বিগত কিছু দিন থেকে দেশের একটি রাজনৈতিক দলের মিছিল থেকে পুলিশের উপর সারা দেশব্যাপী হামলার যে ঘটনা আমরা দেখছি তাতে বাংলাদেশের রাজনৈতিক সংস্কৃতির নতুন মেরুকরণ বা বিবর্তন হচ্ছে বলে ধারনা করা যায়, যদিও তা সম্পূর্ণ ঋণাত্মক। কারন এতদিন পর্যন্ত রাজনৈতিক দলের সাথে বিরোধ শুধু অন্য আরেকটি রাজনৈতিক দলের বা গ্রুপেরই ছিল। কিন্তু সরাসরি প্রতিপক্ষ হিসাবে কোন রাজনৈতিক দল বা গ্রুপ নয়, শুধু মাত্র পুলিশ, এবারই প্রথম দেখা গেল। যদিও অতীতেও পুলিশের সাথে রাজপথে আমরা বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের, বিশেষ করে বিরোধী দলগুলোর সংঘর্ষের ঘটনা দেখেছি। কিন্তু এইরকম সরাসরি পুলিশই আক্রমণের লক্ষবস্তু, এর আগে স্বাধীন বাংলাদেশে আর দেখা যায়নি।
এই ঘটনা থেকে আমার উপলব্ধিঃ
১. শুধু এই আমলেই নয়, সব আমলেই পুলিশ বাহিনীকে সরকার বিভিন্ন সময়ে তার নিজের রাজনৈতিক প্রয়োজনে হাতিয়ার হিসাবে এত বেশী ব্যবহার করেছে যে পুলিশকে এখন অন্যান্য রাজনৈতিক দলগুলো সরকারী দলের শাখা ভাবছে।
২. পুলিশ বাহিনীর কিছু সদস্য নিজেদের স্বার্থে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের বিভিন্ন নেতার সাথে সখ্যতা গড়ে তোলার কারনে পুলিশ আস্থা হারিয়েছে।
৩. নিয়োগ বানিজ্যের কারনে পুলিশের দক্ষতা ও আস্থা কমেছে।
৪. দুর্নীতি প্রতিহত না করার কারনেও আস্থা ও সম্মান কমেছে।
এর বাইরেও আরও অনেক কারন হয়ত অনেকের জানা থাকতে পারে, কিন্তু সর্বোপরি পুলিশের যে আস্থাহীনতা, নিজে সম্মান না পাওয়া ও অন্যকে সম্মান না দেয়া, অদক্ষতা, রাজনিতীকরন সহ আরও অনেক ঋণাত্মক ভাবমূর্তি তৈরি হয়েছে, তার প্রভাব দেশ ও জাতির উপর দীর্ঘ মেয়াদে যে চরম ভয়াবহ হবে, তা বলার অপেক্ষা রাখে না।
তাই আসুন, দেশের সবাই মিলে এই ভয়াবহ সংকট থেকে জাতিকে রক্ষা করি, তা না হলে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে আমরা কি জবাব দিব?

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



