আমার জীবনের একটা রুটিন হচ্ছে প্রতি ঈদে আমাকে দাদাবাড়ি যেতে হবে। সারা বছর ঢাকাতে থাকলেও ঈদের সময় দাদাবাড়ি যাওয়াটা আমাদের জন্য বাধ্যতামূলক। দাদাবাড়ি যেতে অবশ্য খারাপও লাগে না, গ্রামে ঈদ করাতেও মজা আছে, যারা গ্রামে যান তারা জানবেন। আমার দাদাভাই হাইপার টেনশনের রোগী, মাঝে মাঝে তার মাথা ব্যাথা থেকে শুরু করে নানান রকম উপসর্গ দেখা দেয়, আর সেটা নিয়ে সারাবাড়িতে কেমন যেন একটা উৎসব উৎসব ভাব! উৎসব বলেছি বলে অবাক লাগছে? বুঝিয়ে বলছি তাহলে আর অবাক লাগবে না। অসুস্থ দাদাভাইকে মাঝে মাঝেই অসুস্থ হয়ে বিছানায় শুয়ে থাকতে হয়! আত্মীয়স্বজন সবাই তাকে দেখতে আসে, আমার সব ফুপুরা আসে। পুরো বাড়ি মানুষ দিয়ে ভর্তি। কেউ কেউ হাত পায়ে তেল মালিশ করছে, কেউ কুরআন পড়ছে, আবার কেউ কেউ সুর করে কান্নাকাটি করছে। ছোট বেলায় আমি একবার আম্মুকে লুকিয়ে জিগ্যেস করেছিলাম, "আম্মু দাদাভাই অসুস্থ আর বড় ফুপু গান গাইছে কেন?"
ঈদে দাদা বাড়িতে গরু কুরবানি দেয়া হয়। দাদাভাই গরুর মাংস খেলে ক্ষতি হবে, তাই কে একজন পরামর্শ দিল গরুর সাথে দুইটা খাসি কুরবানি দেয়া হোক। খাসির মাংস খেলে নাকি হাইপার টেনশন রোগীদের কোন সমস্যা হয় না!
ওইদিন বিকেলে আমি মানে ছাগলের রাখাল, ছাগল নিয়ে ঘুরে বেড়াচ্ছি। পুকুর পাড়ের কাছে একটা কুকুর আমার খুব সামনে চলে আসল। আমি ভাবলাম কুকুরটা ছাগলটাকে খেতে এসেছে! :#> আমি ভয়ে ছাগলের রশি ছেড়ে দিলাম। আর ছাগল ভো দৌড়।
পরদিন আমি আর দাদাভাই গেলাম আরেকটা ছাগল কিনে আনতে। ছাগল কিনে আমি আর দাদাভাই হেটে বাড়ি ফিরছি। সেই পুকুর ঘাটের সামনে আসার পরে আমার হঠাৎ মনে পড়ল যে দাদাভাইকে আগেরদিনের কাহিনী বলা হয়নি। আমি দাদাভাইকে পুরো ঘটনা বিস্তারিত বলে যেতে লাগলাম। কিন্তু দাদাভাই আমার মত একজন বিশিষ্ট মানুষের কথা না শুনে পাশের আরেকজনের সাথে কথা বলছিল!
আমি ছোট হলেও অনেক ধৈর্যশীল মানুষ! আবার বুঝাতে শুরু করলাম আর এবার একেবারে উদাহরণসহ! এক জায়গাতে এসে বললাম, "আমি না ছাগলের রশি ঠিক এইভাবে ছেড়ে দিয়েছিলাম।" বলার সাথে সাথে এবারো হাতের রশি ছেড়ে দিলাম।
ছোটবেলার ঘটনা নিয়ে আগে একটা পোস্ট দিয়েছিলাম। ইচ্ছে হলে পড়ে দেখতে পারেন।
ছোটবেলায় আমার কাছের মানুষগুলোর উপর করা আমার কিছু নির্মম অত্যাচার!
সর্বশেষ এডিট : ১৪ ই জুলাই, ২০১১ রাত ৮:৫৭

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



