somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

বইমেলা ও কিছু টুকরো স্মৃতি

২৮ শে জানুয়ারি, ২০১৯ বিকাল ৫:৩৭
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

বহু বছর হল বই মেলায় যাওয়া হয় না। অথচ একটা সময় ছিল যখন প্রায় প্রতিদিনই বইমেলায় যাওয়া হত। সময়টা ছিল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াকালীন সময়। পড়াশোনা করেছি কার্জনহলে বিজ্ঞানের এক রসকষহীন জটিল বিষয়ে। প্রতিদিন সকালে ৮টা থেকে বেলা একটা পর্যন্ত চলত থিউরি ক্লাস। মাঝে অবস্য একটা দুটো পিরিয়ড অফ থাকত। বেলা একটা থেকে দুটা পর্যন্ত ছিল লাঞ্চ ব্রেক , এরপর দুটা থেকে পাচঁটা পর্যন্ত ছিল প্র্যাকটিকাল ক্লাস। সপ্তাহের পাচঁ দিনেই এই রুটিন। অসম্ভব রাসভারী টিচারদের মাথার উপড় দিয়ে যাওয়া ক্লাস লেকচারগুলোর ফাকে অফ পিরিয়পডগুলো মনে হত শুস্ক মরুভুমির মাঝে মরুদ্যানের মত। ডিপার্টমেন্টের সামনের সবুজ ঘাসে পা ছড়িয়ে চলত তুমুল আড্ডা।

ফেব্রুয়ারীতে বইমেলা শুরু হলে তা নিয়ে আসতো বাড়তি আনন্দ। কার্জন হলের গেটের বাইরে কয়েক পা এগুলেই বাংলা একাডেমী। অফ পরিয়ডগুলোতে নিয়মিত দলবেধে বইমেলায় যাওয়া হত। নতুন বই এর পাগল করা একটা গন্ধ আছে।মাতাল করা সেই গন্ধে বইমেলায় ঘুরে বেড়াতে দারুন ভাল লাগত। বই কেনাও চলত একই সাথে।ইন্টারনেটবীহিন আমাদের সেই সময়টা ছিল বই পড়ার স্বর্নযুগ। প্রায় সব মানুষেরই সে সময় ছিল বই পড়ার দারুন নেশা। আমাদের ব্যাচে এক রোমিও ছিল যার কাজ ছিল ডিপার্টমেন্টের সকল মেয়েদের সাথে রোমিওগিরি করা। পড়াশোনায় ছিল চুড়ান্ত ফাকিবাজ।চুটিয়ে টিউশনি করায় পকেটভর্তি তার কাঁচা টাকা থাকত। বই মেলার সিজনে সে প্রচুর বই কিনে ডিপার্টমেন্টের মেয়েদের উপহার দিত। আমরা লুকিয়ে হাসাহাসি করতাম তার এই বেকুবি দেখে। এইভাবে নিজের গাটের পয়সা খরচ করে কেউ এতজনকে বই বিলায় ! তবে তার সব জারিজুরি একবার ফাশ হয়ে গেল এক সহপাঠীর কাছে। সেই সহপাঠী জানালো যে, বই আসলে সে কেনেনা, চুরি করে। তার অভিনব চুরি করার পদ্ধতি দেখে সেই সহপাঠী একেবারে হতবাক। যাই হোক তাকে ধরিয়ে দেবার ভয় দেখানর পর সে প্রতিজ্ঞা করেছিল যে , আর কখনও চুরি করবে না।

মাঝে মাঝে প্র্যকটিকাল ক্লাস শেষ করে বিকেলের দিকেও ঢু মারা হত বইমেলায়। বিকেলের দিকে অনেক নামকরা লেখক বইমেলার স্টলে থাকতেন। অটোগ্রাফ দিতেন তাদের কেনা বইয়ে ।নবীণ লেখকদের চেহারায় বোঝা যেত যে তাদের বই সেবারই প্রথম বেরিয়েছে। চারুকলার একটা স্টল থাকতো প্রতিবছর। আকর্ষনীয় সব ছবি ঝুলানো থাকত স্টলে। চারুকলায় কিছু পরিচিত বন্ধু থাকায় মাঝে মাঝে সেই স্টলে গিয়ে বসতাম। সেবা প্রকাশনীর স্টল ছিল আমার অন্যতম প্রিয় একটা স্টল। সেই সময়ে খুব সেবার বই পরতাম।গোয়েন্দা সিরিজ লেখক রকিব হাসানের দেখা মিলেছিল একবার সেবার স্টলে। বিকেলের দিকে বইমেলায় যাবার আরেকটা কারন ছিল সাংস্কৃতিক অঙ্গনের তারকাদের দেখতে পাওয়া। বিপাশা, শমি , বিজরীসহ আরো কিছু তারকা ( সবার নাম মনে নেই )সেই সময় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়েই পড়ত। তাই তাদের দেখা মিলত প্রত্যহই ।এছাড়াও অন্য তারকাদেরও দেখা যেত। ২১শে ফেব্রুয়ারীর দিন মেলায় দারুন ভীড় হত, সেদিন তাই ভুলেও মেলায় পা দিতাম না। আমাদের সেই সময়ে ২১শে ফেব্রুয়ারীই হত মেলার শেষ দিন।

চোখ বন্ধ করলে এখনো সেই রঙ্গীন স্মৃতিগুলো চোখে ভাসে। বড্ড রঙ্গীন ও স্বর্নালী ছিল দিনগুলো।

সর্বশেষ এডিট : ২৮ শে জানুয়ারি, ২০১৯ রাত ৮:০৩
৬টি মন্তব্য ৬টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

বেলফোর রোড টু কাশ্মীর ! : সভ্যতার ব্লাকহোলে সত্য, বিবেক, মানবতা!

লিখেছেন বিদ্রোহী ভৃগু, ১৮ ই আগস্ট, ২০১৯ দুপুর ১:৪০

ফিলিস্তিন আর কাশ্মীর! যেন আয়নার একই পিঠ!
একটার ভাগ্য নিধ্যারিত হয়েছিল একশ বছর আগে ১৯১৭ সালে; আর অন্যটি অতি সম্প্রতি ২০১৯ এ!
বর্তমানকে বুঝতেই তাই অতীতের সিড়িঘরে উঁকি দেয়া। পুরানো পত্রিকার... ...বাকিটুকু পড়ুন

চামড়ার মূল্য- মানুষ ভার্সেস গরু

লিখেছেন কাওসার চৌধুরী, ১৮ ই আগস্ট, ২০১৯ বিকাল ৩:৪৪


২০১০ সালের কথা; তখন পূর্ব লন্ডনের ক্যানরি ওয়ার্ফ (Canory Wharf) এর একটি বাসায় ক্লাস নাইনে পড়া একটি ছাত্রীকে ম্যাথমেটিকস্ পড়াতাম। মেয়েটির আঙ্কেল সময়-সুযোগ পেলে আমার সাথে গল্পগুজব করতেন। একদিন... ...বাকিটুকু পড়ুন

দাদীজান ও হ্যাজাক লাইট

লিখেছেন ঠাকুরমাহমুদ, ১৮ ই আগস্ট, ২০১৯ সন্ধ্যা ৭:০০



সময় ১৯৮০ এর দশক, প্রতিবছর ডিসেম্বর মাসের শেষ শুক্রবার আমার দাদাজানের মৃত্যুবার্ষিকী’তে বড় চাচা, আব্বা বেশ খরচ করে গ্রামবাসী ও আত্মীয় পরিজনদের খাবারের একটা ব্যাবস্থা করতেন, বড় চাচা আর আব্বা... ...বাকিটুকু পড়ুন

গত কিছু সময়ে সামুতে যা যা হয়েছে, ব্লগারদের ওপর দিয়ে যা গিয়েছে, সেসকল কিছু স্টেজ বাই স্টেজ বর্ণনা!

লিখেছেন সামু পাগলা০০৭, ১৮ ই আগস্ট, ২০১৯ রাত ৮:১৪



কনফিউশন: ধুর! কি হলো! ব্লগে কেন ঢুকতে পারছিনা? কোন সমস্যা হয়েছে মনে হয়, পরের বেলায় চেক করে যাব। বেলার পর বেলা পার হলো, সামুতে ঢোকা যাচ্ছে না! কি সমস্যা!... ...বাকিটুকু পড়ুন

আড্ডাঘরের বর্ণনা

লিখেছেন আনমোনা, ১৮ ই আগস্ট, ২০১৯ রাত ১০:৩৩

সামু ব্লগে ছিলো এক সামুর পাগল
সারাদিন করে সে যে মহা হট্টোগোল। ।
খুলিলো আড্ডাবাড়ি আড্ডারি তরে।
জুটিলো পাগল দল তাড়াতাড়ি করে। ।
সরদার হেনাভাই, তার এক হবি।
প্রতিদিন আপলোডে মজাদার ছবি। ।
সকল পাগলে তিনি... ...বাকিটুকু পড়ুন

×