শাহাবুদ্দিন শুভ
ফুটফুটে একটি পুত্র সন্তানের জন্মও দিয়েছে মেয়েটি। অথচ যে শিশুটি পৃথিবীর আলো দেখার সময় মুষ্ঠিবদ্ধ হাত নিয়ে নিজের অধিকারের কথা বলতে চায় সে কখনও জানবে না তার পিতা কে। তার মাও তাকে জানাতে পারবে না। কারণ সে যে স্বাভাবিক কোন অবস্থানে নেই। তার স্মৃুতি ধরে রাখতে পারে না কোন কিছু। সব কিছু বেমালুম ভুলে যায় সে। একটু আগে কি দিয়ে খেয়েছিল তা পরে বলতে পারে না। গ্রামের নাম কিংবা বাবা মা ভাই বোন কারোর কোন কথা মনে করতে পারে না। নিজের সবকিছু যেন তার নিজের নিয়ন্ত্রণের বাহিরে।
হয়তো রাস্তায় যখন পড়ে থাকত বা দুবেলা দু’মুটো ভাত পেটে পরতা না সেই দুর্বলতাকে কাজে লাগিয়ছে কোন মানুষ রুপি পশু। আর তারই ফসল এই অবুঝ শিশুটি যে পিতৃ পরিচয় ছাড়াই এই পৃথিবীর আলো দেখেছে। সারাটা জীবন পিতৃপরিচয় হীন ভাবে পৃথিভীর আলোতে ঘুরে বেড়াবে। হয়তো কোন বস্তিতে থাকবে কিংবা সুরমা নদীর উপরে শতবর্ষী ক্বীন ব্রীজের উপর আর দশটি শিশুর মত শ্রম দিয়ে যাবে অল্প দামে। কিন্তু তার কি দোষ?
এই ফুটফুটে বাচ্চটা দেখলেই যে কারোই আদর করতে ইচ্ছা করবে। দেখেছিও তাই। ওয়ার্ডে অন্য রোগীদের সাথে আসা লোকজন প্র্য়াই বাচ্চটাকে খোলে তুলে নিতে চাইত। কিন্তু পাগল হলে কি হবে মা তো সন্তানের জন্য মা’ই। পরম মমতায় সন্তনকে সারাণ আগলে রাখতে চায় সে। কেউ ছুতে যাবেন, না থাকে কোন ভাবেই ছুয়ে দেখতে দেবেনা পাগলি মা। এ যে তার সাত রাজার ধন বুকের মানিক। তা কে কি করে আলাদা করে বা ফুরে ঘুম পাড়িয়ে রাকবে মা। অনেক বলাবলি করছিলেন পাগলি কি করে এই সন্তান পালন করবে তার ছেয়ে বরং অন্য কেউ নিয়ে গেলে থাকে মানুষের মত মানুষ করবে। তাদের ভাবনা ছিল এমন যদি কেউ পাগলির সন্তানটাকে নিয়ে যায় তাহলে হয়তো সে ভুলে যাবে সন্তানের কথা। সেজন্য এক নিঃসন্তান দম্পতি নিতে চেয়েছিলেন শিশুটিকে। যখন পাগলী ঘুমিয়ে ছিল ঠিক তখনই তার কাছ থেকে বাচ্চাটিকে সড়িয়ে রাখা হল এই জানার জন্য যে ঘুম থেকে উঠে সন্তানকে খোজে কি না তা দেখার জন্য। যখনই পাগলির ঘুম ভাঙ্গল তখনই তার সন্তানকে সে খোঁজতে শুরু করল। কি হাউমাউ করে কান্না যেন আকাশ পাতাল ভারি হয়ে যাচ্ছিল। যেন সন্তান খোজে না ফেলে হযরত ইস্্রাফিল পৃথিবী ধ্বংসের জন্য যে ভাবে শিংায় ফুক দিবেন ঠিক তেমনি ভাবে কোন কিছু দিয়ে ফু দিয়ে সম্স্ত হাসপাতল টাকে উড়িয়ে দিবে সে। তাই বাধ্য হয়ে যারা পাগলির সন্তানটাকে নিতে ছেয়েছিলেন তারই আবার ফিরিয়ে দিলেন পাগলির খোলে।
সন্তান সম্ভ্যভা এই পাগলী নিজেই জানে না কখন সে গর্ভধারণ করেছে। প্রায় দশমাস তিল তিল করে নিজের গর্ভে যে সন্তান কে লালন করেছে সে এবার পৃথিভীর আলো দেখতে চায়। তার ফলে রাস্তায় প্রসব বেদনায় চটপট করতে থাকে পাগলি। কর্তব্যরত পুলিশ রাস্তায় পড়ে থাকতে দেখে এগিয়ে আসে। এবং সেই পাগলীকে সিলেট এমএজি ওসমানী হাসপাতালে ভর্তি করেছে করেছেন মার্চের প্রথম সপ্তাহে। সেখানেই সে সন্তানের জন্ম দেয় সেই পাগলী মা।
সর্বশেষ এডিট : ১৪ ই মে, ২০০৮ দুপুর ১:৩৮

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



