- আমি মনে হয় একটা মেয়ের প্রেমে পড়েছি।
- তাই? কোন মেয়ে?
- বলাতো যাবে না। তবে আমি জানি ওকে আমি পাব না।
-কেন? তোকে পাত্তা দেয়না ?
-আরে না, আসলে ও অন্য ধর্মের ।
-তাতে কি? তুই প্রপোজ করেছিস?
-প্রপোজ করব না । লাভ নাই।
-খুব অহংকারী নাকি?
-সেরকম কিছু না ।
-তুই বলেই দেখ না ।
-নাহ । তবে মেয়েটা বেশী সুন্দর না ।
-তাহলে কী দেখে পছন্দ করেছিস?
-আসলে মেয়েটা খুব সৎ । অন্তরে বাহিরে সমান ।
ও কি আমার কথা বলছে নাকি? তা কী করে হয়? মনে মনে ভাবে ক্রিস্টিনা ।
“তুই কী বলতে চাস?” হাসি চেপে জিজ্ঞেস করে ও ।
-তুই থাম তো । তোর কথা বলছি না । অন্য একজন । তুই চিনবি না ।” বলে আহসান ।
-বাহ, আমি আমার কথা বলব কেন ? আমি বলতে চাইছি তোর সমস্যা কোথায় প্রপোজ করতে ? লজ্জা পেলেও চেপে যায় ক্রিস্টিনা ।
-আসলে আমি জানি ও না করবে । আর আমি না শুনতে একদম পছন্দ করি না । সহ্য করতে পারব না ।
-তূর্ণা জানে ?
-আরে না না । খবরদার ও যেন না জানে । জানলে ঝামেলা করবে । আঁতকে উঠে বলে আহসান।
-ঠিক আছে, জানবে না । আচ্ছা,একটা কথা বলতো, কবে থেকে ঐ মেয়ের প্রেমে পড়েছিস?
-এইতো,৪-৫ দিন হবে ।
-আরও কয়েকদিন অপেক্ষা করে দেখ । তোর মোহ ও তো হতে পারে এটা ।
-না,মোহ না । আমি জানি ।
-এত অল্পদিনে কীভাবে নিশ্চিত হলি ?
-হলাম । আচ্ছা শোন আমি এখন রাখি । খেতে ডাকছে । পরে ফোন দিব । বলে তাড়াহুড়া করে ফোন রেখে দেয় আহসান ।
ফোন রেখে মনে মনে হাসে ক্রিস্টিনা । ভাবে,“পাগল একটা । তবে কে হতে পারে ঐ মেয়েটা? ওর বেশী বন্ধুকেও আমি চিনি না ঠিক । তবে কয়েকদিন আগেই ও বলছিল ওর নাকি তূর্ণা আর আমাকে খুব পছন্দ, কারণ আমরা নাকি খুব অনেস্ট । আজ আবারও সেই সততা । তবে কি ও তূর্ণার প্রেমে পড়েছে ? তাহলে ওকে বলতে মানা করল কেন? কিন্তু তূর্ণা তো দেখতে খারাপ না, আসলে অনেক সুন্দর,শুধু একটু মোটা, এই যা । তাহলে কে? যেই হোক আমি বেশী কৌতুহল দেখাবো না । দেখিই না ও কার কথা বলে...” ভাবতে থাকে ক্রিস্টিনা ।
আহসান এর সাথে পরিচয় হয় ক্রিস্টিনার এই বছরই । মার্চ মাসের শেযের সপ্তাহের বৃহস্পতিবার, দুপুরে , বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাসে । প্রথম দেখে ওর চেহারা খুব অদ্ভুত লেগেছিল ক্রিস্টিনার কাছে । ইয়া বড় গোল একটা মাথা, অসম্ভব ঘন কোঁকড়া কোঁকড়া চুল আর রোগা শরীর । চোখ দুটোর দৃষ্টি অন্যরকম, একটু দুষ্টু দুষ্টু চাহনিও দেখা যায় । অবশ্য ক্রিস্টিনার চেহারাও তেমন কিছুই না । শ্যামলা, খাটো মেয়েটার চেহারায় বিশাল একটা খুঁত হল ওর বোঁচা নাক । দেখে মনে হয়.....আসলে কোন ছাঁচেই ফেলা যায় না এমন সাইজ এর নাক । তবে একটু মনেযোগ দিয়ে দেখলে বোঝা যায় ওর সবচেয়ে সুন্দর হল চোখ আর ঠোঁট দুটো । পটলচেরা চোখ দুটোয় তাকালে বেশির ভাগ সময়ই গোপন এক বিষন্নতা দেখা যায় । কী যেন এক অতৃপ্তি ঘিরে আছে ওর জীবনে ..

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

