আমার ছেলেবেলায় অর্থাৎ শিশু অবস্থায় কেমন ছিলাম জানিনা, কারন আমার ছোটবেলার কোন ছবি নেই।বন্ধুদের বাসায় গেলেই দেখি দেয়ালে নাদুস নুদুস বাচ্চাদের ছবি ঝোলানো, কপালের কোনায় বড় গোল কালির টিপ, হাসিমুখ, নাম মাত্র পোষাকে ক্যামেরার দিকে তাকানো! খানিক পরেই জানতে পারি এটা আমার ধুমসি বান্ধবী কিংবা আমার দামড়া বন্ধু!
আমার ছবি নাই কেন?আমার বাবা মা তোলেনি, ছবি তোলার কথা তাদের মনেই আসেনি!আমার চাচাতো খালাতো ফুপাতো ভাইবোনদের ছবি আছে ,আমারটা নেই।বাবার ছবি তোলাতে প্রচন্ড অনিচ্ছা ছেলেবেলা থেকেই,বাবার যুবা বয়সের হাতে গোনা কয়েকটি ছবি দেখেছি তাও চাকরির সুবাদে তোলা । আর সে সময় ব্যক্তিগত ক্যামেরা থাকা না থাকাও একটা কারন।ছোট্ট বাচ্চাকে নিয়ে স্টুডিও অবদি যাওয়ার ধৈর্য বাবার ছিলনা!
আমার সর্বপ্রথম ছবি তোলা হয় যখন আমার বয়স,ছ সাত বছর, আমাদের মিরপুরের বাড়িতে।বড়চাচা আমেরিকা থেকে আসলেন, সাথে ক্যামেরা!মহা উৎসাহে সবাই ছবি তুলছে!আমারটা ও তোলা হলো। দরজা ধরে দাড়ানো একটা ছেলে, দরজাটা খোলা, পায়ের কাছ পর্যন্ত রোদ।খালি পা,হাফ প্যান্ট পরা, লম্বা শার্ট, ঘাড় কাত করে ক্যামেরার দিকে তাকানো,চোখ মুখে রাজ্যের কৌতুহল।
ছবি হচ্ছে টাইম মেশিনের মত।আমার ছেলেবেলার কথা মনে হলেই , ছবিটার কথা মনে হয়, আমি সেই মুহূর্তে ফিরে যাই, মনে হয় আরো ছোট বেলার ছবি থাকলে আমি আরো আগে যেতে পারতাম! হায়, আমার আর যাওয়া হয়না!
"এই তৃষ্ণার্ত শহরে আমি যখন বৃষ্টি দেখি তখন
আমার বুকের উপর ঝাঁপিয়ে পড়ে কৈশোর
মাথায় উপচে পড়ে নদীনালা,
বর্ষাকাল কল কল করে ডেকে ওঠে
মৌমাছির মত গুনগুন করে আমার শৈশব;
আমি নাম ধরে ডাকি ও টিয়া পাখি, ও
চাঁপা ফুল
বুকের মধ্য ঝমঝম করে রূপকথা।
আমি সেই তেপান্তরের মাঠের দিকে চলে যাই
আর ফেরা হয়না;
কাঁচা হলুদের মত আমার কিশোর বেলা গো
তুমি কেমন আছো?
তুমি কি এখনো হাফ প্যান্ট পরা, এখনো স্কুল ব্যাগ কাধে,
কোথায় তুমি হারিয়ে গেলে কৈশোর, মেঘবেলা,
ও হরিণখোলা ।"
( ও কৈশোর: মহাদেব সাহা)

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

