আগের পর্ব
Click This Link
কিষাণীর স্মৃতি থেকে-৫
যখন বুঝতে পারি তখন যা হবার তা হয়ে গেছে। ভীষন ভাললাগায় আমি আচ্ছন্ন। আমার রুমমেটরা যখন বলে বন্ধু ফুল দিলে তো অন্য কিছু হবে, আমি বড়াই করে বলি কিচ্ছু হবে না, তবে আমার মন খুশীতে ডগমগ করে ওঠে; কি জানি আমার চোখেমুখেও তার কিছুটা ধরা পড়ে কিনা, রুমমেটরা আর কিছু বলেন না। আমার কি ছাই এত কিছু ভাবার সময় আছে!
আমি নিজেকে সাজাই, পরিপাটি করে সাজাই তার চোখে মুগ্ধতা দেখবো বলে। যখন দেখি সে চোরা চাহনিতে আমাকে দেখে, না তাকিয়েও আমি তা উপলব্ধি করি। ভাললাগায় ছেয়ে যার আমার মন। আমি বুঝতে পারি এই বন্ধুত্ব এখন আর বন্ধুত্ব নেই। কিন্তু তারপরও আমি এই ভাললাগার হিসাব মেলাতে চাই না। কেন যেন এই সুখের আবেশ ছেড়ে আমি বের হতে চাই না। নিজের সাথে চলে আমার লুকোচুরি খেলা।
এভাবে দিন যায় তার দৃষ্টির মুগ্ধতা আরো তীব্র হয়, মাঝে মাঝে সে সাহসী হয়ে চোখে চোখ রাখে এবং দৃষ্টি সরিয়ে নেয় না। মনে মনে ভাবি খুব সাহস দেখানো হচ্ছে! তার প্রতি ভাললাগায় আমি আকন্ঠ নিমজ্জিত, একই অনুভূতি যে তারও হচ্ছে, রমণীসুলভ ইনট্যুশন থেকে আমি তা বেশ বুঝতে পারি।
ভরাডুবি না হলে বুঝি বোধোদয় হয় না! তাই যখন ভরাডুবির একশেষ তখন আমার মস্তিস্ক সচেতন হয়ে উঠল। সে বলতে শুরু করল কত ভরসা করে তোমাকে তোমার অভিভাবক এত দুরে তোমাকে পড়তে পাঠিয়েছে, আর তুমি কিনা মূল কাজ বাদ দিয়ে স্বপ্ন দেখায় বিভোর! এক জটিল বাঁধনে জড়াচ্ছো! এর মানে বোঝো? কঠিন পরীক্ষা দিতে হবে। দু তিন বছর পর যখন অভিভাবক বলবেন উঠ ছুড়ি তোর বিয়ে তখন তোমার এই পাগলাকে তুমি কি বলে তাদের সামনে দাঁড় করাবে?
শুরু হল মন এবং মস্তিস্কের যুদ্ধ। মন বলে তাতে কি আমরা দু'জন মিলে খুব ভাল রেজাল্ট করবো তাহলে অভিভাবকদের সামনে দাঁড়াতে কোন সমস্যা হবে না। মস্তিস্ক বললো এখনো সময় আছে সাবধান হও এবং ফিরে এস। মস্তিস্ক জয়ী হল। মন সরে আসতে মসস্থির করলো ।
ভাবা আর করা তো এক কথা নয়। তার কাছে গেলে তো আর অতশত যুক্তি মনে থাকে না। তাকে ছেড়ে থাকার পথ ও বন্ধ, সব কাজ করতে হয় একসাথে। আমি ভেজা খোলা চুল মেলে দিয়ে পথ চলি সে পাশ থেকে বলে, তোমার চুলে মিষ্টি গন্ধ; আবার আমার বুকের কাঁপন শুরু হয়, মস্তিস্ক হার মানে। পরে একদিন ও বলেছিল, তোমার চুলে কাঠালীচাঁপার গন্ধ এটা কিভাবে হল। ওর মাঝে একটা রোমান্টিকতা কাজ করতো, ভাবতো ভালবাসলে বরুনার বুকে আতরের গন্ধ, আর আমার চুলে কাঠালীচাঁপার গন্ধ। বেরসিক আমি বলে দিলাম কারো চুলে কোন গন্ধ থাকে না, এটা আমার শ্যাম্পুর গন্ধ। প্রথমে কিছুটা দমে গিয়েছিল, তারপরও যখন ই খোলা চুলে সেই গন্ধটা পেত, ও আমার পিছু পিছু হাঁটতো চুল শুঁকবে বলে। আজো ভাবতে কি ভাল লাগছে!
আমি জড়িয়ে পড়েছি, ফিরে আসার পথ বন্ধ। দিনের বেলা মনে হয় অসম্ভব তাকে ছেড়ে থাকা। আর রাতে মনে হয় তাকে ছাড়তে পারতেই হবে। নির্ঘুম রাতে হাজারো পরিকল্পনা করি, কোনটাই মনঃপুত হয় না। অনুভব করতে পারছি তার অস্থিরতা; অন্য এক ক্লাশমেটকে বললাম কি করা যায়, ও তো মনে হয় আমার প্রতি দূর্বল, নিজের মনের অবস্থা আর বললাম না, চেপে গেলাম।
যথারীতি যা ঘটবার তা ঘটল, ও আমার সাথে রহস্য করে বললো, আমি চিন্তা করে দেখলাম আমি একটা মেয়ের প্রেমে পড়ছি, আমি চুপ করে আছি, আজ আমার ভরাডুবি। ও আবার বললো, জানতে চাইলা না মেয়েটা কে? আমি মনে মনে বলি, আমি আর জানিনা! দ্রুত ভাবছি এখন কি বলবো। আমাকে কিছু বলার সুযোগ না দিয়ে ও বললো, সে মেয়েটা হচ্ছো তুমি। আমি ভালবাসি। আমার মন বলছে, আমি হয়তো তোমার চাইতেও অনেক বেশী ভালবাসি; মুখে তা বলতে পারলাম না। বললাম এই ভয়টাই পাচ্ছিলাম। আমার পক্ষে সম্ভব না। মনের অব্যক্ত কথা কান্না হয়ে ঝরে পড়লো। ও বলে কেন সম্ভব না? আমি তো জানি আমার কাছে কোন যুক্তি নেই, বেশি কিছু বলতে গেলে আমি ধরা পড়ে শেষ। তাই এক কথা, সম্ভব না।
আমি দেখছি ওর মুখটা কষ্টে শুকিয়ে গেল, মায়াভরা চোখগুলোতে বিষন্নতা। আমি প্রাণপণে নিজেকে সামলাতে ব্যাস্ত। পরদিন ও বলল আমার ধীরে ধীরে সরে যাব, এখন আগের মত স্বাভাবিক থাকো। হঠাৎ কথা বন্ধ করলে সবাই বুঝবে আমাদের মধ্যে কোন ঝামেলা হয়েছে। আমি ভাবলাম যাক বাবা এযাত্রা তো বাঁচলাম।
চলবে........
পরের পর্ব
Click This Link

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

