
চিত্রঃ তখত-ই- সুলাইমান
কাশ্মীর সেখানকার মুসলমানদের কাছে বাগ-ই- সুলাইমান নামে পরিচিত, 'সলোমনের বাগান'।শ্রীনগরের কাছেই একটা পাহাড় আছে যেখান থেকে পুরো শহর দেখা যায়। সেখানে একটি ছোটো মন্দির আছে যার নাম তখত-ই- সুলাইমান,'সুলেমানের সিংহাসন'। মন্দিরের উপর অঙ্কিত লিপি থেকে জানা যায় 'নতুন মন্দির'৭৮ খ্রিস্টাব্দে রাজা গোপদত্ত(গোপানন্দ নামে পরিচিত)পুরাতন ধ্বংসাবশেষের উপরে স্থাপন করেন।লোককথায় প্রচলিত আছে যে সলোমন একবার এখানে এসেছিলেন এবং তিনিই বাড়েহমুলেহ পর্বত দ্বিখণ্ডিত করেন ।এর ফলে একটা খাল সৃষ্টি হয় যা আজও ডাল হ্রদে পানি প্রবাহিত হয়। লোককথায় আরও প্রচলিত আছে তিনি এই মন্দির নির্মাণ করেন। যে পর্বতে তখত-ই-সুলাইমান অবস্থিত তা হিন্দুদের কাছেও পবিত্র রূপে গণ্য হয় এবং বর্তমানে এর চূড়ায় একটা হিন্দু মন্দির আছে। অন্যদিকে লাদাখের বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীরা বিশ্বাস করে সলোমনের সিংহাসন আসলে দৈবজ্ঞ পদ্মসম্ভবার ধ্যানের স্থান, যিনি অষ্টম শতাব্দীতে তিব্বতে মহাযান বৌদ্ধ ধর্মের প্রচার করেন।

চিত্রঃ ইরানের উত্তর -পশ্চিমে অবস্থিত পর্বত
ফিলিস্তিন থেকে ভারতবর্ষ পর্যন্ত প্রসারিত বিশাল ভূখণ্ডে শ্রীনগরের তখত-ই-সুলাইমানই বাইবেলে বর্ণিত একমাত্র পাহাড়ি আসন না।উত্তর-পশ্চিম ইরানের, তাবরিজ শহরের দক্ষিণে 'আনন্দ উপত্যকা'র সাথে তুলনীয় অসাধারন সুন্দর দৃশ্যপটের জন্য ।জরথ্রুস্ট মতবাদের অগ্নি মন্দির এবং সাসানিয়া রাজবংশের স্বর্ণযুগে-পারস্যের শেষ অমুসলিম রাজবংশ ,চতুর্থ থেকে ষষ্ঠশতাব্দী -খসরুদের এক বিশাল প্রাসাদ এই পাহাড়ের চূড়ায় নির্মিত হয়েছিল। প্রাচ্যের লোককাহিনীতে এই পাহাড়কে বিশেষ মর্যাদা দেয়া হয়েছিল। প্রাচ্যের তিন জ্ঞানী লোকের একজন বেথেলহেম থেকে ফিরে এই পাহাড়ে মারা যান বলা হয়ে থাকে।

চিত্রঃ তখত-ই- সুলাইমান এলাকা

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

