somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

অন্যমনস্কতার খেসারত (পর্ব এক) /:)

২৭ শে জুন, ২০১০ দুপুর ১২:৫০
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

গত ২দিন থেইকা শরীর খারাপ। দুপুর হইলেই কাঁপুনি আর ম্যাজম্যাজানি শুরু হইয়া যায়। মুড়ি মটরের মত প্যারাসিটামল গিলতাসি আর ঢাকায় দৌড়াইতাসি।...পরদিন ল্যাব ফাইনাল, ল্যাব রির্পোট লেখার নিয়ত করতেই অক্টোপাসের মত ঘুমের জালে আটকা পইরা গেলাম।সারারাত মটকা মাইরা ঘুমানোর ফলে খুব ভোরে ঘুম ভাইঙ্গা গেল... যখন আরেক দফা ঘুম দিতে যামু..হঠাত্‍ খেয়াল হইল...আজকে না ল্যাব ফাইনাল...?? হায় হায়... এখন কি করমু? সাইন করানো দুরের কথা,এখন পর্যন্ত একটা রির্পোট ও লেখিনাই। ধরফরাইয়া উঠতে গিয়া মাথাটা চক্কর দিয়া উঠল। ...১৫মিনিটের মধ্যে বাসস্ট্যান্ড... ২ঘন্টার মধ্যে একটা লক্ষি ছেলেকে রির্পোট মন দিয়া লেখতে দেখা গেল।পুরা সেমিস্টারের লেখা এক বসায় লেখতে গিয়া আঙ্গুল গুলান টনটনায়া গেল। ...
দুপুর ১টার দিকে একখান বুফের দাওয়াত পাইয়া উদাস মন ও নাইচা উঠল, কিন্তু আফসুস...মন মত কোপাইতে পারলাম না...জ্বরে মুখ বিস্বাদ হইয়া গেসে। মুখের সামনে মন মত খাওয়া থাকতে ও খাইতে পারতাসি না...এর চেয়ে কষ্টকর আর কি হইতে পারে? খাওয়ার পর ২টা প্যারাসিটামল গিলা বারান্দাতেই কাইত হইয়া গেলাম। বাকি সবাই ধুমায়া পড়তাসে। ওদের পড়া দেইখা ভয় লাগা শুরু করল...ভাইবা তে নিশ্চিত ফেল করুম, খাতাতেই বা কি লিখুম (যদি দেখা দেখি না করতে পারি, যদিও জানি আমাদের দেখা-দেখি ঠেকানোর মত পাবলিক খুব কমই আসে)...তার উপর একটা ল্যাবেও কাজ করি নাই...কেমনে কি করে তাই জানি না। যাই হোক...হঠাৎ খবর পাইলাম মিস এর মাথা ঘুরাইতাসে, আজকে আর ভাইবা নিব না। শোকর-আলহামদুল্লিলাহ... এখন ভালয় ভালয় পরীক্ষাটা শেষ হইলেই হয়। আল্লাহর রহমতে স্মরন কালের সবচেয়ে ফাউল পরীক্ষা দিয়া বাইর হইতে হইতে রাত ৮টা বাইজা গেল।
একটু আগে বাইরে তুমুল তুফান হইসে... রাস্তায় ভয়াবহ গিট্টু, ছুটতেই চায় না। এসির হাওয়া খাইতে খাইতে গরুর গাড়ীর (এক ফ্রেন্ডের) গতিতে মাত্র দেড় ঘন্টায় মগবাজারের মোড়ে নাইমা গেলাম। এখন আবার কমলাপুর যাওয়া লাগব টিকিট কাটতে, পরশু বাপ চট্টগ্রাম যাইব। মেজাজ টা খিছড়ায় গেল...এক হাটু কাদা ভাইংগা হাটা শুরু করলাম...
কমলাপুরে পৌছায়া দেখি ঢাকার অর্ধেক পাবলিক লাইনে খাড়ায় আসে।মনটা দুমড়ায় গেল...আসার সময় গুঁড়িগুঁড়ি বৃষ্টিতে ভিজতে হইসে...এতবড় লাইন দেইখা গায়ে কাঁপুনি দিয়া উঠল। নটরডেম এ পইড়া আর কিছু না হোক এই টাইপের লাইন ভাইংগা কেমনে কাজ হাসিল করতে হয় তা বেশ ভালমতই শিখসিলাম। ১৫মিনিট পর হাসি মুখে লাস্ট ২টা টিকেট নিয়া আমি বাইর হইয়া আসলাম। আসার পথে শ’খানেক ভদ্দর লোকের গালাগালি, চোখ রাংগানি, নিস্ফল আক্রোশ...এক কথায় মাফ কইরা দিলাম। আমার ঠোটের চিপায় বিটলামির হাসিটা তাদের বুক পুড়ায়া দিতেসিল।...আহহহ, আরাম।
... এখন আবার গুলিস্থান। গুলিস্থান থেইকা বাসে উইঠা সোজা বাসায়। আর হাটার শক্তি নাই। রিকশা নিয়া রওনা দিলাম। রিকশার আবার পর্দা নাই। পুরা সাইবেরিয়া নাইমা গেল শরীরে। ঠক ঠক কইরা কাপতে কাপতেই এক রাম ঝারি দিয়া বসলাম... মিয়া কি ***** রিকশা চালাও ??? ১০টাকা কম দিমু তোমারে...। বৃষ্টির ফোটা গুলা তারকাঁটার মত চুবতাসে। পুরা মতিঝিল সুনসান আর অন্ধকার...এখন যদি ঠেক দেয়? উ উ উ...
আসিয়ানের মতিঝিল কাউন্টারে দেখি একটা বাস এই ছাড়ি এই ছাড়ি করতাসে। গুলিস্থান পর্যন্ত আর গেলাম না। এক লাফে রিকশা থেইকা নাইমা ভাড়া মিটায়া দিলাম। অন্ধকারের সুযোগ নিয়া চামের উপরে ১০০ টাকার একটা টেপ মারা নোট দিয়া টিকেট কাইটা ফেললাম। আসিয়ান আমি দুই চোখে দেখতে পারি না। একদম ফালতু সার্ভিস। বৃহঃপতি বার চিন্তা কইরাই আসিয়ানে যাইতাসি। এখন গুলিস্থানে বন্ধন-উত্তসবের জন্যে RNA single helix এর মত লাইন লাগসে।
...সাধারনত সব সময় আমি পিছনের সিটে বসি। কলেজ যাওয়ার সময় বান্দ্রামি করতে সুবিধা হইত। অভ্যাস টা এখনও পুরাপুরি রয়ে গেসে।ত আমি টিকেট কাইটা গাড়ীতে উঠলাম। যথারীতি পিছনে সিট খালি আসে কিনা দেখলাম। কিন্তু আমার নজর আটকায় গেল ২নম্বর সিটে, এক্কেবারে সুপার গ্লু দিয়া। জানালার পাশে এক ডানাকাটা পরী বইসা আসে। আমার পা বিদ্রোহ কইরা উঠল। আর সামনে আগাইতে চাইতাসে না। মাথা হান্নানের মত হ্যাং খায়া গেল। মন বলতাসে পিছনে যাই, আর দিমাগ বলতাসে একটু বসি না...। ২-৩বার ধমক দিয়াও মন-দিমাগের ঝগড়া থামাইতে পারলাম না।...ভাই তবদা খাইয়া গেসেন কেন? বসলে বসেন, নাইলে যাইতে দেন। অন্যদিন হইলে লজ্জা পাইতাম, কিন্তু আজকে লাজ-লজ্জা ভুইলা মেয়েটার পাশেই বইসা গেলাম।
বসার পর থেকাই অসস্থি শুরু হইল। নিজের ব্যাপারে অজান্তেই সচেতন হইয়া উঠলাম। সারাদিন অনেক ধকল গেসে, ধুলা-বালি, কাদা-মাটি আর বৃষ্টিতে পুরা মাখামাখি। এই অবস্থায় পাশে এমন সুন্দরী থাকলে অসস্থি ত লাগবই। বাস ছাইড়া দিল। মেয়েটা সেই কাঁচের ফাঁক দিয়া রাস্তা দেখতাসে...ত দেখতেই আসে। আমিও একটু ধাতস্ত্ব হইবার জন্যে চোখ মুদিলাম...

চলবে..
১০টি মন্তব্য ৮টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

আসলে কেউ ফেরে না।

লিখেছেন রানার ব্লগ, ০৮ ই জুন, ২০২৬ সকাল ৭:০৬

মৃতরা ফিরে আসে না।
ফিরে আসে তাদের ফেলে যাওয়া শূন্যতা,
চায়ের কাপের ধোঁয়া,
অধেক বলা কোনো কথা
অথবা হঠাৎ থেমে যাওয়া কোন সুর

যে প্রেম চলে গিয়েছিল,
সে আর কোনোদিন দরজায় কড়া নাড়ে না।
শুধু একদিন আয়নায়... ...বাকিটুকু পড়ুন

দ্য ড্রাগ কিং

লিখেছেন শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:১৫


সতর্কবার্তা: এটি একটি সম্পূর্ণ কাল্পনিক ক্রাইম ফিকশন। বাস্তব একটি অপরাধের কাঠামোর ওপর ভিত্তি করে পাঠকদের জন্য এর চরিত্র, নাম এবং স্থান পরিবর্তন করে গল্পটি সাজানো হয়েছে।

খুলনা... ...বাকিটুকু পড়ুন

সামুতে আবারও লিলিপুটিয়ানদের সংখ্যা বেড়ে যাচ্ছে

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:৫৮

আমার গত পোস্টে আলামিন১০৪ নামের এক ব্লগার মন্তব্য করেছেন যে - "এ আই দিয়ে হুমায়ূন আহমেদের মতো লেখা যায়।"
তিনি এ আই-কে প্রম্পট দিয়েছিলেন ' হুমায়ুন আহমেদের মতো গল্প লিখে... ...বাকিটুকু পড়ুন

ইজিবাইক চলাচলের প্রকৃত কর্তৃপক্ষ কে?

লিখেছেন মাহদী হাসান শিহাব, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ২:৩৪



দেশের বিভিন্ন শহর ও গ্রামে ইজিবাইক নামে একটি যানবাহন চলাচল করে। কিন্তু এর পরিচালনা, লাইসেন্সিং এবং চলাচলের ক্ষেত্র সম্পর্কে সুস্পষ্ট ও সর্বজনবিদিত কোনো নীতিমালা সাধারণ মানুষের কাছে দৃশ্যমান নয়।

শহরের ভেতরে,... ...বাকিটুকু পড়ুন

মন কথনিকা-৪৮৭৩-৭৪

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ০৮ ই জুন, ২০২৬ রাত ১০:০৯

মন কথনিকা-৪৮৭৩
তোমার আমার মতামতে আকাশ পাতাল সীমা
আমার বুলি বরফ জলের তোমার যেন বোমা,
তুমি বলো রোদের তেজে আমি বর্ষার মতন
বুকের ভিতর বন্ধু বুঝি পাথর পুষো যতন।

মন কথনিকা-৪৮৭৪
পিঠে ব্যথা ভাল্লাগে না, মন... ...বাকিটুকু পড়ুন

×