সামুতে কোন কোন ব্লগার যে ভাবে আস্তিকতা, নাস্তিকতা, ধর্ম ইত্যাদির পক্ষ বিপক্ষ নিয়ে উঠে পড়ে লেগেছেন, তাতে মনে হচ্ছে এইবার বোধয় শত শত বছর থেকে বিশ্বজুড়ে চলতে থাকা এই বিষয় বা বিতর্ক কয়েক দিনের মধ্যে সামুতেই সমাধান হয়ে যাবে!! সামুই হল সঠিক স্থান বা কর্তৃপক্ষ এই বিষয় সমাধানের জন্য!!! আর এই ব্লগাররাই হলেন সঠিক ও যোগ্য ব্যক্তি, যাদের কাঁধে বিশ্বের সাত শত কোটি নাগরিক এই গুরু দায়িত্ব অর্পণ করেছে!!!! সামুতে সমাধান হবে, আর বিশ্বের অন্য প্রান্তের মানুষ তা এক বাক্যে মেনে নেবে!!!!!
আসলে কি তাই? আস্তিকতা, নাস্তিকতা, ধর্ম ইত্যাদি মানুষের মনের একান্ত বিশ্বাসের বিষয়। হাজার হাজার বছর ধরে এই দর্শনগুলো বিশ্বময় উদ্ভব ও বিস্তৃত হয়েছে। এইগুলোর কোনটিরই উদ্ভব বাংলাদেশে নয়। আমাদের পূর্বপুরুষরা নানা প্রেক্ষিতে বা পরিবেশে এইগুলোকে গ্রহন করেছেন, যে কারনে বিশ্বে স্থান ভেদে বিভিন্ন ধর্ম, সংস্কৃতির নৃ-গোষ্ঠীর প্রাধান্য বা বিস্তার ঘটেছে। যা নৃবিজ্ঞানের গবেষণার বিষয়। কিন্তু আজ যারা সামুর ব্লগে এইগুলো নিয়ে গলা-ফাটাচ্ছেন, (সঠিক শব্দ হওয়া উচিত কীবোর্ড ফাটাচ্ছেন), তাদের বা আমাদের, কারোরই ব্যক্তিগত কৃতিত্ব নেই এই দর্শনগুলোর উদ্ভব ও বিস্তৃত হওয়ার পেছনে। আমরা মহাকালের ইতিহাসের ধারাবাহিকতায়, পুরুষানুক্রমে সেগুলো ধারণ করছি বা সাক্ষী মাত্র। আমার পয়েন্ট এইখানেই, যে বিষয়ে আমার কোন ভূমিকা নাই, তা নিয়ে কৃতিত্ব দাবী বা বড়াই করারও কিছু নাই।
আমরা একটি সাধারন উদাহরন দিতে পারি এইভাবে যে, আস্তিকতা, নাস্তিকতা, ধর্ম ইত্যাদি ধরনের দর্শনগুলোকে বিভিন্ন ফুলের সাথে তুলনা যায়। বিভিন্ন ফুলের সৌরভ বিভিন্ন, একেক মানুষ একেক ফুল বা সৌরভ পছন্দ করে। কেউ গোলাপের সৌরভ খুব পছন্দ করে, আবার কেউ হাস্নাহেনা। এইটা সম্পূর্ণ নিজস্ব মনের পছন্দ বা বিশ্বাস। তাই বলে যে গোলাপ পছন্দ করছে, সেতো হাস্নাহেনা পছন্দকারীকে খারাপ বলতে পারবে না বা উল্টাভাবে হাস্নাহেনা বলতে পারবে না গোলাপকে।
ঠিক একই ভাবে, বিভিন্ন ধর্ম / আস্তিকতা / নাস্তিকতা ইত্যাদি একেক জনের মৌলিক পছন্দ বা বিশ্বাস। কোন সভ্য মানুষেরই অন্য মানুষের এই বিশ্বাসকে অবজ্ঞা করা উচিৎ নয়।
বিভিন্ন ফুল যেমন তাদের রং ও সৌরভ দিয়ে বিশ্বকে বর্ণীল করেছে, তেমনি বিভিন্ন ধর্ম / আস্তিকতা / নাস্তিকতা ইত্যাদি বিশ্বাস মহাকালের বিবর্তনে স্থান, কাল ভেদে সভ্যতাকে এগিয়ে নিয়েছে।
এই বিতর্কের যে দিন থেকে জন্ম, শত সহস্র অব্দ পেরিয়ে আজ অব্ধি এর মিমাংসা হয়নি, ফলাফল হিসাবে ইতিহাসে শুধু কিছু ভয়াবহ যুদ্ধ, রায়ট বা রক্তপাতের বর্ণনা পাওয়া যায়।
তাহলে ইতিহাসের শিক্ষা এইতো যে এত দিনেও যেহেতু হয়নি, আরও শত সহস্র অব্দ পরেও এই বিতর্কের অবসান হবে না, বরং আবারও কিছু ভয়াবহ রক্তপাতের আশংকা থেকে যায়।
তাই আসুন, অন্যের বিশ্বাসকে মর্যাদা দিই, তাহলে অন্যও আপনার বিশ্বাসকে মর্যাদা দিবে। বিশ্বাসের জায়গাগুলোকে নিয়ে আমরা বাড়াবড়ি না করি। বিশ্বাসের আধ্যাতিকতাকে লৌকিকতার সাথে একাকার না করি। সামুর কাঠগড়ায় অযথা আস্তিকতা, নাস্তিকতা, ধর্ম ইত্যাদিকে দাঁড়া না করাই। আমরা সবাই এই বিতর্ক এড়িয়ে চলি।
সামু বা যে কোন মাধ্যম বা স্থানে এই বিরামহীন বিতর্ক করা মানেই হল সবার সময় অযথা নষ্ট করা, আর ভয়াবহতার আশংকার মাত্রা আরেকটু বাড়িয়ে দেয়া। এই সামুতে, আর দেশের রামুতে, কিছু দিন আগে আমরা এই রকম আতংকিত হওয়ার মত ঘটনা লক্ষ্য করেছি। অবশ্য আশার কথা হল সকল ব্লগারদের মধ্যে শতকরা সর্বোচ্চ মাত্র ২ ভাগ ব্লগার এই ধরনের বিতর্কের সাথে যুক্ত, বাকী সংখ্যা গরিষ্ঠ ৯৮ ভাগ ব্লগারই এই ধরনের বিতর্কে আসেন না। এই অল্প গুটিকয়েক ব্লগারকে এই কথাটা মনে রাখতে অনুরোধ করতে চাই যে - নিজেকে সভ্য ভাবলে মনে রাখবেন-----“প্রতিটি মানুষের বিশ্বাসই শ্রদ্ধার বিষয়, এটাই সভ্যতার শিক্ষা।”
একটু উল্লেখ করি, জেনারেল হওয়ার পর এইটা আমার প্রথম ব্লগ। একটু দোয়া যদি করতেন!!

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



