দুজন প্রাপ্তবয়স্ক ছেলে মেয়ে - জীবনের স্রোতে দুজনের দেখা । তারপর থেকে সুন্দর কিছু মুহূর্ত ভাগ করে নেয়া , এক সাথে দুজনের জীবনের ছোট বড় নানা স্মৃতি রচনা করে চমৎকার এক বোঝাপড়ার মধ্য দিয়ে এগিয়ে চলা । এক সময় তারা বুঝতে পারে তাদের সম্পর্কের রসায়ন শুধু আবেগ ঘন নয় , বাস্তবতার নিরিখেই এক সাথে চলার উপযুক্ত ... তারপর ???
রুপকথার গল্প হলে বলে দেয়া যেত - অতঃপর তাহারা সুখে শান্তিতে বাস করিতে লাগিল । কিন্তু এখানে কোন দৈত্য দানব না সিনেমার ভিলেন এসে শেষ সূচনায় বাধা হল না, তাদের মাঝখানে বাধা হয়ে দারাল - ধর্ম !
হ্যাঁ আপনারা হয়ত বলবেন বাংলাদেশের প্রেক্ষিতে দুটি ভিন্ন ধর্মের মানুষের মধ্যে বিয়ে হচ্ছে এবং এ প্রবনতা বাড়ছে ... কিন্তু শুধু ধর্মই কি আসল বাঁধা ?
একজন ছেলে বা মেয়েকে অনেক আদরে, শাসনে মানুষ করেন বাবা মা । তাদের জীবনের অনেক সুখ সাচ্ছ্যন্দ বাদ দিয়ে তারা ছেলে মেয়ের সুখ নিয়ে আসেন । সেই ছেলে বা মেয়ে যদি তাদের আশা ভঙ্গ করে ভিন্ন ধর্মের একজনকে বিয়ে করতে চায় - তা বাবা মায়ের জন্য কতটুকু বেদনাহতের বিষয় তা সহজে অনুমেয় যোগ্য । সমাজের কাছেও তারা ছোট হয়ে যান । হয়ত আফসোস করেন সারাজীবন কষ্ট করলেন এই অবাধ্য ছেলেমেয়েকে মানুষ করার জন্য ...
আবার প্রস্তাব রাখতে পারেন - দুজনের এতই যদি একসাথে থাকার ইচ্ছা তাহলে কেউ একজন নিজের ধর্ম বিসর্জন দিক না কেন ? কিন্তু কথাটা হচ্ছে - বিয়ে যদিও দুজন মানুষের মধ্যে হয় কিন্তু আত্মীয়তা হয় দুটি পরিবারের মধ্যে । স্বামী / স্ত্রী কেউ একজন ধর্মান্তরিত হলেও তার বাবা মা সবাই তো আগের ধর্মেই থাকবেন । কুটুম্বিতা করতে গেলে তাদের ধর্ম তো মেনে নিতেই হবে , তাহলে স্বামী / স্ত্রীর নিজ নিজ ধর্ম কেন মেনে নিবেন না ?
কিছু ধর্মে অন্য ধর্মের কাউকে বিয়ে করার নীতিগত সম্মতি থাকলেও সমাজ বলে কথা !!! পরিবার বা সমাজের কাছে ছোট হবার চেয়ে নিজের ভালবাসাকে বিসর্জন দেয়াই অনেকে শ্রেয় মনে করেন।
কিন্তু দুজন মানুষ যেখানে একত্রে থাকার সমস্ত সুযোগ যখন নিয়তি ঠিক করে দিচ্ছে এই ধর্ম তখন বাঁধা হয়ে দাড়াচ্ছে দুজনের মধ্যে ।ধর্মের জন্য কত যুদ্ধ, হানাহানির ইতিহাস আমরা জানি , আজ ব্যক্তিগত জীবনেও দেখা যাচ্ছে , ধর্ম মানুষের মাঝে বিভেদই বাঁড়ায় , কখনও একত্র করে না ...
আমি বিশ্বাস করি - মানুষ আগে - ধর্ম পরে ...

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

