জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র রাজনীতির সাথে ৮ বছর জড়িত ছিলাম। কিন্তু রয়ে গেছে হাজারো স্মৃতি,অবিশ্বাস্য সব ঘটনা।রাজনীতিতে কি হয়,ছাত্র রাজনীতি কারা নিয়ন্ত্রন করে জেনে হতভম্ব বিস্মিত হয়েছি,সে হতভম্ব ভাব আমার এখনো কাটেনি।
যেদিন প্রথম ক্লাস সেদিনের ঘটনা,নতুন ছাত্রছাত্রীদের বরনের জন্য বিভিন্ন দলের মধ্যে চাঞ্চল্য,আলাদা আলাদা মিছিল,বিভিন্ন রকম ব্যানার আসতে লাগল।প্রথম দিনেই বুঝলাম এখানে বাম রাজনীতি ভালোই শক্ত অবস্থানে।বিশ্ববিদ্যালয়ে এলাকার পোলাপানদের নিয়ে রাজনীতির একটা গ্রুপিং আছে,এদের কে লোকাল বলা হয়।লোকাল গ্রুপে অবশ্য শুধু এলাকার লোকজন থাকতো তা না বাইরের পোলাপানও ছিলো।অবশ্য সে লোকাল হিসেবেই পরিচিত হতো।আমার এলাকার এক বড় ভাইকে দেখলাম লোকাল গ্রুপের পাতি নেতা।
একটা গ্রুপ পাশ দিয়ে গেলে আরেকটা গ্রুপের মধ্যে চাপা আক্রোশ লক্ষ্য করলাম, হলের সামনে প্রচুর লোকজন জড়ো হতে শুরু করলো।বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন হলের সামনে পুলিশ আনিয়ে রেখেছে।আমরা দুরে দাড়িয়ে বিড়ি টানতে টানতে সভয়ে দেখছিলাম।দেখলাম হইচই শুরু হয়ে গেল চিল্লা চিল্লি,ধর ধর মার, মার শব্দ।ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া চলছে।হঠাৎ গুলির শব্দ, চমকে তাকালাম।একটা লম্বা কালো মতো ছেলে,শটগান উঁচিয়ে গুলি করছে আকাশে (ভবিষ্যতে এই ছেলেটা আমার দোস্ত হবে কে জানতো)।মজা হচ্ছে তার গা ঘেষে বিশ থেকে ত্রিশ জন পুলিশের দল অসহায়ের মত দাড়িয়ে দাড়িয়ে দেখছে।ছেলেটা লোকাল,নতুন ভর্তি হওয়া কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয়ে রাজনীতিতে তার যাতায়াত বহুদিনের।এই ধরনের ছেলেরা আরো আছে,এরা আশপাশের কলেজগুলো থেকে আসে, একটা বড় অংশ মুলত জাহাঙ্গীর নগর স্কুল এন্ড কলেজ থেকে আসা।তারা বিশ্ববিদ্যালয়ের পাশে থেকেই অনেক দিন ধরে বিশ্ববিদ্যালয়,ক্ষমতা আর যৌনতার গন্ধ পেয়ে পেয়ে বড় হয়েছে।
এই নতুন পরিবেশ আমাকে ভড়কে দিল, পত্রিকার পাতায়,সিনেমায় দেখেছি এসব।বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রকাশ্যে পুলিশের সামনে গুলি করতে দেখে
আমি কিছুটা ভয় পেয়ে যাই,বলতে গেলে প্রায় পালিয়ে ঢাকায়,বাসায় ফিরে আসি।
চলবে...

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

