somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

“প্রিয় নেতা” কিম জং ইল

১৯ শে ডিসেম্বর, ২০১১ রাত ৮:০৯
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

গত শনিবার এক ট্রেন সফরের সময় হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে ৬৯ বছর বয়সে মারা গেছেন উত্তর কোরিয়ার একনায়ক শাসক কিম জং ইল।গত রাতে উত্তর কোরিয়ার রাষ্ট্র পরিচালিত টেলিভিশন চ্যানেলে কালো পোশাক পরিহিত উপস্থাপক অশ্র“সজল চোখে তার এই মৃত্যুর খবর জানায়, খবরে আরও বলা হয় ‘দেশকে নেতৃত্ব দিতে’ মাত্রাতিরিক্ত শারীরিক ও মানসিক চাপ নেওয়ার কারণেই মৃত্যু হয়েছে কিম জং ইলের।বেশ কিছুদিন ধরে তিনি অসুস্থ ছিলেন।এর আগে ২০০৮ সালে একবার স্ট্রোক হয়েছিল এই সমাজতান্ত্রিক নেতার।
কিম জং-এর মৃত্যুর খবরে উত্তর কোরিয়াজুড়ে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।রাজধানী পিয়ংইয়াং-এর রাস্তায় নেমে এসে কান্নকাটি করে শোকাহত মানুষজন।দেশটিতে ১৭ ডিসেম্বর থেকে ২৯ ডিসেম্বর পর্যন্ত জাতীয় শোক ঘোষণা করা হয়েছে।
পশ্চিমাদের চোখে কিম জং ইল ‘খেয়ালি একনায়ক’, ‘বদমেজাজি জালিম শাসক’ হিসেবে বিবেচিত হলেও কিম জং ইলকে তাঁর দেশের মানুষ ডাকত 'প্রিয় নেতা' নামে।
তিনি ১৯৪২ সালের ১৬ ফেব্রুয়ারি কোরিয়ার বিখ্যাত পায়েকতু পর্বতের কাছে পিতা কিম ইল সাংয়ের (Kim Il-sung) নেতৃত্বাধীন বিদ্রোহী সেনাদের এক গোপন শিবিরে জন্মগ্রহণ করেন। তবে কেউ কেউ বলেন, তাঁর বাবা ও অন্যান্য কোরিয়ান কমিউনিস্টরা সামরিক ও অন্যান্য প্রশিক্ষণের জন্য সাবেক সোভিয়েত ইউনিয়নের সাইবেরিয়াতে অবস্থানকালে তাঁর জন্ম হয়।
কিম জং ইলের ব্যক্তিগত জীবন সম্পর্কে খুব একটা তথ্য পাওয়া যায় না। বলা হয়, তিনি পিয়ংইয়ংয়ে তাঁর বাবার নামে প্রতিষ্ঠিত কিম ইল সাং বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ালেখা করেছেন এবং সেখানেই কমিউনিস্ট বিপ্লবের দীক্ষা নিয়েছেন।যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী মেডলিন অলব্রাইট তাঁর অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে কিম জং ইলকে ‘বিচিত্র’ মানুষ বলে অভিহিত করেছেন। অলব্রাইটের দৃষ্টিতে কিম ছিলেন বুদ্ধিমান ও জ্ঞানী মানুষ।

১৯৯৪ সালে কিম ইল সাংয়ের মৃত্যু হলে দেশটিতে সরকারিভাবে তিন বছরের জন্য শোক পালন করা হয়। বাবার মৃত্যুর পর কিম জং ইল সমাজতান্ত্রিক এ দেশটির ক্ষমতার হাল ধরেন। সেই সঙ্গে নানা বিতর্কিত কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে তিনি বিশ্ব থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েন।
কিম ইল সাংকে কোরিয়ার জনক, মহান নেতা ও চিরন্তন প্রেসিডেন্ট হিসেবে অভিহিত করা হয়। এ কারণে ছেলে কিম জং ইল কখনোই দেশটির প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব নেননি। এই পদটি ছিল কেবল তাঁর বাবার জন্যই সংরক্ষিত।
ক্ষমতা গ্রহণ করে তিনি তাঁর বাবার গৃহীত ‘সামরিক বাহিনীই প্রথম’ নীতি বিশ্বস্ততার সঙ্গে পালন করেন। এ নীতি বাস্তবায়ন করতে গিয়ে তিনি দেশের অধিকাংশ সম্পদই সামরিক খাতে নিয়োজিত রেখেছেন। এমনকি দেশটিতে চরম দুর্ভিক্ষ চলাকালেও তাঁর এ নীতির বাস্তবায়ন অব্যাহত ছিল। এই নীতির মাধ্যমেই তিনি উত্তর কোরিয়ায় বিশ্বের পঞ্চম বৃহত্তম সেনাবাহিনী গড়ে তুলেছেন।
কিম জং ইল ছিলেন তাঁর দেশে পরমাণু অস্ত্র গড়তে উদ্যোগী ছিলেন। ২০০৬ সালের অক্টোবরে প্রথমবারের মতো উত্তর কোরিয়া পরমাণু অস্ত্রের পরীক্ষামূলক বিস্ফোরণ ঘটায়। একই ধরনের অন্য একটি পরীক্ষা চালানো হয় ২০০৯ সালে। ফলে দেশটির ওপর জাতিসংঘ নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে। বলতে গেলে, পরমাণু ইস্যুকে কেন্দ্র করে উত্তর কোরিয়া ছিল পুরোপুরি একঘরে।
অপশাসন, জনগণের ওপর নিপীড়ন ও পরমাণু অস্ত্র গড়তে উত্তর কোরিয়ার প্রচেষ্টার পরিপ্রেক্ষিতে ২০০২ সালে মার্কিন প্রেসিডেন্ট জর্জ বুশ দেশটির তীব্র সমালোচনা করেন। ইরান ও ইরাকের সঙ্গে তিনি উত্তর কোরিয়াকে ‘শয়তানের অক্ষ’ বলে অভিহিত করেন। উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং ইলকে একজন ভয়ংকর মানুষ বলেও অভিহিত করেছিলেন বুশ।

তবে সমালোচকদের মতে, বাবার মতোই কঠোর হাতে দেশ পরিচালনা করেছেন কিম। বিরোধীদের তিনি নির্মমভাবে দমন করেছেন। যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটনভিত্তিক বেসরকারি মানবাধিকার সংস্থা কমিটি ফর হিউম্যান রাইটসের হিসাবে উত্তর কোরিয়ার কারাগারে প্রায় দুই লাখ রাজবন্দী আছে।
এক হিসাবে বলা হয়েছে, অর্থনৈতিক অব্যবস্থাপনা ও প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে সৃষ্ট দুর্ভিক্ষে দেশটির প্রায় ২০ লাখ মানুষ মারা গেছে। এ পরিস্থিতিতেও কিম তাঁর দেশে বিদেশি সহায়তাকারীদের প্রবেশের অনুমতি দেননি। এমনকি এই ভয়াবহ সময়েও আগের মতোই তিনি সামরিক খাতে বরাদ্দ অব্যাহত রেখেছিলেন।
কিমের বিয়োগে তার ছেলে মি জং উন দেশটির শাসনব্যবস্থার হাল ধরবেন বলেই ধারণা করছেন বিশ্লেষকরা।ইতিমধ্যে তাঁর উত্তরসূরী হিসাবে তাঁর ছেলে কিম জং অনকে সমর্থন করার জন্য রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম থেকে দেশের জনগণের কাছে আহ্বান জানানো হয়েছে।
২৮শে ডিসেম্বর পিয়ংইয়াং-এ তার শেষকৃত্য সম্পন্ন হবে।
সর্বশেষ এডিট : ১৯ শে ডিসেম্বর, ২০১১ রাত ৮:১১
৪টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

ইজিবাইক চলাচলের প্রকৃত কর্তৃপক্ষ কে?

লিখেছেন মাহদী হাসান শিহাব, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ২:৩৪



দেশের বিভিন্ন শহর ও গ্রামে ইজিবাইক নামে একটি যানবাহন চলাচল করে। কিন্তু এর পরিচালনা, লাইসেন্সিং এবং চলাচলের ক্ষেত্র সম্পর্কে সুস্পষ্ট ও সর্বজনবিদিত কোনো নীতিমালা সাধারণ মানুষের কাছে দৃশ্যমান নয়।

শহরের ভেতরে,... ...বাকিটুকু পড়ুন

মন কথনিকা-৪৮৭৩-৭৪

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ০৮ ই জুন, ২০২৬ রাত ১০:০৯

মন কথনিকা-৪৮৭৩
তোমার আমার মতামতে আকাশ পাতাল সীমা
আমার বুলি বরফ জলের তোমার যেন বোমা,
তুমি বলো রোদের তেজে আমি বর্ষার মতন
বুকের ভিতর বন্ধু বুঝি পাথর পুষো যতন।

মন কথনিকা-৪৮৭৪
পিঠে ব্যথা ভাল্লাগে না, মন... ...বাকিটুকু পড়ুন

শেখ হাসিনাই ধ্বসিয়ে দিলেন মমতার দলকে?

লিখেছেন ...নিপুণ কথন..., ০৯ ই জুন, ২০২৬ রাত ১:২২


শেখ হাসিনাই ধ্বসিয়ে দিয়েছেন মমতা ব্যানার্জিকে। কিভাবে? দুই দফায় পানিচুক্তি হতে দেননি মমতা। কংগ্রেসের মনমোহন সিং প্রধানমন্ত্রী থাকাকালীন এবং বিজেপির Narendra Modi প্রধানমন্ত্রী থাকাকালীন দুবার দুজনই বাংলাদেশ সফরে এসেছিলেন, দুবারই... ...বাকিটুকু পড়ুন

পাহাড়ে চড়া আর মাউন্টেনিয়ারিং: এক নয়

লিখেছেন মুনতাসির, ০৯ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১০:০৮




আজকাল পাহাড়ে ওঠা অনেক সহজ হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রায় প্রতিদিনই দেখা যায় কেউ না কেউ কোনো পাহাড়ের চূড়ায় দাঁড়িয়ে ছবি তুলছেন। ট্রেইল ধরে হেঁটে, কখনো দড়ি ধরে, কখনো গাইডের সাহায্যে... ...বাকিটুকু পড়ুন

“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

লিখেছেন মোস্তফা কামাল পলাশ, ০৯ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১:৪৭



“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

আনন্দের সঙ্গে জানাচ্ছি যে বাংলাদেশের সর্বস্তরের মানুষের কাছে সহজে আবহাওয়া পূর্বাভাস এবং আবহাওয়া-সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতামূলক তথ্য পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে abohawa.com... ...বাকিটুকু পড়ুন

×