বলতে গেলে হঠাত্ করেই দেশের প্রায় প্রতিটি ব্যাংক আমানতের সুদের হার বাড়িয়ে দিয়েছে। ২০১০ সালের ডিসেম্বরে বা ২০১১ সালের জানুয়ারীতে যেখানে রাষ্ট্র-মালিকানাধীন ব্যাংক আমানতের ওপর গড়ে ৭.৫% হারে এবং বেসরকারিব্যাংক গড়ে ১০% সুদ প্রদান করতো- ফেব্রুয়ারী-মার্চ মাসে এসে ঐ সমস্ত ব্যাংক আমানতের উপর সুদের হার গড়ে ৩ থেকে ৩.৫% বৃদ্ধি করেছে। ইতোমধ্যে বাংলাদেশ ব্যাংক বেসরকারি ব্যাংকের সুদের ১২% এবং সরকারি ব্যাংকের সুদের ৯% নির্ধারিত করে দিয়েছিল কিন্তু সেটা ব্যাংকগুলো মানতে চায়নি বা মানতে পারেনি, কারণ তাদের ভাষ্যমতে, তারল্য সংকট কাটিয়ে উঠতে একদিকে আমানতের উপর এবং অন্যদিকে ঋণের উপর সুদের হার আরও বৃদ্ধি করতে প্রস্তুত আছে। ব্যাংকসমূহের চাপে বাংলাদেশ ব্যাংক শেষ পর্যন্ত আমানত ও ঋণের সুদের হারের উপর থেকে বিধি-নিষেধ প্রত্যাহার করে নিতে বাধ্য হয়েছে। বর্তমানে আমানতের উপর সরকারি ব্যাংক সর্বোচ্চ ১১% এবং বেসরকারি ব্যাংক ১৪% পর্যন্ত সুদ প্রদান করে তারল্য সংকট দূর করার চেষ্টা করছে।
তারল্য সংকটের বাস্তব পরিস্থিতি: বাংলাদেশ ব্যাংক বলছে কোন তারল্য সংকট নেই। বরং ব্যাংকগুলোতে বর্তমানে ২৪,০০০ কোটি টাকার অতিরিক্ত তারল্য বিরাজ করছে (মানবজমিন ১৪-৩-২০১১)। তন্মধ্যে সরকারি ব্যাংকসমূহে ১০ হাজার কোটি এবং বাকিটা বিদেশীসহ বেসরকারি ব্যাংকে রয়েছে। অথচ বাস্তব পরিস্থিতি প্রত্যক্ষ করলে এ তথ্য কোনভাবেই বিশ্বাস করা যায় না, কারণ সরকারি ও বেসরকারি ব্যাংকসমূহ এক কাতারে দাঁড়িয়ে কে কত উচ্চহারে সুদ প্রদান করে আমানত সংগ্রহ করবে তার প্রতিযোগিতায় মেতে উঠেছে। তাহলে অতিরিক্ত তারল্যের বিষয়টা কি ভুয়া? বাংলাদেশ ব্যাংক বলছে কিছু কিছু ব্যাংক কৃত্রিম তারল্য সংকট দেখিয়ে বাংলাদেশ ব্যাংককে বাজারে নগদ অর্থ ছাড়তে প্রলুব্ধ করছে, উদ্দেশ্য অতিরিক্ত নগদ অর্থ শেয়ার বাজারে পুনরায় বিনিয়োগ করে ফায়দা লুটে নিবে। সবগুলো ব্যাংক একই কাতারে নেই, তবে বেশিরভাগ ব্যাংকই তারল্য সংকটের দোহাই দিয়ে উচ্চ সুদে আমানত সংগ্রহ করছে।
এদিকে বাংলাদেশ ব্যাংকের ভূমিকাও রহস্যজনক বলে সন্দেহ হয়, কারণ অতিরিক্ত তারল্যের তথ্য নিজেই প্রচার করে বাংলাদেশ ব্যাংক মুদ্রাস্ফীতির দোহাই দিয়ে বাজারে নগদ অর্থ ছাড় করার পক্ষপাতী নয়, কিন্তু বাস্তবে ব্যাংকের তারল্য সংকট দূর করতে প্রায় প্রতিদিন রিপো ও তারল্য সহায়তা প্রদান করছে। ঘটনা ভিন্ন হলেও আসল সত্য কি তা বাংলাদেশ ব্যাংকেরই প্রকাশ করা উচিত। ২০১০ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত যেখানে ব্যাংকগুলো শেয়ারে বিনিয়োগ করে পূর্ববর্তী বছরের তুলনার দ্বিগুণ, তিনগুণ মুনাফা অর্জন করেছে, সেই বিক্রয়লব্ধ শেয়ারের অর্থ কোথায় গেল। শেয়ার বিক্রির অর্থ ব্যাংকের তহবিলে থাকলে তারল্য সংকট মোটেও বিরাজ করা উচিত নয়। তাহলে কি কোন কোন ব্যাংক বেশি দামে কেনা শেয়ার বিক্রি করতে পারেনি অথবা অতিরিক্ত ঋণ প্রদান করেছে? অতিরিক্ত ঋণ বিতরণ করে থাকলেও পুরানো ঋণের কিস্তি পাওয়ার পর নতুন ঋণ প্রদান না করলে তারল্যের উন্নতি হওয়া উচিত। তাহলে গত ২ থেকে ৩ মাসের মধ্যে তারল্য সংকটের উন্নতি হয়নি কেন? আমার মতে, বাংলাদেশ ব্যাংকের নিরীক্ষক দল প্রতিটি ব্যাংকের অভ্যন্তরীণ প্রকৃত পরিস্থিতি জানার জন্য নিরীক্ষা চালানো উচিত অথবা চার্টার্ড একাউন্টেন্ট ফার্ম দ্বারা বিশেষ নিরীক্ষা পরিচালনা করা উচিত।
সর্বশেষ এডিট : ০৩ রা জানুয়ারি, ২০১২ দুপুর ১২:৫৫

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



