ভরদুপুর বেলা, চারপাশে কাঠ ফাটানো রোদ। হাতে যথেষ্ট সময় আছে এবং সেই সময়ে করার কিছু নেই। নাফি তাই সিদ্ধান্ত নিল যোহরের নামায পড়ার। তার কপাল কিছুটা খারাপ গত কিছুদিন ধরে। সবকিছুতে আজকাল কোন না কোনভাবে স্বাভাবিকতার বিচ্যুতি ঘটছে। অর্থাৎ খুঁত থেকে যাচ্ছেই। বোধহয় এই অবস্থা থেকে পরিত্রাণ পেতেই সে নামায পড়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
নামাযে সে দাঁড়াল, সুন্নতের দুই রাকাত পড়া হয়েছে, অবশিষ্ট আছে ২ রাকাত; এই অবস্থাতেই একজনের উঁচু গলা শোনা গেলঃ জুতাগুলা নিয়া গেল রে! এইখানে রাখসিলাম, ১ মাস হয় নাই কিনসি। আল্লাহর দুনিয়ায় নামায পড়তে আইসাও শান্তি নাই!
নামায পড়া অবস্থাতেই নাফি সতর্ক হয়ে উঠল, পরিকল্পনা ছাড়াই চোখ চলে গেল কিছুটা সামনে রাখা তার নিজের জুতার উপর। এবং ঠিক তখনই সে দেখল একজন খুব সুন্দরভাবে তার জুতাগুলো নিয়ে যাচ্ছে। আমাদের নাফি, যার ইদানিং কপাল খারাপ বলে আমাদের মনে হচ্ছে, সে এরপর জুতা চোর ধরতে অথবা তার জুতা বাঁচাতে নামায ভেঙ্গেই দৌড়াতে শুরু করল। এক পর্যায়ে পেছন থেকে সেই লোকের কলার ধরে বলল, শালা কই যাস? জুতা দিয়ে যা!
লোকটা কোন বাহাস করল না। কিন্তু সেই লোক, যে নাফির নামাযের মাঝামাঝি পর্যায়ে জুতা হারানোতে চিৎকার করছিল আল্লাহর দুনিয়া্য ভাল মানুষ নেই বলে, তিনি এগিয়ে এলেন। জুতাচোরকে ধরেই ঠাশ ঠাশ দুই গালে চার থাপ্পড় আর বেশ কিছু ঘুষি দিয়ে বসলেন। বললেন, হারামজাদা মসজিদ থেইকা জুতা চুরি করস? আল্লাহর কাম করলেও শান্তি দেস না, মানুষ কই যাইব। বাইনচোদ বল, আর কতজনের জুতা চুরি করছিস? কবে থেইকা করস এসব?
ঘটনা দ্রুত জমে গেল। জুতা চোরের উপর অগণিত কিল-ঘুষি বা চড়-থাপ্পড় পড়তে লাগল। আর চারপাশে উৎসাহী জনতা চিৎকার করতে লাগল, ভাই আরও, আরও মারেন! হালার পোলারা মানুষরে নামায পড়তেও দেয় না। এগো লাইগাই তো দিন দিন মসজিদে মুসল্লি কইমা যাইতেসে! এত কমে ছাইরেন না। জিগান হালাগো গ্যাং কই আছে?
কয়েকজন যেন মজলুম জননেতাতে পরিণত হয়ে গেল, তারা সিদ্ধান্ত নিল মামলা করার। বক্তৃতা দেয়ার ছলে বলতে লাগল, ভাইসব, মানুষকে মসজিদে ফিরিয়ে আনতে হবে। এই যে শহরটাকে মসজিদের নগরী বলা হয় আমরা তো তা ভুলেই গিয়েছিলাম। কেন? এই জুতা চোরদের জন্যই তো ! ঢাকা শহরের জুতা চোরদের আমরা বের করবই! এটা হচ্ছে প্রথম ধাপ। একে দিয়েই আমরা প্রাথমিক তথ্য বের করব।
স্পটে জন্ম নেয়া এসব নেতাদের প্রস্তাবে প্রায় সবাই সাঁয় দিল। কিন্তু যেই না তারা বলল, চলুন সবাই গুলিস্তানে যাই ওখানে নাকি জুতাচোররা সব চোরাই জুতা বিক্রি করে; এরপর বেশির ভাগই নিজেদের কাজের অযুহাত দেখিয়ে চলে গেল। দেখা গেল, সব মিলিয়ে ৬-৭ জনের বেশি নেই।
জুতাচোর খুশি হয়ে গেল, কেননা এ যাত্রায় যে বেঁচে যাওয়া যাবে তা স্পষ্ট বোঝা যাচ্ছে এখন। অবশ্য জনতা থাকলেও বেঁচেই যেত। এ নিয়ে সপ্তমবারের মত সে ধরা খেয়েছে, সব বারই ধরা পড়ার পর একটা রোল পড়ে যায়। যত দ্রুত তা পড়ে, তার চেয়েও দ্রুত গতিতে উবে যায়। চোর ধরার পর মানুষ এমনভাব করে যেন আজই অঞ্চলের চুরি পেশার সমাপ্তি দেখিয়ে দিবে। কিন্তু সময় যেতে যেতে তারা নমনীয় হয়। তাদের মনে চোরের প্রতি ভালবাসার উদয় হতে শুরু করে, এবং একসময় মনে পড়ে চোরের বউ-বাচ্চার কথা, যারা চুরির এই জিনিসপত্রের উপরই জীবন সমর্পণ করেছে।
এ পর্যন্ত আমরা মনে হয় প্রসঙ্গের চেয়ে অপ্রসঙ্গ নিয়েই বেশি মাতামাতি করে ফেলেছি। এই চোর বা চুরি অথবা ঘটনাক্রমে জন্ম নেয়া জনতা ও জননেতা আমাদের গল্পের মূল বিবেচ্য নয়। আমরা এখন চলে যাব কপাল খারাপ নাফির কাছে।
২
নাফির কপাল খারাপ বলে কেন আমরা রায় দিয়েছি তার ব্যাখ্যাটা দেয়া প্রয়োজন। কিন্তু ব্যাখ্যার শুরুতেই আমরা দ্বিধাগ্রস্থ হয়ে যাই যে কোনটা রেখে কোনটা বলব। কাজেই ক্রমানুসারে বলাটাই শ্রেয়।
প্রথম ঘটনাটা ঘটেছিল সপ্তাহ দুয়েক আগে। তার এক খুব পছন্দের বড় ভাই তাকে একদিন ডাকে। এবং বলে, আজ বিকেলে একটা মিটিং আছে; তুই আসিস, জগবাজারে।
নাফি বড়দের সবসময়ই শ্রদ্ধা করে। শুধু বড় ভাই না, সে আসলে মার্জিত ও বিনীত বড়-ছোট সবার কাছেই। সেই বড় ভাই এরপর জগবাজার মোড়ের একটি বড় বিল্ডিং এর সামনে আসতে বলে। নাফি যায় এবং দেখে তার সেই বড় ভাই বিল্ডিং এর লিফটের সামনে দাঁড়িয়ে আছে। লিফটের পাশেই লেখাঃ এই লিফটটি শুধু 'মলম ২০০০ লিমিটেড' এর জন্য।
নাফির শ্রদ্ধেয় সেই বড় ভাই জোর করেই তাকে মলম কোম্পানির মেম্বার বানিয়ে দেয়। এবং এ জন্য তার থেকে ১২ হাজার টাকা নেয়। নাফি বলেছিল, ভাইয়া আমি ঈদের কেনাকাটা করব। তাছাড়া সামনে ডিপার্টমেন্টের ট্যুর। এই টাকা দিলে আমি আগামী ৩ মাস আর কিছু করতে পারব না।
সেই প্রিয় বড় ভাই তখন বলল, জীবনে তো কম জামা-কাপড় পরিস নি। আর ঘুরতে তো সারা জীবনই যেতে পারবি। এখন এটাই বেশি গুরুত্বপূর্ণ। তোর ভবিষ্যত হ্যালোজেন লাইটের মত উজ্জ্বল হয়ে যাবে। তখন করিস এসব !
নাফি আর না পেরে টাকা দেয়। সেই বড় ভাই এরপর উৎসাহী হয়ে বলতে লাগল, নাম মলম দেখে ভাবিস না আমরা মলম প্রোডিউসার ! আমাদের ব্যবসা শত শত ক্ষেত্রে বিস্তৃত! ইতিমধ্যে প্রায় ৪০ টি রেজিস্টার্ড কোম্পানি আছে।
নাফি বলল, ভাই এত কিছুর দরকার নাই। আপাতত আপনি একটা মলমই জোগাড় করেন।
বড় ভাই বলল, কেন?
'মাথাটা ঘুরান মারতেসে।' বলতে বলতে ফ্যাকাশে হয়ে গেল নাফি!
৩
এরপর পরিচিত বা অপরিচিত মানুষদের আর ভাল লাগে না নাফির কাছে। এমনকি ক্লাস শেষে যদি কোন বন্ধু তাকে ডাকত চা খেতে তাও সে ভীত হয়ে যেত। ভাবত, কে জানে কোন মতলবে ডাকছে!
একদিন এরপরও ক্লাস শেষে জোর করে তাকে কয়েকজন বন্ধু কার্জন হল নিয়ে গেল। তারা বলল, শেষ বাস তো ৫ টায়, আয় আজ ঘুরে আসি। কত দিন আড্ডা দেয়া হয় না। নাফি ভীত হয়, এসব বন্ধুদের সততা নিয়ে প্রশ্ন না থাকলেও মনে কেমন জানি করতে থাকে। তাছাড়া মলম কোম্পানির সেই ঘটনার পর সে প্রচণ্ডভাবে অর্থ সংকটে আছে। টিউশানির সাড়ে ৩ হাজার টাকায় মাস চালাতে হয়। দরকারি খরচ করতেই সে কূল পায় না, চা-সিগারেট বা আড্ডা এখন একদমই বিলাসিতা।
শেষমেষ তারা কার্জনে যায়। হলের পাশে পুকুরের সামনে বসে আড্ডা দেয়, কখনও হাঁটে মাঠে। সময় এগিয়ে যায় এবং একসময় ফোনে তারা আরও কয়েকজন বন্ধুকে ডাকে। আড্ডা এত জমে যায় যে ৫ টা বা সাড়ে ৫ টার বাস আজ আর ধরবে না বলে তারা সিদ্ধান্ত নেয়। একসময় সন্ধ্যা নামে। ঘড়ির কাঁটা ৭ পেরিয়ে ৮ এর দিকে ছুটতে থাকে। অনিচ্ছা সত্ত্বেও আড্ডার সমাপ্তি ঘোষণা করতে হয়।
নাফি অয়নের সাথে গুলিস্তানের দিকে পা বাঁড়ায়। একই বাসে করে তারা বাসাবো যাবে। এবং যেহেতু নাফির অর্থসঙ্কট চলছে তাই বাস ভাড়া অয়ন দিবে। সারাদিনের ক্লান্তি তেমন গায়ে লাগছে না। কার্জন থেকে বের হয়ে তারা বঙ্গবাজার পার হয়েছে। আর একটু এগোলেই নগর ভবন, তারপর গুলিস্তান মোড়।
নগরভবনের আগেই তাদেরকে একদল ছিনতাইকারী ধরল। এবং সাথে সাথে নাফির রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের 'বীরপুরুষ' কবিতাটির কথা মনে পড়ে গেল, যা আমরা ক্লাস ফোরের পাঠ্যবইয়ে পড়ে শিহরিত হতাম। নিরস্ত্র নাফি একাই চার ছিনতাইকারীর উপর লাফিয়ে পড়ল।
লাভ তেমন হল না। বরং সাহস দেখানোর কারণে একজন ধরে নাফির মাথায় পিস্তল দিয়ে বাড়ী দিল। অন্য জন তার গায়ের টিশার্ট খুলে রেখে দিল। সাথে থাকা মোবাইল, মানিব্যাগ সব খোয়াতে হল। প্রতিবাদ করার কারণে তার কাঁধের ব্যাগ থেকে বই-খাতা সব নিয়ে নালায় ফেলল ছিনতাইকারীরা। এরপর ৩০ সেকেন্ডের মধ্যেই তারা উধাও হয়ে গেল।
ফুলে থাকা মাথা আর খালি গায়ে জিন্স পরিহিত অবস্থায় রিকশায় করে বাসায় গেল নাফি ও অয়ন। অয়ন সান্তনা দিতে দিতে বলল, দোস্ত তাও ভাল, প্যান্ট রেখে দিলে কী করতি !
৪
দিন অতিবাহিত হয়। ঝামেলাপূর্ণ অথবা নির্ঝঞ্ঝাটভাবে। রোযা শুরু হয়, শেষও হয়ে আসে একসময়। অর্থাৎ ঈদের দিন এগিয়ে আসে। এবং যেহেতু রোযার ঈদ, কাজেই ঈদের জন্য কিছু কিনতেও হবে। নাফি এবার ঠিক করেছে শার্ট কিনবে। ফরমাল না, ক্যাজুয়েল। ঢোলাঢালা না, মোটামুটি ভাল ফিটিং এর।
এই শার্টের উদ্দেশ্যে যখন নাফি বেশ কয়েকটা ব্র্যান্ড ঘুরে উত্তরার 'ইনিফিনিটি'তে ঢুকল, তখনই একটা শার্টের দিকে তার চোখ আঁটকে গেল। এমনভাবে আঁটকাল যে সে অস্থির হয়ে পড়ল। এই শার্ট তাকে নিতেই হবে। চেকের মধ্যে, একটুও অতিরিক্ত কাপড় নেই শার্টটিতে, একদম পারফেক্ট শেইপের। এত বেশি ভাল লাগে যে কোন সেলসম্যানকে না ডেকে সে নিজেই হ্যাঙ্গার থেকে শার্টটা নামিয়ে বোতাম খুলতে লাগল। অর্থাৎ সে ট্রায়াল দিবে।
ঠিক এই সময় মহিলা এক সেলসম্যান এগিয়ে বলল, স্যার, শার্টটা কার জন্য?
নাফি ভ্রু কুঁচকে বলল, কার জন্য মানে ! আমার জন্য !
মহিলা বুদ্ধিমতী। চাঁপা গলায় বলল, স্যার এটা মেয়েদের শার্ট, এই অংশে সব মেয়েদের ড্রেস, আপনি খেয়াল করেন নি!
নাফির একদম সাথে ঘেষে দাঁড়ানো দুটি মেয়ে, যাদের একজন টি-শার্ট ও জিন্স পরিহিত; তারা হেসে উঠল।
বের হতে গিয়েও বিপত্তি। লজ্জার চোটে নাফি প্রায় দৌড়ে ইনফিনিটি থেকে বের হয়ে সামনের রাস্তায় যেতে লাগল, এবং বোধহয় বেশি তাড়াহুড়োর জন্যই ধাক্কা খেল ৩ জন হিজরার সাথে।
হিজরা দলনেতা বলল, কীরে! তুই ধাক্কা দিলি ক্যান? এইটা কি ফুটবল মাঠ পাইছস?
নাফি দুঃখ প্রকাশ করল। কিন্তু হিজড়ারা তাতে সন্তুষ্ট হল না। তারা তাকে ঘিরে ধরল। কোন কথা ছাড়াই একজন তার কোমরের উপর হাত দিয়ে বলল, কাতুকুতু আছে?
নাফির বেধড়ক লাফেই তারা বুঝে গেল ভাল মাত্রার সুড়সুড়ি আছে। কিন্তু তারা আর এ নিয়ে মাথা ঘামাল না। একজন বলল, কই যাইতাছিলি?
নাফি উত্তর দিল, বাসায়।
তারা বললল, কার বাসায়?
- আমার বাসায় !
- তোর বাসা কই?
- বাসাবো।
- তাইলে তুই এইখানে আইলি ক্যান !
- কেনাকাটা করতে?
'তুই থাকস বাসাবোতে, কিনতে আসছস এইখানে ! যাউকগা, ভিসা আছে উত্তরায় ঢুকলি যে?' - কথাটা বলেই এক সদস্য নাফির গায়ে হাত তুলল। বাজেভাবে হাত নাড়াতে থাকে সে শরীরে।
নাফি চিৎকার দিয়ে উঠে, এই কী চাস?
হিজড়াদের একজন বলল, তোকে চাই। বাসায় না, তুই আজ এখানে থেকে যা। আমাদের সাথে চল!
বৃহন্নলা দলকে ৫০ টাকা হাতে তুলে দিয়ে কোনমতে বাসে উঠল নাফি। এরপর ঠিক করেছে, এই ঈদে কিছু কিনবে না সে।
৫
নাফির ভাগ্য যখন বারবার খারাপ বলে আমাদের কাছে প্রতীয়মান হচ্ছে, তখন, রোযার ১৮ বা ১৯ তম দিনে এক রাতে তার কাছে ফোন আসে। আননোউন একটা নাম্বার থেকে। আননোউন নাম্বার দেখলে একসময় মানুষ উত্তেজিত হয়ে যেত। রিসিভ করে অসম্ভব নম্র ও স্মার্টলি হ্যালো বলত। কিন্তু সেই দিন ফুরিয়ে গেছে। কাজেই আমাদের নাফিও স্বাভাবিকভাবে হ্যালো বলল। এবং শুনল একটা নারী কণ্ঠ।
সেই রমণী স্বাভাবিকের চেয়ে অন্য লাইনে কথা বলতে লাগল। নাফি ফোন রিসিভ করে যখন জিজ্ঞেস করল কে, তখন মেয়ে জবাব দিল, আমি সে !
নাফি নড়েচড়ে বসল। বলল, কোন সে?
মেয়ে বলল, তোমার মনে যে দাগ কেঁটেছে সে।
নাফি বলল, মনে তো দাগ বহু বার, বহু জনে কেঁটেছে! তুমি কোন জন?
মেয়ে এরপর বলল, আমি হচ্ছি প্রথম জন !
আমরা যখন তাদের আলাপচারিতার এতটুকু পড়লাম, আমাদের মনে হয় এই মেয়ে হয়ত প্রণয় ঘটাতে চায়। কিংবা ফাজলামো করছে। অথবা সে যদি খারাপ হয়, তবে তার কোন উদ্দেশ্য আছে। কিন্তু আমাদের নাফির এত কিছু মনে করার সময় নেই। কারণ সে তাল হারিয়ে ফেলেছে, কেন না সে প্রথম জনের কথা শুনেছে। এবং এই প্রথম জনের কথা মনে পড়লেই নাফি তাল সবসময় হারিয়ে ফেলে। কাজেই এই জনের কথা একটু বলে নিলে বুঝতে সুবিধা হবে।
তখন ২০০৯ সাল। নাফির এইচএসসি পরীক্ষার রেজাল্ট দিয়েছে। কলেজে প্রচণ্ড ভিড়, চারপাশে চরম জয়োল্লাস। সবসময় বন্ধ থাকা কলেজ গেইট আজ খোলা, যার ফলে অভিভাবক বা ছাত্রদের বন্ধুবান্ধব সবাই ঢুকছে। নোটিশ বোর্ড যার সামনে ও আশেপাশের কয়েক দশেক ফিটের মধ্যে উপচেপড়া ভিড়, সেখানে আমাদের নাফিও দাঁড়িয়ে আছে। নিজের রেজাল্ট (এ প্লাস) এ নিয়ে সে চারবার দেখেছে, তারপরও ভিড়ের মধ্যে ধাক্কাধাক্কি করছে।
এই অবস্থার মধ্যেই তার জীবনে প্রথম জন আসে। নটরডেম কলেজের নোটিশ বোর্ডের অনিঃশেষ ভিড়ের সামনে এসে সে নাফিকে বলে, ভাইয়া, এই রোলের রেজাল্টটা কি একটু দেখে দিতে পারবেন?
নাফি তাকিয়ে অবাক হয়ে যায় - এই মেয়ে কী এ পৃথিবীর কেউ?
রেজাল্ট বলার পরই মেয়েটি ধন্যবাদ দিয়ে চলে যায়। কিন্তু নাফির ইচ্ছে করছিল মেয়েটির হাত টেনে ধরে তাকে থামিয়ে দেয়ার। কিন্তু হায়, আমরা মানুষ! আমাদের যা খুব ইচ্ছে করে একদম কদাচিৎ-ই আমরা তা করতে পারি।
প্রসঙ্গ থেকে আমরা বারবার অপ্রসঙ্গতে স্থানান্তরিত হচ্ছি। আমরা বরং সেই অসমাপ্ত আলাপচারিতাতেই চলে যাই আবার।
নাফি যখন শোনে এই মেয়ে 'সেই জন', তখনই সে অস্থির হয়ে যায়। 'প্রথম জন' ধরা দিয়েছে, তার মানে সে যে স্রষ্টার কাছে বারবার প্রার্থনা করত তা মঞ্জুর হয়েছে। সে এরপর কোনভাবে আলাপান শেষ করে। এই বলে শেষ করে যে তারা নিয়মিত যোগাযোগ রাখবে।
নিয়মিত বলতে সম্ভব হলে প্রতিদিন।
আমরা হয়ত বলতে পারি যে বাছবিচার ছাড়াই নাফি এমন করছে কেন? এটাই যে সে মেয়ে তার নিশ্চয়তা কী? কিন্তু নাফির কাছে 'প্রথম জন' মানেই ভুবন ভুলে কল্পরাজ্যের সাজানো বাগান। যে বাগানে আমাদের কারও প্রবেশাধিকার নেই।
আমরা যেহেতু নাফির আবেগের মর্ম বুঝতে পারি না, কিংবা তার কল্পিত বাগানের কিছু জানি না; কাজেই এ ব্যাপারে আমাদের প্রশ্ন তোলা অবান্তর। প্রশ্ন যদি করিও, নাফির কিছু যায় আসে না।
৬
এরপর ফোনালাপ চলতেই থাকে। প্রতিদিন। রাত ১২ টার পর শুরু হয়ে তা ১ টা পর্যন্ত অব্যাহত থাকে, মাঝে মাঝে ঘড়ির কাঁটা ২ বা ৩ এর ঘরেও চলে যায়।
সমস্যা শুরু হল সপ্তাহ দুয়েক পর। সেই মেয়ে ফোনে টাকা চাইল। তা সে বা যেকোন বন্ধুই অন্য বন্ধুর কাছে চাইতে পারে। কিন্তু দেখা গেল সেই মেয়ে নিয়মিতভাবে টাকা চাচ্ছে। চাওয়ার পরিমাণটাও বাড়াবাড়ির পর্যায়ে চলে যেতে লাগল ধীরে ধীরে। নাফি যে একজন ছাত্র, তাকে যে চলতে হয় মাস শেষের টিউশানির টাকায়, এই সাধারণ ব্যাপারটিও যেন মেয়েটি বুঝতে পারছে না। নাফি ভাবল কয়েক দিন পর মেয়ে ঠিক হয়ে যাবে।
কিন্তু মেয়ে ঠিক হল না। সে বরং এরপর বিভিন্ন জিনিসও চেয়ে বসা শুরু করল। নাফি এক পর্যায়ে বিরক্ত হয়ে গেল। কিন্তু করারও তেমন কিছু নেই। কেননা নামায পড়ে প্রার্থনার সময় আল্লাহকে সে বলতঃ আল্লাহ যত কিছুর বিনিময়ে হোক, তুমি শুধু 'প্রথম জন'কে ফিরিয়ে দাও।
সে তো বলেছিলই যত কিছুর বিনিময়ে হোক একে তার চাই-ই চাই। আল্লাহ যখন প্রার্থনা মঞ্জুর করে সেই জনকে ফিরিয়ে দিয়েছে, এখন ৪, ৫ বা ১০ হাজার টাকার জন্য কীভাবে নাফি প্রতিজ্ঞা ভঙ্গ করবে !
৭
এভাবে চলতে থাকে। একটা সময়ে মেয়ের কথার মধ্যে মাধুর্য প্রায় বিদায় নেয়। বিদায় নেয় লজ্জা-শরম কিংবা ভালভাবে বললে শালীনতাবোধ। আরও বিদায় নেয় কোমলতা ও মিষ্টিভাব।
মেয়েটি, যার আবির্ভাব ও অবস্থান - সন্দেহ এবং অনিশ্চয়তার মধ্যে, সে এক পর্যায়ে নাফিকে ফোনে বাজে সব ইঙ্গিত এবং আরও কিছু দিন পর অফার দিতে শুরু করে। অর্থাৎ চূড়ান্তভাবে মেয়েটিই 'লিঠনের ফ্ল্যাট' এ যাওয়ার আমন্ত্রণ জানায়।
একটু বেশি সরল কিংবা আদর্শবান বলেই নাফি সে ডাক উপেক্ষা করে যায়। এক দিন, দুই দিন করে এক, দুই সপ্তাহ। এবং এক সময়ে তা মাসের গণ্ডিতে গিয়ে পড়ে।
সেই মেয়ে শেষমেষ রেগে গিয়ে বলল, কেন যেতে চাও না? তোমার 'মেশিনে' কি কোন সমস্যা আছে !?
ফোন রেখে দিল নাফি। যেই মেয়ে এত অবলীলায় 'মেশিন' বলে ফেলতে পারে, সে কোনভাবেই 'প্রথম জন' হতে পারে না। পারে না স্বপ্নরাজ্যের নায়িকা হতে। কোনভাবেই হতে পারে না।
৮
মানুষ স্বভাবতই প্রণয়ী। কিন্তু নাফির ক্ষেত্রে চিরন্তন এই সত্যটি আমাদের গল্পটি শুরুর আগে খাঁটানো যেত না। কেননা মেয়ে বা নারী নিয়ে অন্য সব ছেলের মত ব্যকুল সে কখনও ছিল না।
সেই নাফি এই ঘটনার পর মানসিকভাবে কিছুটা বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে। এত গোছানো একটা জীবনে কী দরকার ছিল ঘটনাটি ঘটার? আমরা যদি জীবনের খারাপ ঘটনা বা দূর্ভাগ্যগুলোকে এমনকি 'পাপের ফল' বলেও ধরে নেই, তাও নাফির ক্ষেত্রে এই ঘটনা ঘটাটা বেশি হয়ে যায়। কেন না, নাফি জানে, এবং যারা নাফিকে চিনে তারাও জানে নাফি জীবনে পাপ করে নি।
সময়ের সাথে সাথে সব ঠিক হয়ে আসে। হয়ত পুরোপুরি না, কিন্তু প্রায় আগের মতই স্বাভাবিক পর্যায়ে আসে সবকিছু। যখন আসে, একদিন, ভার্সিটিতে ক্লাস সকাল সাড়ে নয়টায়, নাফি একটু দেরি করে ফেলে আসতে। স্যার ক্লাসে ঢুকেই দরজা সবসময় লক করে দেন। অর্থাৎ 'if are being late, you are not allowed to join the class'।
নাফি এসে দেখে দরজা লক। যেহেতু সে দেরি করেই ফেলেছে, তাই সে আর এই ক্লাসটির অংশ হতে পারবে না। হতাশ হয়ে লকার থেকে হাত সরিয়ে যখন নাফি বাঁ দিকে তাকাল, তখনই দেখল সপ্নীল (তার এক ক্লাসমেট) গ্রিল ধরে নিচে তাকিয়ে আছে। এবং তার দিকে তাকিয়েই নাফির মনে হল, আরে এই মেয়ে তো দেখতে 'প্রথম জনের' ডুপ্লিকেট!
ভাল করে তাকাল নাফি আবার। না, কোন ভুল নেই। এই মেয়ে হুবহু একইরকম। নাকি এ-ই সেই জন? কী আশ্চর্য, গত দেড় বছরে বিষয়টা নাফি একবারও খেয়াল করল না !
স্বপ্নীল কি আসলেই নাফির প্রথম জনের মত কি না আমরা জানি না। হয়ত প্রথম জন ও প্রতারকণীর কারণে সৃষ্ট হওয়া মানসিক অবস্থা থেকেই নাফির মনে এ বিভ্রম তৈরি হয়।
৯
এত দিন যাকে ক্লাসের অন্য সব মেয়েদের মতই লাগত নাফির কাছে, সেই মেয়ে এরপর থেকে স্পেশাল হয়ে যায়। নাফি যেহেতু নারী বা প্রণয়ের ক্ষেত্রে অনাগ্রহী ছিল এত দিন, কাজেই এখন দরকারের সময় সে অপটু। তার ভেতর উথাল-পাতাল চলে, কিন্তু সে কাউকে কিছু বলতে পারে না।
নাফি, আমাদের গল্পের নায়ক, যাকে দুর্ভাগ্যবান মনে হওয়ায় আমাদের কাছে খারাপ লাগছিল; এবং যে নিরেট ভাল মানুষ শুনে আমাদের কাছে ভাল লাগছে, তার দিন এরপর অন্যরকম অস্থিরতায় কাটতে থাকে। গত দেড় বছর প্রতিদিন সে সামনের বেঞ্চে বসত, এরপর থেকে ক্লাসের মাঝামাঝি কোন রোতে সে বসতে শুরু করল। কেন না সামনে বসলে স্বপ্নীলকে দেখা যায় না, সে বসে দ্বিতীয় বা তৃতীয় রোতে।
নাফি ক্লাসে আগে আসে, এসে হয়ত কারও কারও সাথে কথা বলে, অথবা বলে না; তার মন পড়ে থাকে একদিকে, চোখ খুঁজতে থাকে শুধু একজনকেই। ক্লাস যখন শুরু হয়, এত দিনকার মনোযোগী ছাত্র নাফির মনোযোগ আর শিক্ষকের লেকচার কেন্দ্রীভূত থাকে না। সমস্ত কিছু এখন একদিকেই একীভূতঃ স্বপ্নীল।
হয়ত স্বপ্নীলও লক্ষ্য করে নাফির এই পরিবর্তনকে। কারণ এত দিনের সামনের বেঞ্চের নাফিকে সে এখন তার পেছনে বসতে দেখে প্রতিদিন। এবং তার দিকে তাকালে তাদের দুজনেরই চোখাচোখি হয়। বলতে গেলে প্রায় প্রতিবারই।
এছাড়াও, মেয়েরা খুব সহজেই প্রেম ধরতে পারে। কাজেই স্বপ্নীল অবশ্যই জানে নাফির কথা। স্বপ্নীল বোধহয় চায়ও তা; কেননা, অন্য সবার মত সেও জানি, নাফি ভাল মানুষ। মনোযোগী ছাত্রও।
১০
এই মনস্তাত্বিক অবস্থা নিয়ে অন্যদিনের মত আজও নাফি ক্লাসে এসেছে। এসে বসেছে মাঝামাঝি এক রোতে। ১১ টায় ক্লাস, সোয়া এগারটা বাজে। স্যার বোধ হয় আজ আর আসবেন না।
ক্লাসের মাঝামাঝিতে গোল হয়ে অনেকে বসে আছে। নাফির হঠাৎ ইচ্ছে হল আজ তাদের সাথে যোগ দিতে। এবং যোগ সে দিল। আড্ডার ইস্যু ধীরে ধীরে রাজনীতির দিকে এগিয়ে আসে। এক পর্যায়ে তা সিরিয়াস লেভেলে চলে গেল। মূল অংশগ্রহণকারী নাফি ও নাঈম। বন্ধুমহলে মজা করে নাঈমকে ক্ষ্যাপা নাঈমও ডাকা হয়। কারণ তুচ্ছ কারণে মাঝেমধ্যে সে রেগে যায়, এবং রাগলে তার স্বাভাবিক বুদ্ধিজ্ঞান লোপ পায়।
আলোচনার বিষয়ঃ বিএনপি-আওয়ামী লীগ। এই বিতর্কটি দেশের সবচেয়ে অনর্থক এবং গোলমেলে, তারপরও সবচেয়ে জনপ্রিয়। বিতর্ক স্বাভাবিকভাবেই মুক্তিযুদ্ধ এবং মুক্তিযুদ্ধ পরবর্তী সময়ে বিভিন্ন কিংবদন্তী ব্যক্তিত্বের ভূমিকা, অবদান, সততা ও দেশপ্রেম থেকে শুরু করে বর্তমান বাংলাদেশের রাজনীতি নিয়ে গড়ায়। এবং ফলাফলও সবগুলোর মত - কেউই হার মানতে চায় না, দুই পক্ষ নিজেদের শ্রেয়তর আর অন্যদের চোর-বাটপার-দালাল সহ সম্ভাব্য সব গালিগালাজ করতে থাকে।
এক সময়ে বিতর্ক আর স্বাভাবিক থাকে না। মারামারি প্রায় বেঁধে যায়। এবং আমাদের ক্ষ্যাপা নাঈম রেগে-ক্ষেপে অস্থির হয়ে নাফিকে বলে, তুই আমার থেকে বেশি জানস?
উত্তেজিত থাকায় নাফি বাজেভাবে উত্তর দেয়, তুই জানিস আমার বাল !
এরপর নাঈম উড়ে গিয়ে, তার আট-দশ জন সহপাঠীকে উপেক্ষা করে নাফিকে সজোরে এক ঘুষি দেয়। নাফি ছিঁটকে গিয়ে পড়ে প্রায় ২ ফিট দূরে। সবাই মিলে নাঈমকে থামায়। আর আমাদের নাফি পড়ে থাকে নিচে। কয়েকজন যায় নাফিকে তুলতে, আর সান্ত্বনা দিতে - দোস্ত থাক, ওকে পরে ব্যবস্থা করব, তুই এখন শান্ত থাক।
নাফি কিংকর্তব্যবিমূঢ় হয়ে যায়। তার এই ১৪ বছরের ছাত্রজীবনে এই প্রথম তার কোন সহপাঠী তার গায়ে হাত তুলল। এই শোকে সে যেন মূর্ছা যাবে।
ঘটনায় সৃষ্টি হওয়া হৈ-হুল্লোড় কারোরই নজর এড়িয়ে যায় নি। সবাই দেখে নাফি নিচে বসে বা পড়ে আছে। সবার মনেই দুঃখবোধ, আহারে একটা ছেলেকে এভাবে মারল? তাও ভাল ছেলেকে?
নাফির এই অবস্থায় স্বপ্নীল এগিয়ে যায়। পুরো ক্লাসের সামনে তার হাত ধরে টেনে তুলে। বলে, চল, আমরা বের হয়ে যাই। আজ আর ক্লাস করব না!
নাফি এবার আরও হতভম্ব হয়ে যায়। সে স্বপ্নীলের হাত ধরে। তারা এগিয়ে যায়। সমস্ত ক্লাস তাকিয়ে থাকে। কী হল আজ? এমন অস্বাভাবিক দুটি ঘটনা কীভাবে ঘটে একই দিনে !
অনেকে নাফিকে ভাগ্যবান বলে। বলে, শালার লাক দেখ, ঘুষি খেয়ে কপাল খুলে গেল!
১১
ফুলার রোড। উদয়ন স্কুলে সকালের শিফট ছুটি হয়ে দুপুরেরটা শুরু হয়। তাদেরও ছুটি হয়ে যায়। বিকেলের দিকে বাইক নিয়ে এসে মাম্মি-ডেডির ছেলেরা শো-অফ করে।
চোখের সামনে পুরো দুপুর পার হয়। বিকেলও পার হওয়ার পথে। নাফি ও স্বপ্নীল বসে আছে রাস্তা ও ফটপাতের মাঝামাঝিতে। তারা কথা বলে, বলেই যাচ্ছে। মাঝে মধ্যে স্বপ্নীল নাফির হাত ধরে। লাজুক নাফি একটু পর পর হাত ছাড়িয়ে নেয়।
একসময় চাওয়ালা আসে। নাফি বলে, কী ব্যাপার তোমাকে চেনাচেনা মনে হচ্ছে!
চাওয়ালা বলে, ভার্সিটিতে আপনি পড়েন আর আমি চা বেচি। চেনা মনে হইবই তো মামা।
নাফি সন্দেহ প্রকাশ করে, না তোমাকে অন্য কোথাও দেখেছি। চা বিক্রি করতে নয়।
চাওয়াল বলে, কী যে কন মামা !
নাফির মনে পড়ে যায়, হ্যাঁ তুমি তো সেই জুতা চোর, নামায শেষে আমার জুতা চুরি করতে গিয়ে ধরা পড়েছিলে?
চাওয়ালা আর লুকায় না কিছু। বলে মামা, হ আমিই সেই জুতাচোর !
নাফি বলল, চুরি ছেড়েছ তাহলে? যাক ভাল।
চাওয়ালা হাসে। বলে, না মামা, নামাযের আগে মসজিদে যাই গা। বাকি সময় চা ফেরী করি !
এমন চমকপ্রদ উওরে অবাক হয় না নাফি। বরং বিজ্ঞের মত বলে, তাই ভাল, এক কাজ করে জীবন চালানো কঠিন হয়ে গেছে এ আমলে! দাও, এখন দু কাপ চা দাও।
চা খেতে খেতে নাফি জুতা চুরির কাহিনী বলে স্বপ্নীলকে। তারা হাসে। এত দিনের শান্ত নাফি আরও কত কথা যে বলছে। স্বপ্নীল শোনে। নাফি থামলে সে বলা শুরু করে। দুজন এভাবেই সময় কাটায় - কথক, শ্রবণকারী ও শান্ত তরুণ-তরুণী বা প্রেমিক-প্রেমিকার ভূমিকায়।
একসময় সন্ধ্যা নেমে আসে। সূর্যের বদলে রাতের চাঁদ পৃথিবীকে আলোময় করে রাখে। ক্লান্ত স্বপ্নীল নাফির কাঁধে মাথা রাখে। যেন এখনই সে ঘুমিয়ে পড়বে। তারপর উঠে বাসায় যাবে।
স্বপ্নীল মনে হয় সত্যি সত্যিই ঘুমিয়ে যায়। চারপাশে নীরবতা নেমে আসে। কিছু বলে না নাফি। কী বলবে? নৈশঃব্দ আর অন্ধকারই উপভোগ্য বেশি এখন। অন্য যেকোন কিছুর চেয়ে।
====০০০০০=====
Sazib
10.08.2012

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



