ইদানিং বসে বসে স্মৃতি রোমন্থন করি । ৭০০০ কিমি দুরের এক ছোট রুমে বসে একা একা স্মৃতি রোমন্থন ছাড়া আর কিছুতে মজা পাইনা ।
ছোটবেলায় আমাদের বাসাটা গল্পের বাসার মত ছিলো । টিনের ঘর , সামনে অনেকটুকু জায়গা গাছপালায় ভরা । আমাদের বাসায় চারটা আম গাছ , ছয়টা পেয়ারা গাছ, তিনটা বরই গাছ আর দুটা নাড়িকেল গাছ ছিলো । যার কারনে সাতার না জানলেও বানরের মত গাছে চড়তে পারি ।
আমাদের বাসায় আশেপাশে অনেকগুলো খৃষ্টান পরিবার ছিলো । মনে আছে ড্যারিক দা'র বাবা বারান্দায় বসে বসে তার কড়মচা আর লিচু গাছ পাহারা দিতো ।
বৃষ্টি হলে টিনের চালে সেতারের ঝন্কার উঠতো । বারান্দায় সেই টিনের চালের কিছু যায়গায় মাঝেমাঝে টুপটুপ করে পানি পড়তো । আমরা তখন হৈ চৈ করে থালাবাটি হাতে দৌড়াদৌড়ি করতাম । তখন দালানের স্বপ্ন দেখতাম । এখন দালানগুলোকে কেমন অশ্লীল কদাকার মনে হয় । সেই ফুটো টিনের চালের ঘরটার জন্য ভেতরটা হু হু করে ।
আমার বন্ধু সুভাষ এর কথা মনে পড়ে খুব । পাঁচটা মার্বেল দিয়েছিলো ক্লাস ওয়ানে পড়ার সময় । ক্লাস টু অব্দি পড়েই ছেলেটা কোথায় হারিয়ে গেল । সুভাষের সাথে এর পরে দেখা হয়েছিলো ক্লাস নাইনে পড়ার সময় । শবে বরাতের রাতে বন্ধুরা মিলে নামাজ পড়তে গেছি এক বড় মসজিদে । কিছুক্ষন নামাজ পড়া শেষে চা খেতে বাইরে গেলাম সবাই । মসজিদের গেটে কতগুলো মুচি বসে ছিলো , তাদের থেকে একজন হঠাৎ আমার নাম ধরে ডেকে জানতে চাইলো কেমন আছি ।
আমি হতভম্ব ! এ তো সুভাষ !!
আমার মনে হচ্ছিলো মাটি টা ফাঁক হয়ে যাক আমি মিলিয়ে যাই । বন্ধুদের সামনে মান-সম্মানের প্রশ্ন ।
বন্ধুরা উৎসুক চোখে সব আমার দিকে তাকিয়ে । আমি চিৎকার করে বলতে চেয়েছিলাম এই ছেলেটাকে আমি চিনি না । ও ভুল করছে ।
কিন্তু গলার ভেতর থেকে বের হলো -- ও আমার ক্লাস ওয়ানের বন্ধু সুভাষ ।
সুভাষ আমি জানি তুই এখনো সেই মসজিদের গেটে লোকের জুতো পালিশ করিস । তবুও তুই আমার বন্ধু । তোর কাছে আজও পাঁচটি মার্বেলের ঋণ আমার । আমায় ক্ষমা করে দিস , মনে মনে হলেও তোকে আমি সেইরাতে অস্বীকার করতে চেয়েছিলাম ।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

