পর্ব ১
ইউনুস চাচা তাঁর সোনালী চশমার ফাঁক দিয়ে তাকিয়ে বললেন
- তা তো দেখেছি । এবং সেই যুদ্ধের স্মৃতি এখনো সাথে রেখে দিয়েছি ।
চাচা তার অস্তিন গুটিয়ে ডান কনুইয়ের কাছে এক শুকিয়ে যাওয়া প্রাচীন ক্ষত চিহ্ন দেখিয়ে বললেন
- এটা আমেরিকানদের দেয়া উপহার । যুদ্ধের শেষ সময়টাতে তারা ক্রমাগত বম্বিং করেছে এই শহরে । বম্বিংএর সময় আমাদের দালানের পাতালঘরে দালানের সবাই আশ্রয় নিতাম । সেই সময় এই আঘাতটা পেয়েছি ।
- তখন কি আপনি এই শহরেই থাকতেন ?
আমি কাজ ফেলে ততক্ষনে ইউনুস চাচার পাশে আস্তানা গেড়ে বসে পড়েছি । কাজের গুল্লি মারি । চাকরি গেলে যাইবো ।
- ঠিক এই শহর না । এখান থেকে ৪৮কিমি পূর্বে । সিনোবিস্চা নামের এক উপশহরে ।
নাম শুনতেই যায়গাটা চিনলাম । প্রায় বাল্টিকের কাছাকাছি ।
ইউনুস চাচা তার কাজ করছে আর আমাকে গল্প শুনিয়ে যাচ্ছে .. তার অনেক কথাই আমার বুঝতে অসুবিধা হচ্ছে .. চাচার উচ্চারন ভঙ্গিটা এখনকার ছেলে ছোকরাদের মত না , একটু প্রাচীন ..
- যুদ্ধ শুরুর আগে গেস্টাপো বাহিনী যখন আমাদের বাসার সামনে দিয়ে মার্চ করেছিলো বাবার হাত ধরে সেদিন রাস্তার পাশে আমিও ছিলাম ।
নদীর এপারটা তবুও কিছু রক্ষা পেয়েছে .. কিন্তু ওপারে ধ্বংসস্তুপ ছাড়া আর কিছু ছিলো না । রাজপ্রাসাদ আর কিছু গির্জা ছাড়া বাকি সব পুড়ে কয়লা হয়ে গিয়েছিলো ।
নাৎসী বাহিনী ততদিনে পিছুহটা শুরু করেছে । আর মিত্র বাহিনীর আক্রমন দিন দিন বেড়েই চলেছে । ... একটা সময় রাশানরা শহরটার অর্ধেক কব্জা করে নিলো । বাকি অর্ধেক তখনো জার্মানদের দখলে ।
তবে সাগরপার পুরোটাই রাশানদের দখলে ছিলো । সেখানে মিত্র বাহিনী অসংখ্য যুদ্ধ জাহাজ জড়ো করেছিলো ।
রাশানরা সে সময় পোলদের কাছ থেকে অনেক কিছুই হাতিয়ে নিয়েছে ।
স্বর্ণালংকার থেকে শুরু করে সিগারেট , কোন কিছুই বাদ দিতো না । ছিনিয়ে নিতো ।
সে সময় খাবার দাবারের খুব কষ্ট ছিলো । একবেলা খেয়ে থাকতাম । মাঝে মাঝে না খেয়ে থাকতে হতো ।
আমার আর এরপর কোন প্রশ্ন করতে হয় নি , বৃদ্ধ তার গল্প বলেই চলেছে .. আমার মত উৎসাহী শ্রোতা মনে হয় অনেকদিন পায়নি ...
- একটা এলাকা পোলিশ যোদ্ধরা দখল করে নেয় জার্মানদের কাছ থেকে । মাত্র ৭০০ জন সোলজার । সেটা ছিলো এই এলাকার সবচেয়ে রোমহর্ষক সম্মুখ যুদ্ধ ।
জার্মানরা চলে যাবার পরেও ১৯৫০ সাল অব্দি রাশানরা এই শহরে ছিলো । ঐ যে নদীর ওপারে যে উঁচু লাল দালানটা দেখতে পাচ্ছো সেটা ছিলো এই রিজনে রাশান নেভী বাহিনীর কেন্দ্রীয় নিয়ন্ত্রন ভবন ।
------------------------------------ চলবে ।
শেষ পর্ব

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

