কবিতাটি প্রতিবাদ হিসেবে লেখা...অন্য কোন অর্থ খুজতে যাবেন না। আর প্রতিবাদের কোন কথা বলতে গেলেই আমার মাথায় কেন জানিনা কবি নজরুলের কথা চলে আসে। তাই হয়তো তাকে অনুকরণের ক্ষীণ সাহস একটু হলেও দেখিয়ে ফেলেছি।
আশা করি, ভালো লাগবে এবং কমেন্ট করবেন।
প্রান্তে উতল...
কাপিছে ভূতল...
নগ্ন সুখে আজ প্রাণ হাসে...
এই ধ্বংস সুখের উল্লাসে...!!!
যৌবন যেন দুর্বার আজ
ক্ষণে ক্ষণে আসে বিদ্রোহী সাজ,
কল্পলোকের স্বপ্নসভা
ছড়ায় শুধু হতাশার আভা,
সেই আভার করূণ উচ্ছাসে
এই হতাশ-সুখের উল্লাসে।
পুঁজিবাদী ওই ধনীদের দল
ক্ষণে ক্ষণে আজ হানিছে ছোবল।
উপহাস করে হয় সে মহান
"ধনী-গরীব নাকি আজও সমান"।
হাহাহা...হিস্টিরিয়ার হাসি হাসে
সেই শোষণ-সুখের উল্লাসে।
হেরোইনে বুঁদ হয়েছে তরুণ
সমাজে মাদক চলছে দারুণ,
বাবা-মায়ের কোল করে নি:স্ব
গাঁজা টেনে মুরিদ হচ্ছে শিষ্য।
পেথিড্রিনের খোঁচায় দগ্ধ দু'হাত
বেঁচে থেকেও যেন মৃত্যুর স্বাদ।
দেখে যেন দূরান্তরের স্বপ্নও হাসে
শুধু এই মাদক-নেশার উল্লাসে।
রাজনীতি হয়েছে রাজার নীতি
প্রতি ৫ বছরে লেখা নতুন গীতি,
ফলাফল - যেই লাউ সেই কদু
ওরা সবাই খায় মধু,
আর আমরা পায় উৎচ্ছিষ্ট আবর্জনা
সেটা নিয়েই আকাশ-কুসুম কল্পনা,
ব্যস্ত আজ নিজের পকেট ভরার তালে
সামান্য ছড়িয়ে দেয়া জনতার পালে,
আসলে সব রসুনের একই গোড়া
ছাগলের ৩ নম্বর বাচ্চা মোরা।
হাহাহা...পেট ফেটে আজ হাসি আসে
সেই ব্যা-ব্যা করার উল্লাসে।
মঙ্গল গ্রহে গেছে নৈতিকতা
ভদ্র-অভদ্র অস্থিরতা,
সংস্কৃতিকে পুরে রেখে খাঁচায়
কর্পোরেট টাকা তুলছে মাচায়,
হিংলিশ আর বাংলিশ মিলে
বান মারছে তীলে তিলে,
ফলাফলে আমরা সবাই খুশি
হাতে বেলুন আর মুখে লেমন-চুষি,
উৎসবক্ষণ থাক বা না থাক
২১শে ফেব্রুয়ারী হয়েছে আজ পহেলা বৈশাখ।
হাহাহা...হাসি আসে
সেই লেমন-চুষের উচ্ছাসে।
হায়রে মাটি, হায়রে মা
তোর ছেলেরা কি চায়,
আজো বুঝলি না,
১৬ কোটি মানুষের দেশে
চিরন্তন দারিদ্রের বেশে,
বিরাট অট্টালিকার পাশে ফুটপাথে
ভিক্ষার থালা নিয়ে দু'হাতে।
সারাবিশ্বের ভিক্ষায় যা জোটে
পলিটি আর কর্পোরেটদের চোটে,
থাকে কিছু আধুলি,
তাতেই ঘনায় সাধারণ মানুষের গোধূলি।
নজর নেই কারো
যার আছে, সে চায় আরো,
আর প্রতিবাদ করতে গেলে
আইন-কানুনের মার-প্যাচালে,
যেন ফাঁদের সাথে ঘুঘু,
গরিষ্ঠ থেকেও বাস্তবে মোরা সংখ্যালঘু।
তবুও আজ হাসি আসে
এই সংখ্যালঘু হওয়ার উল্লাসে।
২৯.০৬.২০১১
রাত ১.০০টা।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

