বেগম রোকেয়া সাখওয়াত তার অর্ধাঙ্গী প্রবন্ধে বাংগালী নারী ও পূরুষের জ্ঞানের সীমা, ব্যাপ্তির পার্থক্য তুলে ধরতে রবীন্দ্রনাথের “ নবদম্পতির প্রেমালাপ ” –এর কয়েক লাইন তুলে ধরেন । লাইনগুলো
বর : কেন সখি কোণে কাদিছ বসিয়া ?
কনে : পুষি মেনিটিরে ফেলিয়া এসেছি ঘরে ।
বর : কী করিছ বনে কুঞ্জভবনে?
কনে : খেতেছি বসিয়া টোপা কুল।
* * *
বর : জগৎ ছানিয়া , কি দিব আনিয়া জীবন করি ক্ষয়? তোমা তরে সখি, বল করিব কী ?
কনে : আরো কুল পাড় গোটা ছয়।
* * * *
বর : বিরহের বেলা কেমনে কাটিবে ?
কনে : দেব পুতুলের বিয়ে।
আমাদের এক জন ব্লগার খুব সমস্যায় আছেন । তার সমস্যা রাজাকার শব্দ নিয়া । কারন শব্দটি বাংলা নাকি ঊর্দূ তা নিয়া তিনি সন্দিহান । তিনি রাজাকার শব্দকে খাটি বাংলা শব্দ হিসাবে গ্রহন করতে আগ্রহী । তার লেখা চুম্বক অংশটুকু তুলে দিলাম ।
মীরজাফরের বেঈমানীর কারণে আজ যে কোন বেঈমানকে মীরজাফর বলে ডাকা হয়, তাহলে রাজাকারদের ভূমিকার কারণে আমরা যে কোন স্বাধীনতা বিরোধী, খুনি, ধর্ষক, দালাল কে রাজাকার বলে ডাকতে পারি। এবং মানুষের সংখ্যাগরিষ্ঠতার কারণে আমরা এই শব্দ দুটিকে বাংলা ভাষায় খাঁটি বাংলা শব্দ রূপে সংযুক্ত করতে পারি। যেহেতু ভাষা মানুষের বাক চাহিদার উপর ভিত্তি করে জন্ম নিয়েছিলো এবং যেকোন পূর্ণাঙ্গ ভাষাই প্রথমে কথ্য, পরে লেখ্য হয় সেহেতু “মীরজাফর” এবং “রাজাকার” শব্দ দুটি মানুষের বাক চাহিদা এবং ব্যবহারের উপর ভিত্তি করে খাঁটি বাংলা শব্দ রূপে আনুষ্ঠানিক আত্মপ্রকাশের দাবী রাখে।
৩৭ বছর আগে যে শব্দের অর্থ চিরস্থায়ী হয়ে গেছে বাংলাদেশের ভাষা, সংস্কৃতি, সমাজ, রাজনীতি, অর্থনীতি তথা রাস্ট্রের প্রতিটি ক্ষেত্রে, সে শব্দকে আজ নতুন করে খাটি না ভেজাল বাংলা শব্দ নির্ধারনের চেষ্টার মানে কি ? খাটি বাংলা শব্দ হলেই কি অর্থের গভীরতা বৃদ্ধি হবে ? রাজাকার শব্দটি খাটি বাংলা করলেই কি সব রাজাকার সংক্রান্ত সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে ?
বাংলাতে একটা কথা আছে “ মারিতো গন্ডার লুটিতো ভান্ডার ” রাজাকারের বিচার কিভাবে করা যেতে পারে কি আইনি পন্থা অবলম্বন করা উচিত , কি ভাবে আন্তঃজাতিক সমাজে গ্রহনযোগ্য যৌক্তিক করা যায় তা না ভেবে , আমাদের ব্লগার ভাবছেন রাজাকার শব্দটি খাটি বাংলা কিনা ।
আজ রবীন্দ্রনাথ বেচে থাকলে হয়তো এদের মতো শিশু পূরুষদের নিয়েও কিছু লিখতেন । শতহোক এদের চিন্তার ব্যাপ্তি গোটা ছয় টোপা কূলের মধ্যেই সীমা বদ্ধ ।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

