
পরীক্ষা শুরু হলো । পরীক্ষার খাতায় আমি কিছুই লিখলাম না । লিখবো কেন? পেন্সিল দিয়ে একটা গরু আকলাম । এক্সামিনার শিওর হার্টফেল করবে । ভাববে কমন পড়ে নাই। মাথা খারাপ হয়ে গেছে ।
দুরে একটা মেয়ে পেন্সিল কামড়ে লিখে চলেছে । বড় কাল চোখ, লম্বা চুল ক্লিপে আটকানো । অবসরে তাকে দেখলাম মন ভরে । বড় কৌতুহল হচ্ছিলো, আব্বা এখন বাইরে কী করছে?
ঘন্টা পড়েছে । পরীক্ষা শেষে বের হতেই দেখি বাপজান ডাব কেটে নিয়ে দাড়িয়ে আছে । মোলায়েম সুরে জিজ্ঞেস করলো, ঝন্টু, কেমন হয়েছে পরীক্ষা?
আমি বললাম খুব ভাল । ডাবের মিষ্টি পানি চুমুক দিতে দিতে বললাম, সবগুলাই কমন আসছে । ইনশাল্লাহ! হয়ে যাবে।
সিটি কলেজে না অবশেষে ইউনিভার্সিটিতে ঢুকেছি । কমার্সের সাবজেক্ট । বাপ মহা অখুশী । তার বন্ধু লতিফ সা'বের ছেলে ইকোনমিক্সে ঢুকেছে ।আর অফিসের পিয়নের ছোট ছেলেটাও বুয়েটের ইলেক্ট্রিক্যালে ।
আব্বা বরাবরের মতই খ্যাচ খ্যাচ করে । সকাল বিকাল কলের গান বাজে এ' সব পড়ে লাভ নাই । নতুন করে ফর্ম আনতে হবে । এক বছর ড্রপ গেলে লাইফের কী? পরের বছর ডাক্তারীতে টিকতে হবে । এইসব খেলাধুলা বন্ধ ।পুরা মনোযোগ দিতে হবে । ফাইনাল কথা ।
এক দোস্তকে বললাম । আমারে বাচা ।এই বাড়ি থেকে ভাগতে চাই । অন্য কোথায় যাই বলতো? হলে তো সীট পাওয়া টাফ ।
সে বললো বিষয় না । তুই জাসদের মেসে ওঠ । নিউমার্কেটের পাশে ভাড়া করা মেস । উঠবি? সেখানে আরো আট দশটা ছেলের সাথে উঠলাম ।মফস্বলের অধিকাংশ । কাজ হলো সকাল বিকাল মিছিল করা । চিল্লায়ে বেড়ানো, "অমুক ভাইয়োর কিছু হলে জ্বলবে আগুন ঘরে ঘরে" ইত্যাদি , রাতে গোটা পঞ্চাশ পোস্টার লাগানো আর মধুর ক্যান্টিনে হাজিরা দেয়া । কিন্তু একটা সমস্যা রয়ে গেল ।
পকেটে একটা টাকাও নাই । বাসায় তো ফিরে যাবো না । মা'কে ভজাতে পারলে ছুতায় অছুতায় পঞ্চাশ টাকার নোট পাওয়া যেত। এখন তো সে উপায় নাই ।
একটি টিউশনি করতাম আজিমপুরে । চলে গেছে । জমানো টাকাও শেষ । আজিজ সুপার মার্কেটে হালিম ভাইকে বলে রাখছি ।
সে বললো, বাংলা মিডিয়ামে টিউশনি দেয় না কেউ । ম্যাপল লিফ এর একটা ছাত্রী আছে ।পড়াতে পারবা? ভাল পোষাক যোগাড় করে দিব । বলতে হবে তুমি বুয়েটের, আর তিন বছর ধরে ইংলিশ মিডিয়ামে পড়াও । পারবা না?
(চলবে...)
প্রথম পর্ব: Click This Link
দ্বিতীয় পর্ব: Click This Link
চতুর্থ পর্ব: Click This Link
সর্বশেষ এডিট : ২১ শে জুন, ২০১০ রাত ৯:০৬

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



