কয়েকবছর আগে হুম্যানের একটি নাটক টিভিতে প্রচারিত হতো। নাটকে আসাদুজ্জামান নুর ছিল একজন ডাক্তার। গ্রামের সবাই তাকে খুব ভালবাসতো। কিন্তু সর্বদা তার বিরুদ্ধাচরণ করতো গ্রাম্য মোড়ল(আমিরুল ইসলাম চৌধুরী)। নাটকের একদম শেষ পর্বে বাকের ভাই ওই গ্রাম থেকে অন্য স্থানে বদলি হয়ে যাওয়ার আগে গ্রামের সবাই তার জন্য অশ্রু বিসর্জন করতে থাকে। সবাই চোখের পানিতে যখন তাকে বিদায় দিচ্ছিল তখনো গ্রাম্য মোড়ল তার সাথে দেখা করতে যায়নি। তখনই নাট্যকার আসল খেলটি দেখায়, মোড়লের স্ত্রীর জবানিতে তুলে আনে কেন তার এই বিরোধিতা? তুমি নিষিদ্ধপল্লীতে গিয়ে সিফিলিসে আক্রান্ত হয়েছিলে, যার চিকিৎসা করেছিল ডাক্তার। এজন্য তুমি সবসময় ভয়ে ভয়ে থাক কখন তোমার সিফিলিসের কাহিনী ফাঁস হয়! এজন্য সর্বদা ডাক্তারকে হেয় করার জন্য তোমার প্রয়াস। কিন্তু বিশ্বাস করো, ডাক্তার কখনোই এই কথা কারো কাছে বলেনি।
একাত্তরের জেনারেশনের সকলেই খালেদা জিয়ার তৎকালীন কুকর্ম সম্পর্কে অবগত। খালেদা জিয়া যুদ্ধের পুরোটা সময় পাকি আর্মিদের সাথে তাদেরই মেসে ক্যান্টনমেন্টে কাটিয়ে দিয়েছিল। তার স্বামী জিয়াউর রহমান যখন তাকে আগরতলা নিতে লোক পাঠিয়েছিল, সে উত্তর দিয়েছিল আমি নিরাপদ পরিবেশে ভাল আছি! পাকি ডান্ডাপ্রেমী এই রমণীকে যুদ্ধের পর তার স্বামী ফিরিয়ে নিতে চায় নি। কিন্তু শেখ সাহেবের বিশাল হৃদয়! তিনি যেচে জিয়ার সাথে খালেদার মিটমাট করিয়ে দেন। এই পোস্ট বিএনপির সমর্থক অনেকে পড়বেন, তাদের বলব নির্মোহ দৃষ্টিতে ইতিহাস বিচার করতে। তখনকার প্রজন্মের অনেকেই বেঁচে আছেন, বার্ধ্যক্যের কারণে স্মৃতিভ্রষ্ট না হলে এই ঘটনাগুলো তাদের মনে এখনো জাগরুক রয়েছে।
হুম্যানের নাটকের শেষে ওই মোড়ল শেষপর্যন্ত ডাক্তারকে বুকের সাথে জড়িয়ে ধরেছিল, দেরি করে হলেও তার ভুল স্বীকার করেছিল। কিন্তু খালেদা জিয়া সিফিলিস সর্দারের নৈতিকতাও ধারণ করেন না, পাকি ডান্ডালেহীর কাছ থেকে কৃতজ্ঞতা আশা করাটা হাস্যকর। বঙ্গবন্ধুর জীবদ্দশায় বিএনপির জন্মও হয়নি, কিন্তু সেই বিএনপির লোকজন তাদের নেতাদের প্ররোচনায় বঙ্গবন্ধুর পরিবার কিংবা জন্মপরিচয় নিয়ে কটাক্ষ করে, যা খুবই দুঃখজনক। বর্তমান আওয়ামীদের সাথেও বঙ্গবন্ধুর বিস্তর ফারাক। তার আমলে দাউদ হায়দার দেশে স্থান পায়নি, রমনা কালীমন্দির পুনর্নিমাণের প্রস্তাবও তিনি ছুঁড়ে ফেলে দিয়েছিলেন। ৪৭ এ তিনি ভারতের বিপক্ষেই ছিলেন, দেশভাগের পক্ষে ছিলেন। দাঙ্গার সময় কলকাতায় তিনি হিন্দুদের হাত থেকে মুসলিমদের বাঁচানোর পক্ষে কাজ করেছিলেন যা ভারতীয় পত্রিকাতেই এসেছিল। যেখানে জামাত ছিল দেশভাগের বিপক্ষে, অখন্ড ভারতের পক্ষে যার সাথে হিন্দুত্ববাদী আদর্শের মিল রয়েছে। চীনাবাদামসম্রাট সিরাজ শিকদারের ইহলীলা সাঙ্গ করার জন্য খাসিউদ্দিনরা এখনো তাকে দুচোখে দেখতে পারেনা। কিন্তু খালেদা জিয়ার অপকর্ম ঢাকার জন্য দরকার বঙ্গবন্ধুর চরিত্রে কালিমালেপন, শোক দিবসের দিন জন্মদিন পালন করার বিষয়টি রীতিমতো ন্যাক্কারজনক। বঙ্গবন্ধুর বিরোধিতার মাধ্যমে নিজের পাকি ডান্ডাপ্রীতি ঢাকার ব্যর্থ চেষ্টা যা খালেদা করে চলেছেন তার প্রতি অন্তত বিএনপি কর্মীদের অনাস্থা পোষণ করা উচিত। চাপিয়ে দেয়া মিথ্যা আদর্শ কখনোই মানুষকে সঠিক পথে নিয়ে যাবে না। তা আওয়ামী লীগের হোক, আর বিএনপির হোক।
সর্বশেষ এডিট : ১৮ ই নভেম্বর, ২০১২ সন্ধ্যা ৭:৫৭

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


