বহুত কষ্ট করে প্রেম অতঃপর বিয়ে করে ফেললাম! বউ আমার ডাক্তার, সে কিন্তু ভর্তি পরীক্ষা দেওয়া ডাক্তার, খুব খিয়াল করে, সো আই আম প্রাউড অব ইউ, বউ।
সুখে শান্তিতে বসবাস করতে লাগলাম।
১৫ বছর পরেঃ আমরা পোলা পরীক্ষা দিবে(ও বাই দিস টাইম একটা পোলা হয়ে গেসে), এস এস সি পরীক্ষা। পোলাই বাপের মত ফিজিক্স, কেমিস্ট্রি এবং ম্যাথে ব্যাপক চালু। কিন্তু পোলার বাংলা লেখা এতটাই উত্তম যে একবার এক মেয়েকে লাভ লেটার লেখে বলছিল—
“ ডার্লিং আই লাভলু”
অভাগা মেয়ে আমার পোলার উত্তম লেখার মর্ম বুঝল না, পড়ল—“ ডাইনী আই হেটু”।
ফলাফল বাপের মত সিঙ্গেল যৌবনকাল!
যাহোক অই মেয়ে আবার তার ক্লাসমেট। মেয়ে পড়ালেখায় সেইরকম, অঙ্ক করতে দিলে বায়োলজির চিত্রের মত একে ফেলে। নিউটনের সূত্র যেমনে সুর করে বলে তাতে স্বয়ং নিউটনও সরম পাবে। মেয়ের আরবি লেখা দেখলে মনে হয় মুফতি আমিনির মাইয়া।
যাউকগা পরীক্ষা শেষ পোলা আমার ধর্মে এবং সমাজে হালকা খারাপ কইরা গোল্ডেন মিস করছে। আর সেই মেয়ে তো প্লাটিনাম পাইছে।
পোলায় কই—আব্বা তোমার কাছে পইড়া আমার এই দুর্দশা। এর থেকে স্কুলের স্যারের কাছে পড়তে দিতা—ক্লাস করা লাগত না, উনার বাসায় গেলেই চলত, গোল্ডেন পাইতাম।
আমি কই বাপ এমনে মন খারাপ করিস না, তোর বেসিক ভাল, ভর্তি পরীক্ষায় ভাল করবি। আর যে টাকা আর সময় স্যারের বাসায় দিবি ওইটা তোর নেক্সট গার্ল-ফ্রেন্ড পেছনে বিনিয়োগ কর, কামিয়াব হবি!
যাউকগা পোলা আমার কথা মত চলতে থাকল। এইচ এস সি পরীক্ষা শেষ, রেজাল্ট আগের থেকে ভাল ফিজিক্স, ম্যাথ, কেমিস্ট্রি এন্ড ইংলিশে এ প্লাস। কিন্তু ভাল দখল থাকার পরেও হাতের লেখা বাপের কাছাকাছি হওয়ায় বাংলায় ‘এ’।
আর অই দিকে অই মেয়ে অক্লান্ত পরিশ্রম করে বলা চলে পরিশ্রমের মডেল তৈরি করে বরাবরের মত প্লাটিনাম এ প্লাস।
মেয়ের পরিশ্রমের কথা কি আর বলব সে তো ফিজিক্স, ম্যাথের অঙ্ক জি আর ই ভোকাবুলারীর মত কইরা অর্থাৎ ফ্লাশ কার্ড বানাইয়া পড়ত। তার ভাগ্য খারাপ যে কুইজগুলাতে ফ্লাশ কার্ড এর জিনিষ আসত না এবং সে খেত ছিলা বাঁশ। কিন্তু তার ভাগ্য বলি বা এদেশের শিক্ষা ব্যবস্থার দুর্ভাগ্যের কথা বলি বোর্ড পরীক্ষার সব প্রশ্ন তার ফ্লাশ কার্ড থেকেই আসত আর সে বাম্পার পরীক্ষা দিত, ফলনও হইত বাম্পার।
যাউকগা পোলা এন্ড তার এক্স ক্রাশ আই মিন তার ক্লাস মেট মেডিকেল কোচিং করছে। আমার পোলার পারফর্মেন্স সেইরকম। আমিও খুশি যে রেজাল্টের যতটুকু ঘাটতি আছে তা ভর্তি পরীক্ষায় পোষাইয়া দিবে। কিন্তু কিসের কি সরকার ঘোষণা দিল আর ভর্তি পরীক্ষা নয় রেজাল্টের ভিত্তিতে সিলেকশন। ফলাফল আমার পোলা বাদ আর ফ্লাশ কার্ড পড়া সেই মেয়ে ডাক্তার।
পোলাই কান্দে, আব্বা তোমার জন্য আমার এই অবস্থা!!! তোমার কথা মত গার্ল ফ্রেন্ডরে টাইম না দিয়া যদি হাতের লেখে প্র্যাকটিস করতাম কিংবা হুযুরের বাসায় গিয়া আরবী লেখা প্র্যাকটিস করতাম কিংবা খামছ স্যারের বাংলা নোট মুখস্থ করতাম কিংবা আবুল স্যারের ১০০% কমন নোট পড়তাম তাইলে আজ আমি ডাক্তার হতাম। তোমার কথামত ইতিহাস, সাহিত্য না পইড়া যদি বলদ সিরিজের নোট পড়তাম তাইলে আজ আমার এই অবস্থা হইত না!!!
পোলা চিল্লায় চিল্লায় কান্দে আর বলে---- বাবা তুমি আমার কি সর্বনাশ করলা, তোমার কথা মত পড়লে তো University of South Asia তে পড়তে হবে আর ফ্ল্যশ কার্ড পড়া লোকজন পড়বে বস জায়গায়???
ভর্তি পরীক্ষা দেওয়া ডাক্তার বউ চিল্লায়—তোমার মত পোংটারে কেন প্রেম কইরা বিয়া করলাম???
হঠাৎ শুনি--- বাবা উঠ???
পোলায় কি তাহলে তুই তুকারি শুরু করল!!!
না খেয়াল করে দেখি মা ডাকে সেহরি খাওয়ার জন্য।
যাহোক জেগে উঠে যখন দেখলাম ডাক্তার বউ কিংবা মেডিকেল ব্যর্থ পোলা দুইটায় স্বপ্নে দেখছিলাম তখন পোলার কান্দার কারণে দুঃখিত মনটা খুশিতে ভরে গেল!
কিন্তু সেই ফ্ল্যাশ কার্ড পড়া ডাক্তার মেয়ের কথা চিন্তা করতেই ভয়ে শিউরে উঠলাম। এই মেয়ে রোগী দেখবে ফ্ল্যাশ কার্ড দেখে, কমন না পড়লে প্রাণ পাখি শেষ।
মনে মনে বলি, সরকার কেমনে একটা কাজ করল!!! রোগ সারাতে(প্রশ্ন ফাঁশ) মাথা কেটে ফেলে দিল!!
এইটা একটু সময় নিয়ে করলে ভাল হত না? ততদিনে আমাদের স্কুল এবং কলেজ গুলোতে শিক্ষার মান বৃদ্ধি করে নিতে পারতাম। এখন আমাদের স্কুল কলেজ গুলার যে অবস্থা তাতে এস এস সি এবং এইচ এস সির ফলের ভিত্তিতে নেওয়া ছাত্র-ছাত্রীদের অধিকাংশ যে ভবিষ্যতে ফ্ল্যাশ কার্ড ডাক্তার হবে তাতে কোন সন্দেহ নাই।
কয়দিন পরে হতে হয়ত বিশ্ববিদ্যালয় গুলোতে রেজাল্টের ভিত্তিতে ভর্তি শুরু হবে। কিন্তু আমাদের মাধ্যমিক এবং উচ্চ মাধ্যমিক স্তরের শিক্ষার মান এতটাই করুণ শুধুমাত্র ফলাফলের ভিত্তিতে উচ্চশিক্ষার জন্য ছাত্রছাত্রী ভর্তি একটি আত্মঘাতী সিদ্ধান্ত ছাড়া কিছুই না!! এরকম চলতে থাকলে ভবিষ্যতে আমরা ১০০% নির্বোধ রাজনীতিবিদের পাশাপাশি ১০০% নির্বোধ কিছু মানুষ পাব যারা নাকি দেশের অফিস আদালত কিংবা হাসপাতাল চালাবে!!
তাই বলি সাধু সাবধান--- রোগ সারান, মাথা কাইটেন না।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


