somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

ভ্রমন পোষ্ট ৩: আমেরিকার সল্ট লেইক সিটিতে কয়েকদিন

০৩ রা এপ্রিল, ২০১৯ রাত ৯:১৮
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :



ভ্রমন পোষ্ট ১: আমার থাই এবং লাউস ভ্রমনের গল্প
ভ্রমন পোষ্ট ২: ঘুরে এলাম আমেরিকার সানফ্রানসিসকো
খাস দিলে নিয়ত করলে কোন কিছুই নাকি বিথা যায় না! আমেরিকা ঘুরার নিয়ত করেছিলাম, এ বার নিয়ে দ্বিতীয় বারের মতন আমেরিকা যাবার মওকা পেলাম। আমার একটি পেপার কনফারেন্সে একসেপ্ট হয়েছে, এক সপ্তাহর জন্য গিয়েছিলাম আমেরিকার সল্ট লেইক সিটিতে, এক সপ্তাহ থেকে গতকাল ফিরে এসেছি। গতবার গিয়েছিলাম বউ ছেলে নিয়ে, তবে এবার একাই ঘুরে আসলাম। পিএইচডি শেষ হয়ে যাবে শীঘ্রই, এখন দিনার দরকার। তাই নিজের টাকা খরচ করে পরিবার নিয়ে যাইনি এবার। তার উপর নিজের দিনার খরচ করতে সব সময় বুকের মাঝে চিন-চিনাইয়া ব্যথা করে!

আমার কনফারেন্স ভেনু যেখানে, সেটা সল্ট লেইক মূল সিটি থেকে অনেক দূরে একটি স্কি রিসোর্টে। যাবার আগেই যথারীতি কনফারেন্স ভেনুতে রুম বুকিং দিলাম, তারপর সব চেয়ে কম দামের টিকিট কিনলাম। কথায় আছে সস্তার তিন অবস্থা, আমেরিকা থেকে আসতে প্রায় ২৫-২৬ ঘন্টা সময় লেগেছিল, দুই জায়গায় ট্রানজিট ছিল।

২৬ মার্চ ১৯, যাত্রা শুরুর দিন:
সকাল ছয়টার দিকে ফ্লাইট ছিল, তাই ভোর রাতে বের হয়ে গিয়েছিলাম বাসা থেকে। এত ভোরে যেতে ইচ্ছে করে না,তবে কি আর করা ভোরে ট্যাক্সি এপ নামিয়ে মেসেজ করে দিলাম, তেলেসমাতি কারবার সাথে সাথে ট্যাক্সি বাসার নিচে এসে হাজির।

যাবার দিন আমার ট্রানজিট ছিল ফ্রান্সে, প্রায় ৩-৪ ঘণ্টা জিম মেরে বসে ছিলাম প্যারিসের একটি এয়ার পোর্টে। তারপর সেখান থেকে প্লেনে করে সল্ট লেইক সিটিতে রওনা দিলাম। ক্ষুধায় পেট চো চো করতে, ভাবছিলাম প্লেনে মজাদার খানা-খাদ্য দিলে, দানার দান পেটের ভিতর চালান দিব। আমার আশার গুরে বালি দিয়ে এমন খাবার দিয়েছিল মুখেই নিতে পারিনি।

প্যারিস থেকে সল্ট লেইক সিটিতে যেতে প্রায় ১১ ঘণ্টা লাগে! এত লম্বা সময় প্লেনে বসে থাকতে ভাল লাগে না। কিছুটা ঘুমালাম, আইজ্যাক অসিমোভের ফাইন্ডেশন সিরিজের প্রথম খন্ড পড়েছিলাম, এই সুযোগে দ্বিতীয় খন্ড পড়া শুরু করলাম। অর্ধেক পড়ার পর দেখি আর ভাল লাগে না। অবশেষে সল্ট লেইক সিটি সময় ৩ টার দিকে পৌঁছলাম।


ছবিটা সল্ট লেইক সিটিতে আসার পূর্ব মূহুত্যে।


একমাত্র জুস এবং পাউরুটি ছাড়া কিছুই মুখে দিতে পারিনি! চিকেনটা কোনরকম পেটে চালান করেছি!


ছবিটা হোটেলের, এখানেই কনফারেন্স হয়েছিল। হোটেলের নাম 'The Cliff Lodge and Spa'

আমার কনফারেন্স ভেনু সল্ট লেইক সিটি থেকে অনেক দূরে পড়েছে, ট্যাক্সি নিয়ে প্রায় এক ঘণ্টা লাগে সেখানে যেতে। যথারীতি হোটেলে গিয়ে খানা খাদ্য খাবার জন্য হোটেল রেস্টুরেন্ট এ গেলাম, খাবার বলতে দেখি লতাপাতা আর সেন্ডুয়েচ, অন্য কোন খাবার নেই। এত লম্বা সময় না খেয়ে এই গুলো আর পেটে যেতে চায় না, ওধিকে পেটের ভিতর নারিভুরি খাদ্য দাও, খাদ্য দাও বলে আন্দোলন শুরু করে দিয়েছে। কি আর করা অবশেষে একটি পিজা নিয়ে পেট বাবাজীকে শান্ত করলাম।

সন্ধ্যায় কনফারেন্স রেজিস্ট্রেশন সম্পাদন করে আশে পাশে ঘুরে হোটেলে ফিরে এলাম। দেহঘরি বলছে এবার ঘুমিয়ে পর !!

২৭ - ২৮ মার্চ ১৯, ২য় এবং ৩য় দিন:
এই দুই দিন কনফারেন্স এটেন্ড করলাম, সাথে আশে পাশের জায়গা-গুলো অল্প বিস্তর ঘুরে দেখলাম। চারদিকে শুধু পাহাড় আর পাহাড়, বরফে সাধা হয়ে আছে। মানুষজন স্কি করছে এখানে, এক সময় যখন কোরিয়াতে ছিলাম তখন বেশ কয়েক বছর নিয়মিত স্কি করেছি, তবে এবার করতে মন চাইল না।


যেদিকেই চোখ যায় শুধু স্নো আর স্নো! এটা বিশাল বড় একটা স্নো রিসোর্ট।


এখানে প্রচুর মানুষ আসে, স্কি করতে।

২৯ মার্চ ১৯, ৪র্থ দিন:
এই দিন আমার পোষ্টার পেজেন্ট্রেশোন ছিল। ওড়াল পেজেন্ট্রেশন সাধারণত ২০ মিনিটের মত হয়, কিন্তু পোষ্টারে প্রায় ৩ ঘণ্টা দাড়িয়ে থাকতে হয়। আমার পোস্টারের পাশাপাশি আরও ২ জনের পোষ্টার ছিল, আমাদের ৩ জনের ভাল বন্ধুত্ব হয়ে-গিয়েছিল এই অল্প সময়ে। এই সেশনে খানা খাদ্য চলছিল সাথে পেজেন্ট্রেশোন, সময়টা ভালয় কাটছিল।


এখানে পোষ্টার পেজেন্টেশন হয়েছিল। খাবার সার্ভ করছিল পাশে সাথে পেজেন্টেশোন। এ এক এলাহি কান্ড!!

৩০ মার্চ ১৯, ৫ম দিন:
কনফারেন্স শেষের দিন ছিল এটা। বরাবরের মতই কনফারেন্স এটেন্ড করলাম, তারপর সবার সাথে বিদায় নিলাম। আমার পরের দিন সকালে হোটেল ছাড়ার করা, তাই আশে পাশে ঘুরাঘুরি করে হোটেছে চলে এলাম।


আসার সময় আর টেক্সি নেই নাই, প্রথমে বাসে এবং পরে ট্রাক্সে চড়ে, সল্ট লেইক সিটিতে চলে এসেছিলাম ঘুরাঘুরি করতে।

৩১ মার্চ, শেষের দিন:
আমার এই দিন রাত প্রায় বারটা বাজে ফ্লাইট। প্রাণ অনুসারে এই দিনটাতে ধূমধাড়াক্কা সল্ট লেইক সিটিতে ঘুরার প্লান করলাম। সকাল নয়টার আগেই ঘুম থেকে উঠে হোটেছ চেইক আউট করে বেরিয়ে পরলাম সল্ট লেইক সিটি ভ্রমণে।


সকাল সকাল ডাউন টাউনে।


'হিমালয় রেষ্টুরেন্ট: '
কয়েক দিন ধরে বাঙালি খাবার খাই না, ডাউন টাউনে গিয়ে নেপালি রেস্টুরেন্ট খুঁজে বের করলাম। বাহারি রকমের দেশীয়ে খাদ্য দেখে, দানার-দান পেটে চালান করলাম। আহা এত দিন পর দেশি খাবার পেয়ে প্রাণটা জুরিয়ে গেল।


ডাউন টাউনের হিমালয় রেস্টুরেন্ট, এখানেই বাফেটে দানারদান খানা খাদ্য পেটের ভিতর চালান করেছিলাম।


খাবারেরে একটি অংশ, অনেক ধরনের খাবার ছিল, ছবি তুলা থেকে ভোজন কর্ম সম্পাদন করাতেই ব্যাস্ত ছিলাম।

'আর্ট মিউজিয়াম: '
ডাউন টাউনে দিয়েই এই মিউজিয়ামে ঢুকে পরলাম। ভিতর খুব একটা কিছু দেখার মত নেই, কিছু পেইন্টিং এবং পুরনো কিছু জিনিষ পত্র।






মিউজিয়ামের ভিতরের দৃশ্য

'Temple Square ভ্রমণ : '
ডাউন টাউনে এই জায়গাটা আমার সবচেয়ে বেশী ভাল লাগছে। প্রচুর মানুষ এখানে, সবাই দেখতে এসেছে। ভিতরে বেশ পুরনো চার্চ, সাধারণত জনসাধারণের জন্য উন্মুক্ত এই চার্চ, পরিবেশও চমৎকার।


মূল গেইট






'ডাউন টাউনের পার্ক:’
Temple Square এর সাথে ছোট একটি পার্ক, বেশ সুন্দর গুছানো, প্রচুর মানুষ আসে এখানে, কিছু স্থাপত্য আছে এখানে। মানুষজন ছবি তুলছে এখানে।


পার্কে


'ডাউন টাউনের রাস্তা ঘাটে ঘুরাঘুরি: '
কোন শহরে গেলে আমার সেখানকার শহর হেটে ঘুরতে ভাল লাগে, শহরটা বেশী বড় নয়। যতদূর সম্ভব আশে/পাশে ঘুরাঘুরি করলাম। সারাদিন ঘুরে ট্রাক্সে চরে এয়ারপোর্টে আসলাম সন্ধ্যায় ফিরে যাবার উদ্দেশ্যে।




ডাউন টাউন এক ঝলকে।

***অনেক দিন পড়ে ব্লগে এলাম, গত বছর নিয়মিত বিভিন্ন লেখা দিয়েছিলাম তবে এবছর আসতে পারছি না কারণ সামনের মাসেই অফিসিয়ালি পিএইচডি শেষ হবার কথা ছিল যদিও কয়েক মাস বাড়বে আজ জানতে পেরেছি। এই সময় গুলো পার হলে আবারো নিয়মিত আসব, অনেক গুলো প্লট জমে আছে মাথায়!



সর্বশেষ এডিট : ০৮ ই এপ্রিল, ২০১৯ বিকাল ৩:৫০
৬টি মন্তব্য ৬টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

অটোপসি

লিখেছেন জাহিদ অনিক, ১৫ ই সেপ্টেম্বর, ২০১৯ দুপুর ১২:৩২

যে পাহাড়ে যাব যাব করে মনে মনে ব্যাগ গুছিয়েছি অন্তত চব্বিশবার-
একবার অটোপসি টেবিলে শুয়ে নেই-
পাহাড়, ঝর্ণা, জংগলের গাছ, গাছের বুড়ো শিকড়- শেকড়ের কোটরে পাখির বাসা;
সবকিছু বেরিয়ে আসবে... ...বাকিটুকু পড়ুন

মুক্তিযুদ্ধ আমাদের গৌরব গাঁথা আমাদের ইতিহাস : ঘটনাপঞ্জি ও জানা অজানা তথ্য। [১]

লিখেছেন ইসিয়াক, ১৫ ই সেপ্টেম্বর, ২০১৯ বিকাল ৩:১৮


আমার এ পোষ্টটি সবার ভালো না ও লাগতে পারে । যাদের মুক্তিযুদ্ধ ও আমাদের স্বাধীনতার গৌরবগাঁথা সর্ম্পকে বিন্দু মাত্র শ্রদ্ধাবোধ বা আগ্রহ নাই তারা... ...বাকিটুকু পড়ুন

নিজ দেশে অবহেলিত এশিয়া কাপে স্বর্ণ পদক বিজয়ী!

লিখেছেন ঘূণে পোকা, ১৫ ই সেপ্টেম্বর, ২০১৯ বিকাল ৫:০৪

‘আমার দেশে আমার কোনো দাম নেই’



রোমান সানা (তীরন্দাজ) : ‘বড় পর্যায়ের কারও কাছ থেকে কোনো শুভেচ্ছা পাইনি। এটা নিয়ে কষ্ট হচ্ছে। অথচ ক্রিকেটে জিম্বাবুয়েকে হারানোর পর আফিফ হোসেনকে কত... ...বাকিটুকু পড়ুন

ঢাকার পথে পথে- ১৪ (ছবি ব্লগ)

লিখেছেন রাজীব নুর, ১৫ ই সেপ্টেম্বর, ২০১৯ বিকাল ৫:২৩



ঢাকা শহরের মানুষ গুলো ঘর থেকে বাইরে বের হলেই হিংস্র হয়ে যায়। অমানবিক হয়ে যায়। একজন দায়িত্বশীল পিতা, যার সংসারের প্রতি অগাধ মায়া। সন্তনাদের প্রতি সীমাহীন ভালোবাসা- সে-ও... ...বাকিটুকু পড়ুন

ছাত্রলীগ নিয়ে শেখ হাসিনার খোঁড়া সমাধান!

লিখেছেন চাঁদগাজী, ১৫ ই সেপ্টেম্বর, ২০১৯ সন্ধ্যা ৬:২৫



Student League News

স্বাধীনতা যুদ্ধের পর, ছাত্র রাজনীতির দরকার ছিলো না; ছাত্ররা ছাত্র, এরা রাজনীতিবিদ নয়, এরা ইন্জিনিয়ার নয়, এরা ডাক্তার নয়, এরা প্রফেশালে নয়, এরা শুধুমাত্র ছাত্র;... ...বাকিটুকু পড়ুন

×