somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

গবেষণা ও উন্নয়ন: আর কত নিচে নামলে তাকে নিচে নামা বলে???

২২ শে জানুয়ারি, ২০২০ বিকাল ৪:২৬
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :


আমরা বেশির ভাগ বাংলাদেশীরা কঠোর প্রেমিক। তাই প্রেমের চেতনা কিংবা যাতনায় প্রেমিকার ‘কাপড় উথড়ানো’র জন্য আমাদের হাত নিশপিশ করে। কীভাবে বাংলাদেশ নামক প্রেমিকাকে ছিড়ে-ফুঁড়ে সর্বোচ্চ লুটে নিব এই ধান্ধায় আমাদের জবমালা চলে। কেউ নিঠুর প্রকাশ্যে, কেউবা নিলাজ সহাস্যে; কেউ আর্থিক প্রণোদনায়, কেউবা সুশীল চেতনায়; কেউ ক্ষমতার কারসাজিতে, কেউবা প্রেমিকার গররাজীতে; কেউ ধর্মান্ধতার লেবাসে, কেউবা ভণ্ডামীর খোলসে।

এমনই একজন উগ্র প্রেমিক যিনি প্রাচ্যের অক্সফোর্ড খ্যাত বিশ্ববিদ্যালয় নামক প্রেমিকার কাপড় উথড়ায়ে দিয়েছেন। আর এই জঘন্য আচরণের জন্য সাধারণ বাংলাদেশী হিসেবে (প্রেমিক বাংলাদেশী নয়) লজ্জায় মাথা নিচু হয়েছে; রাগে-ক্ষোভে হড়হড় করে বিবমিষা করতে ইচ্ছে করেছে। আমার একটু বেশিই জ্বলছে তার অনেক কারণের মধ্যে এই যে আমি নিজে যেহেতু সাধারণ হাবা-গোবা দেশী হয়েও প্রেমিকার কাপড় যেন ঠিকঠাক জায়গায় থাকে সে জন্য পরিশ্রম করছি, সেখানে কোনো কুলাঙ্গার যদি...মাথা ঠিক থাকার কথা না।

ডিসেম্বর থেকে জানুয়ারীর মাঝামাঝি এই সময়টা সাধারণত এবড়ো-থেবড়োভাবে ঘুরাঘুরির জন্য বরাদ্দ রাখি তাই ব্লগে আসা হয় নি। আজকে প্রথম আলোতে শিক্ষক নামক সেই মহান প্রেমিকের কর্মকাণ্ড দেখে মনে হল কিছু একটা লেখা দরকার। আমি আর তেমন কিছু লিখছি না; তবে সেখানে কিছু পাঠকের মন্তব্য ও তার যৎসামান্য বিশ্লেষণ তুলে ধরলাম--

S A M Rafiquzzaman নামে একজন পাঠক লিখেছেন-- “ঢাবি শিক্ষকের পিএইচডি গবেষণার ৯৮% নকল - প্রাচ্যের অক্সফোর্ড বলে কথা । এই পচন পুরো শিক্ষা ব্যবস্থায় - রাজনীতির পঙ্কিলতায় সবাই নিমজ্জিত”।

---সামান্য কথায় উনি ঢাবির এই করুণ দশার জন্য কটাক্ষ, শিক্ষা-ব্যবস্থার বেহাল দশা ও অপরাজনীতি কীভাবে দেশের ‘মূল’টুকু খেয়ে ফেলছে তার কঠিন বাস্তবতার ইঙ্গিত করেছেন।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক নামে একজন লিখেছেন-- "If you dig further, this will open a Pandora box. In this case, none (the student and supervisors) can escape responsibility. In Bangladesh, we live in an atmosphere where science can't thrive. These thieves/plagiarists are everywhere and have become the majority. The honest researchers are cornered and their voice is unheard of due to the cacophony created by these thieves. As a student of Dhaka University, I am ashamed but I know that when you are heading downhill it does not take much time and effort. It is a long battle if DU wants to raise its standard again and with the current leadership, it is almost impossible.”

এই অনিচ্ছুক ভদ্রলোকের বক্তব্য প্রণিধানযোগ্য; তিনি দেশের বর্তমান উচ্চশিক্ষা ব্যবস্থার কুৎসিত দিকটির দিকে ইশারা করেছেন যেখানে সৎ ও পরিশ্রমী গবেষকরা কোনঠাসা--অসৎ ও নির্লজ্জদের দৌরাত্ম্যে। এবং উনার ভাষ্যে ঢাবির এই অবস্থা থেকে উত্তরণের জন্য বর্তমান নেতৃত্বের দ্বারা অসম্ভব। কিন্তু উনি একথা বলেন নি যে ঢাবি বা অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়ের নেতৃত্ব আর দেশের নেতৃত্ব একই বৃন্তে গাঁথা। যেখানে পা থেকে মাথা পর্যন্ত চোরদের নিবাস সেখানে অনেক কিছুই অসম্ভব।

Moslehuddin নামে একজন পাঠক লিখেছেন--”যে জাতি ভাল হওয়ার চেষ্টা করেনা, সে জাতির উপর আল্লাহ্‌ তায়ালা দুঃশাসন চাপিয়ে দেন। দেশের রন্ধ্রে রন্ধ্রে আজ চরম লুট-তরাজ আর দুঃশাসন-কুশাসন জগদ্বল পাথরের ন্যায় চেপে বসেছে। না পারছি বলতে, না সইতে। দেশের অশিক্ষিত-অর্ধশিক্ষিত মানুষগুলোর চেয়ে উচ্চশিক্ষিতরাই বড্ড culprit, স্বার্থপর, বিবেকহীন, জ্ঞানপাপী”।

---এখানে উনি দেশের উচ্চশিক্ষিতদের চরম অনৈতিকতাকে হাইলাইট করে যা বলেছেন তা শতভাগ সত্য। আমাদের মূল্যবোধ ও নৈতিকতার চরম পরীক্ষা চলছে।

Asis M A Hasem নামে এক পাঠক লিখেছেন--”এটাই একসময়ের গর্বের বিশ্ববিদ্যালয়, প্রাচ্যের অক্সফোর্ড! এখানে এখন শিক্ষা নয়, আরও অনেক কিছু হচ্ছে দিনদুপুরে; এসব করেই আমরা Best University in the world' ranking এ ঢুকতে চাই”।

---এই র‍্যাঙ্কিং নিয়ে আমাদের নীতিনির্ধারকদের মাথাব্যথা নেই। আমাদের অনেক ব্লগার বন্ধুও মনে করেন এসব র‍্যাঙ্কিং-ফ্যাঙ্কিং দিয়ে কী ঘোড়ার ডিম হবে?

Md. Obaidul Kabir নামে একজন পাঠক লিখেছেন--”১৯৯০ এর পর থেকে সব থিসিসের কপি পুনরায় পরীক্ষা করা উচিত, তবেই বোঝা যাবে কালো বিড়াল কতগুলো”!!!

--- সব বিশ্ববিদ্যালয়ে কালো বিড়াল খোঁজা হলে ঐ অবস্থা হয় না যেন ‘ঠক বাছতে গাঁ উজাড়’।

Animesh Das নামে একজন পাঠক লিখেছেন---”বিষয়টির সাথে ৯৮% ভোট প্রাপ্তির মিল আছে, ওনাকে ভিসি করার জোর দাবি জানাচ্ছি”।

---দাস বাবুর আবেদন অদূর ভবিষ্যতে মঞ্জুর হওয়ার সমূহ সম্ভবনা আছে, কী বলেন?

Ahmed লিখেছেন ---”সত্যিকারে কেউ কি বলবেন "শিক্ষক" হয় কিভাবে”!!!!!!!!

---মিলিয়ন ডলার কোশ্চেন। এর উত্তর আমরা না জানলেও ভগবান নিশ্চয় জানেন।

ABDULHANNAN MIAH লিখেছেন---”সব সেক্টরই শেষ পর্যন্ত অধঃপতনের অতল তলে ডুবে গেল----- আমরা শুধু উন্নয়নের জিকির শুনতে শুনতে ক্লান্ত-শ্রান্ত”।

---বেচারা মনে হয় জানেন না যে অধঃপতনটা আত্নীক আর উন্নয়নটা ভৌতিক।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক নামে একজন পাঠক লিখেছেন---”রাজনৈতিক বিবেচনায় শিক্ষক হতে পারলে রাজনৈতিক বিবেচনায় অরিজিনাল থিসিস ছাড়াই কেন পিএইচডি ডিগ্রী দেয়া যাবে না জাতির কাছে সেই প্রশ্ন রেখে গেলাম”।

---জাতির কাণ্ডারীরা এর উত্তর দিবেন নিশ্চয় একদিন।

খালিদ হাসান জীবন নামে একজন লিখেছেন--"ওনাকে ফিজিওলজি এবং মেডিসিনে নোবেল দেওয়ার জোরালো দাবী জানাই। না দেওয়া হলে আমরণ অনশনে যাবো”।

---যান, তবে শান্তির জন্যও আরেকটা অনশনে থাকলে পুলিশ ভায়াদের হাত থেকে নিরাপদে থাকবেন। এ এক সাধারণ বাঙালীর অনুরোধ।

jagannath das একজন লিখেছেন --”ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও ছাত্র সবাই এখন .....নিয়ে ব্যস্ত, তাই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কে বিশ্ববিদ্যালয় না বলে ..... প্রশিক্ষণ ...বলা উচিৎ”।

---জগন্নাথ বাবু কি লিখতে চেয়েছেন ফাঁকা জায়গায় তা মনে মনে লিখে ফেলুন কিংবা মন্তব্যের ঘরেও লিখতে পারেন।

Anwar Hossain Mallick লিখেছেন---”২% আসল এই শিক্ষক লইয়া জাতি কি করিবে”??

---ইনারাই জাতির কাণ্ডারী যুগে যুগে। উনি পরবর্তী কোনো একসময় ভিসি পদপ্রার্থী হলেও অবাক হবেন না যেন!!!!

mohammad rahman নামে একজন পাঠক লিখেছেন-- “আসল ভুয়া এমপি , নকল ভুয়া এমপি , নকল পিএইচডি ! দেশে কোনটা আসল খুঁইজা পাওয়াই মুসকিল”।

---মন্তব্য নিষ্প্রয়োজন।

***********************************************************************************************
©আখেনাটেন/জানুয়ারি-২০২০

উচ্চশিক্ষা ও গবেষণার বেহাল দশা বিষয়ে আমার আরো কিছু লেখা---

*বাংলাদেশের উচ্চশিক্ষা: কিউএস র‍্যাঙ্কিং-এ দেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর হালহকিকত ও কিছু বাঁকা কথা!!
*বাংলাদেশে উচ্চশিক্ষা ও গবেষণার লেজেগোবরে অবস্থাঃ অচিরেই কি আমরা একটি মেধাহীন জাতিতে পরিণত হতে যাচ্ছি????
*বাংলাদেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর কী অভ্যন্তরীণ র‍্যাঙ্কিং জরুরী হয়ে পড়েছে?
*বাংলাদেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলো কতটা উপযুক্ত শিক্ষার মাধ্যমে যোগ্য নাগরিক হিসেবে আমাদের গড়ে তুলছে?
*বাংলাদেশের শিক্ষার মান কী এতটাই খারাপ!
সর্বশেষ এডিট : ২২ শে জানুয়ারি, ২০২০ রাত ৮:৩৬
৩০টি মন্তব্য ২৯টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

চট্রগ্রাম যে ভাবে বাংলাদেশের এক অবিচ্ছেদ্য অংশ।

লিখেছেন দেশ প্রেমিক বাঙালী, ১২ ই আগস্ট, ২০২০ সকাল ৯:১২


আরাকান আমলে চট্টগ্রাম বন্দরের সমৃদ্ধি ঘটলেও সে সময় দৌরাত্ম বেড়ে যায় পর্তুগীজ এবং মগ জলদস্যুদের। এরা চট্টগ্রামের আশেপাশে সন্দ্বীপের মত দ্বীপে ঘাঁটি গেড়ে বাংলার বিভিন্ন অঞ্চলে লুটপাট করত এবং... ...বাকিটুকু পড়ুন

প্রতিভা

লিখেছেন রাজীব নুর, ১২ ই আগস্ট, ২০২০ দুপুর ১:৪৩



এক শকুনের বাচ্চা তার বাপের কাছে আবদার ধরলো-
বাবা, আমি মানুষের মাংস খেতে চাই, এনে দাও না প্লিজ!
শকুন বলল, ঠিক আছে ব্যাটা সন্ধ্যার সময় এনে দেব।

শকুন উড়ে... ...বাকিটুকু পড়ুন

গরুর নাড়ি ভুরি খাওয়া নিয়ে দ্বিধা জায়েজ /না জায়েজ

লিখেছেন মোঃ মাইদুল সরকার, ১২ ই আগস্ট, ২০২০ বিকাল ৩:৩৭


কোরবানী বা ঈদ-উদ-আযহা এলে সারা পৃথিবীতে মুসলমানরা বিভিন্ন পশু কোরবানী করে থাকে। মাংস ও ভুড়ি খাওয়ার ধুম পড়ে। অনেকে আবার ভুড়ি খাননা বা খেতে চাননা কারণ খাওয়া ঠিক না বেঠিক... ...বাকিটুকু পড়ুন

আলোচিত খুন , আলোচিত গুম, আলোচিত ধর্ষণ ও আলোচিত খলনায়ক।

লিখেছেন নেওয়াজ আলি, ১২ ই আগস্ট, ২০২০ বিকাল ৩:৪০

মেজর সিনহাকে চারটা নাকি ছয়টা গুলি করেছে তা নিয়ে বিতর্ক করে কি লাভ এখন। তাকে নির্মম নিষ্ঠুরভাবে হত্যা করা হয়েছে এটাই সত্য। আর এই হত্যা করেছে দেশের আইন শৃঙ্খলা... ...বাকিটুকু পড়ুন

৮ টি প্রয়োজনীয় ও বিনোদনমূলক ওয়েবসাইটের লিংক নিয়ে সামুপাগলা হাজির! (এক্কেরে ফ্রি, ট্রাই না করলে মিস! ;) )

লিখেছেন সামু পাগলা০০৭, ১২ ই আগস্ট, ২০২০ সন্ধ্যা ৭:৪৬



করোনার সময়ে অনেকেই ঘরবন্দি অবস্থায় আছেন। বাচ্চাদের স্কুল বন্ধ। বড়দের অফিস চললেও অপ্রয়োজনীয় কাজে সচেতন মানুষেরা বাইরে যাচ্ছেন না। ইচ্ছেমতো বাইরে গিয়ে শপিং, ইটিং, ট্র্যাভেলিং করে ছুটির দিনটা... ...বাকিটুকু পড়ুন

×