সরাসরি ডাকসু সংগ্রহ শালার মনিদিপ্ত ক্যাম্পাস থেকে ৫২ ভাষা আন্দোলনের সেই আমতলা---- সবার জন্য এক পৃষ্ঠা--
বৈশাখী ঝড়ের আগুন জ্বালিয়ে রক্তকরবী জানায় আজকে পথ চলবার হয়েছে সময়" নেপথ্যে কাঁপে রক্ত সূর্য উষ্ণ আবেগে। বিপন্ন হয়ে পড়েছে ছাত্র গণ আন্দোলনের ঐতিহাসিক নিদর্শন গুলো। এদেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ঐতিহ্য, সাহিত্য, সংস্কৃতি রার বহু স্মৃতি বিজড়িত ঐতিহাসিক স্থানগুলো আজ প্রায় ধ্বংসের মুখোমুখি। সাবেক ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, বর্তমানে ঢাকা মেডিকেল কলেজের আমতলা যেখান থেকে ৫২'র ফেব্রুয়ারীতে ১৪৪ ধারা ভাঙ্গার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল এদেশের সাহসী সন্তানেরা। সেই আমতলা আজ আর নেই। আমগাছের মাটিত্দ উপরের অংশটি আছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ডাকসু সংগ্রহশালায়। ১৯৯৫ সালের ২১ শে নভেম্বর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ডাকসুকে এক চিঠির মাধ্যমে অনুমতি দেন গাছটিকে কেটে ফেলার। ঢাকা মেডিকেল বর্ধিত ভবন তৈরির প্রয়োজনেই গাছটি কেটে ফেলার সিদ্ধান্ত হয়। লিখিত অনুমতি পাবার পর আমি প্রথমত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের দর্শন বিভাগের ছাত্র মোজাম্মেলকে নিয়ে মেডিকেলের আমতলায় যাই কিন্তু সেখানকার কিছু মাস্তানের বাধার সম্মুখীন হয়ে ফিরে আসি।
তারপর প্রক্টর নজরুল স্যারের নিকট থেকে আবারও অনুমতি প্রদানের কাগজ নিয়ে এবং ডাকসু কোষাধ্য বেলায়েত স্যারকে সাথে নিয়ে ১৯৯৫ সালের ২২ নভেম্বর দুপুর ১২ টা ৪২ মিনিটে কেটে ফেলা হয় ঐতিহাসিক ভাষা আন্দোলনের নীরব স্বাী আমগাছটিকে। সাথে সাথে নিশ্চিহ্ন হয়ে যায় এদেশের অতিপ্রয়োজনীয় ঐতিহাসিক একটি স্থান। ২২ নভেম্বর যখন আম গাছটিকে কেটে ফেলা হচ্ছে সেসময় ডাকসু সংগ্রহশালার সংগ্রাহক আমি। আমাকে এক সাাতকারে ঢাক মেডিকেলের উপ-পরিচালক ডাঃ কাজী সৈয়দ আহমেদ বলেন, এতদিন গুরু দায়িত্ব ছিলো আমাদের উপর, আজ সেই দায়িত্ব অর্পন করতে যাচ্ছি ডাকসু সংগ্রহশালাকে। তিনি আরও বলেন প্রথমে আমরা জাতীয় যাদুঘরে এ গাছটি রাখবার কথা ভেবেছিলাম। কিন্তু যাদুঘর কর্তৃপ এ দায়িত্ব নিতে রাজী হয়নি। যাদুঘরের এমন দায়িত্ব হীনতা অবশ্যই ভেবে দেখার বিষয়। সেদিন উপস্থিত ছেলেন ডাকসু কোষাধ্য অধ্যাপক ড. বেলায়েত হোসেন। তিনি পরিচালকের হাত থেকে গাছটির পরিচিতি পাথর গ্রহণ করেন। তিনি আমাকে সাাৎকারে বলেছিলেন, ঐতিহাসিক ভাষা আন্দোলনের স্মৃতি বিজড়িত আমগাছটি সংরণ করার জন্য ধন্যবাদ জানিয়ে দীর্য় জীবি হওয়ার আশির্বাদ করেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর নজরুল ইসলাম আমগাছটি আনুষ্ঠানিকভাবে ডাকসু সংগ্রহশালায় স্থানান্তরের ঘোষণা দেন ১৯৯৫ সালের ৬ই ডিসেম্বর । এদিন লাল ফিতে কেটে এ গাছটি সবার জন্য উন্মুক্ত করে দেন। উন্মুক্ত করার সময় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মাননীয় উপাচার্য অধ্যাপক এমাজ উদ্দিন আহমেদ গাছটিকে টিকিয়ে রাখার জন্য যে কোন ধরণের সহযোগিতার অঙ্গীকার করেন। এ অনুষ্ঠানে ডাকসুর সাবেক ভি,পি, জি,এস সহ অনেকেই উপস্থিত ছিলেন। আর সেদিন থেকেই ৫২্'র ঐতিহাসিক আমতলার আমগাছটি টিকিয়ে রাখার গুরু দায়িত্ব পড়েছে আমার উপর। এদেশের ইতিহাস, ঐতিহ্যের অপর একটি স্মরণীয় স্থান ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কলা ভবনের সামনের বটতলা। এখানেই ১৯৭১ সালের ২ মার্চ স্বাধীন দেশের প্রথম পতাকা উত্তোলণ করেছিলেন ডাকসু নেতৃবৃন্দ। সেদিনের পতাকায় রক্তলাল বৃত্তটির মাঝে সোনালী বর্ডারে বাংলা দেশের মানচিত্র অাঁকা ছিল। স্বাধীনতা পাগল হাজারো মানুষের মাঝে উপস্থিত ছিলেন সে সময়ের শীর্ষ চার ছাত্র নেতা (১) আব্দুল কুদ্দুস মাখন (২) আ,স,ম, রব (৩) নূর এ আলম সিদ্দিকী (৪) শাহাজাহান সিরাজ প্রমুখ।
আমি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কতর্ৃপকে ধন্যবাদ জানাই পাকিস্তানীরা ৭১-এ বট গাছটি কেটে নেওয়ার পরও আরেকটি বটগাছ লাগানোর জন্য। তার ওপর তী্ন নজর রাখা হয়েছে এই বট গাছটির নিরাপত্তার দিকে।
[গোপাল দাশ, সংগ্রাহক ও আলোকচিত্রী, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়]

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



