সে খুব ভাল কাপড়ে ফুল তুলতে জানতো। তার সমস্থ কাপড় সে নিজেই তার কোমল হাতের ছোয়ায় দারুণ মনকাড়া নিপুন কারুকার্যে রাঙিয়ে তুলতো। আমারও লোভ হতো তার হাতের ছোয়ায় গড়া একটা কাপড় পড়তে। কিন্তু বলব বলব করেও বলা হয়না। শেষে একদিন দুষ্টুমীর ছলে বলেই ফেল্লাম। বল্লাম রাহা তোর হাতের কাজতো দারুন সুন্দর। সে বলে সেটা এ নিয়ে হাজারবার বলেছ। এত পাম্প দিতে হবেনা। কি বলবে বল। বল্লাম আমায় একটা পান্জাবীতে ফুলের কাজ করে দেয়না। সে বলে - পারবনা। আবার বল্লাম। বলে কিনা টাকা লাগবে। বল্লাম -কত? তখন সে কিছু বলেনা। আমি সুযোগ বুঝে আর একদিন বল্লাম। সে বলে - মা যদি জিজ্ঞেস করেন - কার। হা সেটাতো সমস্যা। বল্লাম আচ্ছা চাচীকে আমি ম্যানেজ করে নবো। পান্জাবী সেলাই করে আনলাম, সাথে ম্যাচ করা সুতোও। ফুলটা কিন্তু আমি নিজেই একে দিলাম। তার পড়ালেখা ও ঘরের কাজ কর্মের দরুন কোন ভাবেই সুযোগ পাচ্ছিলনা ফুল তোলার। যখনি সময় পায় একটু একটু করে করতে লাগল। আমি শহর থেকে ক্লাস করে এসে প্রতিদিন একবার করে সেটা দেখতাম। শেষে সে বলে ওটা বার বার দেখলে সুন্দর কমে যাবে। শেষ হলে একেবারেই দেখিও। কিন্তু আমি লোভ সামলাতে পারিনা। সে এবার বলে মাইর চিনো? মাইর খেতে চাইলে দেখতে আসিও।
অবশেষে দীর্ঘ একমাস পরে সেটা সম্পুর্ণ করে আমায় দেখাল। আমিতো অবাক! দারুনতো। আমি ওটা নিয়ে আসতে চাইলে সে বলে - আমি যখন কাজটা করেছি তখন ধুয়ে আইরন করিয়ে তোমায় দিয়ে আসবো। বল্লাম ঠিক আছে। সে সেটা ধুয়ে উঠুনে শুকাতে দিল। আমি ঘরে চলে এলাম। কিছুক্ষণ পরে সে হঠাৎ এসে বল্ল বড় দাদা (তার বড় ভাই) তোমার পান্জাবী পড়ে বিয়েতে যেতে বসে আছে। আমি আর বাকীটুকু শুনলামনা। দিলাম ভুঁ দৌড়। গিয়ে দেখি ভাইয়া পান্জাবীটা তাড়াতাড়ি শুকাবার জন্যে নেড়ে চেড়ে দিচ্ছে। দেখে আমি কিছু বল্লামনা। উনি বলতে লাগলেন ওকে আমি এত করে বল্লাম আমায় একটা পান্জাবীতে কাজ করে দিতে। দিলনা। আর তোকে কিনা না বলতেই করে দিল। যাক তোরটা পড়েই আজ বিয়েতে যাব কি বলিস। এদিকে আমার তো মাথা খারাফ হওয়ার অবস্থা। ভাইয়া যেইনা ঘরে ঢুকল আমি পান্জাবীটা নিয়ে দিলাম ভুঁ দৌড়। আমার অবস্থা দেখে রাহার সে কি হাসি। তার হাসির একটা রোগ ছিল। সে হাসিতে আমার সূখ ছিল। এই মুহুর্তে আমার সে সূখ নেবার সময় নেই। আমি পান্জাবী বাচাতে ব্যস্থ।
মা আমাকে দৌড়াতে দেখে বলে কিরে দৌড়াচ্ছিস কেন? তাঁর জবাব না দিয়ে মাকে বল্লাম মা একটা পলিথিন দাওতো। মা জিজ্ঞেস করলেন পলিথিন দিয়ে কি করবি। বল্লাম পান্জাবীটা রাখব। মা বল্লেন পাগল হলি নাকি। ভেজা কাপড় কেউ পলিথিনে ভরে রাখে? বল্লাম রিদওয়ান ভাইয়া এটা পড়ে বিয়েতে যেতে বসে আছে। মা বলে তাতে কি হয়েছে। একবার পড়লেকি সেটা ক্ষয় হয়ে যাবে? এটা আমি কাউকে পড়তে দেবনা। মা মনে হয় আমার মনের অবস্থা কিছুটা বুঝতে পারলেন। বল্লেন আচ্ছা ঠিক আছে ওটা শুকাতে দিয়ে গোসল করে আয়। জুমার নামায পড়তে যাবিনা? মা কাপড়টা নিয়ে পানি ঝড়াতে যেইনা মোচড় দিল আমি চিৎকার করে উঠলাম। বল্লাম মা আস্তে চাপনা, ছিড়ে যাবেতো। মা বলে পাগল ছেলে। যা তাড়াতাড়ি গোসল করে আয় নইলে আমি তাকে দিয়ে আসব। মা চলে গেলেন রান্না ঘরে। আমি সিড়িঁতে বসে রইলাম। একটু পর পর ধরে দেখতে লাগলাম। শুকাতে এত দেরী লাগে নাকি। আমার বিরক্তি লেগে গেল। এদিকে নামাযের ও সময় হয়ে যাচ্ছে। আমি কাপড়টি নিয়ে মা না দেখে মতন সেটা আরমারীর ভেতর ঢুকিয়ে রাখলাম। গোসল করে আসার পর মা দেখি আমায় দেখে কেমন করে জানি হাসছে। পরে বল্ল - তোর পান্জাবীটাতো রিদওয়ান নিয়ে গেছে। শুনে আমার মাথায় টং করে উঠল। আমি চিল্লা চিল্লি আরম্ভ করে দিলাম। তুমি নিতে দিলে কেন? আলমারীর চাবি দিলে কেন? মা বল্ল আলমারীর চাবি মানে? বল্লাম আমি ওঠা আলমারীতে ঢুকিয়ে রেখেছিলাম। মা বলে ওরে পাগল ছেলে। আমি ঘরের সামনে গিয়ে ওটা আমি দেখতে না পেয়ে ভেবেছি সে নিয়ে গেছে। ভেজা কাপড় এভাবে রাখলেতো এমনিতেই খারাফ হয়ে যাবে।
পরে শুকানোর পর সেটা রাহাকে দিয়ে এলাম। বল্লাম না এভাবে না। এটা আমি তোর হাত থেকেই নিতে চাই। পরদিন সে পান্জাবীটা আইরন করিয়ে এনে আমার হাতে দিল। বল্ল দেখ কেমন হয়েছে। বল্লাম খুব সুন্দর। তোর মতন। সে হাসে। ইস কি যে মিষ্টি হাসি। কাল নিতে নাপারা তার হাসির সূখ আজ মন ভরে নিতে থাকি।
সেই পান্জাবীটা পড়ে আমি ২০০৩ এর ঈদ করলাম, ২০০৪ থেকে শুরু করে ২০০৭ এর ঈদটাও করলাম। উল্লেখ্য আমি কেবল সেটা ঈদের সময়ই পড়ি। সামনে আসছে আর একটা ঈদ। আশা রাখছি সামনের ঈদটাতেও আমার ঈদের জামা হবে সেই পান্জাবী।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

