহনাফ ক্লাসে ঢুকে বলল, কী ব্যাপার, এটেনডেন্স বোধ হয় আজ একটু কম?
ছাত্ররা জবাব দিল, স্যার আপনি একদম সময়মত চলে এসেছেন, ওরা ধীরে ধীরে আরও আসবে!
আহনাফ হেসে ফেলল। বই নিয়ে বলল, পৃষ্ঠা ২২৮, চ্যাপ্টার ১৭-ব্যর্থ রাষ্ট্র।
ব্যর্থ রাষ্ট্রের সংজ্ঞা কী? প্রশ্ন শুনেই কিন্তু বোঝা যায়। যে রাষ্ট্র তার নাগরিকদের মৌলিক চাহিদা পূরণে ব্যর্থ তাকেই আমরা বলব ব্যর্থ রাষ্ট্র। সমস্যা হচ্ছে কোন রাষ্ট্র ব্যর্থ হলেও সেখানকার সরকার স্বীকার করে না তারা ব্যর্থ। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থা নির্ধারণ করে ব্যর্থ কারা কারা। যেমন, ফরেন পলিসি ম্যাগাজিন গত কয়েক বছর এটি করছে। আরও অনেকে করছে, কিন্তু তাদেরটা মোটামুটিভাবে স্বীকৃত। তবে সব র্যাং কিং নিয়ে যেমন বিতর্ক উঠে, ওদেরটাও তেমনি বিতর্কিত হয় অনেক ক্ষেত্রে। আমাদের জন্য দুর্ভাগ্যজনক যে আমাদের দেশ পৃথিবীর ১০ টি ব্যর্থ রাষ্ট্রের অন্যতম। অবশ্য যুদ্ধবিধ্বস্ত একটি দেশে এটাই স্বাভাবিক।
রাষ্ট্র ব্যর্থ হওয়ার পেছনে কতগুলো মোলিক কারণ তাহকে। যেমন- ১.সুশাসনের অভাব ২.ব্যাপক মাত্রার দুর্নীতি....
আহনাফ বলে যাচ্ছে ক্রমাগত। শিক্ষার্থীরা এক নিবেদিতপ্রাণ শিক্ষকের লেকচার গভীর মনোযোগ দিয়ে শুনছে।
ক্লাস চলল প্রায় দেড় ঘণ্টা ধরে। আহনাফের আরও ৩ টি ক্লাস আছে আজ, কিন্তু সে এখনই ক্লান্ত হয়ে গেছে।
৫
সব ক্লাস ও অন্যান্য কাজ শেষ করতে করতে মুনতাজির আহনাফের প্রায় ৩ টা বেজে গেছে। কলেজে হঠাৎ তার মনে হল আজ তার প্রথম ম্যারেইজ ডে। সে বোকা হয়ে গেল – ধুর, মুনাকে উইশও করলাম না! এটাই তো প্রথম, এর মাহাত্ন্যও অন্যরকম। অথচ দিনই শুরু হয়েছে অন্যান্য সব দিনের মতই। সে আসলেই বোকা।
এখন কি মুনাকে ফোন দিবে? না তাহলে আরও বড় ভুল হবে। ভাল কোন গিফট নিয়ে যেতে হবে বাসায়। যত টাকাই লাগুক, পছন্দের গিফটটি সে আজ কিনবেই। হাতে সময় থাকলে বাখতার সিনেমা কমপ্লেক্সে একটা মুভিও দেখা যেত। এখন তা সম্ভব না।
কলেজ থেকে বের হয়ে সে একটু অবাক হল। সারা শহরে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা। ওবামার নোবেল পুরস্কার গ্রহণের দিন বলে হয়ত মার্কিনিরা হামলার আশংকা করছে।
৬
আহনাফ ইবনে সিনা রোডের পাশটুনিস্তান স্কয়ারে গেল। কী নেয়া যায় তা নিয়ে দ্বন্দ্বে পড়ে গেছে সে। শেষমেষ একটি মাঝারি সাইজের কাঁচের ঢোল কিনে নিল। শো-পিস, এমন ঢোল আগে কখনও সে দেখে নি।
আসার সময় সেরেনা হোটেল থেকে বিশাল এক কেক কিনে নিল। দুই হাতে দুটো বড় প্যাকেট নিয়ে ট্যাক্সি খুঁজতে লাগল সে। পথ খুবই কম, কিন্তু শপিং করে নিয়ে যাওয়ার আর কোন উপায় নেই।
সেরেনা হোটেলের সামনে সে দাঁড়িয়ে আছে। ৫ তারকা অভিজাত এক হোটেল এটি। সামনেই অনেকগুলো ট্যাক্সি। কিন্তু তারা কেউ এত কাছের যাত্রায় যেতে চায় না।
ট্যাক্সির জন্য আহনাফ দাঁড়িয়ে আছে। গত একবছরের কত কথাই না মনে পড়ছে তার। মুনা নামক অতি শান্ত, কিছুটা আহ্লাদি ও স্বামীভক্ত এক মেয়ের সাথে তার বিয়ে হয়। এই সেদিনই তো তাদের বিবাহিত জীবন শুরু হল, কীভাবে পার হয়ে গেল একটি বছর! আচ্ছা বাসায় এগুলো নিয়ে যাওয়ার পর মুনার অনুভূতি কেমন হবে? কম রোমান্টিক বলে মুনা যে আহনাফকে অভিযোগ করে, আজকের পর কি তা একটু কমবে?
৭
ইবনে সিনা রোডে সূর্যের তাপ কমে এসেছে। মসজিদে আসরের আযান দিচ্ছে। আহনাফ এখনও দাঁড়িয়ে। তার খারাপও লাগছে না এভাবে দাঁড়িয়ে থাকতে। পাশে কিছু সেনা দাঁড়িয়ে আছে। তারা বারবার আহনাফের দিকে তাকাচ্ছে।
ঠিক এ সময় একটি টয়োটা-করোলা এসে থামলে তাদের সামনে। পাঞ্জাবি পরা ড্রাইভার গাড়ি থেকে নেমে দরজা লক করে এক পাশে হাঁটা শুরু করল।
আর তখনই বিকট বিস্ফোরণের শব্দে প্রকম্পিত হল চারপাশ। আশেপাশের মানুষ আতঙ্কিত হয়ে ছুটোছুটি করতে লাগল।
গাড়ি বোমা বিস্ফোরণে লণ্ডভণ্ড হয়ে আছে হোটেল সেরেনার সামনে একটু বাম পাশে ফিট বিশেক অংশ। কিছু মার্কিন সৈন্যের রক্তার্ক্ত জামা দেখা যাচ্ছে। একজন সাদা শার্ট পরিহিতি যুবক শুধু বসে আছে। তার পা নেই, একটি উড়ে চলে গেছে হাত কয়েক দূরে। আরেক পা দেখা দেখা যাচ্ছে না। দূরে কেকের একটি প্যাকেট আধা-ছেঁড়া অবস্থায় পড়ে আছে, এর পাশে র্যা পিং করা বড় একটি প্যাকেট।
প্রশস্ত জনপথ সংকুচিত হয়ে হঠাৎ করেই বীভৎস হয়ে গেছে। অবশ্য যুদ্ধবিধ্বস্ত অঞ্চলে এই-ই তো স্বাভাবিক!
৮
ওয়াজির আকবর খান হসপিটাল এখন আফগানিস্ততান ও মার্কিন ডাক্তার, সেনাদের দিয়ে পরিচালিত হয়। আহত মার্কিন সেনা ও বেসামরিক নাগরিকদের জরুরী ভিত্তিতে এখানে নিয়ে আসা হয়।
আজকের গাড়ি বোমা হামলায় ৩ মার্কিন সেনা নিহত ও দু জন আহত হয়েছে। আহতদের একজন বেসামরিক। বোমা হামলায় আহত ও নিহতদের আধা ঘণ্টার মধ্যে এখানে নিয়ে আসা হয়েছে। ডা. ওসমান ব্যস্ত হয়ে ছোটাছুটি করছেন তাদের পেছনে। দেখছেন মার্কিন ডাক্তার জন এডওয়ার্ডও।
বেসামরিক আহত ব্যক্তিটির নাম-ঠিকানা পাওয়া গেছে – সে আল মারজুক কলেজের রাষ্ট্রবিজ্ঞানের শিক্ষক। তাকে রাখা হয়েছে আইসিইউতে ২ নাম্বার বেডে। তার পা দুটো ফিরে পাওয়ার সম্ভাবনা নেই। জীবন নিয়েই শংকায় আছেন ডাক্তাররা।
৯
১০ ডিসেম্বর ২০০৯।
নরওয়ের অসলো সিটি হলে গুরুগম্ভীর ও উত্তেজনাপূর্ণ এক আবহ। একটু পর এ বছরের নোবেল শান্তি পুরস্কার নিতে মঞ্চে উঠবেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা। তাঁর পুরস্কার প্রাপ্তি নিয়ে সব জায়গায় প্রশ্ন উঠলেও, বাকপটু ক্ষমতাধর এই ব্যক্তি কী বক্তব্য দেয় তা নিয়ে জনমনে চরম কৌতূহল।
এই ঐতিহাসিক বক্তব্য যেন হাসপাতালের রোগীরা শুনতে পায়, ওয়াজির আকবর খান হসপিটালে সেই ব্যবস্থা করে রেখেছে মার্কিন সেনারা। ক্যাবল টিভির সাথে বড় স্পিকারের লাইন দিয়ে জোরে সাউন্ড দিয়ে রেখেছে তারা। হাসপাতালের রোগীদের একটু পেরেশানী হবে, তাতে সমস্যা নেই। মহান কাজের জন্য একটু ভোগান্তি পোহাতেই হয়!
বারাক মঞ্চে উঠে ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেই বললেন, ‘আমরা কোনোভাবেই ভাগ্যের কাছে বন্দী নই। ইতিহাস ন্যায়বিচারের দিকেই বাঁক নেবে। শান্তিতে নোবেল পুরস্কার বিজয়ীদের ইতিহাসে প্রতিভাবান ব্যক্তিদের তুলনায় আমার যোগ্যতা সামান্যই।’
একটু থেমে ওবামা আফগানিস্তানে বাড়তি সেনা পাঠানোর সিদ্ধান্তকে সমর্থন জানালেন। তিনি বললেন, ‘এমন একটি সময় ছিল, যখন প্রয়োজনেই শক্তি প্রয়োগ করা হতো, এমনকি তা নৈতিকভাবেও সমর্থনযোগ্য ছিল। যুদ্ধকৌশল শান্তি রক্ষায় ভূমিকা রাখতে পারে। যারা মুক্তির সন্ধান করে, যুক্তরাষ্ট্র সব সময় তাদের পাশে থাকবে।’
‘যারা মুক্তির সন্ধান করে, যুক্তরাষ্ট্র সব সময় তাদের পাশে থাকবে।’ - প্রায় জ্ঞানহীন-অসার হয়ে আইসিউতে পড়ে থাকা আহনাফের ঠোঁট দুটি একটু বুঝি নড়ে উঠল।
ঠিকই বলেছেন ওবামা। বৈষম্য ও অনাচার বেষ্টিত এই আবাসভূমির মানুষগুলো সভ্য হয়ে উঠে নি এখনও। পৃথিবী নামক গ্রহে যুদ্ধকৌশল আসলেই শান্তি রক্ষায় ভূমিকা রাখতে পারে! - নিজের অজান্তেই বিদ্রুপের হাসি আসা তরুণ প্রভাষকের মুখে হাসি হাসি ভাব থেকেই গেল।
১০
ডা. এডওয়ার্ড অত্যন্ত আনন্দিত। প্রেসিডেন্ট ওবামা একটু আগে নোবেল পুরস্কার গ্রহণ করেছেন। কী বক্তব্যরে বাবা! জাত নেতা একদম! এবার ৬ জন নোবেল বিজেতাই এমেরিকান। এমেরিকাকে কেউই ঠেকাতে পারবে না, পারেও নি কোনদিন। তাঁর নিজের মনে অবশ্য একটু খচখচ করতে লাগল - এত উন্নত, শিল্প-জ্ঞান-বিজ্ঞানের অগ্রগামী হয়েও কেন তারা তালেবান তাড়ানোর নাম করে দূর্বল দেশকে ধ্বংস করে যাচ্ছে প্রতিদিন? থাক, অন্যদিন ভাবা যাবে!
ডা. এডওয়ার্ড আইসিউতে গেলেন। ২ নাম্বার বেডের বেসামরিক আহত প্রভাষক যেন এডওয়ার্ডের দিকে তাকিয়ে মুচকি হাসছে। এডওয়ার্ড তার নার্ভ, হার্টবিট ভাল করে চেক করলেন।
চেক করা শেষে বুক পর্যন্ত থাকা সাদা চাদরটি মাথা পর্যন্ত টেনে দিলেন। ২ নাম্বার বেডে প্রাণের যে অস্তিত্ব ছিল এতক্ষণ, তা একটু আগে বিলীন হয়ে গেছে।
১১
ঘড়িতে সময় রাত ৮ টা ৩০।
রান্নাবান্না শেষ করে মুনা সাজতে বসেছে। আচ্ছা আহনাফ আসছে না কেন এতক্ষণ পরও। আজ একটু আগে আসলে কী-ই বা হত? কেন যে ও এমন!
ঠিক এই সময় কলিং বেল বেজে উঠল। মুনা ব্যস্ত হয় নি। কারণ তার সাজ পুরোপুরি শেষ হয় নি এখনও। তাছাড়া যে এত দেরি করতে পারে সে বাইরে একটু দাঁড়িয়েই থাকুক, দেরি করার শাস্তি।
বাইরে এম্বুলেন্সে করে আহনাফের লাশ নিয়ে এসেছে দুই মার্কিন সেনা। তারা দরজার সামনে দাঁড়িয়ে। তাদের মধ্যে কোন অস্থিরতা নেই। বরং দেরি হোক, প্রিয়জন হারিয়ে গেছে – এই কথা জানাতে এত তাড়াহুড়োর প্রয়োজন কী?
মুনার সাজ শেষ হয়েছে। ৫ মিনিটে কলবেল বেজেছে মাত্র দু বার। পুরো বাসার দিকে একবার তাকিয়ে লাজুক ভঙ্গিতে গুটি গুটি পায়ে সে দরজার দিকে এগুতে লাগল। আজ রাতে কোনভাবেই সে ঘুমাবে না। আজ তাদের প্রথম বিবাহবার্ষিকী!
--০--
Sazib
29.01.2012

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



