নরওয়ে দেশে এক কালে এক দেশদ্রোহী খুনীর রাজত্ব ছিল। হের নাম কুইসলিঙ। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে জার্মানীর পক্ষঅবলম্বন করে সে নরওয়ের ক্ষমতায় আসে। এর আগে সে নরওয়ের বৈধ সরকারের প্রতিরক্ষা মন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করতো।
ব্লগার অচেনা বাঙ্গালী খুব চালাকি করে এই কুইসলিঙরে আমাদের সাথে পরিচয় করায় দিছেন। উদ্দেশ্য আরিলরে খোচা দেয়া। গোলাম আজমরে নিয়া যেহেতু পোস্ট হইতাছে, সেইটারে কাউন্টার দিতেই আসলে অচেনা কাজটা করছেন। কিন্তু তুলনাটা যে একেবারেই যুইতের হয়নাই এইটা তিনি ধরতে পারেন নাই। আমি দৃষ্টি আকর্ষণ কইরা মন্তব্য দিছিলাম। সেইটা তিনি হাওয়া কইরা দিছেন।
দেখা যাক কোন কোন কারনে কুইসলিঙের লগে গোলাম আজমের তুলনা করা যাইবো না:
১। কুইসলিঙ শুধু রাজনৈতিক নেতা ছিলেন না মিলিটারি নেতা ভি আছিলেন। তার নির্দেশে এবং উপস্থিতিতে অনেক হত্যাকান্ড ঘটছে। পক্ষান্তরে '৭১ এ গোলমাল আজম ওই ক্যালিবারের কেই ছিলোনা। বড়জোড় সে একজন বক্তৃতা দেওয়া পাব্লিক আছিলো। খুন হত্যায় জড়িত থাকার অভিযোগ নাই।
২। যুদ্ধকালীন সময়ে গোলাম আজম পাকিস্তানের কোন অফিশিয়াল পোস্টে ছিলেন না। কুইসলিঙ জার্মানীর মনোনীত ব্যক্তি হিসেবে নরওয়ের সরকার প্রধান ছিলেন (অনেকটা হামিদ কারজাই বা পারভেজ মোশাররফ এর অবস্থান)।
৩। নরওয়েবাসী কুইসলিঙরে তার প্রাপ্য সাজা দিতে পারছে। ফায়ারিং স্কোয়াডে হের মৃত্যুদন্ড দেয়া হইছে। কিন্তু বাংলাদেশবাসীরা গোলাম আজমের বিরুদ্ধে কোনো গুরুতর অপরাধের অভিযোগ পাইতেছে না। ৩৬ বছর ধইরা খোজাখুজির পরও।
৪। নরওয়েবাসীরা কুইসলিঙ প্রশ্নে দ্বিধাবিভক্ত না। বাংলাদেশীরা গোলাম আজমের প্রশ্নে বিভক্ত। শুধু তাই না, স্বাধীন বাংলাদেশে গোলাম আজম একটি রাজনৈতিক দলের প্রধানের দায়িত্ব পালন করেছেন। তার ভক্ত অনুরক্তরা তারে স্বাধীন বাংলাদেশের একজন সফল রাজনৈতিক নেতা মনে করেন। অন্যদিকে কুইসলিঙ পুরোপুরি ব্যার্থ। ব্যার্থতার দায় নিয়েই তারে মরতে হইছে।
৫। কুইসলিঙের রাজনৈতিক আদর্শ নরওয়েতে কখনো আর সফলতার মুখ দেখবেনা। গোলাম আজমের রাজনৈতিক আদর্শ তার দলকে ক্ষমতার কাছাকাছি পৌছে দিয়েছে। তার দল বাংলাদেশের রাজনীতির বড় পার্টনার এবং প্লেয়ার। এক কথায় অসীম সম্ভাবনাময় একটি রাজনৈতিক আন্দোলনের পুরোধা তিনি।
তাই আমি এই অসম তুলনার তীব্র পেরতিবাদ জ্ঞাপন করিতেছি।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

