somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রেম -১০

২৩ শে আগস্ট, ২০০৮ দুপুর ১:০৬
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

আগের পর্ব
Click This Link

পরদিন, সকালে উইঠ্যা ক্লাসে গেলাম। দুইজন বসলাম পাশাপাশি। তার পাশে বইসা ক্লাস আর করুম কি মাস্টারের সব কথা যায় আমার মাথার উপর দিয়া। আমি তখন অন্য জগতের মানুষ। ভাগ্য ভালো মাস্টার কোন কিছু জিজ্ঞাসা করে নাই আর আমিও বাইচ্যা যাই। সচরাচর মাস্টার রা বেশী জিগাইতো না।

যাই হোক আবার আগের রুটিনে ফিরে গেলাম। ক্লাস, লাইব্রেরী ও নদীর পার এই নিয়া আবর্তিত হইতে থাকে আমাদের পৃথবী। দিন যায়..

একদিন তারে কই চলো আজকে ঘুরি সেও কইলো চলো । চিন্তা কইরা বাহির করলাম কই যাওয়া যায়। বিশ্ববিদ্যালয়ের পশ্চিম দিকে ফিল্ড এক্সপেরিমেন্টের জায়গা ছিল। আগেও গেছি ক্লাস করতে। সামনে দিকে বহুদূর পর্যন্ত বিস্তৃত ফষলের মাঠ মাঝখানে কনক্রিটের রাস্তা । ঠিক মাঝখানে একখান ফার্ম হাউজ। কান পাতলেই বাতাসের ও ধানের পাতার তৈরী শিস শোনা যায়। একটু দূরে হওয়ায় বিশ্ববিদ্যালয়ের পুলাপান কাজ ছাড়া এই এলাকায় আসতো না। জায়গাটা মুটামুটি নির্জন থাকে। জায়গাটা কথা মনে হইতেই একখান রিক্সা লইয়া গেলাম সেখানে । ফার্ম হাউজের সামনে রিক্সা ছাইড়া দিয়া মুক্ত প্রান্তরে তারে নিয়া ঘুড়ি । মনে হয় আমরা কোন এক বিচ্ছিন্ন দ্বীপের বাসিন্দা। মন আবেশিত হয়, তার হাত ধরতে ইচ্ছা করে । আস্তে তার হাত ধরি সেও না করে না। যেন পরম ভরসায় সে আমরা হাতে মৃদু চাপ দেয়। দুইজন হাত ধরাধরি কইরা হাটতে থাকি। এ এক অনন্য অনুভুতি। অন্যরকম ভাললাগা।

একটু দূরে ছিল একটি কলার বাগান। সেইটা দেইখ্যা মনে পড়লো খানা সেই বিখ্যাত বচন-

কলা রুয়ে না কেটো পাত
তাতেই কাপড় তাতেই ভাত

তারে কইলাম খনার বচন টা অবাক হইয়া লক্ষ্য করলাম সে খনা কে সেইটা জানে না। অগ্যতা তারে খনার কাহীনি খানা কইলাম। মানে তখন যতটুকু জানতাম আরকি। তার সঙ্গে বিভিন্ন আলাপে আলাপে সময় পাড় হইতে লাগলো।

সময় যায়...

দুপরের সূর্য অনেক আগেই পশ্চিমে হেলে পড়ছে। কিন্তু মনে হয় সময় খুব তাড়াতাড়ি চলে গেল। তারে কইলাম চলো যাই । সে কয় আর একটু থাকি। থাকলাম আর কিছু সময়। জিগাইলাম জায়গাটা কি তোমার খুব পছন্দ হইছে। সে কয় খুউব।

তারে কইলাম সামনে সময় আসতাছে এইখানে আসবার। সে কয় কেন। তারে কইলাম এই বিশাল প্রান্তর থাইক্যা তোমাকেও কিঞ্চিত প্রদান করা হইবে ফিল্ড এক্সপেরিমেন্টর জন্য। তাহা পরিচর্যার জন্য তোমাকে প্রায়শই আসিতে হইবে । দেখলাম তার চোখে ঝিলিক দিয়া উঠলো আনন্দ। তাহার আনন্দেই আমার আনন্দ।

সন্ধ্যার দিকে হলে ফিরিয়া আসি।

অপেক্ষায় থাকি কবে দেওয়া হইবে সেই প্লট বা জমি যাহাতে শস্য উৎপাদেনর মাধ্যমে আমাদের কৃষক সত্তা বিকশিত হইবে (আসলেই কি তাই নাকি তার সান্নিধ্য লাভের আশা) । একদিন অপেক্ষার পালা শেষ হয়। জমি বরাদ্দ দেওয়া হয়। ছোট একটুকরা জমি। হাল চাষ করাই আছে।

কাজ শুধু

শুধু বীজ বপন ।
সেচ প্রয়োগ ( তাও বিশ্ববিদ্যালয়ের পাম্প থেকে অটোমেটিক দেওয়া হইতো)
পরিচর্যা ( আগাছা দমন, কীটনাশক প্রয়োগ ইত্যাদি)
ফষল সংগ্রহ।
রিপোর্ট প্রদান।

পরম মমতায় কৃষকের কষ্ট অনুধাবন করিয়া। কাঠফাটা রোদ্রে ঘর্মাক্ত হইয়া । কাদা মাটিতে একাকার হইয়া ধানের বীজ বপন করিয়া পরিপূর্ন কষকের ভাব ধরিলাম (সেই ভাবটা এখনও ধরিয়া আছি ;) )। কারণ মাষ্টর সামনে দাড়াইয়া ছিল।

যাইহোক ফষলে জমিতে বীজ বপন সম্পাদিত হইলো। এখন পরিচর্যার পালা। অবশ্য এইসব পরিচর্যা অন্যদের মতো ফার্মের মামু দের দ্বারা সম্পাদন সম্ভব। কিন্ত আমরা তাহা করিলাম না। কারণ এইজায়গায় আসার জন্য এর চেয়ে ভালো অজুহাত আর কেউ বাহির করতে পারবে কিনা আমার সন্দেহ আছে।

এর পর থেক প্রায় দুপুরে আমরা দুই কৃষক কিষাণী এখানে এস ফষলে পরিচর্যা করতে লাগলাম । সেই ফাকে অবসরে এই নির্জন প্রান্তরে দুই কৃষক কিষাণী তাদের ভবিষ্যৎ নিয়ে স্বপ্ন দেখার কাজও সম্পাদন করতে লাগলো।

সেই বিষয়ে আগামী পর্ব বলবো



চলবে....








সর্বশেষ এডিট : ২৩ শে আগস্ট, ২০০৮ বিকাল ৪:১৬
১৫টি মন্তব্য ১৩টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

আসলে কেউ ফেরে না।

লিখেছেন রানার ব্লগ, ০৮ ই জুন, ২০২৬ সকাল ৭:০৬

মৃতরা ফিরে আসে না।
ফিরে আসে তাদের ফেলে যাওয়া শূন্যতা,
চায়ের কাপের ধোঁয়া,
অধেক বলা কোনো কথা
অথবা হঠাৎ থেমে যাওয়া কোন সুর

যে প্রেম চলে গিয়েছিল,
সে আর কোনোদিন দরজায় কড়া নাড়ে না।
শুধু একদিন আয়নায়... ...বাকিটুকু পড়ুন

দ্য ড্রাগ কিং

লিখেছেন শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:১৫


সতর্কবার্তা: এটি একটি সম্পূর্ণ কাল্পনিক ক্রাইম ফিকশন। বাস্তব একটি অপরাধের কাঠামোর ওপর ভিত্তি করে পাঠকদের জন্য এর চরিত্র, নাম এবং স্থান পরিবর্তন করে গল্পটি সাজানো হয়েছে।

খুলনা... ...বাকিটুকু পড়ুন

সামুতে আবারও লিলিপুটিয়ানদের সংখ্যা বেড়ে যাচ্ছে

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:৫৮

আমার গত পোস্টে আলামিন১০৪ নামের এক ব্লগার মন্তব্য করেছেন যে - "এ আই দিয়ে হুমায়ূন আহমেদের মতো লেখা যায়।"
তিনি এ আই-কে প্রম্পট দিয়েছিলেন ' হুমায়ুন আহমেদের মতো গল্প লিখে... ...বাকিটুকু পড়ুন

ইজিবাইক চলাচলের প্রকৃত কর্তৃপক্ষ কে?

লিখেছেন মাহদী হাসান শিহাব, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ২:৩৪



দেশের বিভিন্ন শহর ও গ্রামে ইজিবাইক নামে একটি যানবাহন চলাচল করে। কিন্তু এর পরিচালনা, লাইসেন্সিং এবং চলাচলের ক্ষেত্র সম্পর্কে সুস্পষ্ট ও সর্বজনবিদিত কোনো নীতিমালা সাধারণ মানুষের কাছে দৃশ্যমান নয়।

শহরের ভেতরে,... ...বাকিটুকু পড়ুন

মন কথনিকা-৪৮৭৩-৭৪

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ০৮ ই জুন, ২০২৬ রাত ১০:০৯

মন কথনিকা-৪৮৭৩
তোমার আমার মতামতে আকাশ পাতাল সীমা
আমার বুলি বরফ জলের তোমার যেন বোমা,
তুমি বলো রোদের তেজে আমি বর্ষার মতন
বুকের ভিতর বন্ধু বুঝি পাথর পুষো যতন।

মন কথনিকা-৪৮৭৪
পিঠে ব্যথা ভাল্লাগে না, মন... ...বাকিটুকু পড়ুন

×