তবে ইলিয়াস আলী ছাড়াও চলমান এ জাতীয় নানা সমস্যা বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ বিষয় উল্লেখ করে এর সমাধানে বাংলাদেশের সব শীর্ষ ব্যক্তির একসঙ্গে কাজ করার পরামর্শ দেন রুশনারা। বাংলাদেশের সঙ্গে ব্রিটেনের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের কথা উল্লেখ করে রুশনারা আলী বলেন, বাংলাদেশের জন্মলগ্ন থেকে এর ক্রমোন্নতিতে যুক্তরাজ্যের নিরবছিন্ন সমর্থন রয়েছে। বাংলাদেশ ও যুক্তরাজ্যের মধ্যে স্বাভাবিক মৈত্রী বিদ্যমান। বিশেষভাবে আমি যে এলাকার প্রতিনিধিত্ব করছি সেই বেথনালগ্রিন অ্যান্ড বো-এর বেশিরভাগ জনগণই বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত। ফলে ইস্ট অ্যান্ড অব লন্ডনের সঙ্গে বাংলাদেশের দারুণ এক বন্ধন রয়েছে।
ব্রিটিশ পার্লামেন্টে একজন ছায়ামন্ত্রী হিসেবে নিজের কাজের বর্ণনা দিতে গিয়ে অঙফোর্ড গ্র্যাজুয়েট রুশনারা আলী বলেন, শ্যাডো মিনিস্টার ফর ইন্টারন্যাশনাল ডেভেলপমেন্ট হিসেবে আমার কাজ হলো কোন কোন দেশ যুক্তরাজ্য থেকে সাহায্য পাবে, কোন কোন দেশে সহযোগিতা বন্ধ করতে হবে এবং কোন দেশে সহযোগিতা বৃদ্ধি করতে হবে তা পর্যবেক্ষণ করা। গুরুত্বপূর্ণ এ দায়িত্বে থেকে বাংলাদেশকে কীভাবে সাহায্য করতে পারেন, এমন প্রশ্নের জবাবে রুশনারা আলী বলেন, লেবার পার্টির ডেপুটি লিডারকে নিয়ে আমি সরকারের কাছে সুপারিশ করেছি যাতে বাংলাদেশের প্রতি যুক্তরাজ্যের সহযোগিতা বজায় থাকে। আমার প্রথম লক্ষ্য ছিল বাংলাদেশের প্রতি যুক্তরাজ্যের সহযোগিতা যেন অব্যাহত থাকে সেটা নিশ্চিত করা।
দ্বিতীয়ত, বাংলাদেশের সঙ্গে যুক্তরাজ্যের বাণিজ্যিক সম্পর্ক যেন আরো জোরদার হয় সেটাও নিশ্চিত করা আমার লক্ষ্য ছিল। এজন্য যুক্তরাজ্যের সরকার, বৈদেশিক মন্ত্রণালয় ও ঢাকায় অবস্থিত যুক্তরাজ্যের হাইকমিশন যেন বাংলাদেশ ও লন্ডনের মধ্যে বাণিজ্যিক সম্পর্কের প্রবাহ বজায় রাখতে কাজ করে সেটা নিশ্চিত করার ওপর জোর দিয়েছি। তৃতীয়ত, বাংলাদেশের বাণিজ্যকে যুক্তরাজ্যের বাজারে আরও ছড়িয়ে দেওয়া। কারণ যেসব বাংলাদেশি ব্যবসায়ী যুক্তরাজ্যের সঙ্গে ব্যবসা করতে আগ্রহী তাদের ভাষা ও সাংস্কৃতিক জ্ঞান এবং প্রয়োজনীয় যোগাযোগ আছে। এসব বিষয়কে কাজে লাগিয়ে তারা যেন যুক্তরাজ্যে ব্যবসা করতে পারে সেই দিকটা নিশ্চিত করা আমার আরেকটি লক্ষ্য।
বাংলাদেশের অনেক সম্ভাবনা আছে উল্লেখ করে উন্নয়নের জন্য অর্থনৈতিক খাতকে গুরুত্ব দেন রুশনারা আলী। বাংলাদেশের উন্নতির প্রধান শর্ত হলো অর্থনৈতিক উন্নতির ধারা বজায় রাখা। কিন্তু বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন এখনো দুর্বল পর্যায়ে আছে। এজন্য প্রয়োজন সহায়তা। তৃণমূল পর্যায় থেকে জনগণকে আত্মনির্ভরশীল হিসেবে গড়ে তোলা। সাধারণ জনগণের মধ্যে যে সম্ভাবনা আছে সেগুলোকে জাগিয়ে তুলে বাংলাদেশের উন্নয়ন ত্বরান্বিত করতে সরকারের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে নিয়োজিত ব্যক্তিদের সঙ্গে রাজনৈতিক ও ব্যবসায়িক নেতাদের এগিয়ে আসতে হবে বলে উল্লেখ করেন রুশনারা আলী। যারা সরকার, রাজনীতি ও ব্যবসায়িক ক্ষমতার কেন্দ্রে আছে, তাদেরই উচিত সাধারণ জনগণের সাহায্যে এগিয়ে এসে তাদের আত্মনির্ভরশীল ও কর্মঠ হিসেবে গড়ে তুলতে সাহায্য করা। যুক্তরাজ্যে আমরা ঠিক সেটাই করেছি।
হাউস অব কমন্সে নিজের ভূমিকা সম্পর্কে বলতে গিয়ে রুশনারা আলী বলেন, মানব কল্যাণের উন্নয়নের জন্য আমি যতদূর সম্ভব ভূমিকা রাখার চেষ্টা করি। বিশেষ করে সামপ্রতিক সময়ে সিরিয়ার মানবাধিকার উন্নয়ন, বিশেষত নারী ও শিশুদের নিরাপত্তার জন্য আমি কাজ করছি। রোহিঙ্গা ইস্যু নিয়ে সরব ভূমিকার কথা উল্লেখ করে রুশনারা আলী বলেন, সমপ্রতি আমার এলাকার লোকদের সঙ্গে আমি রোহিঙ্গা ইস্যু নিয়ে ক্যাম্পেইন পরিচালনা করছি। রোহিঙ্গাদের মিয়ানমার সরকার যাতে নাগরিকত্ব দেয় সে জন্য আমরা ক্যাম্পেইন পরিচালনা করছি। তাছাড়া হাজার হাজার রোহিঙ্গা নির্যাতিত হয়ে বাংলাদেশে অনুপ্রবেশ করছে। যেটা বাংলাদেশের ওপর চাপ বাড়াচ্ছে। মিয়ানমার সরকারই যেন রোহিঙ্গাদের দায়িত্ব নেয় সে জন্য আমরা কাজ করছি।
ইস্ট অ্যান্ড লন্ডনের বাংলাদেশি অধ্যুষিত বেথনাল গ্রিন অ্যান্ড বো এলাকা থেকে ২০১০ সালে পার্লামেন্টের সদস্য হিসেবে নির্বাচিত হন রুশনারা আলী। বেথনাল গ্রিন অ্যান্ড বো জনগণের প্রতিনিধিত্ব করতে পেরে আমি দারুণ গর্বিত। যুক্তরাজ্য ও বাংলাদেশের যেসব মানুষ আমাকে সমর্থন দিয়েছে তাদের কাছে আমি কৃতজ্ঞ। আমার এ জয় আসলে তাদেরই জয়'_ বলেন রুশনারা আলী। সাত বছর বয়স থেকে ব্রিটেনে থাকলেও বাংলাদেশের প্রতি সমান টান অনুভব করেন বলে জানান রুশনারা। তিনি বলেন, আমি বাংলাদেশে জন্মগ্রহণ করেছি বলে আমার হৃদয়টা বাংলাদেশেই পড়ে আছে। ব্রিটেনের মূলধারার রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত বাংলাদেশিদের প্রতি সর্বাত্মক পৃষ্ঠপোষকতা কামনা করে রুশনারা আলী বলেন, আমাদের এখানে অনেক প্রতিভাবান রয়েছেন। যথাযথ সহযোগিতা ও পৃষ্ঠপোষকতা বাড়ানোর মাধ্যমে হাউস অব কমন্সে প্রতিনিধির সংখ্যা আরও বাড়ানো সম্ভব।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



