রকিব দোজা
ডি.এস.ই সাধারণ সূচকের দিকে এই মূহুর্তে অনেক আশা নিয়ে তাকিয়ে আছে ৩০ লাখেরও বেশী বিনিয়োগকারী।গত সাত কার্যদিবসে মারাত্মক দর পতনের পর মঙ্গলবার ১৫ ফেব্রুয়ারী সাধারন সূচকের উল্লেখযোগ্য উত্থান ক্ষু্দ্র বিনিয়োগকারী সহ সকলের মধ্যে গভীর উদ্বেগ কমিয়ে কিছুটা স্বস্তি ফিরিয়ে এনেছে।রাস্তা ছেড়ে ব্রোকার হাউজে ফিরেছে ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীরা,সরকার সহ ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ নীতি নির্ধারকদের সব ধরনের সূচকের উপর রয়েছে সতর্ক দৃষ্টি ।
ডিএসইতে গতকাল দিনের লেনদেন শেষে সাধারণ সূচক ৩৪৭ পয়েন্ট বা ৬ দশমিক ২১ শতাংশ বেড়ে পাঁচ হাজার ৯২৬ পয়েন্ট ছাড়িয়েছে। আর চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জের (সিএসই) সার্বিক মূল্যসূচক ৬৭০ পয়েন্ট বেড়ে ১৬ হাজার ৭৮৩ পয়েন্ট হয়েছে। স্টক এক্সচেঞ্জটিতে লেনদেন হয়েছে ৯৮ কোটি টাকার। অপর দিকে ডিএসইতে লেনদেন হয়েছে ৬৮৯ কোটি টাকা, যা আগের দিনের চেয়ে সামান্য বেশি । ২৫৮ টি কোম্পানির শেয়ার লেনদেনে ২২০ টির দাম বাড়ে ৩৭ টির দাম কমে এবং ১ টির অপরিবর্তিত থাকে।
১৫ তারিখ লেনদেনের শুরুর প্রথম ১০ মিনিটের মধ্যেই ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) সাধারণ মূল্যসূচক ১৫০ পয়েন্টের বেশি বেড়ে যায়। কিন্তু পরের ২০ মিনিটে মূল্যসূচক কমে ৩৫০ পয়েন্টের মতো। তখনই আইসিবি ও রাস্ত্রায়ত্ত ব্যাংক গুলোকে ফান্ড প্রদানের ঘোষনায় সূচক আবার বাড়তে শুরু করে, যা দিনভর গতিময় ছিল।
শেয়ার মার্কেট এ সম্প্রসারিত বিনিয়োগ ও অব্যাহত দরপতন ঠেকাতে সরকার গতকাল মঙ্গলবার রাষ্ট্রায়ত্ত চার ব্যাংক—সোনালী, জনতা, অগ্রণী ও রূপালী ব্যাংককে শেয়ার কেনার নির্দেশ দিয়েছে। একই সঙ্গে রাষ্ট্রায়ত্ত বিনিয়োগ প্রতিষ্ঠান ইনভেস্টমেন্ট করপোরেশন অব বাংলাদেশকে (আইসিবি) শেয়ার কেনার জন্য আরও ২০০ কোটি টাকার তহবিল দিয়েছে। এর আগে সরকার আইসিবিকে দুই দফায় ৪০০ কোটি টাকা দেয়।ফলে রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংক গুলোর শেয়ার কেনা ও কিছু করপোরেট বিনিয়োগকারী প্রতিষ্ঠানের আশাব্যাঞ্জক ঘোষনা মার্কেট এর উদ্ধগতি ত্বরান্বিত করে।
“বাজারে আইসিবি এর মাধ্যমে সরকার এর বড় অঙ্কের বিনিয়োগ সৃষ্টির ঘোষনায় ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীরা আশ্বস্ত হওয়াতেই মার্কেট ঘুরে দারিয়েছে ।শেয়ার বাজার বিশেষজ্ঞ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় অর্থনীতি বিভাগের প্রফেসর আনু আহাম্মদ আরো বলেন “দেখা যাচ্ছে সরকার পুনঃক্রয় পদ্ধতিতে বাজারের বিধস্ত মৌলিক শেয়ার গুলোকে চাঙ্গা করে তুলছে।পাশাপাশি মিউচুয়াল ফান্ড সহ বিভিন্ন করপোরেট প্রতিষ্ঠান বিনিয়োগ শুরু করায় মার্কেট গতি পেয়েছে এবং এ অবস্থা বজায় থাকার সম্ভাবনা আছে“
এর আগের দিন বিকেলে ৪ ঘণ্টার লেনদেনে ইনডেক্স ৪.৭৫% বা ৪৭৩ পয়েন্ট হারিয়ে ৫৫৭৯ এ দাড়ায়।এই পতন সহ সাধারণ সূচক ২০০০ বা ২৬% পর্যন্ত পতনের শিকার হয় গত ১১ কর্মদিবসে এবং গত বছর ৫ ডিসেম্বর থেকে সর্বোচ্চ ৮৯১৮ থেকে হারায় শতকরা ৩৭ ভাগ বা ৩৩৩৯ পয়েন্ট।
ইতিহাসের এই সর্বোচ্চ পতনে মতিঝিল বানিজ্জিক এলাকা ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীরা বিক্ষোভ প্রদর্শন কালে রণক্ষেত্রে পরিনত করে রাখে।সর্বশেষ ১৪ ফেব্রুয়ারী ২য় বৃহত্তম পতনের পর আবারো বিনিয়োগকারীরা বিভিন্ন ব্রোকার হাউসসহ মার্চেন্ট ব্যাংকগুলোতে ভাংচুর শেষে অগ্নিসংযোগ কালে পুলিশ ও রাব ৬২ জন উশৃংখল বিনিওয়োকারীকে গ্রেফতার করে।সর্বশান্ত বিনিয়োগকারীদের মিছিলে “শেয়ার বাজার জল্লাদের উল্লাস মঞ্চ নয়” জাতীয় শ্লোগানের মাধ্যমে বিক্ষোভ ফেটে পরে ।তারা অর্থমন্ত্রীরর পদত্যাগও দাবী করে।
এদিকে ডি.এস.ই ওয়েব সাইট বিজ্ঞপ্তিতে রাজধানী ঢাকায় আই.সি.সি ক্রিকেট বিশ্বকাপের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের কারনে ১৭ ফেব্রুয়ারী স্টক এক্সচেঞ্জ বন্ধ ঘোষনা করা হয়েছে।১৮ ও ১৯ তারিখ (শুক্র ও শনিবার) স্টক এক্সচেঞ্জ এর নিয়মিত সাপ্তাহিক ছুটি হওয়ায় লেনদেন হবে ২০ তারিখ রবিবার। আন্তরজাতিক মাত্রিভাষা দিবস ২১শে ফেব্রুয়ারী বাজার আবার বন্ধ থাকবে। মার্কেট সূচক তার স্বাভাবিক গতিতে ফিরে আসতে পারবে কিনা এই শঙ্কা নিয়ে পুরোদমে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ চালু হবে ২২ ফেব্রুয়ারী মঙ্গলবার।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


