ঢাকা, এপ্রিল ২৩: ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) গত ৫ কার্যদিবস ধরে কমছে লেনদেনের পরিমান। এ ক’দিনের ব্যবধানে লেনদেনের পরিমান প্রায় অর্ধেকে নেমে এসেছে। বাজারের স্বাভাবিক আচরণ দেখেই বিনিয়োগকারীরা লেনদেনে সক্রিয় হয়েছিলেন। যে কারণে লেনদেন অনেকটা বেড়েছিল। বাজারে সূচকের উত্থান-পতন এখনো স্বাভাবিক অবস্থায় রয়েছে। এখনো সার্বিকভাবে বাজারে গত দেড় মাসের ইতিবাচক আচরণ অব্যাহত রয়েছে। তাই বজার নিয়ে দুঃশ্চিন্তার কোনো কারণ নেই বলে মনে করছেন বাজার সংশ্লিষ্টরা।
গত দেড় মাস ধরে বাজারে স্থিতিশীলতার কারণে লেনদেন পরিমান ১২’শ কোটি টাকা অতিক্রম করেছিল। তবে গত ৫ কার্যদিবসে তার পরিমান ধারাবাহিকভাবে কমে গতকাল ৬৫৩ কোটি টাকায় নেমে আসে। তবে আজ হরতালের পরও লেনদেন ৯০০ কোটি টাকা ছাড়িয়ে যাওয়ায় স্বস্তি প্রকাশ করেছেন সংশ্লিষ্ট সবাই। তবে গত কয়েকদিনের লেনদেন কমে যাওয়া নিয়ে প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের মধ্যে নেতিবাচক ধারণা সৃষ্টি হয়নি। বরং বাজারে এখনো স্বাভাবিক পরিস্থিতি বিরাজ করছে বলে মনে করেন মার্চেন্ট ব্যাংকার্সরা। তারা বলেন, ধসের পর বাজারে লেনদেনের পরিমান ২’শ কোটি টাকার নিচে নেমে গিয়েছিল। বাজারের স্বাভাবিক আচরণের কারণেই তা পুনঃরায় ১২’শ কোটি টাকা অতিক্রম করেছে। তাই লেনদেনের পরিমান কিছুটা কমলেও দুঃশ্চিন্তার কিছু নেই বলে মনে করেন তারা। কারণ বাজার স্বাভাবিক আচরণে থাকলে লেনেদের পরিমান বাড়বে।
আজ বিভিন্ন মার্চেন্ট ব্যাংকের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বললে তারা বাজারের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে ইতিবাচক মন্তব্য করেন। কারণ হিসেবে তারা বলেন, গত ৬ ফেব্রুয়ারি ডিএসইর সাধারণ সূচক ছিল ৩ হাজার ৬১৬ পয়েন্ট। আজ যা ৫ হাজার ৪০০ পয়েন্টে অবস্থান করছে। ৫২ কার্যদিবস বা প্রায় আড়াই মাসের ব্যবধানে সূচক বেড়েছে ১ হাজার ৭৫১ পয়েন্টের বেশি। এ সময়ের মধ্যে সূচকের ওঠানামাও ছিল স্বাভাবিক। অর্থাৎ বাজারের স্বাভাবিক আচরণ দেখেই বিনিয়োগকারীরা লেনদেনে সক্রিয় হয়েছেন। আর বাজারে স্বাভাবিক ওঠানামা থাকলে বিনিয়োগকারীদের আগ্রহও বজায় থাকবে। এতে লেনদেনের পরিমানও আস্তে আস্তে বাড়বে বলে মনে করেন তারা।
এ প্রসঙ্গে বাংলাদেশ মার্চেন্ট ব্যাংকার্স এসোসিয়েশনের (বিএমবিএ) সভাপতি মোহাম্মাদ এ হাফিজ বলেন, গতকাল এবং আজকের লেনদেনের বিষয়টিকে স্বাভাবিক বলা যাবে না। কারণ হরতালের কারণে বিনিয়োগকারীদের উপস্থিতি অনেক কম। এরমধ্যে লেনদেন ৬’শ কোটি টাকা ছাড়িয়েছে তা প্রত্যাশার চেয়ে অনেক বেশি। তবে এর আগের ৪ কার্যদিবসে লেনদেনের পরিমান ধারাবাহিকভাবে কমেছে। কিন্তু সূচকের উত্থান-পতন ছিল স্বাভাবিক। তাই বাজারে স্থিতিশীলতা থাকলে লেনদেনের পরিমান বাড়বে এটাই স্বাভাবিক। এতে বিনিয়োগকারীদের দুঃশ্চিন্তার কিছু নেই।
তিনি আরো বলেন, ইতোমধ্যে ব্যাংকসহ অনেক প্রতিষ্ঠান বিনিয়োগে ফিরেছে। সব প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের সক্রিয় অংশগ্রহণে লেনদেনর পরিমান আস্তে আস্তে আশানুরুপপর্যায়ে উঠবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।
অপর এক মার্চেন্ট ব্যাংক কর্মকর্তা বলেন, শেয়ার বিক্রির ক্ষেত্রে অব্যাহতি চেয়ে এসইসিকে আইসিবির চিঠির বিষয়টি নিয়ে অনেক বিনিয়োগকারীর মধ্যে আলোচনা করতে দেখা গেছে। ফান্ডগুলো শেয়ার বিক্রি শুরু করলে সেল প্রেসার বেড়ে সূচকের পতন হতে পারে ভেবে অনেকই লেনদেন থেকে বিরত ছিল। তবে বাজারে এখন প্রচুর পরিমান ক্রেতা-বিক্রেতা রয়েছে, যে কারণে বিনিয়োগকারীদের দুঃশ্চিন্তার কোনো কারণ নেই বলে মন্তব্য করেন তিনি।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



