somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

অবরোধবাসিনীরা কি আদৌ অর্ধাঙ্গী হতে পেরেছে?

০৮ ই মার্চ, ২০১৯ রাত ১:২২
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

এইবার বইমেলায় বেগম রোকেয়ার অবরোধবাসিনী কেনার পরিকল্পনা করে গিয়েছিলাম। মেলায় গিয়ে রোকেয়া রচনাবলি কিনে ফেলি। বাসায় এসে দুই দিনের মধ্যে অবরোধবাসিনী প্রবন্ধটি শেষ করি। প্রবন্ধটিতে তৎকালীন বাঙালী সমাজের হিন্দু মুসলিম নারীদের যে পরিমাণ কঠোর পর্দা প্রথা চালু ছিল তা ই ছোট বড় সাতচল্লিশটি ঘটনার মাধ্যমে চমৎকারভাবে তুলে ধরা হয়েছে। দুই চারটি ঘটনা পড়লেই বুঝতে পারবেন কতটা মর্মান্তিক ও হাস্যকর পর্দা ছিলো, সেজন্যই লিংকটি দেয়া হল। এই পোস্টিতে মতিচূর প্রবন্ধের প্রথম খণ্ডের কতিপয় উক্তি তুলে ধরা হয়েছে।

আজকের সমাজের নারীদের দিকে লক্ষ্য করলে পরিস্কারভাবে বুঝা যায় যে তারা তৎকালীন বাঙালী সমাজের নারীদের মত মোটেই অবরোধবাসিনী নয়। পুরুষের মত নারীরাও আজ সমতালে এগিয়ে যাচ্ছে।

*পুরুষের সমকক্ষতা লাভের জন্য আমাদিগকে যাহা করিতে হয়, তাহাই করিব। যদি এখন স্বাধীনভাবে জীবিকা অর্জন করিলে স্বাধীনতা লাভ হয়, তবে তাহাই করিব। আবশ্যক হইলে আমরা লেডি কেরানী হইতে আরম্ভ করিয়া লেডিম্যাজিস্ট্রেট, লেডি ব্যারিস্টার, লেডি জজ- সবই হইব। পঞ্চাশ বৎসর পর লেডি ভাইসরয় হইয়া এ দেশের সমস্ত নারীকে রাণী করিয়া ফেলিব। উপার্জন করিব না কেন? (স্ত্রীজাতির অবনতি)

বলার অপেক্ষা রাখে না বেগম রোকেয়ার সেই স্বপ্ন বর্তমানে অক্ষরে অক্ষরে পূরণ হয়েছে। আজকের নারীরা কোন অংশে পুরুষের চেয়ে পিছিয়ে নন। কৃষিক্ষেত্র থেকে শুরু করে রাজসিংহাসন অবধি নারীর অবাধ বিচরণ। উপরোক্ত উক্তিটি পড়ে যদি কেউ মনে করেন বেগম রোকেয়া পর্দা প্রথা উচ্ছেদের পক্ষে ছিলেন তবে তাদের জন্য নিচের উক্তি পেশ করছি।


*আমরা অন্যায় পর্দা ছাড়িয়া আবশ্যক পর্দা রাখিব। প্রয়োজন হইলে অবগুণ্ঠন সহ মাঠে বেড়াইতে আমাদের আপত্তি নাই। স্বাস্থ্যের উন্নতির জন্য শৈলবিহারে বাহির হইলেও বোরকা সঙ্গে থাকিতে পারে। বোরকা পরিয়া চলাফেরা করায় কোন অসুবিধা হয় না। তবে সে জন্য সামান্য রকমের একটু অভ্যাস চাই। বিনা অভ্যাসে কোন কাজটা হয়?( বোরকা)

বর্তমানে একটা প্রবাদ বহুল পরিচিত যে, শরীরের পর্দা বড় কথা না, মনের পর্দাই আসল পর্দা। কিন্তু বর্তমানে যেসব নারীরা স্বেচ্ছায় বোরকা পরিধান করেন ( বর্তমানে প্রচলিত রঙ বেরঙের হিজাব ও স্কিনটাইট গাউন নয়), তথাকথিত মুক্তমনা নারীবাদীরা তাদেরকে সেকেলে ও বর্বর বলে থাকেন। তারা মনে করেন পুরুষের মত কাপড় পরলেই পুরুষের সমকক্ষ হওয়া যায়। যত ছোট ও আটসাট কাপড় ততই আধুনিক ও মুক্তমনা। এমনকি জনৈক ললনা বলেছেন , পুরুষ যদি বিনা কাপড়ে বাইরে যেতে পারে তবে নারী কেন নয়? এমন বিকৃত চিন্তা সংবলিত নারীদেরকেও লেখিকা বোরকা নামক প্রবন্ধে সুন্দর জবাব দিয়েছেন।


*উচ্চশিক্ষা প্রাপ্ত ভগ্নীদের সহিত দেখা হইলে তাহারা প্রায়ই আমাকে বোরকা ছাড়িতে বলেন। বলি, উন্নতি জিনিসটা কি? তাহা কি কেবল বোরকার বাহিরেই থাকে? যদি তাহাই হয় তবে কি বুঝিব যে জেলেনী, চামারনী, ডুমুনী প্রভৃতি স্ত্রীলোকেরা আমাদের অপেক্ষা অধিক উন্নতি লাভ করিয়াছে?

*কেহ বলিয়াছেন যে " সুন্দর দেহকে বোরকা জাতীয় এক কদর্য ঘোমটা দিয়া আপাদমস্তক ঢাকিয়া এক কিম্ভূতকিমাকার জীব সাজা কি হাস্যকর ব্যাপার যাহারা দেখিয়াছেন, তাহারাই বুঝিতে পারিয়াছেন " - ইত্যাদি। তাহা ঠিক। কিন্তু আমাদের বিশ্বাস যে রেলওয়ে প্লাটফর্মে দাঁড়াইয়া কোন সম্ভ্রান্ত মহিলাই ইচ্ছা করেন না যে তাহার প্রতি দর্শকবৃন্দ আকৃষ্ট হয়। সুতরাং ঐরূপ কুৎসিত জীব সাজিয়া দর্শকের ঘৃণা উদ্রেক করিলে কোন ক্ষতি নাই। বরং কুলকামিনীগণ মুখমণ্ডলের সৌন্দর্য দেখাইয়া সাধারণ দর্শকমণ্ডলীকে আকর্ষণ করাই দোষণীয় মনে করিবেন।

*পৃথিবীর অসভ্য জাতিরা অর্ধ উলঙ্গ অবস্থায় থাকে। ইতিহাসে জানা যায়, পূর্বে অসভ্য ব্রিটেনেরা অর্ধ নগ্ন থাকিত। ঐ অর্ধ নগ্ন অবস্থার পূর্বে গায়ে রঙ মাখিত। ক্রমে সভ্য হইয়া তারা পোশাক ব্যবহার করিতে শিখিয়াছে।

উল্লেখিত উক্তিগুলি মনোযোগ দিয়ে পড়লে বুঝা যায় বেগম রোকেয়া অবরোধবাসিনীদের পর্দা প্রথার বিরোধী ছিলেন না বরং অপ্রয়োজনীয় ও জীবননাশক অবরোধ প্রথা সমাজ থেকে দুর করতে অক্লান্ত সংগ্রাম করেছেন।

বর্তমানে আদর্শ নারী ও আদর্শ গৃহিনী বলতে একই অর্থ বুঝায় কিনা জানিনা তবে বেগম রোকেয়া তার সুগৃহিণী লেখায় আদর্শ গৃহিণীর কতিপয় বৈশিষ্ট্য উল্লেখ করেছেন। সেখান থেকে অংশবিশেষ পাঠকের সুবিধার্থে তুলে ধরছি।

*পরিমিত ব্যয় করা গৃহিণীর একটা প্রধান গুণ। হতভাগা পুরুষের টাকা উপার্জন করিতে কিরূপ শ্রম ও যত্ন করেন, কতখানি মাথার ঘাম পায়ে ফেলিয়া এক একটি পয়সার মূল্য দিয়া থাকেন, অনেক গৃহিণী তা একটু চিন্তা করিয়াও দেখেন না। উপার্জন না করিলে স্বামীর সহিত ঝগড়াঝাটি করিবেন, যথাসাধ্য কটুবাক্য বলিবেন, কিন্তু একটু সহানুভূতি করেন কই?


*পরিবারভুক্ত লোকদের সেবা যত্ন করা গৃহিণীর অবশ্য কর্তব্য। প্রত্যকের সুখ সুবিধার নিমিত্তে নিজের ক্ষুদ্র স্বার্থ ত্যাগ করা রমণীজীবনের ধর্ম। এ কার্য্যের জন্যও সুশিক্ষা চাই। সচরাচর গৃহিণীরা পরিজনকে সুখ দিবেন তো দূরের কথা, তাহাদের সহিত ছোট ছোট বিষয় লইয়া কোঁদল কলহে সময় কাটাইয়া থাকেন। শাশুড়ির নিন্দা ননদিনীর নিকট, আবার ননদের কুৎসা মাতার নিকট করেন, এইভাবে দিন যায়।


*সন্তানপালন - ইহা সর্বাপেক্ষা গুরুতর ব্যাপার। সন্তান পালনের সঙ্গে সঙ্গেই সন্তানের শিক্ষা হইয়া থাকে। একজন ডাক্তার বলিয়াছেন যে, " মাতা হইবার পূর্বেই সন্তান পালন শিক্ষা করা উচিত। মাতৃকর্তব্য অবগত না হইয়া যেন কেহ মাতা না হন।"

*প্রতিবেশীর প্রতি গৃহিনীর কর্তব্য সম্বন্ধেও এক্ষেত্রে দুই চারি কথা বলা প্রয়োজন বোধ করি। আমরা শুধু নিজের সুখ সুবিধার চিন্তায় ব্যস্ত থাকি, অপরের অসুবিধার বিষয় আমাদের মনে উদয়ই হয় না। বরং কাহারও বিপদের দ্বারা আমাদের কিছু লাভ হইতে পারে কি না সেই কথাই পূর্বে মনে উদয় হয়। প্রতিবেশিনীর বিপদকে নিজের বিপদ বলিয়া মনে করা উচিত।

শুধু চাকরির জন্য শিক্ষা প্রয়োজন না, বরং একজন আদর্শ গৃহিণী হতে হলেও সুশিক্ষার প্রয়োজন রয়েছে যা লেখিকা তার লেখায় বারংবার উল্লেখ করেছেন। কিন্তু আজকাল অধিকাংশ ক্ষেত্রে শিক্ষার মূল উদ্দেশ্য ভালো একটা চাকরি লাভ করা, সার্টিফিকেট এর পরিমাণ বৃদ্ধি করা।

এই তো গেলো অবরোধবাসিনীদের গৃহের অভ্যন্তরীন ও বাহ্যিক বৈশিষ্ট্যের আলোচনা। এবার আসা যাক অর্ধাঙ্গী হওয়া প্রসঙ্গে। লেখিকা তার অর্ধাঙ্গী নামক প্রবন্ধে অর্ধাঙ্গী শব্দটা পরিস্কার করার জন্য দুটি উদাহরণ পেশ করেছেন।

*মনে করুন কোন স্থানে পূর্ব দিকে একটি বৃহৎ দর্পণ আছে, যাহাতে আপনি আপাদমস্তক নিরীক্ষণ করিতে পারেন। আপনার দক্ষিণাঙ্গভাগ পুরুষ এবং বামাঙ্গভাগ স্ত্রী।


*যদি এ মূর্তিটা অনেকের মনোমত না হয়, তবে দ্বিচক্র শকটের গতি দেখাই। যে শকটের এক চক্র বড় এবং এক চক্র ছোট হয়, সে শকট অধিক দূরে যাইতে পারে না, সে কেবল একই স্থানে ঘুরিতে থাকিবে।

বেগম রোকেয়ার স্ত্রীজাতির অবনতি শীর্ষক প্রবন্ধ থেকে অর্ধাঙ্গী হওয়া প্রসঙ্গে চমৎকার একটি স্তবক তুলে ধরতে চাই।

*আমরা সমাজেরই অর্ধঅঙ্গ। আমরা পড়িয়া থাকিলে সমাজ উঠিবে কিরূপে? কোন ব্যক্তির এক পা বাঁধিয়া রাখিলে, সে খোঁড়াইয়া খোঁড়াইয়া কতদূর চলিবে? পুরুষদের স্বার্থ এবং আমাদের স্বার্থ আলাদা নহে - একই। তাহাদের জীবনের উদ্দেশ্য ও লক্ষ্য যাহা, আমাদের লক্ষ্যও তাহাই। শিশুর জন্য পিতামাতা উভয়েরই সমান দরকার। কি আধ্যাত্মিক জগতে - কি সাংসারিক জীবনের পথে - সর্বত্র আমর যাহাতে তাহাদের পাশাপাশি চলিতে পারি, আমাদের এরূপ গুনের আবশ্যক। প্রথমতঃ উন্নতির পথে তাহারা দ্রুতবেগে অগ্রসর হইলেন - আমরা পশ্চাতে পড়িয়া রহিলাম। এখন তাহারা উন্মতিরাজ্যে গিয়া দেখিতেছেন সেখানে তাহাদের সঙ্গিনী নাই বলিয়া তাহারা একাকী হইয়া আছেন। তাই আবার ফিরিয়া দাঁড়াইতে বাধ্য হইতেছেন। এবং জগতের যেসকল সমাজের পুরুষেরা সঙ্গিনীসহ অগ্রসর হইতেছেন, তাহারা উন্নতির চরমসীমায় উপনীত হইতে চলিয়াছেন। আমাদের উচিত যে তাহাদের সংসারের এক গুরুতর বোঝা বিশেষ না হইয়া আমরা সহচরী, সহকর্মিনী, সহধর্মিণী ইত্যাদি হইয়া তাহাদের সহায়তা করি। আমরা অকর্মণ্য পুতুল জীবন বহন করিবার জন্য সৃষ্ট হই নাই, একথা নিশ্চিত।


আমাদের আজকের বাঙালী সমাজে না কোন অবরোধ প্রথা আছে, না কোন শিক্ষার অভাব। তবুও কি নারীরা অর্ধাঙ্গী হতে পেরেছে? চারপাশের বিভিন্ন সমস্যা যেমন পরকিয়া, যৌতুকের বলী, ধর্ষণ, অযাচার, অবৈধ যৌন সম্পর্ক, সাংসারিক কলহ, স্বামী কর্তৃক স্ত্রী / স্ত্রী কর্তৃক স্বামী হত্যা, নোংরা ভিডিও, অশালীন বিজ্ঞাপন ইত্যাদি লক্ষ্য করলে এটা স্পষ্ট হয় যে, নারী যেন এক পণ্য, ভোগ্যপণ্যও বটে। যদি মূল্যবান উপহার মনে করা হত তবুও কিছু অংশে মেনে নেয়া যেত। কিন্তু তালাকি, বিধবা, ত্রিশোর্ধ্ব অবিবাহিত নারীর প্রতি সমাজের দৃষ্টিভঙ্গি দেখলে বুঝা যায় যে নারীর শিক্ষা, সততা ও গুণের কোন মূল্য নেই, আছে শুধু....। একজন মুমূর্ষু প্রায় বৃদ্ধও অল্প বয়সের কোন মেয়েকেই বিয়ে করতে চায় কারণ একটাই।
আজকে আমাদের সমাজ এতো উন্নত তবুও একজন নারীকে অর্ধাঙ্গীর মর্যাদা দেয়া হয় না, সে নারী যতই দক্ষ ও সৎ হোক । তার জন্য তিনটি কারণকে দায়ী করা যায়।
১. সমাজব্যবস্থা
২, পুরুষতান্ত্রিক মনোভাব
৩, উগ্র নারীবাদ।
এক্ষেত্রে বেগম রোকেয়ার যথাক্রমে স্ত্রী জাতির অবনতি ও অর্ধাঙ্গী শীর্ষক প্রবন্ধ থেকে দুটি উদ্ধৃতি দিতে চাই।

*যাহা হউক শিক্ষার অর্থ কোন সম্প্রদায় বা জাতির অন্ধ অনুকরণ নহে। ঈশ্বর যে স্বাভাবিক জ্ঞান বা ক্ষমতা দিয়াছেন, সেই ক্ষমতাকে অনুশীলন দ্বারা বৃদ্ধি করাই শিক্ষা। ঐ গুণের সদ্ব্যবহার করা কর্তব্য এবং অপব্যবহার করা দোষ। ঈশ্বর আমাদিগকে হস্ত, পদ, চক্ষু, কর্ণ, মনঃ এবং চিন্তাশক্তি দিয়াছেন। যদি আমরা অনুশীলন দ্বারা হস্তপদ সবল করি, হস্ত দ্বারা সৎকার্য করি, চক্ষু দ্বারা মনোযোগ সহকারে দর্শন করি, কর্ণ দ্বারা মনোযোগ পূর্বক শ্রবণ করি এবং চিন্তাশক্তি দ্বারা আরও সূক্ষ্মভাবে চিন্তা করিতে শিখি - তাহাই প্রকৃত শিক্ষা। আমরা কেবল পাশ করা বিদ্যাকে প্রকৃত শিক্ষা বলি না।


*স্বীকার করি যে, শারীরিক দূর্বলতাবশতঃ নারীজাতি অপর জাতির সাহায্যে নির্ভর করে। তাই বলিয়া পুরুষ প্রভু হইতে পারে না। কারণ জগতে দেখিতে পাই, প্রত্যেকেই প্রত্যেকের নিকট কোন না কোন প্রকার সাহায্য প্রার্থনা করে, যেন একে অপরের সাহায্য ব্যতিত চলিতে পারে না। তরুলতা যেমন বৃষ্টির সাহায্যপ্রার্থী, মেঘও সেইরূপ তরুর সাহায্য চায়। জল বৃদ্ধির নিমিত্তে নদী বর্ষার সাহায্য চায়, মেঘ আবার নদীর নিকট ঋণী। তবে তরঙ্গিনী কাদম্বিনীর " স্বামী ", না কাদম্বিনী তরঙ্গিনীর " স্বামী "?

এবার আপনারাই বিবেচনা করুন সেই যুগের অবরোধবাসিনীরা এই যুগে কতখানি অর্ধাঙ্গী।


দেখি ইসলাম কি বলে এ ব্যাপারে। অনেকেই বলে, ইসলাম নারীকে যথাযথ সম্মান দেয় নি।

মহান রাব্বুল আলামিন কুরআন কারিমে ইরশাদ করেন,

ﻫُﻮَ ﺍﻟَّﺬِﻱ ﺧَﻠَﻘَﻜُﻢ ﻣِّﻦ ﻧَّﻔْﺲٍ ﻭَﺍﺣِﺪَﺓٍ
ﻭَﺟَﻌَﻞَ ﻣِﻨْﻬَﺎ ﺯَﻭْﺟَﻬَﺎ ﻟِﻴَﺴْﻜُﻦَ ﺇِﻟَﻴْﻬَﺎ
তিনিই সে সত্তা যিনি তোমাদিগকে সৃষ্টি
করেছেন একটি মাত্র সত্তা থেকে;
আর তার থেকেই তৈরী করেছেন তার
জোড়া, যাতে তার কাছে স্বস্তি পেতে
পারে। (সুরা আরাফ-১৮৯)


ۚ ﻭَﻟَﻬُﻦَّ ﻣِﺜۡﻞُ ﭐﻟَّﺬِﻱ
ﻋَﻠَﻴۡﻬِﻦَّ ﺑِﭑﻟۡﻤَﻌۡﺮُﻭﻑِۚ ﻭَﻟِﻠﺮِّﺟَﺎﻝِ ﻋَﻠَﻴۡﻬِﻦَّ ﺩَﺭَﺟَﺔٞۗ ﻭَﭐﻟﻠَّﻪُ
ﻋَﺰِﻳﺰٌ ﺣَﻜِﻴﻢٌ ٢٢٨
আর পুরুষদের যেমন
স্ত্রীদের উপর অধিকার রয়েছে, তেমনি
ভাবে স্ত্রীদেরও অধিকার রয়েছে
পুরুষদের উপর নিয়ম অনুযায়ী। আর
নারীরদের ওপর পুরুষদের শ্রেষ্ঠত্ব
রয়েছে। আর আল্লাহ্ হচ্ছে
পরাক্রমশালী, বিজ্ঞ।( সুরা বাকারা -২২৮)


ﻭَﻣِﻦْ ﺁﻳَﺎﺗِﻪِ ﺃَﻥْ ﺧَﻠَﻖَ ﻟَﻜُﻢ ﻣِّﻦْ ﺃَﻧﻔُﺴِﻜُﻢْ ﺃَﺯْﻭَﺍﺟًﺎ ﻟِّﺘَﺴْﻜُﻨُﻮﺍ
ﺇِﻟَﻴْﻬَﺎ ﻭَﺟَﻌَﻞَ ﺑَﻴْﻨَﻜُﻢ ﻣَّﻮَﺩَّﺓً ﻭَﺭَﺣْﻤَﺔ
ً অর্থাৎ ‘আর এক
নিদর্শন এই যে, তিনি তোমাদের জন্যে
তোমাদের মধ্য থেকে তোমাদের সংগিনীদের
সৃষ্টি করেছেন, যাতে তোমরা তাদের কাছে
শান্তিতে থাক এবং তিনি তোমাদের মধ্যে পারস্পরিক
সম্প্রীতি ও দয়া সৃষ্টি করেছেন।’ (সূরা রুম :
আয়াত ২১)

আল্লাহ অন্যত্র ইরশাদ করেন- ﻫُﻦَّ ﻟِﺒَﺎﺱٌ ﻟَّﻜُﻢْ
ﻭَﺃَﻧﺘُﻢْ ﻟِﺒَﺎﺱٌ ﻟَّﻬُﻦَّ অর্থাৎ ‘তারা (স্ত্রীগণ)
তোমাদের পোশাক এবং তোমরা (স্বামীগণ)
তাদের পোশাক`। (সূরা বাকারা : আয়াত ১৮৭)



উৎসর্গ ঃ একসময় অবরোধবাসিনীদের অর্ধাঙ্গী হওয়ার অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য যিনি কলম ধরেছিলেন , আজ আবারও অর্ধাঙ্গী হওয়ার প্রেরণা জোগাতে সেই মহীয়সী নারীর প্রয়োজনীয়তা অনুভব করছি। তাই আজকের এই পোস্টটি নারী জাগরণের অগ্রদূত বেগম রোকেয়ার স্মরণে নিবেদন করলাম।
সর্বশেষ এডিট : ০৮ ই মার্চ, ২০১৯ রাত ১:২৩
১৬টি মন্তব্য ১৬টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

রাস্তায় পাওয়া ডায়েরী থেকে-১১০

লিখেছেন রাজীব নুর, ১৬ ই সেপ্টেম্বর, ২০১৯ সকাল ১০:০২



১। সারা পৃথিবী জুড়ে- সভা, সেমিনার, গোলটেবিল বৈঠক, অনশন, মানব বন্ধন অথবা কনফারেন্স করে কিছুই করা যাবে না। এগুলোতে অনেক আলোচনা হয়- কিন্তু কাজের কাজ কিছুই হয় না।... ...বাকিটুকু পড়ুন

হে মানব হিতৌষি রমনী, শুভ জন্মদিন একজন জনকের কথা

লিখেছেন সেলিম আনোয়ার, ১৬ ই সেপ্টেম্বর, ২০১৯ সকাল ১০:০৭



জানা আপু— আমাদের প্রিয়জন,
কোথায় আছো কেমন আছো?
তোমায় খোঁজে এ দু'নয়ন—এই কৌতুহলি মন।
হায়! দেখি—না ক তো দি ন!!!
আশা করি ভালোই আছো
অশ্বস্তি গেছে কেটে
... ...বাকিটুকু পড়ুন

আলো আঁধার

লিখেছেন ইসিয়াক, ১৬ ই সেপ্টেম্বর, ২০১৯ বিকাল ৩:৪২


দূর দিগন্তে চেয়ে দেখি
বাঁশ বাগানের ছায়
জলপরীরা খেলা করে
আলোর মায়ায় ।।

নারকেলের পাতার ফাঁকে
শুক্ল পক্ষের চাঁদ
আলো ঝলমল সৌন্দর্য... ...বাকিটুকু পড়ুন

গন্ডগোলের বিপরিতে কিছুটা সামানুপাতিক গন্ডগল করা উচিত?

লিখেছেন চাঁদগাজী, ১৬ ই সেপ্টেম্বর, ২০১৯ রাত ১১:৪৮



এই ঘটনাটা ঘটেছিলো বেশ আগে, একটা দোকানী আমার সাথে গন্ডগোল করেছিলো, আমি সামান্য চেষ্টা করেছিলাম, সেই কাহিনী।

এক ছুটির দিনে এক বন্ধুমানুষ আমাকে ও আরো ৪ জনকে নিয়ে... ...বাকিটুকু পড়ুন

দ্যা হিপোক্রেসি - নরকের কীটের সাথে সহবাস

লিখেছেন , ১৭ ই সেপ্টেম্বর, ২০১৯ রাত ১২:১৪



পর্ব- ১১
********
মানুষের মনের মাঝে চেপে থাকা কষ্টের মানসিক চাপ বিষের যন্ত্রণার চেয়েও ভয়াবহ। মনের ভেতর চাপা রাখা কথাগুলো প্রতিনিয়ত চাপাতির কোপ দেয়। কারো কারো জীবন জুড়ে এমন অসহনীয় কুপানোর... ...বাকিটুকু পড়ুন

×