somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

মুসা বা মোজেস রহস্য

২৪ শে এপ্রিল, ২০১১ বিকাল ৫:৫৮
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :


ছবিঃ শিল্পীর আঁকায় মোজেস
হিব্রু সম্প্রদায়ের নেতা এবং টেন কমান্ডমেন্টের প্রবর্তক মুসা বা মোজেস। তিনি আইন বিধান করে পৌরোহিতিক সমাজের তাত্ত্বিক বুনিয়াদ তৈরি করেছেন। মোজেস নামের বুৎপত্তি নিয়ে বিতর্ক আছে। মিশরীয় ভাষায় মস শব্দের মানে 'সন্তান'(আক্ষরিক অর্থে 'ভূমি' যেমন Thut-moses, বেবুনের মুখ বিশিষ্ট মিশরীয় জ্ঞানের দেবতা টথ ভূমিষ্ঠ হয়েছে)। হিব্রু উপাদানের উপর নির্ভর করে নামটার উৎপত্তি হয়েছে mo 'পানি' এবং use 'রক্ষা'এই দুটো শব্দ থেকে, শিশু মোজেসকে লতা দিয়ে তৈরি একটা ঝুড়িতে পানিতে ভাসমান অবস্থায় পাওয়া গিয়েছিল সেই কিংবদন্তীর সাথে সঙ্গতি রেখে (এক্সোডাস ২ঃ১০), এই নামকরণ। ইতিহাসের দৃষ্টিকোণ থেকে দেখলে প্রতিভাত হয় যে, 'মোজেসের পাঁচ বইয়ের লেখক সেই অর্থে মোজেস না' অবশ্য তাকেই এই কৃতিত্ব দেয়া হয়। বহু শতাব্দী ধরে প্রচলিত মৌখিক আর লিখিত ভাবে বংশানুক্রমিকভাবে চলে আসা লেখা থেকে সংকলিত হয়েছে। পুরো গ্রন্থে ধর্মত্বত্তের মূল মতবাদে বিদ্যমান পার্থক্য, অসমতা এটাই প্রতীয়মান করে যে একাধিক সূত্র থেকে তা সংগৃহীত হয়েছে। তবে এটা সন্দেহাতিত ভাবে প্রমানিত মোজেস নামে একজন ব্যক্তি ছিলেন। আমরা ধরে নিতে পারি যে ,তিনি রাজপ্রাসাদে বড় হয়েছেন। পুরোহিতদের তত্ত্বাবধানে এবং তার শিক্ষাগত উৎকর্ষতার জন্য তিনি এক সময় রাষ্ট্রের সব দপ্তরের একজন প্রভাবশালী অমাত্য ছিলেন। বিশুদ্ধ মতবাদ এবং কৌতূহলী জাদুকরী প্রয়োগের একটি অদ্ভুত মিশ্রণ তিনি ব্যবহার করেন। মিশ্রণটা তৈরি হয়েছিল বৈদিক মন্ত্র ও মিশরীয় আচার অনুষ্ঠানের সমাপ্লুত পদ্ধতিতে। তার মূল উদ্দেশ্য ছিল এক ঈশ্বরের অস্তিত্ব ঘোষণা করা ,ইসরাইলের অস্তিত্ব ঘোষণা করা, তাকে ছাড়া অন্য কোন উপাস্যর সাধনা না করা। ক্ষমতার পথে যারাই মোজেসের বিরুদ্ধাচারন করেছে তাঁরাই ধ্বংসপ্রাপ্ত হয়েছে। ধ্বংসের বাহণ হিসেবে ব্যবহ্বত হয়েছে আগুন । মোজেস প্রায়ই তার কথার সত্যতা প্রমান করতে গৃহদাহকের ভুমিকায় অবতীর্ণ হয়েছেন। জাদুর নানা ছলচাতুরি তার জানা ছিল। মিশরের বিজ্ঞজন ও জাদুকররা তাকে মহান জাদুকর হিসেবে মেনে নিয়েছিল।(এক্সোডাস ৭:৮-১৩)। এমনকি গ্রিকরাও তার শ্রেষ্ঠত্ব স্বীকার করে নেয়। সম্প্রতি খুজে পাওয়া মোজেসের ষষ্ঠ ও সপ্তম বইয়ে সেই পুরাতন মিশরীয় প্রথা, জাদু এবং বিভিন্ন ধারার মতবাদের জয়জয়কার দেখা গেছে। মোজেস নিজে অগ্নিগর্ভ ঈশ্বরের প্রতিনিধি হিসেবে তিনি যা চাইতেন তাই আদেশ করতেন এবং তার চাহিদামত কেউ বিপুল পরিমান দান করতে দেরি করতো ,তাহলে তিনি তার ক্ষমতার যথাযোগ্য প্রদর্শনী করতেন এবং আবার সবকিছুতে শান্তি নেমে আসত -সিনাই পর্বতে তাই হয়েছিল (এক্সোডাস ৩৪:২৯-৩৬)।মোজেসের বিরুদ্ধে কোরাহ আর তার গোত্র বিদ্রোহ করলে, ২৫০ জনকে 'আগুন গ্রাস করে'(নাম্বারস১৬:১-৩৫) এবং তারপরেই আরও একহাজার লোক আগুনে পুড়ে ধ্বংস হয় কারণ তাঁরা মোজেসের বিদ্রোহ করেছিল।আরেকবার হারানের দুই ছেলে নাদব আর অবিহু পুন্যালয়ে প্রভু পরমেশ্বরের অনুমতি ছাড়া আগুন প্রজ্জলিত করলে ,প্রভু পরমেশ্বরের কাছ থেকে আগুন নির্গত হয়ে তাকে গ্রাস করে(লেভিটিকাস১০:১-৭)।মোজেস নিজেও সম্ভবত অগ্নিদগ্ধ হয়েছিলেন কারন তিনি সবসময় মাথায় ওড়না জড়িয়ে রাখতেন (এক্সোডাস ৩৪:২৯-৩৫)।


চিত্রঃ হাম্ভুরাভি
আজও মোজেসকে মহান আইন প্রণেতা হিসেবে গণ্য করা হয়।কিন্তু তার দশ বিধান মূলত প্রাচ্য এবং ভারতের প্রচলিত বিধানের সংকলন। ব্যাবিলনের অ্যামোরাইট রাজা হাম্ভুরাভির ঘোষিত আইনের মাঝেও তার সারসংক্ষেপ পাওয়া যায়। তার 'অতিলৌকিক কর্মকাণ্ড' আরও প্রাচীন প্রথার উপর ভিত্তি করে রচিত - প্রাচীন দেবতা বাক্কাসের লোককাহিনীর মত মোজেসকে পানি থেকে উদ্ধার করা হয়েছিল, পায়ে হেটে তিনি লোহিত সাগর পাড়ি দেন। মরুভূমির মাঝে ঝর্ণা প্রবাহিত করে তিনি তার অনুগত লোকদের নিয়ে তা অতিক্রম করেন, তাদের তিনি এক প্রকারের অলৌকিক খাবার ম্যানা খেতে দেন।পাথরে তিনি আইন খোদাই করেন আর তার কপাল থেকে জ্যোতি নির্গত হয়। জরথ্রুস্টেরও ,মোজেসের মত একটা পবিত্র অগ্নি ছিল যা তিনি ইচ্ছামত ব্যবহার করতেন।


চিত্রঃ মুসার পর্বত
মোজেসের নেতৃত্বে ইসরাইলি গোত্ররা মিশর ছেড়ে নতুন ভূখণ্ডের সন্ধানে বের হন। তিনি তার অনুগতদের নিয়ে দক্ষিণে যাত্রা করলেন।প্রস্থানের তৃতীয় মাসে তিনি সিনাই পর্বতে পৌঁছান। আজ যাকে মুসার পাহাড় বলা হয়। বাইবেলের ঐতিহ্য অনুযায়ী ,সেখানে ইসরাইলি গোত্ররা আট মাসকাল অবস্থান করে।তাদের প্রচেষ্টা ব্যর্থ হয় এবং পরবর্তী চল্লিশ বছর তাঁরা ঊষর জনহীন প্রান্তরে ঘুরে বেরায়। জর্ডন নদীর অববাহিকায় পৌছার পর মোজেস অনুভব করেন তার আয়ু ফুরিয়ে আসছে। দীর্ঘ যাত্রার শেষে তার লোকদের গন্তব্যে পৌঁছান তিনি দেখতে পারবেন না বলে তিনি সবাইকে আইন গুলো মনে করিয়ে দেন যা প্রতিশ্রুত ভূমিতে পবিত্র বলে গন্য হবে। তিনি সবার মাঝে দায়িত্ব ভাগ করে দেন এবং শেষ ভাষণ দিয়ে নেবু পর্বতের চূড়ায় আরোহণ করেন, মারা যাবার আগে 'দুধ আর মধুর দেশ' শেষবারের মত দেখতে।সেখানেই তিনি মারা যান। কিন্তু তার সৎকার রহস্যাবৃত থেকে যায় কারন অনেকদিন তার সমাধি খুজে পাওয়া যায় নি।বাইবেলে তার সমাধিস্থলের বর্ণনা দেয়া সত্ত্বেও তার কবর খোজে না পাওয়া আশ্চর্যজনক। যদিও এখন মোটামোটি ধারনা পাওয়া যায় তার কবর কাশ্মীরে অবস্থিত।
৫টি মন্তব্য ১টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

আসলে কেউ ফেরে না।

লিখেছেন রানার ব্লগ, ০৮ ই জুন, ২০২৬ সকাল ৭:০৬

মৃতরা ফিরে আসে না।
ফিরে আসে তাদের ফেলে যাওয়া শূন্যতা,
চায়ের কাপের ধোঁয়া,
অধেক বলা কোনো কথা
অথবা হঠাৎ থেমে যাওয়া কোন সুর

যে প্রেম চলে গিয়েছিল,
সে আর কোনোদিন দরজায় কড়া নাড়ে না।
শুধু একদিন আয়নায়... ...বাকিটুকু পড়ুন

দ্য ড্রাগ কিং

লিখেছেন শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:১৫


সতর্কবার্তা: এটি একটি সম্পূর্ণ কাল্পনিক ক্রাইম ফিকশন। বাস্তব একটি অপরাধের কাঠামোর ওপর ভিত্তি করে পাঠকদের জন্য এর চরিত্র, নাম এবং স্থান পরিবর্তন করে গল্পটি সাজানো হয়েছে।

খুলনা... ...বাকিটুকু পড়ুন

সামুতে আবারও লিলিপুটিয়ানদের সংখ্যা বেড়ে যাচ্ছে

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:৫৮

আমার গত পোস্টে আলামিন১০৪ নামের এক ব্লগার মন্তব্য করেছেন যে - "এ আই দিয়ে হুমায়ূন আহমেদের মতো লেখা যায়।"
তিনি এ আই-কে প্রম্পট দিয়েছিলেন ' হুমায়ুন আহমেদের মতো গল্প লিখে... ...বাকিটুকু পড়ুন

ইজিবাইক চলাচলের প্রকৃত কর্তৃপক্ষ কে?

লিখেছেন মাহদী হাসান শিহাব, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ২:৩৪



দেশের বিভিন্ন শহর ও গ্রামে ইজিবাইক নামে একটি যানবাহন চলাচল করে। কিন্তু এর পরিচালনা, লাইসেন্সিং এবং চলাচলের ক্ষেত্র সম্পর্কে সুস্পষ্ট ও সর্বজনবিদিত কোনো নীতিমালা সাধারণ মানুষের কাছে দৃশ্যমান নয়।

শহরের ভেতরে,... ...বাকিটুকু পড়ুন

মন কথনিকা-৪৮৭৩-৭৪

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ০৮ ই জুন, ২০২৬ রাত ১০:০৯

মন কথনিকা-৪৮৭৩
তোমার আমার মতামতে আকাশ পাতাল সীমা
আমার বুলি বরফ জলের তোমার যেন বোমা,
তুমি বলো রোদের তেজে আমি বর্ষার মতন
বুকের ভিতর বন্ধু বুঝি পাথর পুষো যতন।

মন কথনিকা-৪৮৭৪
পিঠে ব্যথা ভাল্লাগে না, মন... ...বাকিটুকু পড়ুন

×