somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

অভিজিৎ এর

১৮ ই সেপ্টেম্বর, ২০০৮ সকাল ১০:১০
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

(গত ৪ সেপ্টেম্বরে সচলায়তনে অভিজিৎ এর "মার্ক্সবাদ কি বিজ্ঞান" শিরোনামে লেখার ( http://www.muktopran.org/avijit/18023) প্রতিক্রিয়ায় আমরা কিছু কমেন্ট সেখানে করছিলাম, তবে সচল না হওয়ার কারণে কমেন্ট মডারেশনে জমা থাকে এবং তীর্থের কাকের মত অপেক্ষা করতে হয়। এটা একটি বিতর্ক এগিয়ে নেয়ার জন্য সমস্যাজনক। তারচেয়েও বড় সমস্যা কোন কোন কমেন্ট ছাড়পত্র না পাওয়া। এ কারণে সেই প্রতিক্রিয়া এখানেও পেশ করছি।)

এই পোস্ট চোখে পড়ে অনেক পরে, তার উপরে মোবাইল খোয়া যাওয়ায় বাসা থেকে নেটেও ঢুকতে পারছিলাম না, ফলে এমন সময়ে লিখতে বসছি- যেসময়ে আলোচনা অনেক দূর গড়িয়েছে। তারপরেও কিছু কথা বলার প্রয়োজন বোধ করছি।

প্রথমত লেখাটি পুরো মনোযোগ দিয়ে পড়ে হতাশ হয়েছি এবং পড়ার সময়েও প্রচণ্ড হতাশা বোধ করছিলাম। পোস্ট লেখকের যুক্তির করার ধরণ খুবই হতাশাজনক- এই হতাশা লেখকের সম্পর্কে পূর্ব উচ্চ ধারণা থেকেই উৎসারিত। যিনি মুক্তমনার মত একটি ওয়েব সাইট চালান- ধর্মীয় গোড়ামি-কুসংষ্কারের বিরুদ্ধে যিনি যুক্তিযুদ্ধে নিয়তই অবতীর্ণ হন, তার কাছে এমন বালসুলভ আলোচনা তাই আমার মধ্যে হতাশাই তৈরী করেছে।

মানুষের মধ্যে মত-পথের হাজারো পার্থক্য থাকতেই পারে, একজনের সাথের আরেকজনের মতের অমিল হতেই পারে, কিন্তু একাধিক ভিন্নমতের মধ্যে কোনটি সঠিক এটা নির্ণয়ের জন্য যুক্তিই হওয়া উচিৎ মূল হাতিয়ার। অন্তত অভিজিত যেখানে নিজেকে একজন যুক্তিবাদী বলেই ভাবতে ভালোবাসেন- সেহেতু ওনার কাছে সেরকম আলোচনাই আশা করেছিলাম। কিন্তু ওনার পুরো আলোচনা পড়ে মনে হচ্ছিল, এটা কেমনতরো যুক্তি!!

মূলত, তিনি মার্ক্সের বরাদ দিয়ে কিছু আলোচনা এনেছেন সেটা আসলেই মার্ক্সবাদ কিনা তা আলোচনা করা দরকার (ধীরে ধীরে দেখানো যেতে পারে)। নিজের মত করে মার্ক্সের বরাদ দিয়ে আলোচনা নিয়ে এসে সেগুলোকে খারিজ করা কোন ধরণের যুক্তি-তর্কের মধ্যে পড়ে বোঝা মুশকিল (কেননা তিনি অসৎ নন বলেই বিশ্বাস)। এবং পুরো পোস্ট জুড়ে যে বিষয়টি সবচেয়ে দৃষ্টি কাড়ে তা হলো- অসংখ্য ব্যক্তির উল্লেখ করে (কখনও নাম সহকারে অথবা কখনো নাম না বলেই- যেমন ইতিহাসবিদেরা, একাডেমিয়েনরা, সমাজবিজ্ঞানীরা----) মার্ক্সবাদের বিভিন্ন বিষয়কে উড়িয়ে দেয়ার চেষ্টা করা। আসলেই এটা অবাক তথা তাক করার মতোই একটি পদ্ধতি!
আগে কিছু নমুনা দেখিঃ
#মার্ক্সের 'লেবার থিওরী অব ভ্যালু'র সমালোচনা রয়েছে একাডেমিয়ায়। আধুনিক অর্থনীতিতে তার তত্ত্বকে প্রতিস্থাপন করা হয়েছে 'মার্জিনাল ইউটিলিটি' তত্ত্ব দিয়ে।
#এছাড়া উইলিয়াম স্ট্যানলি জেভোন, কার্ল মেঞ্জার কিংবা বোম ব্যাওয়ার্কের সমালোচনাগুলো পড়া যেতে পারে।
# লুইস ফুয়ের, বার্ট্রান্ড রাসেল, গিবন প্রমুখ দার্শনিক এবং বিজ্ঞানী, এবং ঐতিহাসিকেরা সময় সময় দেখিয়েছেন মার্ক্সের তত্ত্বের সাথে বিজ্ঞানের চেয়ে ধর্মের সাযুজ্যই বেশী।
#শ্রেনীগত দ্বন্দ্ব দিয়ে দুনিয়ার সবকিছুকে ব্যখ্যা করাকে আধুনিক অর্থনীতিবিদ এবং সমাজবিজ্ঞানীরা এখন 'অতি সরলীকরণ' কিংবা 'অসম্পূর্ণ' বলেই মনে করেন।
#প্রখ্যাত অর্থনীতিবিদ অমর্ত্য সেন দেশ পত্রিকায় প্রকাশিত 'ভারতে শ্রেণীবিভাগের তাৎপর্য' শীর্ষক লেখায় মন্তব্য করেছিলেন,
শ্রেণী ছাড়াও আসলে অসাম্যের অনেক উৎস আছে; অসুবিধা আর বৈষম্যের সমস্ত কিছু কেবলমাত্র শ্রেনী দ্বারাই নির্ধারিত হবে – এই ধারণা ত্যাগ করতে হবে।
#'ভুলপ্রমানেয়তার' ছাকুনির মধ্য দিয়ে না গেলে কোন তত্ত্বই বৈজ্ঞানিক তত্ত্ব হয়ে উঠে না - এটা মোটামুটি একাডেমিয়ায় স্বীকৃত।
#মার্ক্স নিজেই বলেছেন সেই ব্যবস্থায় 'dialect will cease to operate' এবং ধারনা করেছেন -
'In good time, the dictorship of proletariat will wither away and the sunlit uplands of true socialism will be reached'
আজকের সমাজবিজ্ঞানীরা মনে করেন মার্ক্সের এ ধারনা অবৈজ্ঞানিক। সমস্ত কনফ্লিক্ট দূর হয়ে গেলে তা হবে 'সায়েন্সদিকশন নাইটমেয়ার'।
#পাশাপাশি লুইস ফুয়ের, বার্ট্রান্ড রাসেল, গিবনদের থিসিসগুলোও পড়ুন, তাহলেই বুঝবেন ধর্মের সাথে মার্ক্সিজমের সাযুজ্য কতখানি। উদাহরণ স্বরূপ বার্ট্রান্ড রাসেলের লেখা থেকে উদ্ধৃতি দেই –
"In our day, a new dogmatic religion, namely, communism, has arisen. To this, as to other systems of dogma, the agnostic is opposed. The persecuting character of present day communism is exactly like the persecuting character of Christianity in earlier centuries. In so far as Christianity has become less persecuting, this is mainly due to the work of freethinkers who have made dogmatists rather less dogmatic. If they were as dogmatic now as in former times, they would still think it right to burn heretics at the stake. The spirit of tolerance which some modern Christians regard as essentially Christian is, in fact, a product of the temper which allows doubt and is suspicious of absolute certainties. I think that anybody who surveys past history in an impartial manner
will be driven to the conclusion that religion has caused more suffering than it has prevented."
আপনি অবশ্য বলতে পারেন রাসেল লুইস ফুয়েরা কিছুই জানেন না। কে জানে আর কে জানে না তা আমার প্রবন্ধের আলোচ্য বিষয় নয়।
#Daniel G. Jennings এর Communism is Religion প্রবন্ধটিও পড়ে দেখতে পারেন।
#'ডায়েলেক্টিক্স' ব্যাপারটাও ফলসিফায়েবল কিনা তা বিবেচনার দাবী রাখে। পপারের মতে এটি 'mystical, unverifiable nonsense'

কোন তত্তকে, বা কোন মত-পথকে ভুল প্রমাণ করার এই পদ্ধতিটি নিসন্দেহে চমকপ্রদ এবং পাণ্ডিত্যপূর্ণ। কেননা, এরকমের আলোচনা পড়লেই পাঠকদের মধ্যে লেখকের জ্ঞানের বিষয়ে নিসন্দেহ হওয়া ছাড়া কোন উপায় থাকে না- এক ঝলক দেখেই বোজা যায়- এই লেখক মার্ক্সবাদ সম্পর্কেই শুধু ব্যাপক জানেন না- মার্ক্সবাদের বিভিন্ন বই-ই শুধু পড়েননি, তিনি আরো অনেক জানেন, পড়েছেন। তিনি মার্ক্সের লেবার তিউরি অব ভ্যালুও যেমন জানেন- তেমনি মার্জিনাল ইউটিলিটি থিউরিও জানেন; উইলিয়াম স্ট্যানলি জেভোন, কার্ল মেঞ্জার, বোম ব্যাওয়ার্কের সমালোচনাগুলো তার পড়া-জানা, লুইস ফুয়ের, বার্ট্রান্ড রাসেল, গিবন এনাদের আলোচনাও তার ভালো পড়া। ফলে, স্বভাবতই এহেন পণ্ডিত মানুষের পাণ্ডিত্যে সকলেই মুগ্ধ। মুগ্ধতা কমেন্টগুলোর দেখলেই পরিষ্কার হয়। শ্রম সাধ্য কাজ, পরিশ্রমী কাজ এ ধরণের কমপ্লিমেন্টের পাশাপাশি বিপরীত মতের মোশাররফকেও তাই বলতে দেখি "এ লেখায় অভিজিৎ যে বিস্তৃত আলোচনা করেছেন তাতে তার জানাশোনার পরিধি যে ব্যাপক তা নিয়ে কোন সন্দেহই আমার ছিল না"।

কিন্তু আমার মনে হয় এ ধরণের পণ্ডিতের এমন পাণ্ডিত্য- সঠিক যুক্তিকে তুলে ধরতে পারে না, যা পারে তা হলো বাগাড়ম্বর করতে- যাকে বড়জোর বলতে পারি পাণ্ডিত্যপূর্ণ বাগাড়ম্বর।
মার্জিনাল ইউটিলিটি থিউরি কি, মার্ক্সের লেবার থিউরিই বা কি, কেমন করে প্রথমটি মার্ক্সের লেবার থিউরি অব ভ্যালুকে প্রতিস্থাপন করে? ঢালাও ভাবে বলে দেয়া একাডেমিয়ানরা, সমাজবিজ্ঞানীরা, ইতিহাসবিদেরা কারা এবং কোন সমালোচনার দ্বারা মার্ক্সবাদকে ভ্রান্ত প্রমাণ করেছেন- নামোল্লেখ করা মানুষ কোন যুক্তিতে কি বলেছেন, এসমস্ত সম্পর্কে কিছু না বলে, যে যুক্তির পাহাড় গড়ে তুলেছেন- তা কি একবারো ফাঁপা মনে হয় নি? অমুক অমুক কি কিছুই জানেন না বা ওনারা কি কম জানেন এই প্রশ্ন তুলে ওনারা যা বলেছেন তাই সঠিক এ ধরণের যুক্তিকে আসলে যুক্তি বলা যায়?? এক পপারের বরাদ দিয়েই ডায়ালেক্টিকসকে 'mystical, unverifiable nonsense প্রমাণ যিনি করে ফেলেন- তার যুক্তি করার ক্ষমতা সম্পর্কেই কি প্রশ্ন ওঠা স্বাভাবিক নয়?

মনে পড়ে যায়, মুক্তমনার এক লেখকের সাথে এক ধার্মিকের ডিবেটের কথা- যে ধার্মিক ইসলামের পক্ষে যুক্তি হিসাবে একগাদা জ্ঞানি-গুনীর নাম সামনে এনে হাজির করেছিলেন এবং এটাই বলার চেষ্টা করেছিলেন, ওনারা কি কিছুই জানেন না?

"আল্লাহ যে আছেন তার প্রমাণ কি?- আল্লাহর রাসুল বলেছেন; এবং তিনি যে আললাহর রাসুল এর প্রমান কি?- আল্লাহ বলেছেন"। মাঝেমধ্যেই এমন যুক্তির মুখোমুখি দাঁড়ানো অভিজিৎ বাবুর নিজেই এহেন জাকির নায়েক বা আহমদ দীদাতীয় ঘরানায় যুক্তি করাটা মুক্তমনার লেখক-পাঠক সকলের জন্যেই হতাশাকর।

তদুপরি তিনি পণ্ডিত মানুষ, পাণ্ডিত্য প্রচারযোগ্য- বাহবা ওনার যথেস্ট প্রাপ্য, পেয়েছেনও বটে; তবে আমরা যারা ওনার মত পণ্ডিত নই, পাণ্ডিত্যপূর্ণ বাগাড়ম্বর বাদ দিয়ে সোজা সাপ্টা কিছু বিষয়ে দুটো কথা বলতে চাই-----------

আগেই বলেছি, পোস্ট লেখক মার্ক্সের বরাদ দিয়ে যেসব কথা বলেছেন- সেগুলো আসলেই মার্ক্স বলেছেন কি না, বা সেগুলো মার্ক্সের বক্তব্য কি না বা সেগুলো মার্ক্সবাদ কিনা- সেটি যাচাই করা দরকার। লেখক এই কাজটির পরে যেটি করেছেন- সেটি হলো তার নিজের মতো করে মার্ক্সের কথা (কখনো কাল্পনিক, কখনো খণ্ডিত এবং কখনো বিকৃত ভাবে) তুলে দেয়ার পরপরেই সেই কথার ভ্রান্তি ধরিয়ে দিয়েছেন, এবং অধিকাংশ ক্ষেত্রে সিদ্ধান্ত আকারে মার্ক্সবাদের ভুলময়তা তুলে ধরেছেন (কখনো নিজেই সিদ্ধান্ত টেনেছেন, কখনো কিছু ব্যক্তির নাম উল্লেখ করে সিদ্ধান্ত জানিয়েছেন- কখনো ঢালাওভাবে সমাজবিজ্ঞানীদের, অর্থনীতিবিদের নাম করে)।

প্রথমে এ ধরণের কিছু বক্তব্য দেখিঃ
১#মার্ক্স তার জীবদ্দশায় পুঁজিবাদী ব্যবস্থার আর্থসামাজিক বিন্যাস লক্ষ্য করেন। এই পুঁজিবাদী বা ধনতান্ত্রিক ব্যবস্থার শোষণমূলক এবং মানবতাবিরোধী রূপ দেখে তিনি ব্যথিত হন –আর এ থেকে সাধারণ বঞ্চিত মানুষকে উদ্ধারের জন্য উদ্বেলিত হয়ে ওঠেন।
২#মার্ক্স মনে করেছিলেন যে, ধনতান্ত্রিক রাষ্ট্রব্যবস্থায় শ্রমিক শ্রেনী বুঝি কেবল শোষণ আর বঞ্চনার শিকার হবে এবং এর ফলে শ্রমিক শ্রেনীর পিঠ 'দেওয়ালে ঠেকে যাওয়ায়' তারা ধণতান্ত্রিক সিস্টেমের পতন ত্বরান্বিত করবে।
৩#পুঁজিবাদী শোষণের কারণে 'দেয়ালে পিঠ' ঠেকে গেলে যদি বিপ্লব হয়ে যেত, তাহলে বিগত শতকের ত্রিশের দশকে সারা দুনিয়া জুরে অর্থনৈতিক মন্দার ঢেউ নেমে এসেছিল তখন কেন পশ্চিমে কোন বিপ্লব হল না সে ব্যাপারটি মোটেই বোধগম্য নয়।
৪#শুধু শ্রেনীগত কিংবা অর্থনৈতিক দ্বন্দ্ব নয়, আজকের দুনিয়ার জটিল সমাজে আরো নানা ধরণের দ্বন্দ্ব এবং সংঘাত (যেমন, জাতিগত, লৈঙ্গিক, ভাষাগত, সাংস্কৃতিক কিংবা ধর্মীয় সঙ্ঘাতের কথা বলা যায়) রয়েছে যা পৃথিবীর গতিপথ নির্ধারণে অনেক সময়ই নিয়ামক ভুমিকা পালন করেছে – মার্ক্স সেগুলো তেমন গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করেননি, তার তত্ত্বে তিনি শুধু 'ক্লাস কনফ্লিক্ট'কেই প্রাধান্য দিয়েছিলেন। ‘কমিউনিস্ট মেনিফেস্টো’ মার্ক্স শুরুই করেছিলেন এই বলে:
The history of all hitherto existing society is the history of class struggle.
৫#শ্রেনী সঙ্ঘাতের উপস্থিতি রয়েছে, প্রবলভাবেই রয়েছে কিন্তু শুধু শ্রেনীগত দ্বন্দ্ব দিয়ে দুনিয়ার সবকিছুকে ব্যখ্যা করাকে আধুনিক অর্থনীতিবিদ এবং সমাজবিজ্ঞানীরা এখন 'অতি সরলীকরণ' কিংবা 'অসম্পূর্ণ' বলেই মনে করেন।
৬#মার্ক্সের সনাতন ধারণায় সমগ্র উৎপাদিকা শক্তিকে কেবলমাত্র কায়িক শ্রমদানকারী শ্রমিকের মাধ্যমে মূল্যায়ন করেছিলেন – যা আজকের দুনিয়ার সাপেক্ষে অনেকটাই বাতিলযোগ্য।
----------- ইত্যাদি।

১==>>মার্ক্স পুঁজিবাদের মানবতাবিরোধী রূপ দেখে ব্যথিত হয়ে সাধারণ বঞ্চিত মানুষকে উদ্ধারের নিমিত্তে উদ্বেলিত হন- একি পোস্ট লেখকের মনোকল্পনা, নাকি উইকিপেডিয়া থেকে আহরিত জ্ঞান, না-কি মার্ক্স সম্পর্কে বিভিন্নজনের করা আলোচনা/সমালোচনা থেকে নেয়া সিদ্ধান্তের ফল? (যেমনটি পুরো পোস্ট দেখে বুঝা যায়, মার্ক্সবাদ সম্পর্কে তার ধারণা সম্পূর্ণটাই মার্ঢবাদের সমালোচনা পড়ে!)

২,৩==>>মার্ক্স কোথায় বলেছেন যে, শ্রমিকদের দেয়ালে পিঠ ঠেকে গেলেই পুঁজিবাদী ব্যবস্থার পতন ঘটবে? ২ এর পতন ত্বরান্বিত হওয়া থেকে ৩ এর প্রশ্নটি কি যৌক্তিক হলো? ধনতন্ত্রের পতনের শর্তগুলোর মধ্যে তিনি আর কি কি বলেছেন? সেগুলো কি আপনার সেই কথিত মন্দার সময়ে ছিল? অবজেকটিভ কণ্ডিশন আর সাবজেকটিভ প্রিপারেশন দুটোর প্রয়োজনীয়তার কথা কি তিনি বলেন নি? অবজেকটিভ কণ্ডিশনের মধ্যেও কি মার্ক্স শ্রমিকদের শোষণ-বঞ্ছনার কথাই শুধু বলেছেন????

৪, ৫==>>মার্ক্সের উদ্ধৃতি হচ্ছে, "আজতক মানব সমাজের ইতিহাস শ্রেণী সংগ্রামের ইতিহাস", এই কোটেশন উল্লেখ করে ৫ এর বক্তব্যটি কি যৌক্তিক হয়? সমস্ত ব্যাপার কোথা থেকে আসে? এই কোটেশন যদি কেউ বেঠিক মনে করে, তবে মানব সমাজের ইতিহাস যে, শ্রেণী সংগ্রামের ইতিহাস নয়- সেটা দেখিয়ে দেয়াই কি শ্রেয় নয়? মার্ক্স যেমন ইতিহাসের বিভিন্ন ধাপ ধরে ধরে দেখিয়েছেন- কোথায় কোন অবস্থা ছিল, কোন ব্যবস্থায় মোড অব প্রোডাকশন কি ছিল, প্রোডাকশান রিলেশন কি ছিল এবং শ্রেণী সংগ্রাম কি ছিল- সেগুলোকে ধরে ধরে আলোচনা করাই কি উচিৎ নয়?
আর, মার্ক্স আজকের দুনিয়ার জটিল সমাজে আরো নানা ধরণের দ্বন্দ্ব এবং সংঘাত (যেমন, জাতিগত, লৈঙ্গিক, ভাষাগত, সাংস্কৃতিক কিংবা ধর্মীয় সঙ্ঘাতের কথা বলা যায়) কে তেমন গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করেননি, তার তত্ত্বে তিনি শুধু 'ক্লাস কনফ্লিক্ট'কেই প্রাধান্য দিয়েছিলেন- এই ধারণা কি পোস্ট লেখকের আবিষ্কার?
মার্ক্সের বেইস আর সুপারস্ট্রাকচার নিয়ে না জেনে, না পড়েই একজন এরকম ঢালাও মন্তব্য করতে পারে, তা সত্যিই অবাক করার মত। কিছু কোট করছিঃ
1."In the social production of their life, men enter into definite relations that are indispensable and independent of their will, relations of production which correspond to a definite stage of development of their material productive forces. The sum total of these relations of production constitutes the economic structure of society, the real foundation, on which correspond definite forms of social consciousness. The mode of production of material life conditions the social, political, and intellectual life process in general."
-Preface to 'A contribution to the critique of Political Economy' (1859)


2. "According to the materialist conception of history, the determining element in history is ultimately the production and reproduction in real life. More than this neither Marx nor I have ever asserted. If therefore somebody twists this into the statement that the economic element is only the only determining one, he transforms it into a meaningless, abstract and absurd phrase."
-Joseph Bloch কে 1890 সালে লেখা Engels এর পত্র

সুতরাং, অর্থনীতিই একমাত্র নয়, এটা জোর গলায় তারা বলে গেছেন, অর্থাৎ শ্রেণী দ্বন্দ্ব ছাড়া কিছুই নেই, অন্য সব দ্বন্দ্বের কথা মার্ক্স-এঙ্গেলস ধরতে পারেন নি- তা ঠিক নয়। তবে সেই সাথে এটাও ঠিক যে, অর্থনীতিটাই হচ্ছে মূল- সমাজের ভিত্তি। ফলে, শ্রেণী দ্বন্দ্বটা তাই অবশ্যই অনেক অনেক গুরুত্বপূর্ণ (পরে আরো আলোচনা করা যেতে পারে)।

৬==>> এমন ধারণা যে মার্ক্স পোষণ করতেন এই ধারণা পোস্ট লেখক কোথা থেকে পেল জানি না। শ্রমিক বলতে সমাজে যে ধারণাটি বলবদ আছে- সেখান থেকেই তিনি ধারণা লাভ করে সেটা মার্ক্সের উপর চাপিয়ে দিলেন। মালিকানা দিয়েই শ্রমিকের ডেফিনেশন মার্ক্স দিয়েছিলেন- সে সময় আজকের মত সফটওয়ার ইণ্ডাস্ট্রি না থাকলেও যে মেন্টাল লেবার ছিল সেটা কি অস্বীকার করবেন? মার্ক্স তাদেরও শ্রমিক বলেছিলেন। তবে শ্রমিকদের এই ডিভাইডেশনটি খুব ভালো করে উপস্থাপন করেন লেনিন।
কায়িক শ্রমদানকারী শ্রমিকের মাধ্যমে উৎপাদিকা শক্তিকে মূল্যায়ন করার বিষয়টি বিকৃত উপস্থাপন ছাড়া কিছুই না। তবে, এটা যে পোস্ট লেখকেরই ভাবনা থেকে এসেছে সেটা পাওয়া যায় তার পরবর্তী আলোচনা থেকে- যেখানে এই মেন্টাল লেবার দানকারীদের শ্রমিক না বলে "মধ্যবিত্ত" বলতেই স্বাচ্ছন্দ বোধ করেছেন!!
সর্বশেষ এডিট : ২৭ শে সেপ্টেম্বর, ২০০৯ বিকাল ৫:৫৪
৫টি মন্তব্য ৩টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

ভালোবাসিতে লজ্জা পেতে নাই ...

লিখেছেন সেলিম আনোয়ার, ১৫ ই অক্টোবর, ২০১৯ সকাল ১১:৩১

অপেক্ষা— সেতো নিষ্ঠুরতম এক উপখ্যান
যদি না হয় সাক্ষাৎ চিরো কাঙ্ক্ষিত
সেই ক্ষণের —প্রেমের বৃন্দাবনের
এ সবই মিছে অথবা ভ্রম;
ক্ষণিকের অহমিকা শেষ হয়ে যায়
মিশে যায় হাওয়ায়—... ...বাকিটুকু পড়ুন

গল্পঃ স্বৈরাচারিণী

লিখেছেন নীল আকাশ, ১৫ ই অক্টোবর, ২০১৯ দুপুর ১:৪৬



সঙ্গদোষে নাকি লোহাও ভাসে! চরমতম এই সত্যটা আর কেউ না হোক ফাহিবের বাবা মা দৃঢ়ভাবেই বিশ্বাস করেন। তা না হলে, যেই ছেলে বুয়েট থেকে এত ভালো রেজাল্ট নিয়ে পাশ... ...বাকিটুকু পড়ুন

=মহান আল্লাহ সব কিছু দেখেন=

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ১৫ ই অক্টোবর, ২০১৯ বিকাল ৫:৩৩



©কাজী ফাতেমা ছবি

সিসি ক্যামেরা দেখলেই নড়ে চড়ে উঠো
হয়ে যাও সাবধানী,
পাপগুলো দূরে ঠেলে হেঁটে যাও আপন গন্তব্যে,
ভয় পাও, তোমরা সিসি ক্যামেরা ভয় পাও
তাই না?

কিছু লুকোচুরি খেলা যখন খেলো বা খেলতে... ...বাকিটুকু পড়ুন

ইন্টারভিউ

লিখেছেন রাজীব নুর, ১৫ ই অক্টোবর, ২০১৯ সন্ধ্যা ৭:৩৯



শাহেদ জামাল সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলেছে।
সে বাকি জীবনে কোনো কাজকর্ম করবে না। জীবনের অর্ধেক সে পার করে ফেলেছে। তার বয়স এখন পঁয়ত্রিশ। আগামী পঁয়ত্রিশ বছর কি সে বাঁচবে? সম্ভবনা... ...বাকিটুকু পড়ুন

মন ভালো করা কিছু খবর

লিখেছেন মা.হাসান, ১৫ ই অক্টোবর, ২০১৯ রাত ১০:৩২

তাহাজজুদ পড়িস ব্যাটা?



ও ছার, ঝাড়ুদার পদে লিয়োগ পাইতে কত দিতে হবে?



আবার মারধোরের কি দরকার ছিল



আপনারা মন মতো মন্তব্য বসাইয়া নিন, আমি গলায় ফুলের মালা না... ...বাকিটুকু পড়ুন

×