আমি হুমায়ূন আহমেদের ভক্ত ছিলাম এক সময় কিন্তু ইদানিং নতুন লেখাগুলা পড়তে চেস্টা করলে দু চার পাতার বেশি এগোনো যায়না,আগাইতে পারিনা।আসলে উপন্যাস পড়ার ধৈর্য কইমা গেছে,আগ্রহ এখন অন্য বিষয়ে,বুঝি বয়স হইছে।তারপর ও বইগুলা কিন্তু তাকে জমতেই থাকে।
মনে পড়ে এক সময় তার বইগুলা পাইলে আমার কেমন লাগতো,হ্যামিলনের বাঁশিওয়ালা যেমন সবাইরে ভুলাইয়া অন্য জগতে নিয়া গেছিল, আমিও হারায়া গেছিলাম,লেখার মইধ্যে তার এমন জাদু,এমন তার বাশির সুর ।অক্ষরগুলা রে মনে হইতো রক্ত মাংসের মানুষ, তাগো দু:খ আছে, হাসি আছে,আছে মানুষের মত জীবন।
দরজার ওপাশে, ময়ুরাক্ষী পইড়া হিমু হইছিলাম।আমার সময়ে এমন কোন তরুন আছিলনা যে হিমু হইতে চায়নাই।মেঘ বলেছে যাব যাব,কবি,নন্দিত নরকে,এই সব দিন রাত্রি,আকাশ জোড়া মেঘ,আয়নাঘর,আমার আছে জল,শুভ্র,দুরে কোথায়,আজ আমি কোথাও যাবনা, পেন্সিলে আকা পরি,আহা কি সব বই!তার ছোটভাই জাফর ইকবাল ও আমার প্রিয় লেখক, তার সায়েন্স ফিকশন গুলা রে ব্যাপক ভালো পাই!কিন্তু আমরা কি জানি হুমায়ুন কি অসাধারন মৌলিক সায়েন্স ফিকশন লিখছেন,ফিহা সমীকরন,শুন্য,তারা তিনজন,ওমেগা পয়েন্ট,অনন্ত নক্ষত্র বিথি,কুহক,ইমা।তার রুপকথা কেউ পড়ছেন অথবা ছোটদের গল্প তোমাদের জন্য রুপকথা বইটা,বোতল ভুত,বাবলু ও চেরাগের দৈত্য,একি কান্ড,নীল হাতি,পুতুল? তিনি রূপকথা কেমনে লেখতে হয় সেইডা দেখাইয়া দিছেন,তার রূপকথার ডাইনিরে পোলাপান ভয় পায়নাই, তার জন্য কাঁদছে।তিনি বাঙালিরে ভালবাসা শিখাইছেন,স্মার্টনেস শিখাইছেন। ফ্যান্টাসি গুলা পড়ছেন, পারুল ও তিনটি কুকুর,পোকা,কুটু মিয়া? ভৌতিক গল্প ছায়াসঙ্গী,দ্বিতীয় জন । ছোট গল্প গুলা পড়ছেন? আমার যদি নোবেল দেয়ার ক্ষমতা থাকতো আমি তারে একজন ক্রীতদাস ছোট গল্পের জন্য নোবেল দিতাম।
তার অনুবাদ গুলা সম্রাট,অমানুষ আসলের চেয়ে ভালো হইছে।তার ভ্রমন কাহীনি গুলা দুনিয়ার সবচেয়ে ভালো লেখা ভ্রমন কাহিনি।
তার মত করে নাটক আর কোন বাঙালি বানাইতে পারবোনা,বহুব্রীহি,নক্ষত্রের রাত,অয়োময়,এই সব দিন রাত্রি,কেউ কোথাও নেই।একটা আগুনের পরশমনি আবার তৈরী হতে হাজার বছর লাগবো !
এই সব কথা কেন বলতাছি? দু:খে বললাম।
সচলে হুমায়ুন আহমেদের মৃত্যু কাছাকাছি আসলে সে কেমন লেখা লিখব সেই আগ্রহ প্রকাশ কইরা এক জন লেখা দিছে। সে বলছে মৃত্যু ঘনাইয়া আসলে হুমায়ূন আহমেদের ভেতর থিকা কি বাইর হইয়া আসে সেইডা সে জানতে চায়।কেন সে হুমায়ূন আহমেদের মৃত্যু চায়, কারন সে প্রত্মতাত্ত্বিক উৎখনন কইরা বের করছে হুমায়ুন আহমেদ নাকি হুমায়ুন আজাদ রে মৌলবাদিরা কোপাইছে সেইটা সমর্থন করছে।
আসেন দেখি সেই সাক্ষাৎকারে মুল কথা গুলি আবার শুনি,ফিরে যাই ১৮ জুলাই ২০০৮ সালে সুইডেনে।সাক্ষাৎকার নেয়া হইছে সমকালের পক্ষ থেকে।পুরা সাক্ষাৎকার টা লিংক থিকা পড়তে পারেন,আমি কিছু চুম্বক অংশ দিলাম-
প্রশ্ন:সুইডেনে আপনি আগেও এসেছেন। সুইডেন এবং বাংলাদেশের মধ্যে কোথায় মিল আর কোথায় অমিল?
হুমায়ূন: মিল তেমন কিছু নেই। বাংলাদেশের মানুষ খুব সুখী মানুষ। ধর, বন্যায় ঘর ডুবে গেছে, ঘরের চালের ওপর আশ্রয় নিয়েছে মানুষ, ঠিক তখন সেখান দিয়ে দেশি বা বিদেশি কোনো টিভি টিম যাচ্ছে, তখন তারা কী করবে? হাসবে অথবা হাত নাড়বে। এ ঘটনা সুইডেনে কখনোই সম্ভব নয়। এটা শুধুই আমাদের দেশে সম্ভব। আবার পেটে ভাত নেই, নৌকায় কোথাও যাচ্ছে। নৌকায় চড়েও দেখবেন একটা গান ধরছে। এটা আমাদের দেশেই সম্ভব। সুইডিশরা তা পারবে না।
প্রশ্ন:আপনি বলতে চান যে, বাংলাদেশের মানুষ আসলেই খুব সুখী।
হুমায়ূন:অবশ্যই। কিছুদিন আগে বিশেষ খবর সবচেয়ে সুখী মানুষদের দেশের একটা তালিকা বের করা হয়েছিল। সেখানে বাংলাদেশ ছিল পাঁচ নম্বরে।
প্রশ্ন:আপনি তো মূলত একজন লেখক। কিন্তু আপনি একইসঙ্গে নাট্যকার ও চলচ্চিত্র পরিচালক। আপনি নিজেকে কী হিসেবে দেখতে ভালোবাসেন?
হুমায়ূন: আমি আসলেই একজন লেখক। আমি নিজেকে বলি ফিকশন রাইটার। কখনোই আমি নিজেকে ফিল্ক্মমেকার বলি না। ছবি দেখার প্রতি ছোটবেলা থেকেই আমার খুব আগ্রহ ছিল। আমি কত সুন্দর সুন্দর ছবি দেখি, কিন্তু আমাদের দেশে কেউ সে রকম বানাতে পারছে না। এত বড় একটা মুক্তিযুদ্ধ হলো, অথচ মুক্তিযুদ্ধের ওপর একটা ছবিও নেই। এ আফসোস থেকেই প্রথম মুক্তিযুদ্ধের ওপর একটা ছবি বানালাম 'আগুনের পরশমণি'। খরচ দিয়েছে বাংলাদেশ সরকার। তারপর থেকে চালিয়ে যাচ্ছে ছবি বানানো। আসলে ছবির লাইনটা হচ্ছে একটা নেশার মতো। সিগারেটের যেমন নেশা, গাঁজার যেমন নেশা, সিনেমা বানানোর নেশা তার চেয়েও বেশি।
প্রশ্ন:আপনি থামবেন কোথায়? লেখালেখিতে, সিনেমায় না অন্য কিছুতে? নাকি সবকিছু একসঙ্গে নিয়ে চলবেন? শিক্ষকতায় ফিরে যাবেন কি?
হুমায়ূন: আমি লিখে যাব। অন্য কিছুর কী হবে জানি না, তবে লেখালেখি থামবে না। আর আমরা তো ভবিষ্যতের ব্যাপারে খুব একটা ভাবি না। তাই জানি না, শেষ পর্যন্ত কোথায় গিয়ে থামব। আমরা হচ্ছে, প্রডাক্ট অব দ্য প্রেজেন্ট! প্রেজেন্ট নিয়েই আমাদের সমস্যা বেশি।
প্রশ্ন:আপনি কিছুক্ষণ আগে বলেছেন, আমরা খুব স্টে্না জাতি। এটা যদি আমাদের জন্য একটা নেতিবাচক দিক হয়, তাহলে আমাদের ঠিক হওয়ার জন্য কী করা উচিত?
হুমায়ূন: এটাকে ঠিক করার কিছু নেই। এটা যেমন তেমনই থাকবে। এর মাঝখান থেকে নতুন নতুন ছেলেপেলে বেরোচ্ছে বাংলাদেশ থেকে। তারা খুবই স্মার্ট, খুবই আধুনিক। বাংলাদেশকে পরির্বতন করার দায়িত্ব এদের। এরা করবে।
প্রশ্ন:আপনি তো বাংলাদেশে প্রচন্ড জনপ্রিয়। আপনার এ জনপ্রিয়তাকে কাজে লাগিয়ে দেশের সমস্যা সমাধানের লক্ষে কিছু করা যায় না?
হুমায়ূন:একজন লেখক সমস্যার প্রতি ইঙ্গিত করতে পারেন, কিন্তু সমস্যার সমাধান তিনি দেবেন না, এটা তার দায়িত্ব নয়।
প্রশ্ন:এটা কার দায়িত্ব?
হুমায়ূন: দায়িত্বটা রাজনীতিবিদদের, সমাজ সংস্কারদের। একজন লেখক রাজনীতিবিদ নয় বা সমাজ সংস্কারক নয়। এটা তার দায়িত্বও নয়।
প্রশ্ন: ইঙ্গিত থাকবে কিন্তু প্রস্তাব থাকবে না, এটা কি ঠিক?
হুমায়ূন: ইঙ্গিতের ভেতরেই তো প্রস্তাব থাকে।
প্রশ্ন: আমাদের রাজনীতিবিদরা বা প্রশাসন কি এ ইঙ্গিত বা প্রস্তাব যাচাই করেন?
হুমায়ূন:না না না। এসব ইঙ্গিত বা প্রস্তাবকে গুরুত্বের সঙ্গে নেওয়ার কিছু নেই। আমাদের মুসলমানদের কথাই যদি ধরি। পৃথিবীর সর্বশ্রেষ্ঠ পবিত্র গ্রন্থ কোরআন যদি আমাদের চেঞ্জ করতে না পারে, একজন ঔপন্যাসিক কি একটা উপন্যাস লিখে তাদের চেঞ্জ করতে পারবেন? সো কীভাবে সম্ভব?
প্রশ্ন:লেখক হুমায়হৃন আহমেদের সমাজের প্রতি অঙ্গীকার বা দায়বদ্ধতা কী?
হুমায়ূন: লেখক হিসেবে আমার অঙ্গীকার একটাই, যে মুক্তিযুদ্ধের সময়টায় আমাদের জন্ম, সেই মুক্তিযুদ্ধের কথা সবাইকে জানিয়ে রাখা। আমি তখন একজন যুবক, সেই যুবকের দৃষ্টি দিয়ে মুক্তিযুদ্ধ দেখেছি।
প্রশ্ন:আপনি তো মুক্তিযুদ্ধ দেখেছেন। আপনার দৃষ্টিতে একাত্তরের মৌলবাদ ও মৌলবাদী এবং র্বতমানের মৌলবাদ ও মৌলবাদীর মধ্যে তফাত কোথায়?
হুমায়ূন:একাত্তরের মৌলবাদ ও মৌলবাদীরা ছিল একটা বিদেশি শক্তির অর্থাৎ পাকিস্তানের অংশ। কিন্তু র্বতমানে বাংলাদেশের মৌলবাদ ও মৌলবাদীরা কোনো বিদেশি শক্তির অংশ নয়। এটাই পার্থক্য। তবে আমাদের এত মৌলবাদ-মৌলবাদী বলে চিৎকার করে লাভ নেই, কারণ বিশেষ খবর সব দেশেই এখন এসব আছে। ইন্ডিয়ায় আছে বিজেপি, আমেরিকায় আছে ক্লু ক্লাক্স ক্লান ।সারা পৃথিবীতেই আছে মৌলবাদী।
প্রশ্ন:বাংলাদেশে মৌলবাদের সমস্যা কি সমস্যা নয়? বিএনপি-জামায়াত সরকারের সময়ে বাংলাভাই, শায়খুল হাদিস, ৬৩টি জেলায় একসঙ্গে বোমাবাজি এসব কি সমস্যার আওতায় পড়ে না?
হুমায়ূন:আমি মনে করি না। বাংলাদেশে মৌলবাদের সমস্যা বড় কোনো সমস্যা এখনো হয়নি। জনগণ যদি ভোট দিয়ে মৌলবাদীদের নির্বাচন করে, তাহলে গণতান্ত্রিকভাবে কি তাদের বাদ দেওয়া যায়? হোক না তারা মৌলবাদী।
প্রশ্ন:বাংলাদেশ থেকে মৌলবাদ বিতাড়নের উপায় কী?
হুমায়ূন:বাঙালিদের শিক্ষিত হতে হবে। মাদ্রাসা শিক্ষা নয়, আমি সাধারণ বিজ্ঞান শিক্ষার কথা বলছি। যদি সাধারণ শিক্ষায় বাংলাদেশিরা শিক্ষিত হয়, তাহলে বাংলার মাটিতে মৌলবাদীদের চিহ্ন থাকবে না। অশিক্ষিতকেই একজন মৌলবাদীর পক্ষে সম্ভব ভুল বোঝানো। ধর্মীয় শিক্ষার জন্য তো আমার ঘরই যথেষ্ঠ। মাদ্রাসায় গিয়ে পড়তে হবে কেন? আমাদের যদি যেতে হয়, তাহলে সাধারণ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে গিয়েই শিক্ষা গ্রহণ করতে হবে।
প্রশ্ন:বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন সরকারকে দেখা গেছে, মৌলবাদীদের সঙ্গে আঁতাত করতে। কেন তারা মৌলবাদের সঙ্গে আঁতাত করে?
হুমায়ূন:আঁতাতটা হয় মূলত ক্ষমতায় যাওয়ার জন্য। দেখেছেন না, আওয়ামী লীগ কীভাবে খেলাফত আন্দোলনের সঙ্গে পাঁচ দফার চুক্তি করেছিল। কেন করেছিল? মৌলবাদীদের সঙ্গে আঁতাত করে ক্ষমতায় যাওয়ার জন্য। বিএনপি তো মৌলবাদীদের সঙ্গে আঁতাত করবেই। কারণ তারা সেই ধরনেরই রাজনীতি করে। কিন্তু যে আওয়ামী লীগ বাংলাদেশের স্বাধীনতার জন্য নেতৃত্ব দিয়েছে,
প্রশ্ন:আপনি এখন সুইডেনে। তসলিমা নাসরিনের সঙ্গে কি আপনার যোগাযোগ হয়েছে?
হুমায়ূন: না, হয়নি।
প্রশ্ন:কিছুদিন আগে আমেরিকায় একটা অনুষ্ঠানে পশ্চিমবঙ্গের কবি সুনীল গঙ্গোপাধ্যায় তসলিমাকে একজন বিতর্কিত লেখিকা বলেছেন। আপনি কি এ ব্যাপারে একমত?
হুমায়ূন:হ্যা, আমার মনে হয়, উনি একজন বিতর্কিত লেখিকা। কারণ ওনার লেখা দিয়ে উনি নিজেই নিজেকে বিতর্কিত করেছেন। তবে তসলিমা নাসরিন যে নিজের দেশ থেকে বিতাড়িত হয়ে আছেন, সেজন্য আমি খারাপ বোধ করি। কারণ একজন লেখক তার মাতৃভূমিতে বসবাসের অধিকার রাখে। তসলিমাকে দেশে ফিরতে দেওয়া উচিত।
প্রশ্ন: বাংলাদেশের লেখকরা কি স্বাধীন?
হুমায়ূন:হ্যা, বাংলাদেশের লেখকরা স্বাধীন।
প্রশ্ন:তাহলে ড. হুমায়ুন আজাদকে মরতে হলো কেন?
হুমায়ূন:কারণ যে বইটা তিনি লিখেছিলেন, তা এতই কুৎসিত যে, যে কেউ বইটা পড়লে আহত হবে। তার জন্য মৌলবাদী হতে হয় না।
প্রশ্ন: ঠিক একই কারণে কি তসলিমা নাসরিন দেশ থেকে বিতাড়িত?
হুমায়ূন:হয়তোবা।
এই খানে নাকি হুমায়ুন আজাদের ব্যপারে কথা বলার জন্য নাকি হুমায়ুন আহমেদ রে হুমায়ুন আজাদের পরিবারের কাছে ক্ষমা চাইতে হবে।তা বুঝলাম কিন্তু এতদিন পরে কেন,হুমায়ুনের ক্যান্সার হইছে এই কারনে? মজার কথা হইলো সচলে যেই লোক হুমায়ূন আহমেদের মৃত্যু কামনা করতেছে তার নামটা ও হুমায়ূন আহমেদের উপন্যাসের একটা প্রধান চরিত্র।হুমায়ুন থেকে বাঙালীর মুক্তি নাই।
এখন এই কথায় দ্বিমত থাকলেও তার মৃত্যুর পরে এই ব্যাপারে কোন দ্বিমত থাকবেনা।
ও বাঙলা মাগো রেখেছো স্যাডিস্ট করে মানুষ করোনি!!
লিংক: Click This Link

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

