নিতম্ব দুলিয়ে, সামনের দিকে বুক সম্প্রসারিত করে, মেয়েটা হাঁটছিল। আর তার পাশেই, টং এর দোকানে চা এবং সিগারেট ফুঁকছিল কিছু তরুণ। অথবা আমরা বলতে পারি কয়েকজন যুবক।
তারা তাকিয়ে রইল, তরুণী, অথবা প্রায় যুবতীর দেখে শক্ত মনে হওয়া কিন্তু আসলে কোমল এবং অকঠিন নিতম্বের দিকে। তাদের চোখ একই সময়ে ক্ষিপ্ত গতিতে চলে যায় মেয়েটির তিনস্তর বিশিষ্ট নিরাপত্তা বেষ্টনীতে ঢাকা স্তনযুগলের দিকে।
আর ঠিক তখন, একটা মোটরবাইক, ঠিক বাইক না, ভেসপা নামক স্কুটার, যেটি চলার সময় টেম্পুর মত শব্দ করে যায়, সেটি ক্রমাগত পিপ পিপ করে মেয়েটির পেছনে ডেকে ওঠে। ডাকতে ডাকতে সেই ভেসপা চলে আসে মেয়েটির একদম পেছনে। আর তখন মেয়েটা ভয়ে পড়ে যায় রাস্তার একপাশে।
আমাদের সেই তরুণ কিংবা যুবকদল হাতের চায়ের কাপ কিংবা আগুন ধরানো বিড়ি নিয়ে বসার বেঞ্চ থেকে দাঁড়িয়ে যায়।কিন্তু আবার তাদের বসে যেতে হয়। কেন না পড়ে যাওয়া সেই তরুণী অথবা যুবতী যে একটু আগে হাঁটার সময় তার অতিপক্ক যৌবনকে ঠেকাতে পারছিল না, সে উঠে দাঁড়িয়ে গেল। অর্থাৎ সে অক্ষত রইল।
ওঠার পরই সে বুঝতে পারল ছোট, স্কয়ার সাইজের ৬ ইঞ্চিমত আয়নাটি তার ব্যাগ থেকে পড়ে গেছে। এরপর মেয়েটি আধা-র্ঝুঁকে আয়নাটি নেয়ার প্রস্তুতি নিল...আর ঠিক সে সময়ে, তার তিনস্তর বেষ্টিত নিরাপত্তা বেষ্টনির উপর দিয়ে, অর্থাৎ বেষ্টনির আওতার বাইরে দিয়ে তার স্তনযুগল, যার মাঝখানে একটা ভাঁজ, যা দেখলে পুরুষ সম্প্রদায় নড়েচড়ে বসেও নিজেদের সামলাতে ব্যর্থ হয়, তা স্পষ্ট দেখা গেল।
আমাদের সেই তরুণ যুবার দল এ দৃশ্যের দিকে আবিষ্ট হয়ে তাকিয়ে রইল। এবং তাকানোর ফলে একজন যার নাম জিটু কিংবা অনেকের ডাকার ভুলে যা হয়ে যায় জিতু, সে ভুলে হাতের চায়ের কাপ উপুড় করে ফেলে। অনিচ্ছা ও অতি উত্তেজনার ফলস্বরুপ তার এই কৃতকর্মের কারণে আবির, যে কিনা নিরব কিন্তু একই সাথে জিটু অথবা সেখানে থাকা অন্যান্য তরুণদের মত উত্তেজিত ছিল তার গায়ের টি শার্টটি গরম চায়ে ভিজে গেল। এরপর আবির উঠে জিটুকে হঠাৎ করেই চড় লাগিয়ে দিল। যার ফলে সবার আকর্ষণ সেই হৃষ্টপুষ্ট যৌবনা তরুণীর থেকে নোটিশ ছাড়াই আবির ও জিটুর দিকে চলে গেল।
এবং হ্যাঁ, সেই তরুণীও প্রথমবারের মত তাদের দিকে তাকাল। ভুল বললাম, মেয়েটি আগেও তাকিয়েছিল। তাকানোর কারণেই আসলে সে তার বুক সাধারণের চেয়ে সম্প্রসারিত করেছিল।
এরপর, আমাদের জিটু ও আবিরের মধ্যে বাহাস চলতে লাগল। মাঝখানে বিচারক, কিংবা মধ্যস্ততাকারী হিসেবে অন্যরা সবাই অর্থাৎ নিদ্দুন, রিফাত এবং সজীব ভূমিকা পালনে নামল। কিন্তু বিচার শেষ পর্যায়ে আসার আগেই জিটু কাপে অবশিষ্ট থাকা চা ছুঁড়ে মারল আবিরের দিকে। এবং আমাদের আবির, যে ইদানিং শরীরে মেদ বাড়ার কারণে চিন্তিত থাকে, সে নিজের গায়ে পড়া চায়ের দিকে তাকিয়ে হুমড়ি খেয়ে পড়ে জিটুর উপর। তারপর অবিরত চলতে থাকে চড়-থাপ্পড় অথবা লাথি-ঘুষি।
টিকেট ছাড়া বিনে পয়সার এমন বিনোদন কেউই হাত ছাড়া করতে চাইল না। রাস্তায় খুব দ্রুতই ভিড় জমে গেল। এবং প্রায় এক মিনিটের মধ্যেই দর্শকে ভর্তি হয়ে গেল ছোট্ট টং দোকানের আশেপাশের এলাকা।
অতি দ্রুত দর্শক দল বিভক্ত হয়ে গেল। তাদের একপক্ষ আবিরের সমর্থনে বলতে শুরু করল, জোরে-জোরে, আরও জোরে। আর অন্যপক্ষ জিটুকে উদ্দেশ্য করে বলল, ভাই উঠেন, হারামজাদারে পারা দিয়া মারেন। উইঠা গলা চাইপ্পা ধরেন মোটকু হালার পুতের।
আর মূল ঘটনার সূত্রপাত, যে কিনা রাস্তার এবং এই টং-এ বসে থাকা পুরুষদের আকর্ষণ, মনযোগ এবং লুকায়িত কামের প্রধান কামনা ছিল, সেও ভিড় থেকে দূরে দাঁড়িয়ে নাটকের শেষ দেখতে চাইল।
দেখা গেল আবির ও জিটুর সঙ্গীরা, এতক্ষণ চা-সিগারেট খাওয়ার সময় যারা ছিল সবাই অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ তারাও বিভাজিত হয়ে গেল। বিশালদেহী নিদ্দুন শরীরের দিক থেকে তার সাগরেদ আবিরকে সমর্থন করল। রিফাত ও সজীব করল জিটুকে। মারামারি চরম পর্যায়ে পৌছাল। এবং উপস্থিও জনতা বিনোদনের চোটে 'আবির-আবির' অথবা 'জিটু-জিটু' রব তোলা শুরু করল।
সম্ভবত দর্শকদের উৎসাহ আর জোর সমর্থনের কারণেই তরুণ যুবারা হিংস্র হয়ে উঠল। মারামারি চলতে লাগল দশ, বিশ মিনিট পার হয়ে আধা ঘণ্টা ধরে।
একসময় মেঘ নামে। রোদের আলোর ফ্রি বিনোদনের দর্শকেরা এবার আরও নির্ঝঞ্চাট পিটুনী বা হাতাহাতি খেলা দেখতে লাগল।
হঠাৎ তরুণীটি, যে এত কিছুর এবং আমাদের সম্পূর্ণ এই গল্পটির মূল অবলম্বন, সে এগিয়ে যায়। চিৎকার দিয়ে বলে, এই থামুন!
মারামারিতে রত্ত যুবকেরা মেয়েটির দিকে তাকায়। এবং তাদের মনে পড়ে এক জোড়া সুগঠিত বক্ষের কথা আর একটি কোমল নিতম্বের কথা। কিন্তু তারা সবাই এবার চুপ হয়ে তাকিয়ে থাকে মেয়েটির চোখের দিকে - কী গভীর, শিপ্লমণ্ডিত, শান্ত এবং নিঁখুত!
মেয়েটি বলল, আপনারা থামবেন, এরপর সবাই কোলাকুলি করবেন।
যুবকেরা তাই করল। কেন, তা তারা জানে না।
মেয়েটি হেসে আবার হাঁটতে শুরু করল। এমন হঠাৎ সমাপ্তি দর্শকদের মধ্যে কোন বিরক্তির উদ্রেক হয় না। কারণ সব ভুলে এখন তারা একযোগে সবাই দেখছে মেইয়েটিকে, তার হাঁটাকে এবং সবচেয়ে বেশি মনযোগ দিয়ে তার শরীরকে।
একটু আগের মারামারি কিংবা চারপাশ ঘিরে দাঁড়িয়ে থাকা উৎসুক জনগণকে ভুলে যুবকেরাও তাকিয়ে থাকে। সব ভুলে, আগের মত এক দৃষ্টিতে।
====000====
Sazib
17.7.2012
সর্বশেষ এডিট : ০৩ রা আগস্ট, ২০১২ রাত ১:০৫

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



