somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

চিরতার রসঃ নেতা কহিলেন,‘পেঁয়াজের ঝাঁঝ আন্ডার…?’

১৬ ই নভেম্বর, ২০১৯ দুপুর ১:০২
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :



নেতার বাণীতে ভরসা পেয়ে হুমড়ি খেয়ে তুমড়ি বাজিয়ে ছাতন ব্যাপারী হাটে গেলেন পেঁয়াজ কিনতে। গিয়ে দেখেন দোকানি কালু মিঞা সোনা যেরূপ সাজিয়ে রাখে সেরূপ কাচের চারকোনা খোপে অত্যন্ত যতনে বিভিন্ন আকৃতি-প্রকৃতির পেঁয়াজ সাজিয়ে রেখেছে। ব্যাপারী অবাক হয়ে দোকানীকে জিজ্ঞেস করেন, ‘কালু, দে দেকি নি পাঁচ কেজি পেঁয়াজ, বাপু’।

দোকানি কালু মিঞা আশ্চর্য হয়ে, ‘কত্তা, তোর বুকের পাটা আছে। তো ক দেকি নি ক্যাংকা পেঁয়াজ নিবু। দেশি ভাইজান নাই তাই ম্যালা জাগাত থ্যাকা খালি বিদেশী আসোচে। ঝাঁঝও ম্যালা। দামও ম্যালা।

‘খুলে ক দেকি, কালু’- ছাতন অবাক হয়ে শুধায়।

-কত্তা, ঐ যে বাঁওয়ের লাইনে ওটা হচে উজবুক পেঁয়াজ। দেখতে ভোলাভালা। মোটাগাটা। তরকারীতে দিবু, ম্যাদার মতোন পড়ে থাকপে। স্বাদ-গন্ধ তেমন নাই। ঝাঁঝও কম। দামও নাগালত। ১৯০ ট্যাকা।

আর তোর ডান হাতের গোড়োত যেটা দ্যাখোচো ওটা হচে খলিফা পেঁয়াজ। কি সুন্দর আলখেল্লা পরছে দ্যাকচু। ভাবগম্ভীর। মনে হচে ধ্যানে আছে। ঝাঁঝ মাঝারি। ২০০ ট্যাকা।

আর ঠিক তোর সামনোত ওটা হচে ফিরাউন পেঁয়াজ। হালার চেহারার মদ্যেই দ্যাকচেন না ক্যামন একটা আজা আজা ভাব। ঢিমসা ও শক্ত। ফিরাউনরা যেমন কালুদের পিটিয়ে পিটিয়ে পিরামিড বানাইছে। এরাও তরকারীত দ্যায়া মাত্র অন্য সব মসলার গুণাগুন লাথথায়ে তরকারীর...। ঝাঁঝটাও মারাত্নক। ২৩০ ট্যাকা।

আর বাঁওয়ে গুন্ডা প্রকৃতির যেটা দ্যাকা পাচি, ওটা হচে হানাদার পেঁয়াজ। গায়ে গতরে দশাসই। হা*জাদাদের ঝাঁঝটাও মাইরি, খাইস্টা গন্ধ , কত্তা। আবার চরিত্রেও ম্যালা সমস্যা আছে। দু অ্যাকটা খোসা ছড়ালে দ্যাকপু বেশির ভাগের উপরত ফিটফাট হলেও ভিতরটা ল্যাদাম্যাদা। দামটাও হাতের নাগালত। ১৬০ ট্যাকা।

এই কালু এগুলা কী কস? জন্মেও ত পেঁয়াজের এংকা নাম শোনো নি। উজবুক, খলিফা, ফেরাউন, হানাদার। কি কালু! মাথাটাথা খারাপ হল নাকি তোর।

-কত্তা, জন্মের পর এই পত্থম এত সব নামের পেঁয়াজ দ্যাকচো। দাম চড়া হওয়ায় একন এ নামেই পেঁয়াজ কিনবার লাগোচে। তোমার মাথামোডা নেতাগোর জইন্যে...। এই শু*...থাক গালায়ে আর কি হবে কন। বা* পু* বিদেশ থ্যাকা যারা আনোচে ও মজুদ পাকাররা মিলে অ্যাংকা করেই দাম রাখোচে নেতাদের যোগসাজোসে। ওরা কচে উজবুক হচে উজবেকিস্তান থেকে আইচে তাই। তেমনি খলিফা তুরস্কের, ফেরাউন মিশরের, হানাদার পাকিস্তানের। সোনা হীরা যেংকা ক্যারাটোত বেচা হচে একন এগুলাও অ্যাংকা করে বেচা হবে গো কত্তা।

ছাতন ব্যাপারী মাথা ঝাঁকিয়ে হুঙ্কার দিয়ে, ‘হুম। তা এত সব আছে তো দাদা হা*জাদা কই। ওটাই তো তোর কাছে সবসময় থাকত’।

-দাদাদের নিজেদের ঝাঁঝে ঝাঁঝায়িত হয়ে নিজেদেরই নেংটি খুলে পড়োচে গো কত্তা। তাই আপাতত নাই। শোনোচো ওরাও নাকি হানাদার বাদে অন্যগুলান আনে ওসব নাম কয়েই বেচোছে ওদের দ্যাশোত।

-এতো ভয়ঙ্কর অবস্থারে কালু। তাহলে তুই বাপু, মোক উজবুকটাই দেড় হালি সুতায় গেঁথে দে দেকি নি। গলায় সোনার মালার মতো ঝুলিয়ে গিন্নিকে উপহার দিমু নে। গিন্নির ঝাঁঝ বেশি, এটার ঝাঁঝ কম। প্লাসে মাইনাসে কাটাকাটি।

কত্তা না হয় প্লাসে মাইনাসে কাটাকাটি করে কোনোভাবে পার করবে। আর পাবলিক বাসে ঝুলতে থাকা যাদের বগুড়ার মোকামতলাতে তিন টাকায় বিক্রি হওয়া ফুলকপি ঢাকাতে পঞ্চাশ টাকায় কিনতে হচ্ছে; যে কৃষকের ৮০০ টাকা উৎপাদন খরচের ধান ৭০০ টাকায় বিক্রি করতে হচ্ছে; যে শহুরে ছাপোষা চাকরিজীবীর মাসিক আয় ২৫,০০০ হাজার টাকা আর ব্যয় হচ্ছে ২৮,০০০ টাকা, তারা কীভাবে ব্যয় নির্বাহ করবে আর ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য সঞ্চয় করবে?
এদের জীবন যে প্লাস মাইনাসে কাটাকাটি না হয়ে কিংবা মাইনাস মাইনাসে প্লাস না হয়ে ক্রমাগত লম্বা এক উজবুক ড্যাসে পরিণত হচ্ছে। ‘সাচ্চা দেশপ্রেমিক’ নেতারা সেই ড্যাসের ভোঁতা ও নিরস, করুণ ও বিবর্ণরূপ কখনই কী অনুধাবন করবেন না?

পুনশ্চঃ প্রথম আলোতে পাঠক সাইফুল ইসলামের মন্তব্য, ‘অথচ মেহেরপুরে এই পেঁয়াজের মণ ছিল ২৯০-৩১০ টাকা। অনেক কৃষক তাদের চাষাবাদের খরচই ওঠাতে পারে নি, ঋনগ্রস্থ হয়ে পড়ে । আর এখন ২০০ টাকা কেজি। ভাবা যায় এগুলা। কৃষক আর কৃষি মেরে বাংলাদেশের উন্নয়ন সম্ভব নয়।’

‘ভগবান আমাদের সহায় হোন’- ছাতন ব্যাপারী গলায় পেঁয়াজের মালা ঝুলিয়ে আকাশের দিকে তাকিয়ে উদাস মনে জমির খেত ধরে বিড়বিড় করতে করতে...।

ছবিঃ অন্তর্জাল
*******************************************************************************************************
আখেনাটেন/নভেম্বর-২০১৯
সর্বশেষ এডিট : ১৬ ই নভেম্বর, ২০১৯ দুপুর ১:১০
২৭টি মন্তব্য ২৬টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

একজন মুনির হাসান এবং একজন আলোকিত মানুষ, একজন স্বপ্নদ্রস্টা .........

লিখেছেন সোহানী, ১৪ ই ডিসেম্বর, ২০১৯ সকাল ৯:২৫


অনেকদিন থেকেই ভাবছিলাম আমার কিছু প্রিয় ব্যাক্তিত্ব নিয়ে লিখবো। কিন্তু কোন দিক থেকে শুরু করবো সেটা ঠিক করতে আর সাথে সময়ের টানাটানি একটা বিশাল ফ্যাক্টর যেকোন কিছু শুরু করার... ...বাকিটুকু পড়ুন

মাত্র কয়েক লাইন

লিখেছেন স্বপ্নবাজ সৌরভ, ১৪ ই ডিসেম্বর, ২০১৯ দুপুর ১২:০৪

১৯৭১ :

-ঠক্! ঠক্! ঠক্!
-কে?
-স্যার, একটু বাইরে আসবেন? কথা ছিল! --- সংগ্রহ



দরজায় কড়া নাড়ে কতিপয় হিংস্র শূকর
হায়েনা গুলো লকলকে জিহবা বের করে ডেকে উঠে ,... ...বাকিটুকু পড়ুন

"বিশ্বের ১০০ ক্ষমতাশালী নারীর তালিকায় শেখ হাসিনা"

লিখেছেন চাঁদগাজী, ১৪ ই ডিসেম্বর, ২০১৯ সন্ধ্যা ৬:৫৫



আমেরিকা ও সারা বিশ্বের ক্যাপিটেলিষ্ট আইডিয়া বিস্তারের একটি শক্তিশালী ম্যাগাজিন হচ্ছে "ফোর্বস"; ইহা মুলত বিজনেস ম্যাগাজিন; এই ম্যাগাজিনটি প্রতি বছর বিশ্বের ১০০ জন ক্ষমতাশালী নারীর তালিকা প্রকাশ করে থাকে;... ...বাকিটুকু পড়ুন

মৃত্যুঞ্জয়ী (শহীদ বুদ্ধিজীবিদের স্মরণে)

লিখেছেন বিদ্রোহী ভৃগু, ১৪ ই ডিসেম্বর, ২০১৯ সন্ধ্যা ৭:১৬

বিজয়ের পূর্বাহ্নে
বিষাদে ভরে যায় মন!

মাঠের লড়াইয়ে যখন পরাজয় সু-নিশ্চিত

কুচক্রিরা আঁকে ভয়ংকর
গোপন নীলনকশা!

রাতের আঁধারে চুপি চুপি নামে হায়েনারা


ঠক ঠক ঠক, চলুন কথা আছে- ছলনায়
রাতের আঁধারে চোখ... ...বাকিটুকু পড়ুন

টাঙ্গাইলের সব জমিদার বাড়ি একসাথে

লিখেছেন হাবিব স্যার, ১৪ ই ডিসেম্বর, ২০১৯ রাত ৯:৫৮



(সংবিধিবদ্ধ সতর্কীকরণ: পোস্টটি অনেক বড়।)

আজকে আমি টাঙ্গাইলে, আমার জানামতে সবগুলো জমিদার বাড়ি নিয়ে কথা বলবো। কিভাবে একদিনে প্রায় সবগুলো জমিদার বাড়ি ঘুরে আসবেন সে তথ্যও জানাবো। আমি কোন জমিদার... ...বাকিটুকু পড়ুন

×