কৈফিয়ত : রাজনীতিবিদরা তাদের ভাষণের নিজেদের জনগণের সেবক বলে থাকেন। জনগণের সেবা তারা কতটুকু করেন, সেটা ভুক্তভোগী মাত্রই জানেন। জনগণের একজন হিসেবে আমার প্রাপ্য সেবা পাওয়ার জন্য এই লেখার অবতারণা। একজন ভোটার ও নাগরিক হিসেবে রাজনীতিবিদদের কাছে থেকে প্রতিশ্রুত সেবা পাওয়া আমার অধিকার। আমার অধিকারের কথা বলার জন্য ক্ষুদ্র এক প্রচেষ্টা।
রাজনৈতিক সংস্কার : প্রস্তাব - ১ ( দলে চাই গণতন্ত্র )
এটিই হল আমাদের দেশের রাজনৈতিক দলগুলোর সব চেয়ে বড় ভণ্ডামি। তারা দিনের পর দিন গণতান্ত্রিক আন্দোলন করে যাচ্ছেন, গণতন্ত্র গণতন্ত্র বলে চিৎকার করে মুখে ফেনা তুলে ফেলছেন, অথচ তার নিজের দলে নেই গণতন্ত্র। যে নেতা গণতন্ত্র বলে জান বাজি রেখে আন্দোলন করছেন, তিনি সিন্দাবাদের ভুতের মতো তার দলের নেতৃত্ব ধরে রেখেছেন। শুধু তাই না, তার দলে কোন যোগ্য নেতৃত্ব তৈরি হলে তাকে ছলে বলে কৌশলে দল থেকে বের করে দিচ্ছেন। তার নেতৃত্বের জন্য প্রতিদ্বন্দ্বী হয়ে উঠতে পারে ভেবে কোন যোগ্য ব্যক্তিকে দলে ঠাই দিচ্ছেন না। তার চারপাশে আমরা তাকেই দেখতে পাচ্ছি, যারা তার চাটুকার, অযোগ্য ও তার প্রতিদ্বন্দ্বী হবার যোগ্যতা যাদের নাই।
আমাদের রাজনৈতিক দলগুলোর গঠনতন্ত্র কিন্তু এ ব্যবস্থা সমর্থন করে না। বেশির ভাগ দলের গঠনতন্ত্রে দু থেকে তিন বছরে একবার কাউন্সিলের মাধ্যমে তৃণমূল পর্যায়ের মতামত নিয়ে নতুন করে নেতা নির্বাচন করার কথা আছে। বাস্তবে কোন রাজনৈতিক দল গঠনতন্ত্র মেনে নেতা নির্বাচন করে না।
আসুন দেখা যাক, গণতন্ত্র বলতে আমরা জনগণ কী বুঝি ? গণতন্ত্রের প্রধান ভিত্তি দুটি, ১. ভোটের মাধ্যমে ক্ষমতায় আসা, ২. নির্দিষ্ট মেয়াদ পর্যন্ত ক্ষমতায় থাকা, তারপর ক্ষমতা ত্যাগ করে নতুন নির্বাচন করা। নেতা যত যোগ্যই হোক কিংবা যতই জনপ্রিয় হোক, নির্দিষ্ট মেয়াদ শেষে তাকে ক্ষমতা ছাড়তেই হবে।
রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে এ দুটি ধাপের একটিরও চর্চা নাই। প্রথমত দলের নেতা ভোটের মাধ্যমে নির্বাচিত হয় না। দ্বিতীয়ত, একবার নেতা হতে পারলে মরণ পর্যন্ত নেতার পদটি তার দখলে থাকে। এভাবে তৃণমূল নেতাকর্মীদের ভোট না পেয়ে বা না নিয়ে নেতা হওয়া অগণতান্ত্রিক। আবার দিনের পর দিন নেতার চেয়ার দখল করে রাখাও অগণতান্ত্রিক।
বাংলাদেশের বেশির ভাগ রাজনৈতিক দলে গণতন্ত্রের চর্চা নাই। জনগণ হিসেবে আমাদের পরিষ্কার দাবি, আমাদের গণতন্ত্র শেখানোর আগে তারা তাদের দলে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করুক।
শেষ কথা : নির্বাচন কমিশন সম্প্রতি রাজনৈতিক দলগুলোর নিবন্ধন করার কথা বলছে। নিবন্ধন করার শর্ত হিসেবে অবশ্যই প্রতিটি দলের মধ্যে গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা থাকার কথা থাকতে হবে।
সর্বশেষ এডিট : ১২ ই জুন, ২০০৮ দুপুর ১২:১৫

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


