বাংলাদেশের জনসংখ্যা, অর্থনীতি, মুদ্রাবাজার ইত্যাদির ব্যাপকতা বিশ্লেষণে বর্তমানে প্রচলিত সকল ব্যাংক নোটের সহজ বিনিময় ব্যবস্থা জরুরি। এর প্রধান অন্তরায় ব্যাংক নোটের অপ্রতুলতা ও সহজলভ্য বিনিময় ব্যবস্থা। এক্ষেত্রে বর্তমানে প্রচলিত নোটের পাশাপাশি ২৫, ৭৫ ও ২০০ টাকা মূল্যের ব্যাংক নোটের প্রচলন হলে মুদ্রাবাজারে সর্বসাধারণের জন্য তা সহজ বিনিময় যোগ্য হত। এতে ভাংতি আদান-প্রদানের সমস্যা দূর হয়ে খুবই মসৃণভাবে দৈনন্দিন অর্থনৈতিক কর্মকান্ড পরিচালনা করা সম্ভব হত।
বাংলাদেশে প্রচলিত ব্যাংক নোটসমূহ পৃথিবীর অন্যান্য দেশের মুদ্রার সাথে তুলনা করে বলা যায় এর ডিজাইন, মাপ/আকার, নিরাপত্তা, ছাপা, রং-এর ব্যবহার নিম্নমানের। বাংলাদেশে আন্তর্জাতিক মানের বহু গুণী ডিজাইনার থাকা সত্ত্বেও আমাদের কাগুজে নোট দেখলে সস্তা লটারীর টিকিটের মতো মনে হয় কেন? বাংলাদেশে বহু সুন্দর দৃষ্টিনন্দন স্থাপনা ও প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের দৃশ্যপট রয়েছে যা ব্যাংক নোটে ছাপালে নতুন প্রজন্মের নিকট দেশের পরিচিতি বৃদ্ধি পাবে। টাকার প্রতিটি মূল্যমান ভেদে পরিমাপও কেন পরিবর্তন হবে? নকল এড়াবার বহু পথই আছে।
আমি মনে করি, ৫, ১০, ২০, ২৫, ৫০, ৭৫ মূল্যমানের নোটসমূহ (৬টি) একই পরিমাপের (আকার) হলে ভাল হবে। অন্যদিকে ১০০, ২০০, ৫০০, ১০০০ টাকা মূল্যমানের নোটসমূহ (৪টি) একই পরিমাপ (আকার) অর্থাত্ ০২ পরিমাপের (আকারের) স্তর করা যেতে পারে। রং বদল করে পুনরায় ছাপ দিয়ে নকল রোধ করার নিমিত্তে প্রতিটি মূল্যমানের নোটের নিরাপত্তা সুতা আলাদা রংয়ের সুতায় সংশ্লিষ্ট মূল্যমান ও শব্দ আলাদাভাবে লেখা থাকলেই নোটের মূল্যমান ও আসল-নকল চিহ্নিত করা খুবই সহজ হবে সকলের কাছে। টাকার ডিজাইন, মান, রং ইত্যাদি উন্নত ও উচ্চতর আকর্ষণীয় হতে হবে যেন আমরা গর্ববোধ করতে পারি। সেই সাথে নোট ছিদ্র করা, লেখালেখি করা, অযত্ন করা অপরাধ হিসেবে গণ্য করতে ব্যবস্থা গ্রহণ একান্ত প্রয়োজন। নোটের সদ্ব্যবহার, যত্ন ও টেকসই করতে জনসচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে গণমাধ্যমে প্রচারণা চালাতে হবে।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



