সেমিটিক গোত্রসমূহের ঈশ্বর ছিল ,রক্তপিপাসু এবং প্রতিহিংসা পরায়ন দেবতা। ইহুদিরা ইয়াওয়েহ-জিহোভাকে বোঝাতে চেষ্টা করতো মেঘের উপরে আসীন এক ভয়ঙ্কর সামন্ত প্রভুর আদলে,যিনি তাঁর অনুশাসন ভঙ্গকারীদের শাস্তি প্রদান করেন। অন্যদিকে যীশুর বানী ছিল প্রেমের বানী, ক্ষমা আর মিত্রতার আনন্দে উদ্ভাসিত বানি।পাহাড়ে যীশুর প্রচারিত ধর্মোপদেশ সম্পূর্ণ ভিন্ন এক ঈশ্বর কে আলোকিত করে।তাহলে এই বানী যীশু কোথাথেকে শিখলেন?
এর একটা সম্ভাব্য উত্তর পাওয়া যায় বৌদ্ধ ধর্মশাস্ত্রের শ্লোকে যেমন ললিতবিস্তার। ললিতবিস্তারে বুদ্ধ বলেছেনঃ
'সত্যের জ্ঞান, নির্বাণ অর্জন_এটাই পরম আশীর্বাদ। প্রেমের মাধ্যমেই ঘৃণাকে পরাভূত করা সম্ভব; পরিপূর্ণ ভালবাসার ভিতর দিয়েই অশুভকে জয় করা যায় , তোমার প্রতিবেশীর প্রতি কখনও রুঢ় শব্দ উচ্চারিত কোরো না এবং সেও তাহলে সেভাবেই তোমাকে প্রত্যুত্তর দেবে। '
একইভাবে যীশু তাঁর অনুসারীদের আদেশ দেনঃ'কেউ যদি তোমার একগালে আঘাত করে, অন্য গালও তাঁর দিকে বাড়িয়ে দাও'।বুদ্ধ তাঁর প্রিয় অনুসারী আনন্দকে বলেছেন,' আমাতে ,বিশ্বাস রাখো আনন্দ!সবাই যারা আমাকে বিশ্বাস করেছে তাঁরা অপার করুণা লাভ করবে'।যীশুও একইভাবে তাঁর অনুসারীদের তাঁর প্রতি বিশ্বাস রাখতে বলেছেন।
জনের কাছে দীক্ষা নেবার পর,যীশু মরুভূমিতে যান যেখানে শয়তান তাকে প্ররোচিত করে।একিভাবে পাঁচশ বছর আগে বুদ্ধও কয়েকদফা প্ররোচিত হয়েছিলেন 'ইন্দ্রিয় সুখের দেবতা' মারার দ্বারা। একই গল্প জরাথ্রুসট সম্পর্কেও শোনা যায়, একই অভিন্ন বিষয়বস্তু।
যীশুর পাঁচশ বছর আগে বুদ্ধ তাঁর অনুসারীদের সব কিছু ত্যাগ করে তাকে অনুসরণ করতে বলেছিলেন।যীশুও তাঁর অনুসারীদের বলেছেন,' এসো, আমাকে অনুসরণ কর ।'
যীশুর মত বুদ্ধও রূপক আশ্রয়ী ভাষায় কথা বলতেন। যীশু একবার বলেছিলেন কিভাবে একজন অন্ধ আরেকজন অন্ধকে পথ দেখাতে পারেনা, উভয়েই গর্তে পরে। এক ছত্রে বুদ্ধ বলেছেনঃ ' অন্ধমানুষরা যখন একে অপরের হাত ধরে সারিবদ্ধ হয়ে দাঁড়ায় তখন যে জন প্রথমে আছে শে কিছু দেখে না, যে জন মাঝে সেও কিছু দেখে না এবং শেষেরজনও কিছু দেখে না!'
যীশুর মত বুদ্ধকেও মানবিক এবং ঐশ্বরিক হিসাবে বিবেচনা করা হত। দুজনের জন্মের পরই বিজ্ঞজনরা এসে তাদের মাতাকে বলেছেন, এরা পুন্যপ্রান মানুষ।বার্তাবহ দেবদূত ঘোষণা করে যে নবজাতক একজন পরিত্রাতা হবে এবং তাঁর মার কাছে ভবিষ্যতবাণী করেঃ'তোমার জীবন আনন্দময় হোক, মহারাণী মায়া, আনন্দিত হও ার কৃতজ্ঞতা করো, যে সন্তান তুমি জন্ম দেবে সে অতি পুণ্যবান একজন।'যীশুর ক্ষেত্রেও একই ঘটনা ঘটেছিল।যা লুকের গসপেলে বলা আছে।
প্রায় তিরিশ বছর বয়েসে বুদ্ধ জনসমক্ষে অনুশাসন প্রচার করেন ,যীশুও একই বয়েসে তাঁর অনুশাসন প্রচার করেন। যীশুর মত বুদ্ধের অনুসারী ১২ জন। তাঁর প্রথম অনুসারী দুই ভাই_আবারও যীশুর সাথে সাদৃশ্য। বুদ্ধ যখন আহ্বান জানান তখন তাঁর অনুসারীরা ডুমুর গাছের নীচে বসে ছিল। যীশুও ডুমুর গাছের নিচে বসে তাঁর অনুসারী নাথানিয়েলকে আলোর দিশা দিয়েছেন। তাদের প্রিয় অনুসারী দুই জন, আবার দুইজনেরই একজন করে অনুসারী বিশ্বাসঘাতকতা করেছে।
যীশু যেমন কঠোর ভাষায় ফারীসী, গোঁড়া ইহুদিদের আইনের সমালোচনা করেছেন তেমনি বুদ্ধ ব্রাহ্মনদের অর্থহীন আচার অনুষ্ঠানের সমালোচনা করেছেন। ব্রাহ্মণদের রক্ত উৎসর্গ করাকে যেমন বুদ্ধ বর্জন করেছেন তেমনি যীশু ইহুদিদের রক্ত উৎসর্গ করাকে বর্জন করেছেন।বুদ্ধ যেমন পাপ ও পুন্যের অসার অভিমতের এবং ধর্মীয় প্রাক্ষালন কিভাবে ফলপ্রদানে হয়ত সক্ষম হয়তবা না, তাঁর তীব্র সমালোচনা করেছেন,যীশু যা কিছু কপট জাঁকালো সব কিছুরই কঠোর সমালোচনা করেছেন।বুদ্ধ ব্রাহ্মনদের চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য সম্পর্কে বলেছেন,' তোমার ভিতরে তুমি রুক্ষ কাঠের মত, যদিও তোমার বাইরে আবরণটা মসৃণ' _ যীশু ফারীসীদের ভণ্ডামি ফাস করে দিয়ে বলেছেনঃ ' ভণ্ড শাস্ত্রী ও ফরিশীর দল! তোমরা চুনকাম করা কবরের মত। বাইরের দিকটা দেখতে সুন্দর ,কিন্তু ভেতরটা মড়ার হাড় ও সব রকম আবর্জনায় পূর্ণ হয়ে আছে।' (মথি ২৩:২৭)
যীশুর বাণীর বা অনুশাসনের আসল উৎস মুখ আড়াল করার সব প্রচেষ্টা সত্ত্বেও এবং বিভিন্ন ধারা অনুযায়ী কঠোর স্বাভাবিকতা অনুসরণ করে সংক্ষেপ করা হলেও, নিউ টেস্টামেন্ট এর একশর বেশি অনুচ্ছেদের আলামত আরও পুরাতন একটি প্রথার প্রতি আমাদের দৃষ্টি ফেরাতে বাধ্য করেঃ বৌদ্ধ মতবাদ।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

