somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

র্বণাঢ্য আয়োজনে জাবিতে পাখমিলো অনুষ্ঠতি

১৩ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১০ রাত ২:১০
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

ইমন রহমান :
পাখির কিচির মিচির ডাক আর পাখি প্রেমিদের সরব উপস্থিতিতে নানা আয়োজনের মধ্যদিয়ে গতকাল শুক্রবার জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে অনুষ্ঠিত হয়েছে পাখিমেলা-২০১০। মেলা উপলক্ষে ক্যাম্পাস ছিল উৎসবমুখর। অতিথি পাখির সরব সান্নিধ্যে সারাটা দিন পার করেছে দেশী-বিদেশী অসংখ্য পাখি প্রেমি। বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন লেকে পরিযায়ী ও দেশীয় যাযাবর পাখির কিচির-মিচির গুঞ্জন আর শিশু-কিশোর, তরুণ-তরুণীদের উপস্থিতিতে ক্যাম্পাস পরিণত হয়েছিলো এক মিলোন মেলায়। পাখি সংরক্ষণে গণসচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে প্রতিবারের মতো এবারও আয়োজন করা হয় এই পাখিমেলার। ‘পাখপাখালি দেশের রতœ, আসুন সবাই করি যতœ’ এই স্লোগানকে ধারন করে এবার বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রানীবিদ্যা বিভাগ ও ওয়াইল্ড লাইফ রেসকিউ সেন্টার (ডব্লিউআরসি) যৌথ ভাবে পাখিমেলার আয়োজন করে ।
সকাল ১০টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দীয় মিলনায়তনে বেলুন উড়িয়ে মেলার আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. শরীফ এনামুল কবির। প্রধান অতিথির ভাষণে উপাচার্য বলেন, ক্যাম্পাসে পাখির বাসযোগ্য পরিবেশ নিশ্চিত করা হয়েছে। পাখি জীববৈচিত্র্য রক্ষায় ভূমিকা পালন করছে। আগামী মৌসুমে পরিব্রাজক পাখির সংখ্যা বৃদ্ধির জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের লেক খনন করা হবে। আগামীতে এ বিশ্ববিদ্যালয়ে জাতীয় পাখিমেলা অনুষ্ঠিত হবে বলে তিঁনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক ড. মো. ফরহাদ হোসেন। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে আরো বক্তব্য রাখেন পাখিমেলার আহবায়ক অধ্যাপক ড. মফিজুল কবির, প্রাণিবিদ্যা বিভাগের সভাপতি অধ্যাপক ড. আবদুস সালাম, পাখি মেলার মডারেটর অধ্যাপক ড. এ টি এম আতিকুর রহমান।
এর আগে সকাল সাড়ে ৭ টা থেকে সাড়ে ৮ টা পর্যন্ত আন্তঃবিশ্ববিদ্যালয় পাখিদেখা প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়। এতে জাহাঙ্গীরনগর ও জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের দুটি করে দল অংশগ্রহন করে। প্রতিযোগিতায় প্রথম স্থান অধিকার করে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যারয়ের শঙ্কচিল দল এবং রানার আপ হয় জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যারয়ের নিলকণ্ঠ দল। এদিকে মেলা উপলক্ষে গতকাল ক্যাম্পাসে প্রচুর সংখ্যক দেশী-বিদেশী পাখিপ্রেমীর আগমন ঘটে। সকাল থেকেই আগত দর্শনার্থীরা পাখি বিষয়ক নানা অনুষ্ঠান উপভোগ করেন । এসবের মধ্যে ছিলো পাখি বিষয়ক উপস্থিত বক্তৃতা, পাখির আলোকচিত্র ও পত্রপত্রিকা প্রদর্শনী, টেলিস্কোপ দিয়ে শিশু কিশোরদের পাখি পর্যবেক্ষন, পাখি আঁকা প্রতিযোগিতা, পাখি বিষয়ক কুইজ প্রতিযোগিতা, অডিও ভিডিও এর মাধ্যমে আন্তঃ বিশ্ববিদ্যালয় পাখি চেনা প্রতিযোগিতা, পুরস্কার বিতরনী এবং সবশেষে পাখি বিষয়ক সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান।
সকাল ৯টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত হয় শিশু-কিশোরদের পাখির ছবি আঁকা প্রতিযোগিতায় । এতে ক বিভাগে (নার্সারি থেকে তৃতীয় ম্যেণী) ৭৪জন প্রতিযোগী অংশ গ্রহন করে । প্রথম স্থান অর্জন করে খালিদ হাসান, দ্বিতীয় ফৌজিয়া ফারিয়া, তৃতীয় তাজবিন নাহার জান্নাত । খ বিভাগে (চতুর্থ থেকে ষষ্ঠ শ্রেণী) ৯৫ জন প্রতিযোগী অংশনেয়। এখানে প্রথম স্থান অর্জন করে ফাহিমা জান্নাত কোলি, দ্বিতীয় মো: রাকিবুল আলম এবং তৃতীয় ফারজানা রিদি। শিশু-কিশোরদের পাখির ছবি আঁকা প্রতিযোগিতায় অংশ নিতে আসা বকুলনগর কিন্টার গার্ডেন এন্ড হাই স্কুলের নার্সারির ছাত্রী লাববিয়া বলেন, এই প্রতিযোগিতাই অংশ নিতে পেরে খুবই আনন্দ লাগছে।
পাখি বিষয়ক উপস্থিত বক্তৃতা প্রতিযোগিতায় প্রথম স্থান অর্জন করে জগন্নাথ বিম্ববিদ্যালয়ের ফয়সাল এবং দ্বিতীয় হন জাবি স্কুল এন্ড কলেজের ফাতেমাতুজ জোহরা এবং তৃতীয় জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের বায়জিদ খান। এদিকে কেন্দ্রীয় মিলনায়তনের সামনে পাখির প্রতি সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে বিভিন্ন স্টলে পাখি বিষয়ক বই, চিত্র প্রদর্শনীর আয়োজন করা হয়। এসব স্টলের মধ্যে রয়েছে জাবির প্রাণিবিদ্যা বিভাগ, ওয়াইল্ড রাইফ রেসকিউ সেন্টার, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণি বিদ্যা বিভাগ প্রভৃতি। বিকাল ৩টায় বিজয়ীদের মধ্যে পুরষ্কার বিতরণ করা হয় । বিকাল ৪টায় পাখি বিষয়ক সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে দিনব্যাপী পাখিমেলার সমাপ্তি হয়।
প্রতিবারের ন্যায় এবারও উত্তরের শীত প্রধান দেশ সাইবেরিয়া, মঙ্গোলিয়া, জিনজিয়াং থেকে হাজার হাজার অতিথি পাখি দক্ষিণ এশিয়ার নাতিশীতোষ্ণ অঞ্চল বাংলাদেশে আসে। মুলত অক্টোবরের শেষ ও নভেম্বরের প্রথম দিকেই এরা এদেশে আসে। আবার মার্চের শেষদিকে তারা তাদের আপন ঠিকানায় ফিরে যায়। বছরে প্রায় ৩০০ প্রজাতির পাখি বিভিন্ন সময় বাংলাদেশে আসে। এদের মধ্যে শুধুমাত্র শীতকালেই আসে ২৬০ প্রজাতির আর গ্রীষ্মে আসে ৮টি। বাকীগুলো বছরের বিভিন্ন সময় আসে। এদের ২৮ প্রজাতির হাঁসের মধ্যে পরিযায়ী হল ২৪টি। এগুলো হল গাডওয়াল হাঁস, উত্তরে ল্যাঞ্জাহাঁস, মেটে হাঁস, পাতি তিলি হাঁস, ইউরেশীয় সিথিহাঁস, বুনোহাঁস, নুকতা, পাতিভূতিহাঁস, লালটুপিভূতি হাঁস, মরচেরংভূতি হাস, টিটি হাঁস, উত্তরের খুন্তে হাঁস, গিরিয়া হাঁস,ধলা হাঁস, নীলমাথা হাঁস, ফালকেটে হাস, চকাচকি, বড়মাগী হাঁস, বালিহাঁস, রাজহাঁস প্রভিতি সহজেই চোখে পড়ে । এছাড়া আমাদেও দেশে সৈকতে ৩৫ জাতের পাখির দেখা মেলে যাদের সবগুলোই পরিযায়ী। যাযাবর এসব পাখি বাংলাদেশের মানুষ শখ করে নাম দিয়েছে গেষ্ট বার্ড বা অতিথি পাখি। অতিথি পাখির মধ্যে একমাত্র ব্যতিক্রমী হল শুমচা পরিবারের তিনটি জাত। এরা গ্রীষ্মে এদেশে আসে শুধু মাত্র বাসা বানানোর জন্য। বাংলাদেশের যে কয়টি জায়গায় অতিথি পাখিরা আসে তার মধ্যে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় অন্যতম। এখানে ছোট বড় প্রায় ২৭টি লেক রয়েছে। প্রাণিবিদ্যা বিভাগের শিক্ষকরা জানান বর্তমানে ক্যাম্পাসে বিভিন্ন লেকে ১৮৬ প্রজাতির স্থানীয় এবং পরিযায়ী পাখি রয়েছে। গত ২০০৯ সালে ১৮০ প্রজাতির পাখি ক্যাম্পাসে এসেছিলো । এর আগে গত ২০০৮সালে ১৪৪ প্রজাতির পাখি, ২০০৭ সালে ১৬৩ প্রজাতির এবং ১৯৯০ সালে ৭৮ প্রজাতির পাখি ক্যাম্পাসে দেখা যায়। ক্রমেই ক্যাম্পাসে পাখির প্রজাতির সংখ্যা বৃদ্ধির কারণ হিসাবে অধ্যাপক ড. মফিজুল কবির বলেন, শিক্ষার্থীসহ ক্যাম্পাসের সকল মহলের সচেতনতা বৃদ্ধিই অন্যতম। এছাড়া ক্যাম্পাসে পাখির পর্যাপ্ত খাদ্যের ব্যাবস্থা রয়েছে এবং রয়েছে পর্যাপ্ত নিরাপত্তা। তবে ক্যাম্পাসে যে পরিমান লেক রয়েছে তার অনুপাতে অনেক কম পাখি এখানে আসে বলে মনে করেন প্রাণিবিদ্যা বিভাগের চতুর্থ বর্ষের ছাত্র বায়জিদ খান। তিনি বলেন, আমাদের ক্যাম্পাসের সবগুলো লেকেই ভরাট প্রায় ফলে দুই একটি লেক ছাড়া অন্যগুলোতে পাখি বসেনা। এজন্য লেক গুলোর সংস্কার করা উচিত বলে তিনি মনে করেন। ১২.০২.১০

ইমন রহমান :
পাখির কিচির মিচির ডাক আর পাখি প্রেমিদের সরব উপস্থিতিতে নানা আয়োজনের মধ্যদিয়ে গতকাল শুক্রবার জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে অনুষ্ঠিত হয়েছে পাখিমেলা-২০১০। মেলা উপলক্ষে ক্যাম্পাস ছিল উৎসবমুখর। অতিথি পাখির সরব সান্নিধ্যে সারাটা দিন পার করেছে দেশী-বিদেশী অসংখ্য পাখি প্রেমি। বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন লেকে পরিযায়ী ও দেশীয় যাযাবর পাখির কিচির-মিচির গুঞ্জন আর শিশু-কিশোর, তরুণ-তরুণীদের উপস্থিতিতে ক্যাম্পাস পরিণত হয়েছিলো এক মিলোন মেলায়। পাখি সংরক্ষণে গণসচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে প্রতিবারের মতো এবারও আয়োজন করা হয় এই পাখিমেলার। ‘পাখপাখালি দেশের রতœ, আসুন সবাই করি যতœ’ এই স্লোগানকে ধারন করে এবার বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রানীবিদ্যা বিভাগ ও ওয়াইল্ড লাইফ রেসকিউ সেন্টার (ডব্লিউআরসি) যৌথ ভাবে পাখিমেলার আয়োজন করে ।
সকাল ১০টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দীয় মিলনায়তনে বেলুন উড়িয়ে মেলার আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. শরীফ এনামুল কবির। প্রধান অতিথির ভাষণে উপাচার্য বলেন, ক্যাম্পাসে পাখির বাসযোগ্য পরিবেশ নিশ্চিত করা হয়েছে। পাখি জীববৈচিত্র্য রক্ষায় ভূমিকা পালন করছে। আগামী মৌসুমে পরিব্রাজক পাখির সংখ্যা বৃদ্ধির জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের লেক খনন করা হবে। আগামীতে এ বিশ্ববিদ্যালয়ে জাতীয় পাখিমেলা অনুষ্ঠিত হবে বলে তিঁনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক ড. মো. ফরহাদ হোসেন। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে আরো বক্তব্য রাখেন পাখিমেলার আহবায়ক অধ্যাপক ড. মফিজুল কবির, প্রাণিবিদ্যা বিভাগের সভাপতি অধ্যাপক ড. আবদুস সালাম, পাখি মেলার মডারেটর অধ্যাপক ড. এ টি এম আতিকুর রহমান।
এর আগে সকাল সাড়ে ৭ টা থেকে সাড়ে ৮ টা পর্যন্ত আন্তঃবিশ্ববিদ্যালয় পাখিদেখা প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়। এতে জাহাঙ্গীরনগর ও জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের দুটি করে দল অংশগ্রহন করে। প্রতিযোগিতায় প্রথম স্থান অধিকার করে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যারয়ের শঙ্কচিল দল এবং রানার আপ হয় জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যারয়ের নিলকণ্ঠ দল। এদিকে মেলা উপলক্ষে গতকাল ক্যাম্পাসে প্রচুর সংখ্যক দেশী-বিদেশী পাখিপ্রেমীর আগমন ঘটে। সকাল থেকেই আগত দর্শনার্থীরা পাখি বিষয়ক নানা অনুষ্ঠান উপভোগ করেন । এসবের মধ্যে ছিলো পাখি বিষয়ক উপস্থিত বক্তৃতা, পাখির আলোকচিত্র ও পত্রপত্রিকা প্রদর্শনী, টেলিস্কোপ দিয়ে শিশু কিশোরদের পাখি পর্যবেক্ষন, পাখি আঁকা প্রতিযোগিতা, পাখি বিষয়ক কুইজ প্রতিযোগিতা, অডিও ভিডিও এর মাধ্যমে আন্তঃ বিশ্ববিদ্যালয় পাখি চেনা প্রতিযোগিতা, পুরস্কার বিতরনী এবং সবশেষে পাখি বিষয়ক সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান।
সকাল ৯টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত হয় শিশু-কিশোরদের পাখির ছবি আঁকা প্রতিযোগিতায় । এতে ক বিভাগে (নার্সারি থেকে তৃতীয় ম্যেণী) ৭৪জন প্রতিযোগী অংশ গ্রহন করে । প্রথম স্থান অর্জন করে খালিদ হাসান, দ্বিতীয় ফৌজিয়া ফারিয়া, তৃতীয় তাজবিন নাহার জান্নাত । খ বিভাগে (চতুর্থ থেকে ষষ্ঠ শ্রেণী) ৯৫ জন প্রতিযোগী অংশনেয়। এখানে প্রথম স্থান অর্জন করে ফাহিমা জান্নাত কোলি, দ্বিতীয় মো: রাকিবুল আলম এবং তৃতীয় ফারজানা রিদি। শিশু-কিশোরদের পাখির ছবি আঁকা প্রতিযোগিতায় অংশ নিতে আসা বকুলনগর কিন্টার গার্ডেন এন্ড হাই স্কুলের নার্সারির ছাত্রী লাববিয়া বলেন, এই প্রতিযোগিতাই অংশ নিতে পেরে খুবই আনন্দ লাগছে।
পাখি বিষয়ক উপস্থিত বক্তৃতা প্রতিযোগিতায় প্রথম স্থান অর্জন করে জগন্নাথ বিম্ববিদ্যালয়ের ফয়সাল এবং দ্বিতীয় হন জাবি স্কুল এন্ড কলেজের ফাতেমাতুজ জোহরা এবং তৃতীয় জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের বায়জিদ খান। এদিকে কেন্দ্রীয় মিলনায়তনের সামনে পাখির প্রতি সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে বিভিন্ন স্টলে পাখি বিষয়ক বই, চিত্র প্রদর্শনীর আয়োজন করা হয়। এসব স্টলের মধ্যে রয়েছে জাবির প্রাণিবিদ্যা বিভাগ, ওয়াইল্ড রাইফ রেসকিউ সেন্টার, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণি বিদ্যা বিভাগ প্রভৃতি। বিকাল ৩টায় বিজয়ীদের মধ্যে পুরষ্কার বিতরণ করা হয় । বিকাল ৪টায় পাখি বিষয়ক সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে দিনব্যাপী পাখিমেলার সমাপ্তি হয়।
প্রতিবারের ন্যায় এবারও উত্তরের শীত প্রধান দেশ সাইবেরিয়া, মঙ্গোলিয়া, জিনজিয়াং থেকে হাজার হাজার অতিথি পাখি দক্ষিণ এশিয়ার নাতিশীতোষ্ণ অঞ্চল বাংলাদেশে আসে। মুলত অক্টোবরের শেষ ও নভেম্বরের প্রথম দিকেই এরা এদেশে আসে। আবার মার্চের শেষদিকে তারা তাদের আপন ঠিকানায় ফিরে যায়। বছরে প্রায় ৩০০ প্রজাতির পাখি বিভিন্ন সময় বাংলাদেশে আসে। এদের মধ্যে শুধুমাত্র শীতকালেই আসে ২৬০ প্রজাতির আর গ্রীষ্মে আসে ৮টি। বাকীগুলো বছরের বিভিন্ন সময় আসে। এদের ২৮ প্রজাতির হাঁসের মধ্যে পরিযায়ী হল ২৪টি। এগুলো হল গাডওয়াল হাঁস, উত্তরে ল্যাঞ্জাহাঁস, মেটে হাঁস, পাতি তিলি হাঁস, ইউরেশীয় সিথিহাঁস, বুনোহাঁস, নুকতা, পাতিভূতিহাঁস, লালটুপিভূতি হাঁস, মরচেরংভূতি হাস, টিটি হাঁস, উত্তরের খুন্তে হাঁস, গিরিয়া হাঁস,ধলা হাঁস, নীলমাথা হাঁস, ফালকেটে হাস, চকাচকি, বড়মাগী হাঁস, বালিহাঁস, রাজহাঁস প্রভিতি সহজেই চোখে পড়ে । এছাড়া আমাদেও দেশে সৈকতে ৩৫ জাতের পাখির দেখা মেলে যাদের সবগুলোই পরিযায়ী। যাযাবর এসব পাখি বাংলাদেশের মানুষ শখ করে নাম দিয়েছে গেষ্ট বার্ড বা অতিথি পাখি। অতিথি পাখির মধ্যে একমাত্র ব্যতিক্রমী হল শুমচা পরিবারের তিনটি জাত। এরা গ্রীষ্মে এদেশে আসে শুধু মাত্র বাসা বানানোর জন্য। বাংলাদেশের যে কয়টি জায়গায় অতিথি পাখিরা আসে তার মধ্যে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় অন্যতম। এখানে ছোট বড় প্রায় ২৭টি লেক রয়েছে। প্রাণিবিদ্যা বিভাগের শিক্ষকরা জানান বর্তমানে ক্যাম্পাসে বিভিন্ন লেকে ১৮৬ প্রজাতির স্থানীয় এবং পরিযায়ী পাখি রয়েছে। গত ২০০৯ সালে ১৮০ প্রজাতির পাখি ক্যাম্পাসে এসেছিলো । এর আগে গত ২০০৮সালে ১৪৪ প্রজাতির পাখি, ২০০৭ সালে ১৬৩ প্রজাতির এবং ১৯৯০ সালে ৭৮ প্রজাতির পাখি ক্যাম্পাসে দেখা যায়। ক্রমেই ক্যাম্পাসে পাখির প্রজাতির সংখ্যা বৃদ্ধির কারণ হিসাবে অধ্যাপক ড. মফিজুল কবির বলেন, শিক্ষার্থীসহ ক্যাম্পাসের সকল মহলের সচেতনতা বৃদ্ধিই অন্যতম। এছাড়া ক্যাম্পাসে পাখির পর্যাপ্ত খাদ্যের ব্যাবস্থা রয়েছে এবং রয়েছে পর্যাপ্ত নিরাপত্তা। তবে ক্যাম্পাসে যে পরিমান লেক রয়েছে তার অনুপাতে অনেক কম পাখি এখানে আসে বলে মনে করেন প্রাণিবিদ্যা বিভাগের চতুর্থ বর্ষের ছাত্র বায়জিদ খান। তিনি বলেন, আমাদের ক্যাম্পাসের সবগুলো লেকেই ভরাট প্রায় ফলে দুই একটি লেক ছাড়া অন্যগুলোতে পাখি বসেনা। এজন্য লেক গুলোর সংস্কার করা উচিত বলে তিনি মনে করেন। ১২.০২.১০
সর্বশেষ এডিট : ১৩ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১০ রাত ২:২৮
০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

ইজিবাইক চলাচলের প্রকৃত কর্তৃপক্ষ কে?

লিখেছেন মাহদী হাসান শিহাব, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ২:৩৪



দেশের বিভিন্ন শহর ও গ্রামে ইজিবাইক নামে একটি যানবাহন চলাচল করে। কিন্তু এর পরিচালনা, লাইসেন্সিং এবং চলাচলের ক্ষেত্র সম্পর্কে সুস্পষ্ট ও সর্বজনবিদিত কোনো নীতিমালা সাধারণ মানুষের কাছে দৃশ্যমান নয়।

শহরের ভেতরে,... ...বাকিটুকু পড়ুন

মন কথনিকা-৪৮৭৩-৭৪

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ০৮ ই জুন, ২০২৬ রাত ১০:০৯

মন কথনিকা-৪৮৭৩
তোমার আমার মতামতে আকাশ পাতাল সীমা
আমার বুলি বরফ জলের তোমার যেন বোমা,
তুমি বলো রোদের তেজে আমি বর্ষার মতন
বুকের ভিতর বন্ধু বুঝি পাথর পুষো যতন।

মন কথনিকা-৪৮৭৪
পিঠে ব্যথা ভাল্লাগে না, মন... ...বাকিটুকু পড়ুন

শেখ হাসিনাই ধ্বসিয়ে দিলেন মমতার দলকে?

লিখেছেন ...নিপুণ কথন..., ০৯ ই জুন, ২০২৬ রাত ১:২২


শেখ হাসিনাই ধ্বসিয়ে দিয়েছেন মমতা ব্যানার্জিকে। কিভাবে? দুই দফায় পানিচুক্তি হতে দেননি মমতা। কংগ্রেসের মনমোহন সিং প্রধানমন্ত্রী থাকাকালীন এবং বিজেপির Narendra Modi প্রধানমন্ত্রী থাকাকালীন দুবার দুজনই বাংলাদেশ সফরে এসেছিলেন, দুবারই... ...বাকিটুকু পড়ুন

পাহাড়ে চড়া আর মাউন্টেনিয়ারিং: এক নয়

লিখেছেন মুনতাসির, ০৯ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১০:০৮




আজকাল পাহাড়ে ওঠা অনেক সহজ হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রায় প্রতিদিনই দেখা যায় কেউ না কেউ কোনো পাহাড়ের চূড়ায় দাঁড়িয়ে ছবি তুলছেন। ট্রেইল ধরে হেঁটে, কখনো দড়ি ধরে, কখনো গাইডের সাহায্যে... ...বাকিটুকু পড়ুন

“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

লিখেছেন মোস্তফা কামাল পলাশ, ০৯ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১:৪৭



“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

আনন্দের সঙ্গে জানাচ্ছি যে বাংলাদেশের সর্বস্তরের মানুষের কাছে সহজে আবহাওয়া পূর্বাভাস এবং আবহাওয়া-সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতামূলক তথ্য পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে abohawa.com... ...বাকিটুকু পড়ুন

×