বেশ কিছুদিন যাবৎ দেখছি বাংলাদেশের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে এদেশের প্রান্তিক জাতিগোষ্টী গুলোর
সাংবিধানিক স্বীকৃতি নিয়ে সরকার পক্ষ এবং ঐ প্রান্তিক জাতিগোষ্টি গুলোর মধ্যে সীমাহীন দ্বন্দ বিরাজমান । বিষয়টি নিয়ে জনমনে যে বিভ্রান্তি ও অসচ্ছতা বিদ্যমান তা এই দ্বন্দে নতুন মাত্রা যোগ করেছে । বিষয়টা বেশ কয়েকদিন যাবৎ মাথার মধ্যে ঘুরপাক খাচ্ছিল । নৃবিজ্ঞানের একজন ছাত্র হিসেবে বিষয়টাকে নিয়ে একটু আলোচনা করতে ইচ্ছা করছিল । তাই এই লেখাটা লিখছি ।
‘আদিবাসী’ বিষয়ে বর্তমান সরকারের অবস্থান তুলে ধরতে বর্তমান জোট সরকারের মাননীয় পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডা. দীপু মণি বেশ ঘটা করে বিদেশী কূটনীতিক ও উন্নয়ন সহযোগী গোষ্ঠী এবং দেশের প্রিন্ট ও ইলেক্ট্রনিক মিডিয়ার সম্পাদক ও সিনিয়র সাংবাদিকদের পৃথক পৃথকভাবে ব্রিফিং করেছেন গত ২৬ জুলাই ২০১১। ব্রিফিং-এ তিনি দেশের ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র জাতিসমূহকে ‘আদিবাসী’ হিসেবে অভিহিত করতে বারণ করেছেন এবং পক্ষান্তরে তাদেরকে ‘জাতিগত সংখ্যালঘু’ বা ‘উপজাতি’ (ট্রাইবাল) আখ্যায় আখ্যায়িত করতে পরামর্শ দিয়েছেন। যিনি একসময় আদিবাসীদের অধিকার আদায়ে প্রান্তিক জনগোষ্টীগুলোর সাথে কাধে কাধ মিলিয়ে আন্দোলন করেছেন, তার মুখে আজ এ কি শুনছি । এই ব্রিফিং-এর মধ্য দিয়ে আওয়ামী লীগের ও বর্তমান সরকারের, এমনকি স্বয়ং পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডা. দীপু মণি’র আদিবাসী বিষয়ে নীতিগত অবস্থান থেকে সরে আসার ইঙ্গিত প্রতিফলিত হয়েছে। অন্তত: কাগজে-কলমে হলেও অসাম্প্রদায়িক ও মুক্তিযুদ্ধ চেতনার অনুসারী একটি দল হিসেবে আওয়ামী লীগের নীতিগত অবস্থানের পরিবর্তন এই অর্থে বলা যায় যে, আদিবাসী সমস্যা নিয়ে বর্তমান সরকার এবং পূর্ববর্তী সরকার গুলোর মধ্যে নীতিগত তেমন কোন পার্থক্য নেই । যা খুবি দুঃখজনক ।
এখন আবার বলা হচ্ছে প্রান্তিক জনগোষ্টি গুলোকে আদিবাসী হিসেবে স্বীকৃতি দিলে নাকি তাদেরকে ''বিশেষ সুবিধা" দিতে হবে । সত্যিই হাস্যকর । আর একদল আদিবাসীদের এই সমস্যাকে জনগনের সামনে এমনভাবে উপস্থাপন করছে যা প্রান্তিক জাতি গুলোকে তাদের কাছে নেতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গিতে দেখতে উৎসাহিত করছে । ফলশ্রুতিতে জাতিগত দাঙ্গা বা সংঘর্ষের ঘটনাও ঘটছে হরহামেসা ।
আমরা বাঙালিরা প্রান্তিক জনগোষ্টীগুলোর প্রতি যে আচারন করি এবং যে মনোভাব পোষন করি তা কোন অংশেই বৃহৎ জাতিগোষ্টিসূলভ দাম্ভিকতা থেকে অভিন্ন নয় । আর সরকারের নীতি ঔপনিবেশিক শাসকের নীতি বৈকি কিছু নয় । আমরা যখন নিরীহ ফিলিস্থিনিদের উপর ইসরাইলের সেনাবাহিনীর নির্মমতার কথা শুনি কিংবা কাশ্মিরে মুসলমানদের উপর নির্যাতনের কথা শুনি তখন আমাদের মনে তাদের জন্য হৃদয় নিঙড়ানো সহানুভূতির উদ্রেক হয় । অথচ আমাদের দেশেই যখন সরকারের ছা-পোষা সেনাবাহিনী ছোট্ট কোন অজুহাতে যুদ্ধংদেহী হয়ে পার্বত্য অঞ্চলে নীরিহ পাহাড়িদের উপর নির্যাতন করে তাদের ব্যক্তি স্বাধীনতা হরণ করতে উদ্ধত হয় তখন আমরা বসে বসে মজা দেখি কিংবা বাহবা দেই । যা অপরাপর জাতিগোষ্টীর প্রতি আমাদের হীন মানসিকতার পরিচয় বহন করে । যা কখনই কাম্য হতে পারে না ।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

