somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

নিরপেক্ষতার কশাঘাতে বিপ্লব ও সংহতি দিবস ২

০৭ ই নভেম্বর, ২০০৭ রাত ৯:০৪
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

মিনার রশীদ

(আগের অংশের পর ...)
এক থেকে যেমন তিন হতে পারে না তেমনি এক জাতিতত্ত্ব থেকে লাফ দিয়ে বাংলাদেশের জন্য অতি প্রয়োজনীয় ত্রি-জাতিতত্ত্বের উদ্ভব হতে পারতো না। ইতিহাসের এই বাস্তবতা থেকে আমরা চোখ ফিরিয়ে রাখতে পারবো না। একে স্বীকার করা মানে আগের ত্রুটিপূর্ণ তত্ত্বকে সমর্থন করা নয়। বাঙালি জাতিসত্তা থেকে পৃথক বাংলাদেশি জাতিসত্তার সৃষ্টি এর হাত ধরেই হয়েছে। এটাই এদেশের মূলধারা। এদেশের গণমানুষের বোধ-বিশ্বাস-স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্বের পক্ষের ধারা। বাকি সব ধারা রাজনৈতিক বা সাংস্কৃতিক গোলামি বা দালালির মনোবৃত্তি থেকে উৎসারিত - তা যতোই শৈল্পিক বা সাংস্কৃতিক সুষমায় আচ্ছাদিত করে পরিবেশন করা হোক না কেন। অথচ সঠিক এই ধারণা বা ভাবনাকে ঘিরে সুকৌশলে হীনমন্যতা ঢুকিয়ে দেয়া হয়েছে। বুক ফোলানোর মতো দর্শন নিয়ে মাথা নুইয়ে থাকতে হয়েছে। সাংস্কৃতিক ও বুদ্ধিবৃত্তিক জগতে প্রবাহিত এক ধরনের আধিপত্য বা আজব ধরনের সন্ত্রাস এই অবস্থার সৃষ্টি করে রেখেছিল। অবস্থা অনেক দিন পর্যন্ত এমন ছিল যে, এক জাতিতত্ত্বের সমালোচনা করার আরেক নাম দ্বি-জাতিতত্ত্বকে সর্বান্তকরণে সমর্থন করা। বুশ যেমন বলতে চান তার বিরোধিতা মানেই লাদেনকে সমর্থন করা। তৃতীয় কোনো রাস্তা নেই। এসব আজব সন্ত্রাসীর ভাবখানাও ছিল অনুরূপ। এক পর্যায়ে এই চিন্তাধারাকে আমাদের স্বাধীনতা আন্দোলনের সঙ্গে এমন করে জড়িয়ে ফেলা হয়েছে এবং সার্বিক পরিবেশ এমন করে রাখা হয়েছে যে, তাদের এই মতের বিরোধিতা করা মানেই দেশের স্বাধীনতার বিরোধী হয়ে যাওয়া। নিজের দেশ-বোধ-বিশ্বাসের ওপর আবেগ প্রকাশ করলে কিংবা এদের কোনো অবিচারের বিরুদ্ধে মুখ খুললে পেচিয়ে এটাকে তারা পাকিস্তানপ্রীতি বানিয়ে ফেলতো। শিল্প, সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক বলয়ে উপরোক্ত মহলটি এমন আধিপত্য বিস্তার করে ফেলে যে, এর সঙ্গে দ্বিমত পোষণ করা রীতিমতো বিপজ্জনক হয়ে দাড়ায়। কারো দেশপ্রেম মাপা ও দেশপ্রেমের সার্টিফিকেট বিতরণের একচ্ছত্র মালিক বনে যায় তারা। এই ধারণার বাইরে যেসব বুদ্ধিজীবী অবস্থান নিতেন তাদের বুদ্ধি ও দেশপ্রেম আদৌ আছে কি না তাই নিয়ে সংশয় দেখা দিতো। দু-এক জন গো ধরে বসলে বুদ্ধিজীবীদের খাতা থেকেই তাদের নাম কেটে দেয়া হতো। সাধারণ শিক্ষিত মহলে এর একটা সুদূরপ্রসারী প্রভাব পড়ে। এই লাইন বরাবর চিন্তা তখন এক ধরনের ফ্যাশন হয়ে দাড়ায়।

সবার মনে গুঞ্জরিত এ সঠিক কথাটি তাই অনেকদিন পর্যন্ত বুক ফুলিয়ে বলতে পারা যেতো না। কথাটি প্রথম বলার সাহস যুগিয়ে গেছেন প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান। ইতিহাসের বাকগুলোতে যেখানেই আমরা দ্বিধান্বিত ছিলাম, সেখানেই তার দৃঢ়কণ্ঠ বেজে উঠেছে। যখন মনে হয়েছে এখানে এখন একজন মানুষের দাড়িয়ে পড়া দরকার, তখনই তাকে সেখানে দেখা গিয়েছে। তার সফলতা যাদের ব্যর্থতা তুলে ধরেছে তারা সঙ্গত কারণেই তার এই 'অপরাধ' ক্ষমা করতে পারেনি। ১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বর যে জিয়াউর রহমানের বীরত্বপূর্ণ দেশপ্রেমিক ভূমিকা এই দেশটিকে এক জাতিতত্ত্বের ভাবাবেগে করদরাজ্য হওয়া থেকে রক্ষা করেছে, যার ভূমিকায় আজও কেউ কেউ মুখ্যমন্ত্রী বা রাজ্যপাল হওয়ার পরিবর্তে স্বাধীন দেশের প্রধানমন্ত্রী ও প্রেসিডেন্ট হয়ে ঘুরে বেড়ান তারাও এই দিনে তার কবর জিয়ারতে ভয় পান। অথচ অমন ভয়, হীনমন্যতাকেই জিয়াউর রহমান ভেঙে গুড়িয়ে দিয়ে গিয়েছিলেন।

এই ভয় পাওয়ার অপরাধে একজনকে শাস্তি বা গালি দিয়ে লাভ হবে না বা বলির পাঠা বানিয়ে লাভ হবে না। আরো গভীরে এর সমাধান খুজতে হবে।

.....................................................
১১ নভেম্বর, ২০০৬
যায়যায়দিনের সৌজন্যে
৩টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

একজন বণিক, যিনি বদলে দিয়েছিলেন সমগ্র আরবের ইতিহাস

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০৮ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:৪৩


মরুভূমির মাঝে দাঁড়িয়ে পুরো আরবকে বদলে দেওয়ার স্বপ্ন দেতেন একজন মানুষ। শুনতে পাগলামি লাগে, তাই না? কিন্তু সেই মানুষটা যদি ছোটবেলা থেকে কাফেলায় কাজ করে থাকেন, যদি তিনি জানেন... ...বাকিটুকু পড়ুন

কৃত্তিম বুদ্ধিমত্তা যেভাবে আব্বাসীদের জন্য হুমকি হয়ে আসছে- কী হবে খালেদ মহিউদ্দিনের?

লিখেছেন হিমন, ০৮ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:৫০

হোমো ইরেক্টাসদের প্রায় বিশ লাখ বছর আগের আগুনের ব্যবহার থেকে শুরু করে ছয় হাজার বছর আগের চাকা আবিষ্কার, ১৮৩১ সালের বিদ্যুৎ, গত শতাব্দীর অ্যান্টিবায়োটিক, আর এই সেদিনের ইন্টারনেট ও স্মার্টফোন—... ...বাকিটুকু পড়ুন

আসলে কেউ ফেরে না।

লিখেছেন রানার ব্লগ, ০৮ ই জুন, ২০২৬ সকাল ৭:০৬

মৃতরা ফিরে আসে না।
ফিরে আসে তাদের ফেলে যাওয়া শূন্যতা,
চায়ের কাপের ধোঁয়া,
অধেক বলা কোনো কথা
অথবা হঠাৎ থেমে যাওয়া কোন সুর

যে প্রেম চলে গিয়েছিল,
সে আর কোনোদিন দরজায় কড়া নাড়ে না।
শুধু একদিন আয়নায়... ...বাকিটুকু পড়ুন

দ্য ড্রাগ কিং

লিখেছেন শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:১৫


সতর্কবার্তা: এটি একটি সম্পূর্ণ কাল্পনিক ক্রাইম ফিকশন। বাস্তব একটি অপরাধের কাঠামোর ওপর ভিত্তি করে পাঠকদের জন্য এর চরিত্র, নাম এবং স্থান পরিবর্তন করে গল্পটি সাজানো হয়েছে।

খুলনা... ...বাকিটুকু পড়ুন

সামুতে আবারও লিলিপুটিয়ানদের সংখ্যা বেড়ে যাচ্ছে

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:৫৮

আমার গত পোস্টে আলামিন১০৪ নামের এক ব্লগার মন্তব্য করেছেন যে - "এ আই দিয়ে হুমায়ূন আহমেদের মতো লেখা যায়।"
তিনি এ আই-কে প্রম্পট দিয়েছিলেন ' হুমায়ুন আহমেদের মতো গল্প লিখে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×